Free Essay

Ghost Stories

In: Novels

Submitted By fuad1012
Words 251886
Pages 1008
।। ভূত, প্রেত, অশরীরী, আত্মা, নিয়ে কিছু কথা ।। by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, July 26, 2011 at 7:39pm
ভূত, ইংরেজীতে Ghost, যার উৎপত্তি পুরাতন জার্মান ভাষায় gaistaz শব্দ থেকে। এর অর্থ রাগ,ভয়। সুদুর অতীত থেকে ঈশ্বরের প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্বীন-ভুত-শয়তান পরিচিত। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে লোকগল্প সবকিছুতেই ভুত শব্দটা একটা ভয়ের শিহরণ জাগানো আমেজ নিয়ে আসে। এই উপমহাদেশে ভুত বলতে অতৃপ্ত আত্মাকে বুঝি। কোন কারনে কোন ব্যাক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে সে ভুত হয়ে যায়,এই আমাদের বিশ্বাস। বিভিন্নক্ষেত্রে ভুতের বিশ্বাসগুলি - মেসোপটমিয়া- মৃত্যুর পর মানুষের স্মৃতি আর ব্যাক্তিত্ব যখন দেবতার কাছে চলে যায়,তখন সে ভুত হয়ে যায়। তাদের খাদ্য-পানীয় দিয়ে খুশী করতে হত,নয়তবা জাতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। মিশর- প্রাচীন মিশরীয়রা একেবারে মৃত্যুকে মানত না। প্রথমবার মৃত্যুকে তারা আফটার লাইফ বলত। পূনর্বার মৃত্যু যদি তারা কামনা করে তবেই সম্পূর্ন মৃত্যু হত। আফটার লাইফে মৃতের আত্মাকে ভুতের সাথে কল্পনা করা যায়। ফারাও Akhenaten পূর্ণমৃত্যু কামনা করে নাই,তাই সে ভুত। আধুনিক মিশরিয়রাও তার ভুতের দেখা পেয়েছে বলে দাবী করে। গ্রীস- হোমারের অডেসি আর ইলিয়ডে ভুতকে বাষ্পের মত মিলিয়ে যাওয়া অপার্থিব বস্তু হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
মেডিভেল ইংল্যান্ড- মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে এই ভুত আর ভুতের আছর নিয়ে অনেক রোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা রয়েছে। ডাইনী হত্যা নামক আনুষ্ঠানিক ভাবে অসংখ্যক নারী-পুরুষকে হত্যার প্রমান পাওয়া যায়। আমরা এইবার ভারতীয় উপমহাদেশের ভুত নিয়ে কথা বলি- ভুত-প্রেত এক স্বতন্ত্র জাতি বিশেষ। বলা হয় যে মরার পর মানুষ তার কর্মফল অনুযায়ী ভুত বা অশরীরী আত্মা হয়ে দেখা দেয়। এদের নিজেদের কোন চেহারা থাকেনা আর তাই যেকোন আকারে দেখা দিতে পারে। এমনিতে চোখে দেখা না গেলেও ভুতেরা যেকোন জায়গায় দেখা দিতে পারে আবার অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। প্রচলিত বিশ্বাস হল যে ভুত-পেত্নীরা সবাই বাস করে ভাঙ্গা বাড়িতে, স্মশান-গোরস্থান,পুরাতন পুকুর , নিঝুম জায়গায়, বট-তেতুল-শ্যাওড়া গাছে । আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাসও প্রচলন যে,স্মশানে না পূড়লে বা জানাজা না করা হলে মৃত ভুত হয়ে বিচরণ করে।আমাদের দেশে আমাবশ্যার রাতে ভুতদের ঈদের দিন মনে করা হয়।এর জন্যই আমাবশ্যা নিয়ে এত ভয় আমাদের মনে। আমাদের লোকগাথায় যেসব ভুতের কথা বলা হয়- শাকচুন্নি: এটি একটি পেত্নী। অল্পবয়সী, বিবাহিত মেয়ে অপঘাতে মারা গেলে শাকচুন্নিতে পরিণত হতে পারে। শুভ্র কাপড় পরিহিত শাকচুন্নি মূলত জলাভূমির ধারে গাছে বাস করে এবং সুন্দর তরুণ দেখলে তাকে আকৃষ্ট করে ফাঁদে ফেলে। কখনো কখনো সে তরুণকে জলাভূমি থেকে মাছ ধরে দিতে বলে। কিন্তু সাবধান, শাকচুন্নিকে মাছ দেয়া মানে নিজের আত্মা তার হাতে সমর্পণ করা! চোরাচুন্নি: দুষ্ট ভূত, কোনো চোর মারা গেলে চোরাচুন্নি হতে পারে। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। বাড়িতে এদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য গঙ্গাজলের ব্যবস্থা আছে। মেছোভূত: মাছলোভী ভূত। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়। পেঁচাপেঁচি: দেখতে পেঁচার মত এবং জোড়া ভূত—একটি ছেলে, অন্যটি মেয়ে। গভীর জঙ্গলে মানুষ প্রবেশ করলে এরা পিছু নেয় এবং সুযোগ বুঝে তাকে মেরে ফেলে। মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা। ব্রহ্মদৈত্য: ব্রাহ্মণের আত্মা, সাদা ধুতি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পবিত্র ভূত হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়ে থাকে, কোনো ব্রাহ্মণ অপঘাতে মারা গেলে সে ব্রহ্মদৈত্য হয়। এছাড়া পৈতাবিহীন অবস্থায় কোনো ব্রাহ্মণ মারা গেলেও ব্রহ্মদৈত্য হতে পারে। এরা কারো প্রতি খুশি হয়ে আশীর্বাদ করলে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়, কিন্তু কারো প্রতি নাখোশ হলে তার সমূহ বিপদ। দেবদারু গাছ কিংবা বাড়ির খোলা চত্বরে বাস করে। স্কন্ধকাটা বা কন্ধকাটা: মাথাবিহীন ভূত। অত্যন্ত ভয়ংকর এই ভূত মানুষের উপস্থিতি টের পেলে তাকে মেরে ফেলে। কোনো দুর্ঘটনায়, যেমন রেলে কারো মাথা কাটা গেলে, সে স্কন্ধকাটা হতে পারে। ভয়ংকর হলেও, মাথা না থাকার কারণে স্কন্ধকাটাকে সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়। আলেয়া: জলাভূমির গ্যাসীয় ভুত। এরা জেলেদেরকে বিভ্রান্ত করে, জাল চুরি করে তাদের ডুবিয়ে মারে। কখনো কখনো অবশ্য এরা জেলেদেরকে সমূহ বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে থাকে। নিশি: খুব ভয়ংকর ভূত। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে মানুষের নাম ধরে ডাকে। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে।
কানাখোলা: গভীর নির্জন চরাচরে মানুষকে পেলে তার গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এই ভূত। মানুষটি তখন পথ হারিয়ে বার বার একই জায়গায় ফিরে আসে, এবং এক সময় ক্লান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। শেয়ার করেছেনঃ Razib Chandra Datta

।। এক অচেনা বৃদ্ধের কাহিনী ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, July 26, 2011 at 7:57pm
৪দিন আগের ঘটনা।। আমাদেরই পরিচিত একজন লোক।। উনি গ্রামের পৌরসভায় কাজ করেন।। নিজের বাড়ি দূরে হওয়ায় রাতে পৌরসভার গেস্ট রুমেই থাকেন।। ৪দিন আগে হটাত রাত ১০:৩০ এর দিকে তাঁর ঘুম চলে আসে।। কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর হটাত উনার ঘুম ভেঙ্গে যায় কারো কান্নার আওয়াজ শুনে।। উনি ঘুম থেকে উঠে ভাবেন হয়তো রাত ১১-১২তার মাঝে বাজে এবং কেও বিপদে পরে পৌরসভার মাঝে এসে কান্নাকাটি করছে।। কিন্তু নিজের ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলেন রাত তখন প্রায় ৩টা।। তবুও তিনি সাহস করে দরজা খুলে বারান্দা/ ব্যালকনি দিয়ে নিছে তাকিয়ে দেখলেন এক বৃদ্ধলোক নিচে বসে আছে।। বয়স ৭০-৭৫ হবে।। বৃদ্ধ খুব কান্নাকাটি করছিলেন আর একটা পাঁটের ব্যাগে কিছু ঢুকাচ্ছে।। পাঁটের ব্যাগে ঠিক কি ঢুকাচ্ছিলেন টা লোকটি দেখতে পাননি।। বৃদ্ধ কান্না করতে করতে হটাত হটাত বলছিলেন, “ওরা আমার সবকিছু নিয়ে ফেলল।। এখন আমার ছেলেমেয়েদের কি হবে??” লোকটি প্রায় ১ ঘণ্টা দাড়িয়ে বৃদ্ধ কে দেখলেন।। এর মাঝে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং খুব ভালোই বৃষ্টি পড়ছে।। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি বৃষ্টির পানিতে একদমই ভিজছে নাহ।। এমনকি, তাঁর সাদা পাঞ্জাবি, সাদা দাড়ি কিছুই ভিজছে নাহ।। লোকটি আরও অবাক হয়ে দেখলেন, বৃদ্ধর চোখ, চেহারা, মুখ যেনও মাঝে মাঝেই চেঞ্জ হচ্ছিল।। ঠিক ৪টায় যখন মাইকে আজান দেয়ার আওয়াজ হল তখন সাথে সাথে বৃদ্ধ লোকটি গায়েব হয়ে জান।। লোকটি চারদিকে তাকিয়ে খুঁজেও বৃদ্ধকে আর কোথাও দেখতে পেলেন নাহ।। শেয়ার করেছেনঃ Shada Canvas (25th July)

।। আবারো নিশির ডাক ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, July 26, 2011 at 9:01pm
আমি যেই গল্পটা শেয়ার করতে যাচ্ছি তা একদম সত্যি ঘটনা।। আমার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা এটি।। বিশ্বাস করবেন কি
না করবেন তা আপনার ব্যাপার, কিন্তু আমি একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছি নাহ।। কাহিনীটা বেশীদিন আগের নয়।। এক মাসের মত হবে।। আমি গত এক বছর যাবত ঢাকায় আছি।। আগে আমাদের হোমটাউন লক্ষিপুরে থাকতাম।। ঢাকায় আসার পর মায়ের সাথে দিনে আমার প্রায় ১০-১৫ বার ফোনে কথা হয়।। এর মাঝে একদিন সকালে মা ফোনে ঘটনাটা জানালো।। মা রাতে ঘুমুতে গিয়েছে ১১টার দিকে।। গভীর রাতে কিছু একটা শব্দ শুনে মার ঘুম ভেঙ্গে যায়।। তখন খুব সম্ভবত রাত ৩টা বাজে।। মা পরিষ্কার শূনতে পেলো, আমি তাকে ডাকছি।। মা কোন জবাব না দিয়ে চুপ করে অপেক্ষা করতে লাগলো।। এরপর মা শুনতে পেলো, আমি আমাদের গেটটা ধরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছি।। মা একবারের জন্য ভাবল আমি হয়তো ঢাকা থেকে হটাৎ চলে এসেছি।। মা দরজা খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সময় তার মনে পড়লো যে, আজ আমার সাথে মার অনেকবার ফোনে কথা হয়েছে।। আর ফোন ছাড়া এত রাতে ৬-৭ ঘণ্টার জার্নি করে আমি কোনোদিন বাসায় আসবো নাহ।। মা একটু ভয় পেলো।। তখনো নাকি মা শুনতে পাচ্ছে যে, আমি তাকে বার বার ডাকছি।। মা ভয়ে আমাকে ফোনও দিতে পারেনি।। প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে মা শুনতে পেলো যে আমি গেটে ধাক্কা দিচ্ছি আর মাকে ডাকছি।। মা আগে থেকেই জানত যে, রাতে কেউ দরজা ধাক্কা দিলে বা ডাকাডাকি করলেও নিশ্চিত না হয়ে দরজা খুলতে নেই।। কিছুক্ষন পর মা খেয়াল করলো শব্দটা বন্ধ হয়ে গেছে।। পড়ে মা একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো।। কিন্তু সারারাত সে ভয়ে ঘুমুতে পারেনি।। পরেরদিন সকালে আমাকে ফোনে মা পুরো কাহিনীটা বলে।। মায়ের গলা শুনে বুঝতে পারছিলাম যে, সে তখনো ভয় পাচ্ছে।। পুরো ঘটনা শুনে আমার কাছেও একটু আজব লাগলো।। মা খুবই সাহসী প্রকৃতির।। সিরিয়াস কিছু না হলে মা কখনই আমার সাথে শেয়ার করতো নাহ।। এই হল আমার কাহিনী।। বন্ধুরা, এটা কিন্তু একদমই সত্য ঘটনা।। আপনাদের কমেন্টে জানতে চাই কি মতামত আপনাদের।।

শেয়ার করেছেনঃ Pritom Saha

।। অলৌকিক ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, July 26, 2011 at 10:44pm
আমাদের বাড়ির সামনে একটা বড় তাল গাছ।। রাস্তার উওরধারে খাল আর খালের পশ্চিম পাশে হিন্দু বাড়ি।। কথাটা আমার প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না, তখন একটা গুজব উঠলো রইদা বাবু না কি তার বউকে চার দিনের ঘুমের ওষধ খাইয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে।। আর তার আত্নাটা এখন ভূত হয়ে মানুষকে হয়রানি করছে।। কাউকে খালে ফেলে দিয়েছে আবার কেউ না কি দেখেছে যে ভূতটা নুপুরের তালে তালে নেচে নেচে আমাদের বাড়ির তাল গাছটার নিচ পর্যন্ত এসে আবার তার কবরের(মাটি চাপা দেয়া স্থান) কাছে ফিরে গেছে।। এই ঘটনাটি শুনার পরে আমি ঐ রাস্তা দিয়ে অনেক হেটেছি কখনো কিছু দেখিনি।। সে দিন আমার আব্বু বাজার থেকে কয়েল আনতে ভুলে গেছেন তাই আমাকে পাঠালো দোকানে।। বাজারে যাওয়ার সময় আমি একটা জিনিস খেয়াল করলাম।। তখন বর্ষা কাল ছিল রাস্তায় কাদা ছিল তাই মানুষ একপাশ দিয়ে হাটতে গিয়ে ঐ হিন্দু মহিলার কবরের উপর দিয়ে হাটা শুরু করেছে।। যাই হোক আমি দোকান থেকে ফিরছি রাত আনুমানিক ৯-১০টার মধ্যে ঐ কবরটা আমি অনেক পিছনে রেখে এসেছি।। কিন্তু আমি আমাদের বাড়ির দিকে ঢুকব, এমন অবস্থায় আমি হাতের লাইটটা সামনের দিকে মারলাম, হঠাৎ আমার পুরা শরীর প্রচন্ড একটা ঝাঁকুনি দিলো।। আমার হাত পা কাঁপতে লাগলো।। আমার হাতে এতটুকু শক্তি ছিল না যে আমি লাইটটা জ্বালাবো।। আমার দুই চোখ আধার হয়ে গেলো।। কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে আছি।। একটু পরে দেখলাম মোটামুটি শক্তি পাচ্ছি।। এবার জোরে একটা দোড় দিয়ে বাড়ি গেলাম।। দেখলাম, আমার মা উঠনে কি যেন করছে।। আমি তার পাশে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলাম।। এরপর কি হলো আমি জানিনা।। সকালে উঠে রাতের কথা মনে পড়লো।। আমি রাতের যখন সামনের দিকে লাইটটা মেরেছিলাম তখন দেখছিলাম তাল গাছের নিচে সাদা কাপড় পড়া এক মহিলা দাড়িয়ে।। এর পর থেকে রাতে একা হাটার সাহসটাই হারালাম।।

শেয়ার করেছেনঃ Omar Faruqe

।। নামাজের ডাক ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, July 26, 2011 at 11:54pm
আমার বড় বোন একদিন ঘুমানোর সময় আমাকে বললঃ “নিলয়, রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য আমাকে ডাক দিয়ো।।” উত্তর দিলামঃ “আমি নিজে উঠলে ডেকে দিবো।।” কারন গত রমজান মাসের পর শেষ কবে তাহাজ্জুদ পড়েছি মনে নেই।। যাই হোক, সে রাতেও তাহাজ্জুদ পড়া হল না।। তবে আপু সকালে হাসতে হাসতে বলল, আমি ডাক দেয়ার পর সে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে।। “আমি কখন ডাক দিলাম??” প্রশ্ন করতেই আপু উত্তর দিলো, সে ভুল দেখেনি।। আপু আমাকেই দেখেছে এবং আমারই গলার আওয়াজ শুনেছে।। কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি ডাক দেইনি।। আপুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলো।। আমারও।। হেলুসিনেসন, ঘুমের ঘোরে ভুল দেখা জা ইচ্ছে বলুন, আমার বিশ্বাস ঐ বালক, যে আপুকে নামাজের জন্য ঐদিন ডেকে দিয়েছিলো, সে আল্লাহর ফেরেস্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।। শেয়ার করেছেনঃ Niloy Arman

।। কলিং বেল ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, July 27, 2011 at 12:13am
ঘটনাটা ২০০০ সালের।। আমরা যে বাসায় থাকি তার উপর তলায় আমার আব্বুর কলিগ থাকত।। প্রতিরাতে প্রায় ২ কি ৩ টার সময় আংকেল টার বাসায় কলিংবেল বাজত।। “কে কে” করে জিজ্ঞাসা করলে কোন জবাব আসত না।। তো একদিন তিনি আব্বুকে ব্যাপারটা জানালেন।। আব্বু ঘটনা শুনে আংকেলকে আসস্ত্ব করলেন যে এটা তার শোনার ভূল।। যাই হোক, সেদিন রাতে আব্বু রাতে তাহাজ্জুদের নামায পড়ার সময় আমাদের উপর তলায় বেল বাজার আওয়াজ পান [গভীর রাতের সময় তা স্পষ্ট শোনা গিয়েছিল]।। তো আব্বু আস্তে করে আমাদের দরজা খুলে যেই মাত্র তিন তলায় উঠেছিলেন তখন তিনি একটা সাদা ছায়ামূর্তি দেখতে পান।। ঐ সময় আব্বু কিছু দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে কাছে যেতে থাকেন।। ছায়ামূর্তিটাও ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে।। আব্বু ঐটাকে ফলো করে ছাদ পর্যন্ত গেলে দেখতে পান যে ছাদের দরজা AUTOMATICALLY ওপেন হয়ে যায় এবং মূর্তিটি ছাদের কিনারায় গিয়ে দাড়িয়ে আব্বুর দিকে তাকিয়ে থাকে।। আব্বু তখন একটা দোয়া পড়ে আশপাশে ফুঁ দিয়ে ধীরে পিছপা হয়ে নামতে থাকে এবং হটাৎ উপরে তাকিয়ে দেখেন যে ছায়ামূর্তিটি গায়েব হয়ে গেছে।। পরদিন তিনি আংকেলকে সব খুলে বলেন।। ঐদিনের পর হতে আর ঐ ছায়ামূর্তিকে দেখা যায়নি।।

শেয়ার করেছেনঃ Udvot VoOt

।। অপদেবতা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, July 27, 2011 at 12:34am
আমাদের গ্রামের বাড়িতে কোন একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে একবার অনেক আত্মীয়স্বজন এসেছিলো।। অনুষ্ঠানটি হয় রাতে বেলা।। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়, ফলে যাদের বাড়ি দূরে তারা সবাই ঠিক করে যে আজ এখানেই থাকবে।। মামার বাড়িতে মোট ৫ টা ঘর আর একটা বাংলো ঘর।। বাংলো ঘরটা তেমন একটা ব্যাবহার করা হয় নাহ।। বাংলো ঘরের ডান পাশে কিছুটা দূরে গোয়াল ঘর।। যেহেতু, অনেকেই রাতে থাকবে, তাই ঘরের অভাব শর্ট পড়ে গেলো।। তাই মামামামি সিদ্ধান্ত নিলো তারা তাদের ঘরটা ছেড়ে বাংলো ঘরে চলে যাবে।। রাতটা সেখানেই কাটাবে।। তখন রাত প্রায় ২টা।। মামার টয়লেট চাপায় তিনি জেগে উঠেন।। উনি দরজা খুলে বাইরে উঠোনে একটু দূরেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছিলেন।। এমন সময় তিনি একটা শব্দ শুনতে পান।। তিনি এদিক ওদিক তাকান।। হটাৎ টার দৃষ্টি যায় গোয়াল ঘরের দিকে।। তিনি দেখতে পান গোয়াল ঘর থেকে তাদের সাদা রঙের গরুটা কিভাবে যেনও বের হয়ে পড়েছে।। মামার তখন মনে পড়ে গোয়াল ঘর সন্ধার পর সবসময় তালা লাগানো থাকে।। গরুটা বের হয়ে সোজা হাঁটতে শুরু করে দেয়।। গোয়াল ঘরের ঠিক পিছনেই একটা বড় আকারের ঝোপ।। অনেকটা জঙ্গলের মত।। মামা গরুটার পিছু নেয়।। এদিকে মামার দেড়ি দেখে মামির ও ঘুম ছুটে যায়।। তিনি বাইরে এসে দাঁড়ান এবং দেখতে পান মামা হাঁটছে আর তার সামনে একটা সাদা কিছু।। মামি ভয় পেয়ে চিৎকার করে মামাকে ডাক দেন।। কিন্তু মামা মামির ডাক শুনতে পেয়েও না থেমে উল্টো হাঁটতে থাকেন।। মামি ভয় পেয়ে ছুটে গিয়ে মামাকে থামান।। মামা তখন কেমন যেনও একটা ঘোরের মধ্যে ছিলেন।। তিনি বার বার বলতে থাকেন, “আমাদের গরুটা চলে যাচ্ছে।। আমাদের গরুটা চলে যাচ্ছে।।” কিন্তু মামি বলেন ঐটা আমাদের গরু না, তারপর তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে আসেন।। সকালে মামামামি ২জনই গোয়াল ঘোরের তালা পরীক্ষা করে দেখেন তালা দেয়াই আছে।। আর সবকটা গরুই ঠিকঠাক মতন নিজ নিজ জায়গায় আছে।। মামি তখন মামাকে বলেন, গতকাল রাতে তাকে “নিশা” (আমাদের গ্রামে অপদেবতা বলে পরিচিত) ডাকছিল।। তিনি (মামি) যদি তখন না উঠতেন ঘুম থেকে আর মামাকে না থামাতেন, তাহলে গরু রূপি “নিশা” মামাকে বনের ভেতর নিয়ে মেরে মাটিতে গলা অব্দি পুঁতে রাখতো।।

শেয়ার করেছেনঃ Nahian Islam Towhid

বিঃ দ্রঃ ঘটনাটি লেখক তার মামির মুখ থেকে শুনেছেন।।

।। কাজের মেয়ে ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, July 27, 2011 at 1:55pm
আমার এক পরিচিত AUNTY.. তিনি তাঁর বাড়িতে একটা কাজের মেয়ে রাখেন।। মেয়েটি খুব চুপচাপ থাকতো।। একদিন আমার AUNTY এর বাসার সবাই পুরো ফ্যামিলিসহ বাইরে এক আত্মীয়ের বাসায় যাবে।। AUNTY বাদে বাকি সবাই চলে গিয়েছিলো।। AUNTY যখন আয়নার সামনে দাড়িয়ে রেডি হচ্ছিলেন তখন হটাৎ খেয়াল করলেন, উনি যা যা করছেন আয়নাতে তাঁর উল্টাটা হচ্ছে।। তিনি তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলেন, দরজার লক খুঁজে পাচ্ছেন নাহ।। তিনি নিজেকে শান্ত করার জন্য চোখ বন্ধ করে ফেললেন।। কিন্তু পরে যখন চোখ খুললেন তখন দেখলেন কাজের মেয়েটি তাঁর সামনে দাঁড়ানো।। কাজের মেয়েটির চেহারা বীভৎস এবং সে নিচু গলায় কি যেনও বলছে।। AUNTY এটা দেখে সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।। পরবর্তীতে উনাকে ছাদের চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।। কাজের মেয়েটাকে পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।। শেয়ার করেছেনঃ Tamanna Progga

। জীনের উৎপাত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, July 27, 2011 at 10:18pm
এই ঘটনাটা আমার মেজো খালার কাছ থেকে শোনা।। গ্রীষ্মের ছুটিতে আমার মেজো খালা উনার বড় বোন, মানে আমার বড় খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।। আমার বড় খালা গ্রামে থাকেন।। উনার বাড়ির চারপাশটা খুবই নির্জন এবং জনবসতি বলতে গেলে খুবই কম।। বাসাটা এমনিতে দেখতে খুবই সুন্দর।। চারপাশটা গাছগাছালি দিয়ে ভরতি।। কিন্তু একটা দোষ ছিল যে, প্রায়ই জীনরা খুব জ্বালাতন করতো।। মেজো খালা যাওয়ার পরের একদিনের ঘটনা।। ঐদিন ভয়ানক গরম ছিল, তাই সবাই মেঝেতে বিছানা করে শুয়ে গল্প করছিলো।। হটাৎ বড় খালা জীনদের উৎপাত নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা বলা শুরু করলেন।। এভাবে গল্প করতে করতে এক পর্যায়ে সবাই শুনতে পায় যে, টিনের চালে কে বা কারা যেনও বড় বড় আম ছুঁড়ছে(আম বুঝতে পারার কারন হল, টিনের চালে হটাৎ করে একটা, দুটো আম পড়লে ঠিক ঐরকম আওয়াজ হতো)।। সবাই ভয়ে অস্থির।। হটাৎ তারা সবাই পরিষ্কার শুনতে পেলেন কে যেনও বলছে, “আমাদের কথা ওদের এভাবে বললি কেনও??” আর একটা আগুনের ফুলকি ঘরের সামনে ছুটে বেড়াচ্ছিল।। বড় খালা বলে উঠেন, “আর বলব নাহ।। এবারের মত ক্ষমা করে দাও।।” এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর ঢিল ছুড়া বন্ধ হয়ে যায়।। এই ঘটনা ছাড়াও প্রায় সময়ই শব্দ পাওয়া যেত যে, কে বা কারা যেনও কলের পাড়ে গোছল করছে।। গুনে গুনে তিনবার পানি ঢালত, তারপরই থেমে যেত।। আসলে ভূত বলে কিছু নেই।। অশরীরী আত্মা আছে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান।। তবে জীন আছে এটা পবিত্র কোরআনেও উল্লেখ আছে।। এবং মানুষের মত, তাদের মধ্যেও খারাপ, ভালো ২টাই আছে।।

লেখক/লেখিকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।।

। মৃত্যু রহস্য ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, July 27, 2011 at 11:26pm
বছরখানেক আগের ঘটনা।। আমাদেরই এক বন্ধু সিহাব গিয়েছিলো তার গ্রামের বাড়ি শ্রীপুরে।। সেখান থেকে এসে সে আমাদের এক রোমহর্ষক ঘটনা শোনালো।। ঘটনাটা ঐ গ্রামের এক মাঝবয়সী লোককে নিয়ে।। উনার নাম ছিল মন্নান মিয়াঁ।। ছিলো বলছি কারন লোকটা এখন জীবিত নেই।। সে যাই হোক, আমাদের এই ঘটনার মূল অংশ মন্নান মিয়াঁকে নিয়ে।। মন্নান মিয়াঁ শ্রীপুর গ্রামের স্থানীয় কেউ নন।। বছর পাঁচেক আগে গ্রামে এসেছিলেন ঘুরতে ঘুরতে।। এরপর গ্রামের লোকজন তাকে পছন্দ করে ফেলে।। একটা ঘরও তুলে দেয়া হয় তার জন্য।। লোকটা খুবই মিশুক প্রকৃতির ছিল।। কারো যেকোনো সাহায্যে তাকে ডাকলেই সাড়া দিতো।। গত ২০০৯ সালের গ্রীষ্মের এর দুপুরে মন্নান মিয়াঁ মারা যায়।। লোকমুখে শোনা যায়, ঐদিন বাজার করে এসে মন্নান হটাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।। বারবার বলতে লাগে, রাস্তায় তার সাথে খুব খারাপ কিছু হয়েছে।। কিন্তু সেই খারাপ কিছুটা কি তা সে পরিষ্কার করে বলতে পারেনি।। তার আগেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।। তার লাশ সেদিনই দাফন করে দেয়া হয়।। গ্রাম্য রীতি অনুযায়ী, মানুষজন তাদের কবরস্থানে শুধু নিজেদের ফ্যামিলি মেম্বারদের জন্যই জায়গা রাখেন।। মন্নানের সেই গ্রামে কোন পরিচিত ছিল না বিদায় তার কবর দেয়া হয় রাস্তার পাশেই একটা বেল গাছের নিচে।। তার মারা যাওয়ার কারন কেও আবিস্কার করতে পারেনি।। হয়তো পারেনি।। আমি হয়তো বলছি কারন মূলত এখান থেকেই আমাদের কাহিনী শুরু হতে যাচ্ছে।। আমার এক বন্ধুর নাম জাবেদ।। আমাদের মাঝে ও বলতে গেলে দুঃসাহসী।। জীবনের একটা বড় সময় সে প্যারানরমাল একটিভিটি নিয়ে গবেষণা করে কাটিয়ে দিয়েছে।। বেচারার খুব কষ্ট যে, জিন-ভুত কিছুই কখনও তার দেখা হয়নি।। সিহাবের কাছে ঘটনাটা শুনেই সে লাফিয়ে উঠলো।। যে করেই হোক তাকে সেখানে জেতেই হবে।। এর পিছনে একটা বড় কারন ছিল সিহাবের শেষ কথাটি।। মন্নান মিয়াঁর কবরের রাস্তায় নাকি প্রায়ই রাতের বেলা কাউকে বসে থাকতে দেখা যায়।। কয়েকজন তো হলপ করে বলেছে তারা মন্নান মিয়াঁকে দেখতে পেয়েছে।। এরচেয়ে ও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল, মন্নান মিয়াঁর কবরের উপর নাকি একটা কুকুরকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।। কুকুরটা কোথা থেকে আসে, রাত শেষে কোথায় যায়, তা আজও কেউ জানতে পারেনি।। এমনকি দিনের বেলা কুকুরটাকে কেউ কখনো দেখেও নি।। প্রতি পূর্ণিমা রাতে কুকুরটা মন্নান মিয়াঁর কবরের পাশে বসে কাঁদে।। যারা রাতের বেলা গ্রামের বাজার থেকে আসেন তারা অনেকেই ঐ কুকুরকে দেখেছেন।। মন্নান মিয়াঁর কবর যেই রাস্তায় ঐ রাস্তাটা এখন প্রায় বন্ধের উপক্রম।। এই কথাগুলোই আসলে জাবেদের মাথাটা খারাপ করে দিলো।। সিহাবের এক কথা।। সে কোন অবস্থাতেই জাবেদ কে নিয়ে যাচ্ছে নাহ।। জাবেদ অনেকটা নাছোড়বান্দা পাবলিক।। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষমেশ সিহাবকে রাজি করলো যাওয়ার ব্যাপারে।। আমার নিজেরও যাবার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সেই সময় মিডটার্ম পরীক্ষা চলছিলো দেখে যাওয়া সম্ভব হয়নি।। যাই হোক, জাবেদের প্ল্যান ছিল পূর্ণিমা রাতে উক্ত স্থানে উপস্থিত থাকা।। এতে কুকুরটার দেখা পাওয়া যাবে, পাশাপাশি ছবি তোলার জন্য ভালো আলোও থাকবে।। বাংলা ক্যালেন্ডার দেখে সময় নির্ধারণ করে রওনা দিলো তারা।। তারা মানে, জাবেদ আর সিহাব।। সাথে আর ২জনের যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ২ জনই যাওয়া বাদ করে দেয়।। পারিবারিক কিছু ঝামেলার কারনেই ২জনের যাওয়া বাতিল হয়ে যায়।। সে যাই হোক, জাবেদরা নির্দিষ্ট সময়েই গ্রামে পৌঁছায়।। আদর আপ্যায়নে তাদের বরন করে নেয় সিহাবের আত্মীয়স্বজনরা।। মোটামুটি ফ্রি হবার পর জাবেদ, সিহাবের ছোট কাকাকে খুলে বলে আসার আসল উদ্দেশ্য।। শুনে ছোট কাকা কিছুটা গম্ভির হয়ে যান।। শেষমেশ জাবেদ আর সিহাবের প্রবল অনুরোধের মুখে নতি স্বীকার করতে হয় তার।। যাওয়ার অনুমতি দেন তিনি কিন্তু সাথে তার দেয়া পরিচিত একজনকে নিয়ে যেতে হবে।। জাবেদ চাচ্ছিল একাই যেতে।। কারন এইসব ব্যাপারে বেশি মানুষ থাকলে নাকি “প্যাঁচ” লেগে যেতে পারে।। কিন্তু ছোট কাকার শর্ত একটাই।। হয় সাথে তার দেয়া গাইড যাবে নাহলে যাওয়া বাতিল।। অগত্যা জাবেদকে রাজি হতেই হল।। সেদিন ছিল রবিবার।। সন্ধার পর পরই আকাশ উজ্জ্বল করে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলো।। চাঁদের আলোতে চারপাশে যেনও আলোকিত হয়ে উঠলো।। বিপত্তি শুরু হল ঠিক তখনি।। সিহাব তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে দরজার চৌকাঠে ধাক্কা খেলো।। সাথে সাথে মাথা ধরে বসে পড়লো।। হাত সরাতেই দেখে গেলো ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে।। বাসা ভরতি মানুষের মধ্যে হট্টগোল বেঁধে গেলো।। একে তো গ্রাম অঞ্চল, তার উপর এখনও ফ্রিজ জিনিসটা এতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।। সিহাবকে ধরাধরি করে নলকূপের পাড়ে নিয়ে যাওয়া হলে।। প্রায় ২০ মিনিট লাগলো রক্ত বন্ধ হতে।। এদিকে জাবেদ তো টেনশনে মারা যাচ্ছে।। শেষমেশ বুঝি যাওয়াটাই বাতিল হয়ে গেলো!! ঐ অবস্থায় সিহাবের পক্ষে যাওয়া একদমই সম্ভব ছিল নাহ।। কিন্তু জাবেদ কাকাকে বলে তার নিজের যাওয়া নিশ্চিত করে নিলো।। সাথে থাকবে গাইড রতন আলী।। (অনেকেই হয়তো ভ্রু কুঁচকাতে পারেন যে, চেনা নেই জানা নেই একটা ছেলেকে ঐ অবস্থায় তার বাসা থেকে কিভাবে বের হতে দিলো?? তাও যখন ছেলেটা তাদের অথিতি।। ভাই, জাবেদকে আমি চিনি।। সে যদি বলে সে যাবে তাহলে তাকে আটকানো কারো পক্ষেই সম্ভব নাহ।। এমনকি সে তখন নিজের বাবা মার কথাও শুনবে নাহ।।)

রতন আলী ঐ গ্রামের সবচেয়ে সাহসী মানুষদের মাঝে একজন।। ছোট কাকা রতনকে বুঝিয়ে দিলেন যেনও কোন অবস্থাতেই জাবেদকে ফেলে চলে না আসে।। গ্রামে ছোট কাকার ভালো প্রতিপত্তি ছিল।। রতন আলী নিজের বুকে চাপর দিয়ে বলল, সে কাউকে ভয় করে নাহ।। ভুতের ভয় তার নেই।। বরং শহুরে ভাইয়ের সাথে সেও আজকে দেখবে কিসের ভূত, কার ভূত!! রতনের হাতে একটা ব্যাটারি চালিত টর্চ লাইট।। জাবেদ ঢাকা থেকেই একটা শক্তিশালী টর্চ আর একটা ভালো মানের ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে যায়।। ক্যামেরাটা গলায় ঝুলিয়ে, টর্চটা হাতে নিয়ে হাঁটতে লাগে সে।। পাশেই রতন আলী।। রতন তাকে গ্রামের বিভিন্ন ঘটনা জানাতে লাগলো।। কোন বাড়ির কে কবে কার হাতে খুন হয়েছে, কে কোথায় ফাঁস নিয়ে মারা গেছে এইসব।। জাবেদের বিরক্ত আর ভয় দুটোই লাগছিল( ভয় লাগার ব্যাপারটা আমার অনুমান, কারন সে যখন গল্পটা বলছিল তখন বলেছিল তার শুধু বিরক্ত লাগছিল আর অদ্ভুত একটা অনুভুতি হচ্ছিল।। আমি ধরে নিয়েছিলাম সেই অনুভূতিটা ভয়)।। বাড়ি থেকে জায়গাটার দূরত্ব ২ মাইলের মত।। গ্রামের নিরবতায় নাকি ভূত দেখার টেনশনে কে জানে, জাবেদের ভীষণ বাথরুম চাপল।। রতন আলীকে সে টর্চটা ধরতে বলে নিজে গেলো একটা গাছের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে।। কাজ শেষ করে ফিরে এসে তারা আবার হাঁটতে লাগলো।। কিছুক্ষণ চুপচাপ হাঁটার পর হটাৎ রতন আলী জাবেদ কে জিজ্ঞেস করে বসলো, মন্নান মিয়াঁ সম্পর্কে কতটা কি জানে সে।। জাবেদ একটু চমকে গেলো।। কারন কিছুক্ষণ আগে যেই গলায় রতন আলী কথা বলছিল তার সাথে এখনকার গলা যেনও একটু অমিল লক্ষ্য করা যায়।। তবে ঘাবড়ে না গিয়ে সে বোঝার চেষ্টা করলো ব্যাপারটা কি আসলেই তাই নাকি তার দুর্বল মনের চিন্তা।। জাবেদ মন্নান মিয়াঁ সম্পর্কে যা জানত তা বলল রতন আলীকে।। শুনে রতন আলী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“মন্নান মিয়াঁ কেমনে মারা গেছে জানতাম চান??” (রতন আলীর কথা গুলো গ্রাম্য ভাষায় লেখা হল, আমি যখন গল্পটা শুনছিলাম তখন জাবেদও রতন আলীর কথা গুলো গ্রাম্য টানেই বলছিল।। এটা একটা রহস্য।। কারন জাবেদ ঐ গ্রামে মাত্র ২দিন ছিল।। তার পক্ষে এত ভালো ভাবে ভাষাটা রপ্ত করা সম্ভব নাহ।। যাকগে, আমরা গল্পে ফিরে যাই)
জাবেদ কিছুটা অবাক হয়ে বলল, “কিন্তু সবাই যে বলে মন্নান মিয়াঁর মৃত্যুর কারন কেউ জানে নাহ!!”
রতনঃ “তারা জানে নাহ।। কারন মন্নান তাগর কাউরেই কইতাম চায় নাই।।”
জাবেদঃ “তাহলে তুমি কিভাবে জানো??”
রতনঃ “মন্নান আমার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড আছিল।।”
“মরার আগে কি তোমার সাথে তার কথা হয়??”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে রতন বললঃ “আপনি আসল ঘটনা জানে চান??”
জাবেদের এই প্রথম গায়ে একটু কাঁটা দিয়ে উঠলো।। তবুও সে উত্তর দিলো, “হ্যাঁ, তুমি যদি জানো তাহলে বলতে পারো।। আমার নিজেরও এটা জানার খুব ইচ্ছে।।” (এরপর রতন আলী জাবেদকে যা বলল তা আমি একটু সাজিয়ে লিখার চেষ্টা করলাম) যেদিনের ঘটনা সেদিন সকালে মন্নান মিয়াঁ তার সপ্তাহের বাজার করতে যায়।। বাজারে পরিচিত মানুষজনের সাথে দেখা সাক্ষাত করে এবং নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সে রওনা হয় বাসার দিকে।। পথিমধ্যে একটা কবর পড়ে ঐ রাস্তায়।। অনেকেই বলে ঐ কবরে নাকি মাঝে মাঝে এক বৃদ্ধকে দেখা যায়।। আবার অনেকে বলে ঐ কবর থেকে রাতের বেলা নানা রকম আওয়াজ আসে।। কে বা কারা কান্না করে, সেই আওয়াজ নাকি পাক খেয়ে খেয়ে বাতাসে ভাসে।। মন্নান মিয়াঁ এইশব ব্যাপারে তেমন পাত্তা দিতো নাহ।। সেদিন আসার পথে হটাৎ তার ভীষণ তৃষ্ণা পায়।। তার বাজারের ব্যাগ থেকে বোতল বের করে পানি খাওয়ার জন্য রাস্তার পাশেই বসে পড়ে সে।। এমন সময়ে একটা কালো কুকুর এসে তার পাশে বসে।। কুকুরটা দেখে একটু অবাক হয় মন্নান মিয়াঁ।। গ্রামে অনেকদিন যাবত আছে সে কিন্তু আগে কখনো এতো বড় কালো কোন কুকুর দেখেনি।। কুকুরটা মন্নানকে এক দৃষ্টিতে দেখতে থাকে।। হটাৎ মন্নানকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠে, “আমার কবরের পাশে বসে আছিস।। তোর সাহস তো অনেক বেশি দেখছি।।” মন্নান প্রথমে ভাবল তার শোনার ভুল।। সে ব্যাগ থেকে পানি বের করে চোখে মুখে পানি দিলো।। এইবার সে আর স্পষ্ট শুনতে পেলো কুকুরটা বলছে, “কিরে, ভয় পেলি নাকি??” মন্নান মিয়াঁ এইবার পুরো ঘাবড়ে গেলো।। অনিশ্চিত বিপদের আশঙ্কায় সে তার হাতের পাশে পড়ে থাকা একটা গাছের ডাল নিয়ে ছুড়ে মারল কুকুরটার দিকে।। ডালটা সরাসরি গিয়ে লাগলো কুকুরটার মুখে।। একপাশ কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে লাগলো।। প্রচণ্ড রাগে গর্জে উঠলো কুকুরটা।। স্পষ্ট ভাষায় মন্নান কে বললঃ “তুই আমাকে আঘাত করেছিস।। এর পরিনাম তুই ভোগ করবি।।” এই বলে কুকুরটা ভয়ঙ্কর গর্জন করে মন্নান কে কামড়াতে আসলো।। কুকুরটার সাথে ধাক্কা লাগার সাথে সাথে মন্নান জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।।
জ্ঞান হারান অবস্থায় মন্নান স্বপ্নে দেখে এক বুড়ো লোককে।। লোকটি প্রবল ঘৃণা নিয়ে তাকিয়ে আছে মন্নানের দিকে।। মন্নান কে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো, “তুই আমার গায়ে হাত তুলেছিস।। আমাকে আঘাত করেছিস।। এর পরিনাম মৃত্যু।।”
মন্নান ভয়ে জড়সড় হয়ে বললঃ “আমি জানি না আপনি কে।। আপনাকে আমি আমার জীবনে আগে কখনো দেখিনি।। আমি কিভাবে আপনাকে আঘাত করবো??” তখন লোকটি নিজের বর্ণনা দিল।। “তান্ত্রিক” এই ব্যাপারটার সাথে হয়তো আমরা অনেকেই পরিচিত।। তান্ত্রিক তাদের বলে যারা তন্ত্র মন্ত্র নিয়ে থাকে।। এরা প্রায়ই গোরস্থান, শ্মশানঘাটে রাত্রি বেলা কালো জাদু চর্চা করে।। তান্ত্রিক মূলত খারাপ প্রকৃতির হয়।। এরা ক্ষমতার লোভে, বলতে পারেন অমরত্তের লোভে এমনকি মানুষ খুন করে তা দিয়ে তপস্যা করে।। ঐ লোকটি একজন তান্ত্রিক ছিল।। একবার মানুষ খুন করার অভিযোগে তাকে গাছের সাথে ফাঁস দিয়ে মারা হয়।। এরপর তাকে কবর দেয়া হয় গ্রাম থেকে দূরে একটা বধ্য এলাকায়।। সেই কবরটির কথাই একটু আগে আমরা বলেছিলাম।। যাই হোক, সেই তান্ত্রিক মারা যাওয়ার পরও তার আত্মা এখনও মানুষের ক্ষতি করার জন্য ঘুড়ে বেড়ায়।। তান্ত্রিকটা মন্নানের সামনে কুকুর বেশে এসে বসেছিল এবং মন্নান তাকে আঘাত করায় সে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়।। এরপর হটাৎ মন্নানের ঘুম ভেঙ্গে যায়।। সে খুব খারাপ অনুভব করতে থাকে।। তার নিঃশ্বাসে সমস্যা হতে থাকে।। সেখান থেকে কোনোরকমে বাসায় যায় মন্নান।। এরপর আস্তে আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।। রতন আলী এতটুকু পর্যন্ত বলার পর হটাৎ কর্কশ শব্দে কাছেই কোথাও একটা পেঁচা ডেকে উঠে।। ঠিক সাথে সাথে চমকে উঠে জাবেদ শুনতে পায়, রতন আলী তাকে পিছন থেকে ডাকছে।। “ঐ ভাইজান, জলদি লন।। মুত্তে অতখন লাগায় নি কেও??” জাবেদ ঘাড় ঘুড়িয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে অস্থির চিত্তে অপেক্ষা করছে রতন আলী।। আর সে নিজেকে আবিষ্কার করে সেই গাছটার নিচে, যেখানে সে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে এসেছিলো।।

আমাদের গল্প এখানেই শেষ।। এখন আপনাদের কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।। প্রশ্নঃ সেদিন আসলে কি হয়েছিলো??
উত্তরঃ সেদিন কি হয়েছিলো তা আমি বলতে পারব নাহ।। একেজনের একেক রকম ধারণা।। সম্ভবত মন্নান মিয়াঁ এসে জানিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো তার মৃত্যু রহস্য।। হয়তো বা এটা জাবেদের বিক্ষিপ্ত মনের কল্পনা।। প্রশ্নঃ জাবেদ কি তারপর ও কবরটা দেখতে গিয়েছিলো??
উত্তরঃ জী নাহ।। জাবেদ সেই গাছের নিচেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়।। রতন আলী তাকে কাঁধে করে বাসায় নিয়ে আসে।। প্রশ্নঃ জাবেদের এরপর কি হল??
উত্তরঃ জাবেদ এরপর একটানা ৪মাস অসুস্থ ছিল।। ডাক্তারদের ধারণা তার মেণ্টাল ব্রেক ডাউন হয়েছিলো।। ৪ মাস পর জাবেদ হসপিটাল থেকে ছাড়া পায়।। প্রশ্নঃ মন্নান মিয়াঁর কবরটা কি এখনও আছে??
উত্তরঃ জী, কবরটা বহাল তবিয়তে আছে।। যদিও এই ঘটনার পর কবরের পথ তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এরপর কোনোদিন কবরের কুকুরটাকেও আর দেখা যায়নি।। তবে এখনও মাঝে মাঝে পূর্ণিমা রাতে তার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়।। প্রশ্নঃ তান্ত্রিক লোকের কবরটার কি হল??
উত্তরঃ সেই কবরটা নিয়ে আগে থেকেই মানুষের মধে এক ধরনের আতঙ্ক ছিল।। এই ঘটনার পর তা আরও বেড়ে যায়।। পড়ে শুনেছিলাম কবরটা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং ঐ রাস্তাটুকু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।। মানুষ পারত পক্ষে ঐ পথ মাড়ায় নাহ।।

আপনাদের আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে করুন।। আমার জানা থাকলে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।।

আমি প্রফেশনাল লেখক নাহ।। গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি।। ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেবন আশা করি।।

শেয়ার করেছেনঃ ADMIN (Irfan)

।। সংগৃহীত গল্প – ০১ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, July 28, 2011 at 12:30am
ইদানীং এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে রকি। দিন-দুপুরে,রাত, মোটকথা চোখে ঘুম এলেই স্বপ্নটা ওকে তাড়া করে বেড়ায়। যে কারণে রাতে ঠিক মতন ঘুমতে পারছে না ও। ফলে দিন দিন কাহিল হয়ে যাচ্ছে রকি। ভেঙে আসছে শরীর। সবাই শুনে হাসবে ভেবে কাউকে খুলেও বলতে পারছে না ও সমস্যাটার কথা। একদিন বিকেলে পরিচিত এক ডাক্তারের চেম্বারে হাজির হলো রকি। ডাক্তার ভদ্রলোক মন দিয়েই ওর কথা শুনতে লাগলেন।
‘অস্পস্টভাবে, আবছা আবছা দেখলাম আমি বাইরে থেকে বাসায় এসেছি।’ ঘটনাটা বলতে লাগলো রকি। দুঃস্বপ্নের ঘটনা,‘মনে হলো রাতের বেলা। এ ঘর থেকে ও ঘরে যাচ্ছি। চারদিকে আলো-আঁধারীর খেলা। মাঝেমধ্যে কাউকে ডাকছি বলে মনে হলো। এবং যাকে ডাকছি তাকেই সম্ভবত খুঁজছি সারা ঘরময়। এ ঘর থেকে ও ঘরে ঢুকে বাতি জ্বালাচ্ছি। একসময় রান্না ঘরে পৌছুলাম। এবং যা দেখলাম...’ থেমে গেলো রকি। বিভৎস কিছু কল্পনায় এসেছে বলে কথা আটকে গেছে ওর মুখে।
ওকে অভয় দিলেন ডাক্তার,‘রিলেক্স রকি, ধৈর্য্যে নিয়ে বলতে থাকো।’
ঠোঁটজোড়া কেঁপে উঠল রকির। কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে আবার শুরু করল ও,‘দেখি...দে-দেখি সারা কিচেন জুড়ে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বেসিনে টিপটিপ করে রক্তের ফোঁটা পড়ছে। আর...চুলোয় বিভৎস এক দৃশ্য। চুলোর উপর বসানো এক হাড়িতে সেদ্ধ হচ্ছে কারো ছিন্নমুন্ডু! আরো জনাদুয়েকের কাটামাথা গড়াগড়ি খাচ্ছে ফ্লোরে উফ্!! বলতে বলতে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো রকি।
ওকে শান্ত্বনা দিলেন ডাক্তার সাহেব। তারপর প্রাথমিক কিছু টেস্ট সেরে একটা প্রেসক্রিপসন লিখে দিলেন তিনি। বললেন, দিন পাঁচেক ট্রাই করে দেখতে। প্রেসক্রিপসন হাতে ডাক্তারের চেম্বার ছাড়ল রকি।
নিকটস্থ এক ফার্মেসী থেকে ঔষুধ কিনে বাসায় ফিরলো।
এবং তারপরের দিন ঘটল আসল ঘটনা।
গভীর রাতে ঘুম ভাঙলো রকির। সারা শরীর ঘেমে নেয়ে গেছে। কপালের ঘাম মুখ বেয়ে নামছে রেখা টেনে টেনে।
হাঁপাচ্ছে ও হাপরের মতন।
যেন হিস্টিরিয়া রোগী শ্বাস কষ্ঠে ভুগছে প্রচন্ড।
বেড সুইচ টিপে অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালালো রকি। বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।
প্রচন্ড পানির পিপাসা পেয়েছে। প্রতিদিনের মতন আজও সেই একই দুঃস্বপ্ন দেখেছে ও। তবে আজ স্বপ্নে একটু অন্যরকম ছাপ এসেছে। সেই ছিন্নমুন্ডুগুলোকে শনাক্ত করতে পেরেছে রকি। মোটেও বিশ্বাস হচ্ছিল না ওর, স্বপ্নের মধ্যেই। ওগুলো ওর পরিবারের মুন্ডু ছিলো! ওর ছোটভাই, বড় বোন আর মা’র। অসহ্য!
হঠাৎ কিছু একটা ভেবে পাশের ঘরে এল রকি। এ ঘরে ওর মা আর ছোটবোন ঘুমোয়। কিন্তু অন্ধকার ঘরে কিছুই নজরে এল না। লাগোয়া ঘরটা বড়ভাই হাফিজের। ও ঘরে গিয়েও কিছুই দেখতে পেল না রকি। অথচ সবকিছুই কেমন জানি ঠেকছে ওর কাছে। মনে হচ্ছে স্বপ্নের মাঝেই ঘটছে এসব। আসলে হয়ত ঘুমের ঘোর এখনো কাটেনি।
ধীর পায়ে ঠলতে ঠলতে কিচেনের দিকে এগোলো রকি।
ঠিক তখুনী ওর মনে হল কেউ একজন ওকে অনুসরণ করছে। ঝট্ করে চারদিকে নজর ঢালল ও, নাহ্! কেউ নেই!
অল্প অল্প কিচেনের সামনে আসতে লাগলো ও। কিচেনে বাতি জ্বলছে। সেই আলার মধ্যে রকি হতবাক হয়ে ল্য করল কিচেনের ফোর জুড়ে টকটকে লাল তরল পদার্থের বন্যা!
অসম্ভব!

এতো হুবুহু স্বপ্নে দেখা ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটছে!
অজান্তেই আতঙ্কিত চিৎকারের আওয়াজ বেরিয়ে আসছিলো রকির মুখ দিয়ে। চট করে মুখে হাত চাপা দিল ও।
আরো কয়েক কদম এগোতেই স্টোভ থেকে স্পস্ট ফুটন্ত পানির শব্দ কানে ভেসে এল।
জায়েগায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল রকি!
স্বপ্নটা, স্বপ্নটা কি তবে সত্যি হতে চলেছে!
বিড়বিড় করে উঠল রকি।
এমন সময় পেছনে কারো গরম নিঃশ্বাসের শব্দ স্পস্ট অনুভব করল ও। ঘুরে দাঁড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গেছে ততক্ষনে।।
পুরো মহল্লায় প্রচন্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চারিদিকে ভীষণ গুঞ্জন। একটি বাসার সামনে বেশ ক’টা পুলিশের গাড়ি। আর পুলিশ ও সাংবাদিকদের ছুটোছুটি করতে দেখা যাচ্ছে।
সীল কওে দেয়া হচ্ছে পুরো বাসা।
উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভীড় সামলাতে পুলিশের নাজেহাল অবস্থা।
সেই ভীড়ের মাঝে ঘটনা কি কেউ একজন জানতে চাইল। এবং জবাবও দিল কেউ একজন,‘গতরাতে চারটি খুন হয়েছে ভাই্ চারজন মানুষের মুন্ডুহীন লাশ পাওয়া গেছে এ বাসায়।। বিঃ দ্রঃ গল্পটি আমাদের পেইজের কেউ শেয়ার করেননি।।

।। কবরখানার বিভীষিকা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, July 28, 2011 at 10:20pm
আমাদের বাসা একটি কবরখানার ঠিক সাথেই।। আমি বরাবরই নাস্তিক টাইপের।। তারপরো আমি এমন একটি ঘটনার সাক্ষী যার ব্যাখ্যা আজো পাইনি।। তখন আমি ৬/৭এ পড়ি।। কিছুদিন পরেই আমার বড় বোনের S.S.C. পরীক্ষা।। রাত জেগে ও পড়ালেখা করে।।
এক রাতে ও আমায় ঘুম থেকে তুলে বলে, কবরখানায় নাকি বাচ্চারা কান্না করছে!! আমি কিছুই শুনতে পেলাম না, হেসে উড়িয়ে দিয়ে বললাম, কাল এমন সময় আমি যাব কবরখানায়!! যেমন বলা তেমন কাজ।। পরের দিন ঐ সময় আমি গেলাম কবরখানায় আর বোনকে বলে গেলাম ও যেন খেয়াল করে কোনো আওয়াজ পাওয়া যায় কিনা।। এই বলে আমি কবরখানায় যাই,ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে আমার গায়ের লোম দাড়িয়ে যায়!! দেখি কয়েকটা বাচ্চা খেলছে!! একটু পরেই ওদের মাঝে মারামারি শুরু হয়, আর ২/৩টা বাচ্চা কান্না শুরু করে!! এইটুকু দেখেই আমি এক দৌড়ে বাসায় চলে আসি, আর তখন থেকে এরপরের কিছুদিন প্রচন্ড জ্বরে ভুগি!! শেয়ার করেছেনঃ অমায়িক ছেলে

।। ছায়ামূর্তি রহস্য ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, July 28, 2011 at 11:00pm
আমরা এখন যে বাসাটায় আছি এটাতে আমরা ৭মাস হল এসেছি।। বাড়িটা দেখতেই যেনও একটু কেমন কেমন।। বাড়িটার নিচ তলায় আমরা থাকি।। বাসাটায় উঠার গত ৬ মাস পর্যন্ত আমাদের কোন প্রব্লেম হয় নি।। হটাৎ প্রায় রাতেই মনে হতে লাগলো, আমার রুমে মাঝরাতে কেউ একজন হাঁটে।। আমি প্রথমে অতটা পাত্তা দেইনি।। আগেই বলে রাখি।। আমার বেডটা হল পশ্চিম সাইডে।। বেড বরাবর পূর্বদিকে টয়লেট।। তো, একদিন রাতে হটাৎ খেয়াল করলাম আমার রুমের ভেতর সাউন্ড হচ্ছে।। ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না কিসের সাউন্ড।। পরে ভালো করে খেয়াল করে বুঝতে পারলাম, সাউন্ডটা আসলে ইলেক্ট্রিক সুইচ অন অফ করার সাউন্ড।। পরপর কয়েকদিন একই ঘটনা ঘটলো।। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার যে, প্রতিদিন সাউন্ডটা ২টা থেকে ২.৩০ ের মধ্যে হয়।। এরপর আর সাউন্ডটা হয় নাহ।। আর সাউন্ডটা হয় ঠিক টয়লেটের সামনে থেকে।। অনেক চেষ্টা করেছি রহস্যটা বেদ করার কিন্তু কোন উত্তর পাইনি।। গতকাল রাত ২টার দিকে হটাৎ আমার মাথার পাশে “ধপাস” করে কিছু একটা পড়ে।। সেই আওয়াজে সাথে সাথে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।। ঘরে হাল্কা আলো থাকায় জিনিসটা পরিষ্কার দেখতে পেলাম।। যেখানে আওয়াজটা হল ঠিক যেনও সেই জায়গা থেকে একটা ছায়ামূর্তি সরে গেলো।। ছায়ামূর্তিটা ডানের দিকে চলে গেলো দেখলাম।। আমি সাথে সাথে লাইট জ্বালালাম, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম নাহ।। এমনকি যেখানে সাউন্ড হয়েছিলো সেখানেও কিছু নেই।।

শেয়ার করছেনঃ Amin Islam

।। আমরা তিনজন ও একটি রাত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, July 28, 2011 at 11:33pm
মাস দেড়েক আগের কথা।। রাতে খেয়ে আমি সুমন আর মিলু যে যার মত পড়ছিলাম।। সারাদিন প্রচুর খাটুনি ছিলো।। ল্যাব আর ক্লাস।। ঘুম ঘুম ভাব সবার চোখে।। তারপরেও কেন যেন ঘুম আসছিল না।। তিন জন গল্প শুরু করলাম।। যদি ঘুম আসে এই ইচ্ছায়।। মিলু বোতল নিয়ে পানি আনতে গেল।। আমি আর সুমন প্লান করলাম মিলু ফিরে আসার সময় ওকে দরজার পাশ থেকে ভয় দেখাব।। তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়লাম আমরা।। মিলূ দরজা খুলতেই আমরা হো হো করে হেসে উঠি।। কিন্তু মিলুর কোন ভাবান্তর হল না!!
আমরা হতাশ হয়ে বসে পড়লাম।। আমার কাছে বিস্কুট ছিলো।। তাই খেয়ে পানি খেলাম আমরা।। মিলু বলল,“আমার কাছে একটা নতুন ইংলিশ ম্যুভি আছে।। ভ্যাম্পায়ারের।। চল দেখি সবাই মিলে”।। অনেকদিন ধরে রুমে একসাথে মুভি দেখা হয় না।। ওর কথায় আমি আর সুমন রাজি হয়ে গেলাম।। মিলুর খাটে গিয়ে বসলাম।।
বুধবার রাত।। একটা মুড়ি পার্টি হলে মন্দ হয় না।। পাশের রুমের ইমরানকে ডাকলাম।। ইমরান মুড়ি আনতে গেল।। আমরা সবাই গোল হয়ে বসলাম।। মুড়ি ঢালার জন্য মিলুর খাটে পেপার বিছানো হল।। মুড়ির গন্ধ পেয়ে এর মধ্যে আবার কোত্থেকে যেন মাসুদ এসে হাজির হয়েছে।। আজকের পার্টি জমবে ভালই।। মুভি শুরু হয়ে গিয়েছে।। হরর মুভি দেখে আমাদের ভয় লাগার বদলে চরম হাসি পাচ্ছিল।। ভ্যাম্পায়ারদের কীর্তিকলাপ দেখে মজা পাচ্ছিলাম।। মুভির নাম ড্রাকুলা।। নায়ক হল ম্যাট্রিক্স মুভির নিও।। তিনটা নারী যে উদাম ভঙ্গিতে নায়কের রক্ত চোষার চেষ্টা করছে তাতে করে আমাদের ভয় লাগার বদলে যৌন সুরসুরিতে কেপে কেপে উঠছি।। মিলু তো ভাল মুভি চালিয়েছে দেখছি।।
মাসুদের আবার এইসব মুভিতে হাল্কা এলার্জি আছে।। ও ফোনে কথা বলার নাম করে বারান্দায় গেল।। মনে হয় ছাত্রীহল থেকে জরুরি কোন ফোন।। অবশ্য জিজ্ঞেস করলে বলবে যে তার ছোটবেলার বন্ধু কল দিয়েছিল।। মুড়ি খাওয়া শেষ হবার সাথে সাথে যেন আমাদের মুভি দেখার আগ্রহ দমে গেল।। মিলু বলল,“চল বারান্দায় বসে চাঁদ দেখি”।। সুমন আর আমার তেমন কোন সাড়া না পেয়ে একাই গেল বারান্দায়।। আবার ডাকলো আমাদের।। বেচারা ডাকছে, না গেলে খারাপ দেখায়।। তাই আমি আর সুমন গেলাম তার আতলামিতে সামিল দিতে।। না, আসলেই বেশ ভাল চাঁদ উঠেছে।। পুরো পরিস্কার আলো, বই পড়া যাবে মনে হয়।। প্রাচীন মণীষীদের কথা মনে পড়ে গেলো।। তারা তো আলোর অভাবে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় পড়তেন।। আচ্ছা আমি বুঝিনা, উনারা দিনের বেলায় কি করতেন?? ঘুমাতেন নাকি ঘোড়ার ঘাস কাটতেন!! এমন সময় সুমনের ফোনে একটা কল এল।। বেশ বিরক্ত মনে হল সুমনকে।। এত রাতে কল এলে কার না বিরক্ত লাগার কথা!! তাও আবার ঘুম ধরছে না এমন রাতে।। রিসিভ করতে করতেই কলটা কেটে গেল।। কেটে যাবার একটু পরেই মিলুর ফোনে কল।। সাথে সাথেই আমার ফোনে।। আমিও রিসিভ করতে পারলাম না, কেটে গেল তার আগেই।।আমরাতো তিনজনেই অবাক।। কে মজা করতেছে আমাদের সাথে?? সেট বের করে আমরা নাম্বারগুলো দেখলাম।। ভিন্ন ভিন্ন নাম্বার, তবে একটার সাথে আরেকটার মিল আছে।। কিন্তু আমাদের আর রাতের বেলা খুজতে ইচ্ছে করল না কী সেই মিল।। আমরা আবার গল্প করতে শুরু করলাম।। কিছুক্ষন পরে আবার কল, সুমনের কাছে।। এইবার ও রিসিভ করল।। ওপাশ থেকে কি বলল আমরা জানিনা, তবে সুমনকে দেখে মনে হল কিছু সিরিয়াস হবে হয়ত।। ও শুধু “হ্যা হ্যা” করতে লাগল।। শেষে “আসছি” বলে কল কেটে দিল।। আমি আর মিলু কিছু বুঝলাম না,হাবার মত একে অপরের দিকে তাকালাম।। সুমন ফোন রেখে বলল, “ঢাকা মেডিকেল থেকে কল করছিল।। তাদের কাছে একটা মুমূর্ষু রোগী আসছে কিছুক্ষণ আগে, প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে।। রক্ত দরকার।। এই মুহূর্তে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না দেখে সুমন কে কল দিছে সেখানকার লোক।। যেতে বলছে এখনি।। সুমন তারাতারি ড্রেস চেঞ্জ করে নিল।। আমাদেরকেও রেডি হতে বলল।। আমি আর মিলু ভাবলাম ওকে এত রাতে একলা ছাড়া ঠিক হবে না।। তাই আমরাও রেডী হয়ে নিলাম।। রুমে তালা দিয়ে বের হলাম হল থেকে।। রিকশা পাওয়া যাবে না এত রাতে, হেটেই রওনা দিলাম।। বুয়েট থেকে তো আর বেশি দূরে না, হেটে যেতে কয়েক মিনিট লাগবে মাত্র।। আর রাস্তা তো আমাদের চেনাই আছে।।
আমি কানে এফ.এম. রেডীও লাগালাম।। মিলু আর সুমন গল্প করতে করতে এগুতে থাকে।। আমি হালকা হালকা শুনতে পাচ্ছি মিলু আতলামি শুরু করছে।। চাদের বর্ণনা দিচ্ছে, জ্যোতস্নার গুণকীর্ত্তন করছে।।। আমি মনে মনে হাসতে থাকি।। যে ছেলেটা প্রোগ্রামিং করতে গিয়ে খাওয়া-গোসল ভুলে যায় তার মুখে মেঘে ঢাকা চাদের কথা শুনে একটু অবাকই হতে হয়।। বুয়েট শহীদ মিনার পার হয়ে আমরা আহসানুল্লাহ হলের পাশ দিয়ে ঢাকা মেডিকেলের দিকে চলতে থাকি।। আমি খেয়াল করলাম, আসলেই সুন্দর চাদ উঠেছে।। ই.এম.ই. বিল্ডিং এর ঠিক উপরে,যেন ছাদে উঠলেই ছোয়া যাবে।। হা হা হা,আমিও দেখি মিলুর মত আতেল্ হয়ে গেলাম! বকশী বাজার মোড়ে গেলাম খুব তাড়াতাড়ি।। আজবতো!! একদম ফাকা।। সবগুল দোকান বন্ধ।। অবশ্য এত রাতে খোলা থাকার কথাও না।। তবে পেনাং তো বন্ধ থাকার কথা না!! আমি খেয়াল করলাম মেডিকেলের হলের দিকে।। সব লাইট বন্ধ মনে হচ্ছে।। সবচেয়ে ভয় পেলাম তখনই যখন দেখি রাস্তায় আজ কোন টহল পুলিশ নাই।। এরকম তো হবার কথা না!! একটা মানুষজন নাই, গাড়িও না।। আমার খুব ভয় পেতে লাগল।। তবে ভাব নিলাম যেন কিছুই হয় নি।। ওরা দুজন জানতে পারলে পরে জ্বালিয়ে মারবে।। তাই চুপচাপ ওদের সাথে হাটতে থাকলাম।।
আমরা মোড় ধরে যাচ্ছি।। মিলু জিজ্ঞেস করল,“বামে যাব নাকি ডানে যাব”?? আমি কিছু বললাম না।। সুমন বলল ,“ইমারজেন্সিতে যেতে বলেছে।।” তাই সোজা চানখারপোলের দিকে এগোতে থাকলাম।। রাস্তার দু পাশের দোকান গুলোর সাটারগুলোকে কেমন জানি জেলখানার রডের মত মনে হচ্ছে।। আমি সুমন আর মিলুর মুখের দিকে তাকালাম।। ওদের মুখও শুকনো লাগছে।। বুঝতে পারলাম, ওরাও ভয় পাচ্ছে।। কিন্তু স্বীকার করছে না, আমার মত ভাব নিচ্ছে।। অবশেষে আমরা ইমারজেন্সি গেটের কাছে পৌছালাম।। আজই প্রথম দেখলাম এখানকার ফার্মেসী বন্ধ।। অথচ আমি দেখছি সারারাত এগুলো খোলা থাকে।। কাউকে যে জিজ্ঞেস করব ব্লাড সেন্টারটা কোনদিকে তারও চান্স নাই।। কেউ থাকলে তো জিজ্ঞেস করা যায়!!
আন্দাজে আমরা চলতে থাকি।। দেখি কে যেন ঘুপটি মেরে কলাপ্সিবল গেটের পাশে বসে আছে।। সারা গায়ে চাদর জড়ানো, মাথায় মাফলার পেচানো।। আমার তো হাসি পেয়ে যাচ্ছিল।। এই গরমের সময়ে এমন পোশাক দেখলে কার না হাসি পাবে!! তবে আমার হেসে ফেলার আগেই মিলু ফিসফিস করে ওঠে, ,“এই যে, শুনতে পাচ্ছেন”??
এক বার ডাক দিতেই লোকটা মাথা তুলে তাকালো।। মনে হয় জেগেই ছিলো।। আমি অন্ধকারেও খেয়াল করলাম তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে।। কেন জানি মনে হচ্ছে লাললাল একটা আভা।।
সুমন বলল ,“ব্লাড নেয় কোথায় বলতে পারেন??”
লোকটা এমন ভাবে তাকালো যেন আমরা তাকে প্রশ্ন করে মহা অপরাধ করে ফেলেছি।। এক্ষুণি আমাদের গর্দান নেয়া হবে।।
“এত দেরি হল কেন??” কর্কশ কণ্ঠে কে যেন কথা বলে ওঠে।। খেয়াল করে দেখলাম লোকটি বলছে।। মানুষের স্বর যে এমন বাজে আর বিশ্রি হতে পারে আমার জানা ছিল না।। “আমি কি সারারাত জেগে থাকব নাকি??”
আমি খুব অবাক হলাম।। বাপরে!! মনে হয় আমরা আমাদের নিজের প্রয়োজনে এসেছি!! তাকে সময় দিয়ে আমরা দেরি করে ফেলেছি।।
“আসেন আমার সাথে” বলেই গেট খুলে ভেতরে যেতে বলে আমাদের।। আমরা বুঝতে পারলাম আমাদের জন্যই বসে ছিল লোকটা।। আমরা তাকে ফলো করলাম।। ভেতরে ঢুকলাম।। আমাদের কে একটা ওয়ার্ডের দিকে নিয়ে গেল।। আমাদেরকে ভেতরে দিয়েই সে বাইরে চলে গেল।। যাবার সময় বলে গেল আমরা যেন কথা না বলি আর বাইরে না যাই।।
সুমন কিছু বলতে যাচ্ছিল।। মিলু ওকে আটকাল।।
লোকটা বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দিল।। বুঝলাম না দরজা বন্ধ করার কী আছে??
আমি কান থেকে রেডিও এর হেডফোন খুলে ফেলি।। কেন যেন ভয়টা বেশি লাগছে।। এবার বলেই ফেললাম ওদের ভয়ের কথাটা।। ওরাও স্বীকার করল।।
আধা ঘন্টা ধরে বসে আছি কারও আসার নামগন্ধ নাই।। আমরা জড়সড় হয়ে বসে আছি চুপচাপ।। কার মুখে কোন কথা নাই।।
হঠাৎ ভেতরের দরজা খুলে গেল।। কিন্তু কাউকে দেখা গেল না।। সুমন গিয়ে উকি দিল।। কেউ নাই ভেতরে।। ফিরে আসার সময় একটা কন্ঠ ডেকে ওঠে,“সুমন, তুই প্রথমে আয়”!! “তুই তোকারি করে ডাকছে কেন?”আমি মিলুকে জিজ্ঞেস করলাম।।
আমার কথা শেষ না হতেই আবার ভেসে আসে সেই কন্ঠ।“কে কথা বলে রে?? যে বলছিস সে আসবি সুমনের পর।তারপর অন্যজন”।।
আমার রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়।। আমি আর মিলু কেন?? আমাদের তো রক্ত দেবার কথা না।। তাহলে??
আমার মাথা ঘুরে ওঠে।। মিলুর দিকে যে তাকাব সেই সাহস টাও পাচ্ছি না।। মনে হচ্ছে তাকিয়ে দেখব মিলু আমার দিকে লাল লাল চোখে তাকিয়ে আছে।। আমি আমার পায়ের দিকে তাকাই।। দেখি ফোটা ফোটা রক্ত।। ভাল করে খেয়াল করে দেখি পুরো মেঝে জুড়েই রক্ত।। কেউ যেন কিছুক্ষণ আগে মুছে দিয়ে গেছে।।
এরকম ভাবে তো রক্ত পড়ে থাকার কথা না।। আমি মিলুকে দেখাব ভাবলাম।। ওর দিকে তাকাতেই যে দরজা দিয়ে ঢুকেছিলাম তা খুলে গেল।। দেখি পাহারাদার লোকটা।। তবে চাদর আর মাফলার নাই।। খালি গায়ে এসেছে।। গায়ে একফোটা মাংস নাই।। হাড় জিড়জিড়ে।। দেখে আমার তো পড়ে যাবার মত অবস্থা।। কোনমতে মিলুকে আকড়ে ধরি।।
“তোদের মোবাইল ফোনগুলো দিয়ে দে।। তাড়াতাড়ি”!!আমি নিজের অজান্তেই আমার পকেট থেকে আমারটা বের করে মিলুর হাতে দেই।। মিলু আমাদের দুইটা ফোন তার হাতে তুলে দেয়।।
লোকটা হাসতে থাকে।। আমি তাকিয়ে দেখি লোকটার উপরের পাটির দুইটা দাত বড়বড়।। আমার রক্ত হিম হয়ে আসে।। আমার ধারনা মিলুও দেখেছে।। সিওর হলাম যখন দেখলাম মিলু আমার হাত শক্ত করে আকড়ে ধরেছে।।
আমার মনে হল আজ বোধ হয় আমি শেষ।। আজই মনে হয় আমাদের জীবনের শেষ রাত।। আমি আল্লাহ আল্লাহ করতে লাগলাম।। চোখ বন্ধ করে ফেললাম।। বারবার মনে হচ্ছিল এই বুঝি কেউ আমার গলায় কামড় বসালো।। চোখ বন্ধ করে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম আমাদের দুজনকে কিছু অশরীরী প্রাণী কামড়ে কামড়ে খাচ্ছে।। আমি চোখ খুলতে পারছি না।।
হঠাত সুমনের কথা মনে হল।। বেচারা মনে হয় এতক্ষণে শেষ।। আমার কান্না আসে।। ভাবলাম চীতকার করি।। দিতে গেলাম।। দেখি গলায় জোর নাই।। কেউ যেন আমার গলা চেপে ধরে রেখেছে।। আমি চোখ খুললাম।। দেখি সত্যি সত্যি আমার গলা চেপে ধরে আছে কিম্ভুত কিমাকার একটা প্রানী।। জীভটা ইয়া বড় হয়ে আছে।। একহাতে আমার গলা আর অন্য হাতে মিলুর গলা চেপে ধরে আছে।। আমাদের টেনে নিয়ে এগুতে থাকে ভেতরের ঘরের দিকে।। যেখানে সুমনকে নিয়ে গেছে।।
আমি বাধা দিতে থাকি।। মিলুও পিছু টান দেয়।। লোকটার গায়ে প্রচণ্ড শক্তি।। আমাদের দুজনকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে থাকে।। চামড়া ঢিলা মানুষের গায়ে এত শক্তি হতে পারে আমার জানা ছিল না।। অবশ্য ওটাতো মানুষ না,রক্ত খেকো মানুষ।।
আমি আমার শেষ সময়টুকু ভাবতে থাকি।। এমন সময় বীকট একটা চীতকার।। সুমনের কন্ঠ মনে হল।। তারমানে ও এখনো বেচে আছে।। চীতকারটা আরো কাছে আসতে থাকে।। মনে হচ্ছে সুমন দৌড়াচ্ছে আর চীতকার করছে।। খুব কাছে দরজার ওপাশে এসে গেছে মনে হচ্ছে।। হঠাত দরজা খুলে গেল।। সুমন দৌড়াচ্ছে।। সুমনের ধাক্কায় আমাদের যে লোকটা ধরে ছিল পড়ে যায়।। আমি আর মিলুও পড়ে যাই।।
“আমীন পালা,দৌড়া”।। সুমন ডেকে ওঠে।। আমি আর মিলু কী বুঝলাম জানি না।। মনে নাই।। শুধু মনে আছে প্রচন্ড একটা দৌড় দিয়েছিলাম সেই রাতে।। পিছনে ফিরে তাকাইনি।। কলাপ্সিবল গেট খোলা ছিলো।। তারা ভাবতে পারেনি যে এমন হতে পারে!! তাই আর গেট লাগায়নি।।
এখনো ভাবি যদি গেটটা বন্ধ থাকত তবে কী হত!!
না আর ভাবতে চাই না সেই রাতের কথা, যেটা মনে হলে এখনো গায়ের লোম খাড়া হয়ে ওঠে।।
ইমারজেন্সি থেকে বের হয়ে দেখি আকাশে চাঁদ নাই, সবদিকে অন্ধকার।। দৌড়ানোর সময় মিলু পড়ে গিয়েছিলো হোচট খেয়ে।। আর আমার পায়ের যে আঙ্গুলটা উঠে গেছে ডাক্তার বলেছে আর ভাল হবে না।। তাতে কী!! বেঁচে যে আছি সেটাই বা কম কী!! বাস্তবে যে এমন হবে কল্পনাও করিনি কখনো।।
সুমনের গলায় দাঁত বসিয়ে ছিল।। রুমে ফিরে দেখি সারা শরীর রক্তে মাখামাখি।। এখনো সারেনি পুরোপুরি।। আর কিছুদিন লাগবে মনে হয়।। তবে দাগটা থেকে যাবে মনে হয় সারাজীবন!!

শেয়ার করেছেনঃ Areef Ameen

।। ভূত নিয়ে কিছু কথা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, July 29, 2011 at 6:27pm
( পৃথিবীর একটি বহুল প্রচলিত একটি জিনিস ভূতের ভয়। একটি রহস্যময় জিনিস। ভূতের ব্যাপারে পৃথিবীর মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত। ভূত নাই এবং আছে । কিন্তু যারা বলে ভূত নাই তারাও ভূত ভয় করে।) ভূত গোলাকার হতে পারে। ভূতের আকার হতে পারে কুয়াশা, বাষ্প বা পানির মতো। মানুষের ছায়ার মতো হতে পারে ভূত। দেখা গেল কোনো মানুষ নেই কিন্তু একটা ছায়া ঘোরাঘুরি করছে। তাহলে নিশ্চিত হতে হবে ওটা ভূত। ভূত আবার একটি অদ্ভুত চেহারার আর অদ্ভুত শরীরের মানুষের আকৃতিও নিতে পারে। তবে এরকম ভূত দেখা যায় না বললেই চলে। ভূত নিজেকে যে কোনো জায়গায় প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু নির্জন জায়গায় নিজেকে হাজির করতে তাদের পছন্দ। আবার কিছু ভূত বিশেষজ্ঞ মনে করেন বুদ্ধিমান ভূতেরা নির্জন এলাকার চেয়ে জনাকীর্ণ এলাকাই পছন্দ করে বেশি। এতে তাদের ধরা পড়ার সম্ভবনা কম। বাংলার ভূতরা নানান নামে পরিচিত। ভূতদের জাতিভেদও আছে। মানে পুরুষ ভূত তো আছেই, স্ত্রী ভূতও আছে। স্ত্রী ভূতকে পেত্নী হিসেবেই ডাকা হয়। পেত্নীর পরেই দাপুটে স্ত্রীভূত হচ্ছে শাকচুন্নি। পুরুষভূতদের মধ্যে সবার প্রথমেই আছে ব্রহ্মদৈত্য। এরা সাধারনত খড়মপায়ে ঘুরে বেড়ায়। মধ্যরাতে খড়মপায়ে কাউকে হাঁটতে শুনলেই বোঝা যাবে এরাই ব্রহ্মদৈত্য। এদের বসতি সাধারনত বেলগাছে। কিংবা তালগাছ-বাশঝাড়ে হতে পারে। তবে সবচেয়ে মঝার ঘটনা হচ্ছে; মেয়ে ভূত ছেলে মানুষের সাথে, আর পুরুষ ভূত মেয়েদের সাথে দেখা করে এবং ভয় দেখায়। ভূত সমাজে প্রতিবন্ধী ভূতও আছে । যাদেরকে ল্যাংড়া ভূত অথবা কানা ভূত বলা হয় । ভূত সমাজের সবচেয়ে ভয়ংকর ভূত প্রতিবন্ধী ভূত । আরো কিছু ভূত আছে তাদের নাম কন্ধকাটা ভূত। এদের মাথা নেই আছে কেবল ধড়। আরো আছে পেঁচো ভূত। এরা টার্গেট করে শিশুদের। ওরা শিশুদের ভয় দেখিয়েই মজা পায়।
বাঁশ-ঝাড়ে থাকে ঝেরুভূত। ঝেরুভূতের কারণেই নাকি বাঁশঝাড়ের বাঁশেরা এমন শুয়ে থাকে। যেমন আমি একদিন রাতে একা একা আসছি এমন সময় পুরো বাশঝাড় আমার উপরে পড়বে অবস্থা । পরে একসপ্তাহ ঝর ছিল। রাতে ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে নিয়ে যায় যে ভূত, তার নাম নিশাভূত। আর হাঁড়াভূত নামে ভয়ঙ্কর ভূত আছে। এরা রক্ত পান করে, ঘাড় মটতে দেয়। ভূতেরা নানান ধরনের হয় । কেউ দুটো তালগাছের সমান লম্বা। কারো কারো হাতপা এত লম্বা যে, যত দূরেই থাকুক যে কোনো কিছু এরা ধরতে পারে। এবং যে কোনো জায়গায় এরা নিমেষে যেতে পারে। আবার ইচ্ছে মতো হাত বা পা লম্বাও করতে পারে। কারো কারো শরীর আবার কেবল হাড় দিয়েই গড়া। এদের চোখদুটো কোটরে ঢোকানো। তবে দাঁত বত্রিশটিই বর্তমান। কারো কারো আবার ফোকলা দাঁতও আছে। ফোকলা দাঁতে শিরশিরিয়ে হাসে। বেশিরভাগ ভূতেরই গায়ের রঙ কালো। মেয়ে ভূতদের নাক সবসময়ই থ্যাবড়ানো। কারো কারো আবার একটা পা। কারো আবার পায়ের পাতা থাকে পিছনের দিকে। কোনো কোনো ভূতের লেজও থাকে। শেষকথা,
ভূতকে ভয় পাবেন না। যদিও আমি ভয় পাই। আমার ক্ষুদ্র গবেষণার এখানেই সমাপ্তি। আরকিছু জানতে পারলেই আপনাদের জানাবো । কথা দিলাম । এখন আমার ভয় করছে যদি ভূতেরা আমাকে বলে আমাদের নিয়ে তুমি কেন লিখেছ ? আমি কি বলব ? আপনারাই বলে দিন।

শেয়ার করেছেনঃ Razib Chandra Datta

।। ২ টি অদ্ভুত ঘটনা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, July 29, 2011 at 10:02pm
এটা আমার নানু বাড়ির ঘটনা।। নানু বাড়িতে একটা পাগল ধরনের লোক থাকতো।। সে সবসময় একটু এলোমেলো থাকতে পছন্দ করতো।। একদিন দুপুরে সে মসজিদে গিয়ে বসে পড়ে।। কিছুক্ষণ বসে থাকতে থাকতে তার ঘুম চলে আসে এবং এক পর্যায়ে সে ঘুমিয়ে যায়।। ঘুম ভেঙ্গে যায় প্রচণ্ড জোরে এক থাপ্পর খেয়ে।। সে চোখ খুলেই “কে কে” বলে চিৎকার করে উঠে।। সাথে সাথে আবারো থাপ্পর।। কে যে থাপ্পর দিচ্ছে তা সে খুঁজে পাচ্ছে নাহ।। হটাৎ সে একটা আওয়াজ শুনতে পায়।। তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে, “এই রকম অপবিত্র শরীর নিয়ে কখনো মসজিদে প্রবেশ করবে নাহ, আর মসজিদে ঘুমাবে নাহ।।” এটা শুনে সে তো ভয়েই দৌড়।। আমার নানু গ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন।। নানু বাড়িতে এসে পাগলটা সব ঘটনা খুলে বলল।। পাগল মানুষ বলে কেউ ওর কথা প্রথমে বিশ্বাস করেনি।। কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করতেই দেখা গেলো গালে সত্যি সত্যি থাপ্পরের বড় বড় দাগ।।

আরেকটি ঘটনা এরকম।। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিশাল আকৃতির কুকুর এসে উঠোনে চুপচাপ বসে থাকতো।। সন্ধার পর সে গায়েব হয়ে যেত।। আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও তাকে কোথায় পাওয়া যেত না।। আশেপাশের গ্রামে অনেক খোঁজ খবর করা হয় কিন্তু তারা কেউই সেই বিশাল আকৃতির কালো কুকুরটা সম্পর্কে কোন ধারণা দিতে পারলো নাহ।। সে প্রতি সপ্তাহেই ঐ একদিনই আসতে, চুপচাপ বসে থাকতো এবং সন্ধার পর যেনও ঠিক হাওয়ায় মিলিয়ে যেত।। কুকুরটার রহস্য আজও কেও বের করতে পারেনি।।

লেখক / লেখিকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।।

।। আরেকটি কবরস্থানের রহস্য ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, July 29, 2011 at 10:03pm
আমার এক বড় ভাই একদিন গ্রামের ঐতিয্যবাহী বলি খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন।। রাত তখন ২.৩০ এর মত হবে।। তাদের বাড়ি থেকে একটু পশ্চিম দিকে একটা সামাজিক কবরস্থান আছে।। সেখানে গ্রামের অনেকেরই কবর আছে।। তিনি আসতে আসতে কবরস্থানের কাছে চলে আসলেন ।। তখন হটাত কেনও যেন তার খুব ভয় লাগলো।। তিনি একটা কবরের কাছে ভয়ে দাড়িয়ে গেলেন।। এমন সময় তিনি কোরান পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলেন।। তিনি খেয়াল করলেন মসজিদের হূজুরের গলা।। তিনি সাহস করে উকি মেরে হুজুরকে দেখে কবরস্থানে উঠলেন।। গিয়ে হুজুরের পাশ দিয়ে বসলেন।। হুজুর তাকে বললেন, “এতো রাতেএখানে কেনো আসছো??” তিনি বললেন, “আমি বলি খেলা দেখে আসতেছি।। কিন্তু কবরস্থানের পর্যন্ত আসার পর আমার ভয় করতেছে।। আপনাকে দেখে উঠে এলাম।।” হুজুর বললেন, “যাও তুমি বাড়ি চলে যাও।।” তিনি বললেন, “আমার ভয় করে!! আপনি যদি একটু দিয়ে আসেন।।” হুজুর রজি হলেন এগিয়ে দিতে।। দুজন মিলে রাতের অন্ধকারে চলতে লাগলেন।। একটু আসার পরে হুজুর বললেন, “যাও এবার চলে যাও।।” ভাইয়া বললেন, “আর একটু যদি আসতেন।।” এই ভাবে হুজুর তাকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলো।। তিনি তার মাকে ডেকে বললেন, “তাড়াতারি দরজা খুলেন।। হুজুর আসছে!!” তার মা হুজুরকে নিয়ে ঘরে আসতে বললো।। তিনি পিছন ফিরে দেখেন হুজুর নাই।। পরের দিন তিনি হুজুরকে গিয়ে বললেন, “হুজুর, কাল রাতে আমাকে দিয়ে আসার জ্ন্য আপনি আমাদের বাড়িতে গেছেন।। কিন্তু ঘরে যাননি কেন?? আম্মা খুব রাগ করেছে।।” শুনে হুজুর যেন আকাশ থেকে পড়লেন।। বললেন, “কই আমিতো কাল আমার বাড়িতে ছিলাম।। বাড়ি থেকে রাতের বেলা বেরই হইনি।।” তখন তিনি হুজুরকে সব খুলে বললেন।। এরপর কবরস্থানটির চারদিকে দেয়াল করে ঘিরে দেওয়া হল যাতে কেউ অযূ ছাড়া উঠতে না পারে।। শেয়ার করেছেনঃ Omar Faruqe

।। জীনের উৎপাত (নতুন গল্প) ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, July 29, 2011 at 10:04pm
ঢাকার এক জনবহুল ও পরিচিত জায়গায় আমাদের বাড়ি।। ১৯৬৫ সাল থেকে একই জায়গায় আমার দাদা তার স্ত্রী, সন্তান সন্ততি নিয়ে বসবাস শুরু করেন।। প্রথমে টিনের ঘর, তারপর একতলা পাকা দালান।। তারপর ৩/৪ তালা পর্যন্ত হয়েছে।। বিয়ের পর থেকে প্রতি তলায় বাপ চাচারা তাদের ঘর সংসার নিয়ে থাকেন।। এই বাড়ির সামনেই একটা উঠান ছিল যেখানে আম ও লটকন, এই দুই বৃহৎ গাছ দেখতে দেখতে আমি বড় হয়েছি।। পরে বহুতল করার সময় গাছ দুটি কেটে ফেলা হয়।। সে যাই হোক।। আমরা ছোটো বেলা থেকেই শুনে এসেছি যে "লটকন গাছে জ্বিন থাকে"।। যদিও আমি গাছে জ্বিন কোনদিন দেখিনি।। তবে তার উপস্থিতি যে অন্যান্য জাগায় টের পাইনি সেটা বলতে পারবনা।। কাজেই ছোটো খাটো কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।। আমার এক চাচা।। অত্যন্ত সুদর্শন ও স্বাস্থ্যবান।। আশির দশকে তিনি যখন ২৪/২৫, তখনি উনাকে জীনে ধরে।। আমার দাদা একজন বিশাল মওলানা ছিলেন যিনি ১৯৮৮ তে গত হয়েছেন।। তার জীবদ্দশায় উনি শত চেষ্টা করেও সে জ্বিন ছাড়াতে পারেননি এবং আজও দেখা যায় সে জিন বহাল তবিয়াত এ আছে।। কিছু মুরুব্বিরা সেটাকে জ্বিন না বলে পরী (জ্বিন এর স্ত্রী লিঙ্গ) বলে থাকেন।। তো আমার ওই চাচাকে দেখা যায় উনি দিন দিন অপ্রকৃতস্থ ও অসামাজিক হতে শুরু করেন ।। মাঝে মাঝে উনাকে অত্যন্ত বোকা ও নিরীহ মনে হয়।। আবার অস্বাভাবিক রাগেও ফুসলিয়ে উঠতে পারেন।। দেখা গেল উনি ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছেন।। জ্বিনে ধরা অবস্থায় উনি যে সব কাজই করতে গিয়েছেন না কেন, টিকে থাকতে পারেননি।। অথবা তাকে টিকে থাকতে দেয়া হয়নি।। আমাদের এক পারিবারিক প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের ভাতা পেয়ে এখন উনার সংসার চলে।। কিছু ব্যাপার আমার অনেক ভয় লাগত যেমন, যখন দেখতাম উনি অদৃস্য কারো সাথে কথা বলছেন।। হয়তবা উনার ঘরে, নাহলে ছাদে, ঠিক সন্ধা বেলায়।। দেখা যেত উনি ছাদে টাঙ্কির কিনারায় দাড়িয়ে হাত দুটি উচু করে যেন অদৃস্য কাউকে উদ্দেস্য করে তালি বাজানোর ভঙ্গিতে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন।। আবার কোনো অনুষ্ঠানে (আমাদের বিশাল গুষ্ঠির মিলনমেলা হয় ২/৩ মাস অন্তর) দেখা যেত সবার সামনেই উনি উপরের দিকে তাকিয়ে কারো সাথে বিড় বিড় করে কথা বলছেন।। আচমকা হেসে উঠছেন।। হাত দিয়ে ইশারা করছেন।। এছাড়াও একবার দেখেছিলাম উনি অদৃস্য কাউকে উনার পাশে নামাজের জন্য দাড়াতে বলে জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন !! এধরনের ছোটখাটো বিভিন্ন ধরনের ঘটনা যদি এখন দেখি তাহলে ভয় পাইনা তবে কিশোর বয়সে ভয়ে হতভম্ব হয়ে যেতাম!!
আমার এক সুন্দরী চাচাত বোনকেও একবার জ্বিনে ধরেছিল।। সে একদিন সন্ধার বেলায় সেই টাঙ্কির কিনারায় চুল ছেড়ে দিয়ে দাড়িয়ে ছিল অতঃপর তাকে ওই অবস্থাতেই জ্বিনে ধরে।। তার বড় বোনকেও শুনেছি জ্বিনে ধরেছিল ঠিক একই অবস্থায় একই সময়ে আরো আগে।। আর চাচাকে ধরেছিল রাতের বেলায়।। সামনের দালানে এক লোক ছাদে উঠার পর চাচাকে দেখে বৃষ্টির মধ্যে তিনি একই ভাবে এক দৃষ্টিতে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছেন।। অতপর উনি বাসার সবাইকে ঘটনাটি জানান এবং দাদা গিয়ে চাচাকে নিয়ে আসেন।। ওই বোন দুটিকে পরবর্তিতে জ্বিন ছেড়ে দিয়েছিল কিন্তু আমার চাচাকে আজও ছাড়েনি।। অন্যান্য জ্বিনে ধরা মানুষদেরকে যেমন দেখা যায় তারা নিজেরা তাদের শরীর কেটে ফেলছে, নিজেকেই নিজে আঘাত করছে।। কিন্তু আমার চাচার সেরকম বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি তবে তিনি মানসিক ভাবে অনেক অপ্রকৃতস্থ হয়ে পরেন এবং শারীরিক শক্তিও প্রায় হারিয়ে ফেলেন।। এছাড়াও আমাদের বাসায় এক বুয়া থাকত।। তাকে ঘিরেও কিছু ঘটনা, আমার নিজের কানে শোনা জিনের অস্পষ্ট কন্ঠস্বর এবং ওই বাড়িতে বিভিন্ন অদ্ভুদ ধরনের কিছু শব্দ শোনার ছোটখাটো ঘটনাও আছে।। সেগুলো পরবর্তিতে আপনাদের সাথে শেয়ার করব।।

শেয়ার করেছেনঃ মোস্তফা রাজি

।। ডরমিটরিতে ভূত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, July 30, 2011 at 10:19pm
২০০৬ সাল।। চাকুরীর সুবাদে ডর্মিটরীতে থাকতাম।। সেটা ছিল UNO এর বাসা থেকে একটু দুরে।। ২তলা বিল্ডিং।। এর দুই দিকেই ধান চাষ হতো।। জানালা গুলো ছিল গ্লাসের।। আমার খাটের পায়ের দিকে একটা জানালা ছিল।। কোন এক বৃহস্পতিবার অফিস থেকে ফিরে দেখি অন্য সবাই বাড়ি চলে গেছে।। ডর্মিটরীতে আমি একা।। রাত ১টা পর্যন্ত টিভি দেখে বাল্ব অফ করে শুয়ে পড়লাম।। বাইরে ১০০০ ওয়াটের ৪টা বাল্বের কারনে ধান ক্ষেত, পুকুর সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ দেখি জানালার গ্লাসের বাইরে থেকে কালো চাদর মুড়ো এক লোক রুমের ভিতরটা দেথার চেষ্টা করছে।। আমি চোর ভেবে ঘুমের ভান ধরে দেখছিলাম সে কি করে।। সে একই ভাবে দাড়িয়ে রুমের ভিতরটা দেখছে।। কিছুক্ষন চুপ থেকে 'এই কে' বলে শব্দ করলাম।। তখন লোকটা জানালা থেকে সরে গেল।। আমি দ্রুত বিছানা ছেড়ে জানালায় দাঁড়িয়ে স্থির হয়ে গেলাম।। দেখলাম, লোকটা আস্তে করে ধান ক্ষেতে নেমে পুকুরের দিকে যাচ্ছে কিন্তু তার পা সহ শরীরের যেটুকু দেখা যাচ্ছে তাতে কোন মাংস নেই শুধু হাড় মানে কঙ্কাল।। আর ঐ লোকটা ধান গাছের কয়েক ফুট উপর দিয়ে হেটে যাচ্ছে।। পা মাটিতে পড়ছে না।। হেঁটে পুকুর পর্যন্ত গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে UNO এর বাসার দেয়াল টপকে ঢুকে পড়লো।। সারা রাত আর ঘুমুতে পারিনি সেদিন।।
শেয়ার করেছেনঃ bachelorlife@ovi.com

।। আধিভৌতিক ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, July 30, 2011 at 10:58pm
আমি মৃদুল কান্তি ঘোষ।আজ আমি আপনাদের সাথে যে ঘটনাটি শেয়ার করবো তা আজ থেকে ছয় বছর আগে আমার জীবনে দেখা একটি বাস্তব ঘটনা।।তখন আমি ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি।।তখন আমরা গ্রামে থাকতাম।।আমাদের গ্রামটা হল যশোরের নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার অন্তরর্গত একটি গ্রাম।।নাম ধোপাদহ।। আমাদের বাসার সামনে অনেকগুলো বাড়ি আছে যেটা ছিল কুমোরপাড়া।।তাদের একটা ছেলে ছিল নাম খুদিরাম।।বয়স ২২ অথবা ২৩ হবে।। তার একটা রোগ ছিল, যাকে গ্রাম্য ভাষায় “মিরগীর ব্যারাম” বলে।। তারা মাটির খেলনা, হাড়ি, কলস বানিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করত।।সব বাজার সকালে শুরু হতো তাই তারা ভোরে আযান দেওয়ার আগে নৌকায় তাদের সব তৈরি জিনিস তুলতো।।এবার আসল ঘটনায় আসি।।একবার ওই ছেলেটি ও তার বাবা আযান দেওয়ার আগে সব জিনিসপত্র নৌকায় উঠাচ্ছিল।।প্রায় সব জিনিস যখন উঠানো শেষের পথে তথন প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেবার জন্য ওই ছেলেটি টর্চলাইট হাতে নৌকার এক কোণায় বসে।।অপর দিকে তার বাবা নৌকা সাজানোর কাজে ব্যাস্ত।।হঠাৎ তার বাবা ঝপ করে একটা শব্দ শুনতে পেল।।তাকিয়ে দেখে খুদিরাম নেই।।অনেকবার ডাকার পরও কোন সাড়া পাওয়া গেল না।।তখন তিনি পানিতে ঝাপ দেন কিন্তু কোথাও সেই ছেলেটিকে পাওয়া যায়না।। তার বাবা এক দৌড়ে বাড়ি এসে সবাইকে ডেকে নিয়ে নদীর ঘাটে যায়।।তখন থেকে খোজাখুজি শুরু হয়।।অনেক খোজাখুজির পর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে একজন পেল।।প্রথমে ছেলেটার চুল তার হাতে ঠেকল।।তারপর সেই চুল ধরে টেনে তুললো মৃত অবস্থায়।।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল যখন তাকে টেনে উঠানো হল তখন দেখা গেল সে ওই ভোর বেলা প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেবার সময় যে ভাবে বসে ছিল, ঠিক পানির নিচেও সে সেই টর্চলাইট হাতে সেভাবেই বসে ছিল।। প্রানহীন দেহে।।তারপর বিকালের দিকে যখন তাকে পোড়ানো হয়েছিল তখন তার দেহের সম্পূর্ন অংশ পুড়ছিল না।।অবশেষে তার ওই অংশগুলো মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছিল।।সেদিনকার কথা মনে হলে আজও গায়ের ভিতর শির শির করে ওঠে।।

শেয়ার করেছেনঃ Mridul Ghosh

।। করুণ মৃত্যু ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, July 30, 2011 at 11:30pm
থার্টি ফার্স্ট নাইট।। রোহান ও তার কয়েক ফ্রেন্ড মিলে রাত ২ টা পর্যন্ত মজা করলো।। এখন হলে ফেরার পালা।। তারা মানুষ ৭ জন কিন্তু রিকশা পেলো দুটো।। ২ রিকশায় না হয় ৬ জন হল, কিন্তু রোহান?? ফ্রেন্ডরা তাকে বলল, “চল রোহান, এক রিকশায় ৪ জন উঠে পড়ি।।”
“নাহ রে।। তোরা যা।। আমি আসতে পারব।।” রোহানের উত্তর।। চারিদিকে নিস্তব্ধতা।। খুব দূরে একটা কুকুর মতন কিছু দাঁড়িয়ে আছে।। খোলা আস্কাহের নিচে অন্ধকারকে সাথি করে হাঁটছিল রোহান।। হটাৎ একটা রিকশা দেখতে পেলো।।
“ভাই, হলে যাবেন??”
“জী যামু।।”
“কত??”
“১০ টাকা দিয়েন।।”
রোহান আকাশ থেকে পড়লো।। এতো রাত, কোন রিকশা নেই, তবুও ২০ টাকার জায়গায় ১০ টাকা রিকশা ভাড়া চাইলো!! যাই হোক, রিকশায় চড়ে বসলো রোহান।। এই শুনশান নিরবতার মাঝে শুধু রোহান আর রিকশাওয়ালা।।
গোরস্থানের সামনে দিয়ে যাবার সময়ই রোহান কেমন যেনও আঁতকে উঠলো।। সে যা দেখল টা অবিশ্বাস্য।। দেখল, রিকশাওয়ালা উল্টো পায়ে প্যাডেল চাপছে।। রিকশাওয়ালার মুখের দিকে এই পর্যন্ত একবারও তাকায়নি সে।। চেহারা দেখার চেষ্টা করতেই আবারো আঁতকে উঠলো রোহান।। “একি!! এ কি দেখছে সে?? এ কিভাবে সম্ভব??”
এর মাঝে হলে পৌঁছে গেছে রোহান।। টাকাটা দিয়ে দ্রুত কেটে পড়লো।। রিকশাওয়ালার দিকে আরেকবার তাকানোর সাহস হল নাহ।। তাকালে হয়তো দেখতে পেত তাকে কেমন লোভী চোখে দেখছে রিচকশাওয়ালাটা!!
রুমে গিয়ে সাকিবকে সব ঘটনা খুলে বলল রোহান।। সান্তনার সুরে সাকিব বলল, “তুই বরঞ্চ আজ রাতটা আমার রুমে থেকে যা।।”
কথাটা মনে ধরল রোহানের।। রাজি হল সে।। মধ্যরাত।। রোহান, সাকিব দুজনই ঘুমুচ্ছে।। এর মাঝে কে যেনও রোহানের গায়ে আঁচড় কাটল।। চমকে উঠে জেগে গেলো রোহান।। ভীত স্বরে বলল, “সাকিব, মাঝরাতে দুষ্টমি করিস নাহ তো।।” সকালে সূর্যের আলো চোখের উপর পড়তেই ঘুম ভাঙ্গে সাকিবের।। কিন্তু ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথেই আবার মূর্ছা গেলো সে।।
বেলা ১০ টা।। সাকিবের রুমের সামনে অগনিত ছাত্রের ভিড়।। সাকিবের রুমে রোহানের ছিন্ন বিচ্ছিন লাশ ঝুলছে।। আর রোহানের কাঁটা মুণ্ডুটা সাকিবের টেবিলের উপরেই রাখা।। কেউ জানে না রোহানের মৃত্যুটা কিভাবে হল।।
কাঁটা মুণ্ডুটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাকিব।। অনেক দিনের বন্ধু ওরা।। অনেক দিনের।। শেয়ার করেছেনঃ Abu Sahal Fahim
Sylhet MAG Osmani Medical College

। পাপের প্রায়শ্চিত্ত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, July 31, 2011 at 12:09am
এই পোস্টে কিছু বড়দের কথাবার্তা আছে।। তাই, কম বয়সীরা নিজ দায়িত্তে পড়ুন।। ধন্যবাদ।। (অ্যাডমিন) রাখী(ছদ্মনাম) মা-বাবার একমাত্র মেয়ে।। বাবা দেশের বাইরে থাকায়, আর মা ডাক্তার হওয়ায় মা-বাবা ওর এতো কেয়ার নিতে পারেনি।। ফলে যা হয়, ইচড়েপাকা ফ্রেন্ডদের সাথে মিশে ও নিজেও অমন হয়ে যায়।। ক্লাশ ১০-এ ওর প্রেমিকের সংখ্যা ৪ এ গিয়ে ঠেকে!! জয় ওর সর্বশেষ প্রেমিক!! জয় রাখীকে সত্যিই ভালোবাসত।। বলা যায় পাগলের মত।। ৪মাসের এই রিলেশনে দৈহিক সম্পর্ক ছাড়া কিছুই বাদ থাকে না!! এতে জয় রাখীর প্রতি আরো দূর্বল হয়ে পরলেও, রাখী এই রেলেশনটাকে সিরিআসলি নেয় না।। শুধু তাই না খামখেয়ালীর বশে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়!! জয় অনেক চেস্টার পরো যখন ব্যর্থ হয়, তখন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে!! ২ হাতের রগ কেটে ফেলায় রক্তক্ষরণে জয় মারা যায়।। মারা যাওয়ার ৩দিন পর শ্মশানে ওকে পোড়ানো হয়।। জয় কোনো সুইসাইড নোট না রেখে যাওয়ায় ওর ফ্যামিলির কেউ কিছুই বুঝতে পারে না।। ওর ফ্রেন্ডরা ওর বাসায় রাখীর ব্যাপারে কিছু জানায় নাই।। জয়ের মৃত্যুর কয়েকমাস পর য্খন রাখীসহ সবাই ওর কথা ভুলতে বসেছে তখন কালী পূজা আসে।। পূজার দিন রাখী ওর মাকে নিয়ে শ্মশানঘাটের কালী পূজায় যায়।। শ্মশানে ঢোকার পর থেকেই রাখীর মনে হতে থাকে কেউ যেন ওকে নজরবন্দি করে ফেলেছে!! ও যেদিকেই যায়, ওর মনে হতে থাকে কেউ যেন ওকে দেখছে।। ব্যাপারটা প্রথমে ওর স্বাভাবিক লাগলেও একসময় ওকে প্রচন্ড আতংকে পেয়ে বসে।। এতো লোকের ভীড়ে প্রচন্ড ভয়ে ও দিশেহারা হয়ে যায়।। এমন সময় ও, ওর মার সাথে মন্দিরে ঢোকে।। পুরোহিতের কাছ থেকে প্রসাদ নেয়ার সময় উনার দিকে তাকাতেই ও দেখে, এ যে জয়!! এক মুহূর্তে ওর চোখের সামনে পুরোনো সব স্মৃতি ভেসে উঠে।। সাথে সাথেই ও জ্ঞান হারায়।। পূজার মাঝে এমন একটা ঘটনা ঘটায় সবাই ভীড় করে ফেলে।। জ্ঞান ফেরানোর জন্য জলছিটা দিতেই জ্ঞান আসে।। তবে দেখে মনে হচ্ছিলো ও যেন একটা ঘোরের মাঝে আছে।। আচমকা রাখী উঠে দাড়ায়।। কেউ কিছু বুঝার আগেই দৌড়ে গিয়ে কালী মূর্তির হাত থেকে দা-টা নিয়ে নেয়!! রাখীকে দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়।। ওকে দেখে বুঝাই যাচ্ছিলো অশরীরী আত্মা ওর উপর ভর করেছে!! রাখী দা হাতে নিয়ে এক ধ্যানে ওর আর জয়ের কথা সব বলতে থাকে।। সম্পর্কের শুরু থেকে চুমু খাওয়া, একে-অন্য কে স্পর্শ করার যত কাহিনী আছে সব।। ঘোরগ্রস্থ মানুষের মত বলতে থাকে সে।। বলা শেষ হওয়ার পর ও একদৌড়ে শ্মশানের মাঠে চলে যায়।। ঠিক যেখানে জয়কে পোড়ানো হয়েছিলো।। সবাই দৌড়ে ওর পিছন পিছন গেলেও ওকে বাচাতে পারলো না!! মাঠে গিয়েই রাখী ওর হাতের দা-টা দিয়ে নিজের ২ হাতে কোপ দেয়।।
ঠিক জয়ের মতই রক্তক্ষরণে রাখী মারা যায়।। আর এতে জয়ের প্রতিশোধের সাথে সাথে হয়
রাখীর পাপের প্রায়চিত্ত!! শেয়ার করেছেনঃ অমায়িক ছেলে

।। অদ্ভুতুরে ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, July 31, 2011 at 10:29pm
ঘটনাটা ২০০৮ সালের।। তখন আমি ক্লাস ১০ এ পড়ি।। আমার আম্মু অনেকদিন ধরেই অসুস্থ।। তাই আমার বাবা আমার আম্মুকে নিয়ে ঢাকায় যায় চিকিৎসার জন্য।। পুরো বাসায় আমি একা।। যেহেতু আমি একা, তাই আমার একটা ফ্রেন্ডকে কল দিয়ে আবাশায় আসতে বলি।। আমার ফ্রেন্ডের বাসা টা আমার বাসা থেকে ৪ ঘর পরেই।। আমার ফ্রেন্ডের নাম ছিল মারুফ।। যখন রাত ৯.৩০, তখন আমি মারুফকে বলি, “মারুফ, যা তোর বাসা থেকে কিছু তরকারি নিয়ে আয়।। আমি হোটেল থেকে ভাত কিনে নিয়ে আসি।।” এই বলে আমরা ২জন বাসা থেকে বের হই।। ১০ মিনিট পর হোটেল থেকে ভাত নিয়ে আসার পথে মারুফের সাথে আমার দেখা হয়।। মারুফকে খালি হাতে দেখে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।। তাকে রাগী গলায় বলি, “কিরে, তোকে পাঠালাম তরকারি আনতে আর তুই এখানে খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছিস!! তরকারি কই??” মারুফ কোন কথা না বলে দাঁড়িয়ে থাকে।। মেজাজ আর বেশি খারাপ হয়ে গেলো আমার।। যেহেতু সে তরকারি আনেনি, তাই আমাকে এখন আবার হোটেলে যেতে হবে তরকারি আনতে।। অগত্যা, কি আর করা।। মারুফকে ঘরের চাবি আর ভাতের বাটিটা দিয়ে বললাম, “যা তুই ঘরে যা।। আমি তরকারি নিয়ে আসি হোটেল থেকে।।” হোটেলে যাওয়ার সময় আমি যা দেখলাম তাতে আমার পা অবশ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হল।। মনে হচ্ছিল যেনও হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি আমি।। আমি পুরো হতভম্ব হয়ে যাই আর দেখি মারুফ তরকারি নিয়ে আসতেছে।।
মারুফ আমার কাছাকাছি এসে বলে, “কিরে, রাস্তায় কি করিস?? আর ভাত কই??” আমি তখন দোয়া দরুদ পড়ে বাসার দিকে দৌড় দেই।। যেয়ে দেখি, বাসার গেটে চাবি ঝুলানো।। ভাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘরের সামনের মেঝেতে পড়ে আছে।। তাহলে আমি কাকে চাবি আর ভাত দিলাম?? ঐটা তাহলে কে?? কেনই বা এসেছিলো?? ক্ষতি করার ইচ্ছে থাকলে ক্ষতি করলো না কেন?? পরে আমি মারুফকে পুরো ঘটনা খুলে বলি।। ঘটনা শুনে মারুফ আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়।। সেই রাত আমি মারুফদের বাসায় কাটাই।।

শেয়ার করেছেনঃ কামাল ঊদ্দিন মিলন।।

।। অন্ধকারের যাত্রাসঙ্গি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, July 31, 2011 at 10:59pm
আমি আজকে যে গল্পটা বলব,অদ্ভুতভাবে সেই গল্প আমি বেশ কয়েকজনের কাছে শুনেছি।। তাদের মাঝে একজন আবার দাবী করেছে যে গল্পের নায়ক আজিমপুরে থাকেন(সত্যি মিথ্যা জানি না)।। যাই হোক গল্পটা শুরু করছি।। ঘটনাটা ঘটেছে ঈশ্বরদী রুটে।। প্রায় মধ্যরাতে।। সেই রূটের দূরপাল্লার একটি বাস রাত আনুমানিক ১২-১২.৩০ টার দিকে শহর ছেড়ে বেরিয়ে যায়।। বাসে যাত্রী ছিল একজন (গল্পের নায়ক), ড্রাইভার আর একজন হেল্পার।। পথে বেশ কয়েকটা স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠানামা করার কথা।। কিন্তু কেন জানি সেদিন কোন স্টপেজ থেকে কোন যাত্রী উঠেনি।। বাসটি শহর ছেড়ে আরো দূরে ছলে গেল এবং একটি জায়গাতে (খারাপ জায়গা,লোকের মুখে শোনা) থামল।। সেখানে দুইজন লোক দাড়িয়ে আছে দেখা গেলো।। তারা বেশ লম্বা চওড়া এবং সাদা আলখেল্লা পরা।। মুখ অন্ধকারে ভালো করে বোঝা যাচ্ছে না।। তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছোট বাচ্চার কাফনে মোড়া লাশ!! তারা ড্রাইভার কে বলল, “আমাদের সামনের কবরস্থানে নামিয়ে দিবেন।।” ড্রাইভার এবং হেল্পার একটু ভয় পেলেও কিছু বলল না।। তারা বাসে উঠে এলো।। তখন মনে হলো বাসে বেশ মিষ্টি একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।। রাতের বাস, তাই লাইটগুলো সব অফ করা।। ড্রাইভারের কাছে বাসটা বেশ ভারি হয়ে গেছে বলে মনে হলো।। যতই স্পীড বাড়ায় বাস আর তেমন এগোয়না।। অদ্ভুত লোকগুলো সারা বাসে এত জায়গা থাকতে গিয়ে বসলো একদম পিছনের সিটে।। বাসের অন্য তিন জনের ততক্ষণে কাহিল অবস্থা।। ভয়ে যেন সিটের সাথে আটকে গিয়েছে।। নড়াচড়া করতে পারছে না।। হঠাৎ মনে হলো, পিছনের সিট থেকে “কড়মড়” করে হাড় চাবানোর শব্দ আসছে!! তিন জনের বুঝতে আর বাকি থাকে না যে এরা সাধারন মানুষ না, এরা অন্যকিছু।। তারা বাচ্চাটাকে শান্তিতে খাওয়ার জন্য এই নির্জন বাসে উঠে এসেছে।। অনেকক্ষন পরে বাসটা অবশেষে কবরস্থানে এসে পৌছাল।। তখন ড্রাইভার তাদেরকে নেমে যেতে বলল।। সেই এক মাত্র যাত্রীটা এরইমধ্যে নিজের সিট ছেড়ে ড্রাইভারের পাশে, দরজার কাছের সিটে এসে বসেছে।। তার এবং ড্রাইভারের মধ্যে কোন কথা হয়ে থাকতে পারে।। ঠিক জানিনা।। লোক দুইটা যখন নেমে যাবে, দরজার কাছে আসা মাত্রই ড্রাইভার লাইট জ্বলিয়ে দিল(সেই যাত্রীর খুব কৌতহোল ছিল যেঁ তারা দেখতে কেমন!!)।। তখন দেখা গেল, তারা মানুষের মতই দেখতে কিন্তু চোখের জায়গায় বিশাল বড় বড় গর্ত।। সেটাই তাদের অশরীরি ভাবটা ফুটিয়ে তুলেছে।। তাদের হাতে আগের মতই ছোট বাচ্চার লাশ (কাফনে মোড়া)।। তারা সেই যাত্রীর দিকে তাকিয়ে বলল, “তোর মায়ের বুকের দুধের অনেক তেজ!! তাই আজকের মত বেঁচে গেলি।।" এই বলে তারা কবরস্থানে নেমে গেল।। (লিখতে গিয়ে আমার নিজেরই গা ছমছম করছিল।। যদিও আমি বেশ সাহসী এবং যুক্তিবাদী মানুষ।। জানিনা আপনাদের কেমন লেগেছে!!)

লেখক/ লেখিকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।।

।। একটি গভীর রাত এবং কিছুকথা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Monday, August 1, 2011 at 10:30pm
তখন ঘড়িটা হাতে নিয়ে দেখলাম।। ঠিক রাত ২.২০ মিনিট।। ঘরের লাইট অফ কিন্তু টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে।। সামনে পরীক্ষা, তাই ইচ্ছে না থাকলেও এই গভীর রাতে আমাকে পড়তে হচ্ছে।। কেমন যেনও তন্দ্রা আসছিলো।। এইভাবে পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম নিজেও জানি না।। হটাৎ করে কিসের শব্দে যেনও ঘুম ভেঙ্গে যায়।। আমি কিছুটা অবাক হয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম।। ঘড়ির কাঁটা তখন তিনটা ছুঁই ছুঁই করছে।। আমাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা তাল গাছ আছে।। সেই তাল গাছটার পাশের বাসায় কিছুদিন আগে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে।। সেই বাড়ির এক মেয়ে টার রুমে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।। এরপর থেকেই সবাই বলাবলি করছে যে, সেই তাল গাছটার ঐদিকে নাকি কিসব কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়।। আর কেউ যদি গভীর রাতে ঐ গাছের নিচ দিয়ে আসে তাহলে নাকি প্রায়ই একটা মেয়েকে গাছে পা দুলিয়ে বসে থাকতে দেখে।। অনেকে তো ভয়ে ঐ রাস্তা দিয়ে বেশি রাতে আসা যাওয়া করা বন্ধ করে দিয়েছে।। আমার অবশ্য এইসব ব্যাপারে বিশ্বাস ছিল নাহ।। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এইসব ভাবছিলাম, এমন সময় আমার চোখ তাল গাছের দিকে গেলো।। কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভুতি হল।। সাড়া শরীর যেন ঠাণ্ডা হয়ে গেলো।। নিজের চোখ দুটোকে বিশ্বাস করতে পারলাম নাহ।। দেখলাম, একটি মেয়ে তাল গাছ বেয়ে বেয়ে নিচে নামছে।। তার নামার ভঙ্গিটা অদ্ভুত।। মাথা নিচে দিয়ে পা উপরে দিয়ে নামছে।। এইটুকু দেখে আমি চিৎকার করতে গেলাম।। কিন্তু ভয়ে আমার গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হল নাহ।। এর মাঝে অনুভব করলাম কে যেনও আমার কাঁধে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা হাত রাখল।। আমি সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।। সকালে জ্ঞান ফেরার পর মা বললেন, “কি হয়েছে তোর?? আমি তোর রুমে ঢুকে তোকে না দেখে বারান্দায় গেলাম ডাকার জন্য।। কিন্তু, কাঁধে হাত দিতেই তুই অজ্ঞান হয়ে গেলি যে??” আমি মাকে সব খুলে বলতেই মা বললেন, এতো রাত করে আর বারান্দায় যাবি নাহ।। আমি এখনও অনেক রাত করে পড়ি, কিন্তু রাতে বারান্দায় যাওয়া তো দুরের কথা, আমি জানালা দিয়েও বাইরের দিকে তাকাই নাহ।। শেয়ার করেছেনঃ Nusrat Jahan Ivy

।। সোবহানবাগের ঘটনা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Monday, August 1, 2011 at 10:59pm
লেখক বলেছেনঃ “এই ঘটনাটি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিতে বিশ্বাস করেন।। এখানে শেয়ার করা প্রত্যেকটি ঘটনাই সত্য।। বিশ্বাস করা বা না করা আপনার উপর।। ধন্যবাদ।।” এই জগতে সত্যিকারের শয়তান/জিন এদের অস্তিত্ত আছে।। তারা থাকে হয়তো বা খুব গোপন কোনো অন্ধকারাচ্ছন ঘরে।। অথবা থাকতে পারে খুব সাধারন কোনো জায়গায়।। এই ঘটনাটি খুবই সাধারন একটি পরিবারে ঘটা।। অবিশ্বাস হয়তো, কিন্তু বানানো নয়।। আমার দাদা যখন তার পরিবারসহ একটি নতুন জায়গায় শিফট করেন তখন তিনি খুবই খুশি ছিলেন।। কিন্তু, চাঁদেরও কলঙ্ক থাকে।। তাদের নতুন বাড়িটা ভালো ছিল নাহ।। আমরা যা দেখি এবং আমরা যা অনুভব করি তার মাঝে একটি দরজা আছে।। যখন সেই দরজাটি খুলে যায়, তখন আমাদের ভয়ঙ্করতম দুঃস্বপ্ন আমাদের জীবনে বাস্তবতা হয়ে নেমে আসে।। এটি ১৯৬৬ সালের ঘটনা।। আমার দাদা, মৃত বাসুদেব দাসগুপ্তা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেক্রেটারিতে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন।। ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি সপরিবারে সোবহানবাগ অফিসার কোয়ার্টারে উঠেন।। আমার বাবা তখন ৭ম শ্রেণীর ছাত্র।। এখনকার সোবহানবাগ হয়তো আপনার কাছে খুবই আলো ঝলমলে লাগে।। রাস্তায় রাস্তায় বড় বড় দোকান, শপিং মল ইত্যাদি ইত্যাদি।। কিন্তু ৪৪ বছর আগে সেটা ছিল একটা বিরাট জঙ্গলের মত।। এখনকার জামে মসজিদটি ছিল তখন একটি ছোট টিনশেদের মসজিদ।। প্রথম দিকে বাড়িটা খুবই ভালো ছিল।। কিন্তু যত দিন যেতে লাগলো খারাপ জিনিসের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেলো।। ছাদে গভীর রাতে কারা যেনও লাফাত।। সবাই প্রথমদিকে একটু বিরক্ত হতেন।। আমার বাবার চাচা মৃত হরপ্রশাদ দাসগুপ্তা এবং উনার বন্ধু তৌহিদ একবার আওয়াজ শুনে ছাদে উঠে যান।। তাদের হাতে পিস্তল ছিল।। উনারা ছাদে গিয়ে একটি আগুনের গোলার মত কিছু দেখতে পান।। উনারা গুলি করার সাথে সাথে তা বাতাসে মিলিয়ে যায়।। এরপর একদিন আমার বাবার এক আত্মীয় আসেন।। তিনি খুবই ধার্মিক লোক ছিলেন।। তিনি পরিষ্কার উপলদ্ধি করেন যে, বাসাটাতে খারাপ জিনিসের প্রভাব রয়েছে।। খুব সম্ভবত এই জায়গাটি আগে একটি কবরস্থান ছিল।। সেটি সরকার ভেঙ্গে ফেলে নতুন কোয়ার্টার তৈরি করেছে।। তিনি পবিত্র নাম নিয়ে ৪ টা বড় বড় গজাল বাড়ির চারপাশে ঢুকিয়ে দেন।। এরপর থেকে আর কোনোদিন সেই লাফানোর শব্দ পাওয়া যায়নি।। সম্ভবত সেই খারাপ জিনিসটি এরপর তার নতুন ঠিকানা খুঁজে নিয়েছিল।।

শেয়ার করেছেনঃ Rajat Das Gupta

। গভীর রাতের দুঃস্বপ্ন ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Monday, August 1, 2011 at 11:29pm
এই ঘটনাটি আমার ফুফুর কাছ থেকে শোনা।। উনি ফরিদপুর থাকেন।। সেখানের এক মহিলা কলেজের শিক্ষিকা।। তিনি যেই কলেজের শিক্ষিকা সেই কলেজের মেয়েদের হোস্টেলের ঘটনা এটি।। যেইসব মেয়েরা হোস্টেলে থাকতো তারা প্রায় রাতেই কমন রুমে গিয়ে ক্যারাম খেলত, অথবা আড্ডা দিতো।। একবার কলেজের ছুটিতে সব মেয়েরা বাসায় চলে গেছে।। যারা আছে তারাও কয়েকদিন পর চলে যাবে।। হোস্টেল বলতে গেলে পুরোই ফাঁকা।। একরাতে সেই গুটিকয়েক মেয়েদের মাঝে একজন ওয়াসরুমে (টয়লেট) যাবে।। তার রুমের সবাই গভীর ঘুমে।। সে কয়েকজনকে ডাকাডাকি করলো কিন্তু কেউই ঘুম থেকে উঠলো নাহ।। পরে সে একাই গেলো টয়লেটে।। ভাবল, কখনো তো খারাপ কিছু হয়নি।। এতো ভয়ের কি আছে!! তো, তাদের টয়লেটটা ছিল কমন রুমের পাশে এবং নিচ তলায়।। মেয়েদের রুম গুলো সব দোতলায়।। যাই হোক, মেয়েটি টয়লেটে গিয়ে দরজা লাগিয়ে সুইচ অন করলো কিন্তু সুইচ অন হয় না।। মানে আলো জ্বলে নাহ।। মেয়েটি কিছুক্ষণ একটানা নাছোড়বান্দার মত সুইচ টিপতে থাকলে এক সময় আলো জ্বলে উঠে।। মেয়েটি সামনে তাকিয়ে দেখে, এক বিশাল আকৃতির মানুষ টয়লেটের উপর বসে আছে।। চোখ অন্ধ, কিন্তু মুখ হা করা।। সেই হা করা মুখ দিয়ে জিহবা বের হয়ে আছে।। মানুষটির ২ টি পায়ের একটিও নেই।। সাড়া শরীর দিয়ে রক্ত পড়ছে।। তারচেয়ে ভয়ানক হল, লোকটি সেই মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হাসি দিচ্ছে আর সেই লোকের কাঁটা জিহবা দিয়ে অনবরত রক্ত পড়ছে।। মেয়েটি এই ঘটনা দেখে কোনোরকমে দরজা খুলে কমন রুমে গিয়ে একটা আর্তচিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।। সেই চিৎকারে কয়েকজনের ঘুম ভেঙ্গে যায়।। তারা দৌড়ে এসে দেখে মেয়েটির নিথর দেহ কমন রুমের মেঝেতে পড়ে আছে আর তার দাঁতে দাঁত লেগে গেছে।। একটি চামচ এনে তার দাঁতের ফাঁকে রাখা হয়।। এরপর কিছুক্ষণ পানি ছিটানোর পর মেয়েটির জ্ঞান ফিরে আসে।। সে খুব কান্নাকাটি করে টয়লেটে যা দেখেছে টা সবাইকে খুলে বলে।। তাদের মাঝে কয়কেজন সাহস করে টয়লেটে গিয়ে দেখে, এখানে কিছুই নেই।। মেয়েটির কথা মত সেই টয়লেটের পাশে গিয়ে দেখা গেলো সেখানে ২-৩ ফোটা রক্ত পড়ে আছে।। এই ঘটনার পর মেয়েটি একটানা অনেকদিন অসুস্থ থাকে।। একা একা টয়লেটে যেতে ভয় পেত সে।। জানিনা আজ মেয়েটি কেমন আছে, বা কোথায় আছে।। আশা করি সে তার ভয়ঙ্কর অতিতকে পেছনে ফেলে এখন সুন্দর একটি জীবন অতিবাহিত করছে।।

লেখক/ লেখিকা তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।।

।। একটি বোকা ছেলের করুণ পরিণতি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 2, 2011 at 10:28pm
আজকে যে ঘটনাটি শেয়ার করতে যাচ্ছি তা আমার মার মুখে শোনা ঘটনা।। তখন আমার মা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তেন।। উনাদের পাশের বাড়িতে এক মহিলা তার ছেলেকে নিয়ে থাকতেন।। মহিলার ছেলেটি একটু বোকা প্রকৃতির ছিল।। একদিন ঐ ছেলেটি বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছ কিনে বাড়ি ফিরছিল।। পথে সন্ধ্যা নেমে যায়।। পথে একটা গভীর জঙ্গল পড়ে।। গ্রাম অঞ্চল, তার উপর জঙ্গলের মতন জায়গায় এতো বেলা করে মানুষ খুব একটা যায় না।। তো, ছেলেটা যখন জঙ্গলটার কাছাকাছি আসলো তখন সে শুনতে পায় কে যেনও তার নামে ধরে পেছন থেকে ডাকছে।। সে ভাবল হয়তো তার পরিচিত কেউ।। কিন্তু সে পিছনে ঘুরে কাউকেই দেখতে পেলো না।। অগত্যা সে আবার হাঁটতে লাগলো।। এইবার সে হটাৎ খেয়াল করলো যে, পেছন থেকে কে যেনও তার ইলিশ মাছ ধরে টান দিচ্ছে।। ছেলেটি একটু বোকা ছিল তাই সে ভয় না পেয়ে উল্টো জিজ্ঞেস করলো, “কে?? কে এমন করছে?? আমার ইলিশ মাছ ধরে টান দিচ্ছে কে রে??” এমন সময় আচমকা একটা লোক তার সামনে উদয় হল এবং বললঃ “তোর ইলিশ মাছটা আমাকে দিয়ে যা।।” বোকা ছেলেটা জোর করে ইলিশ মাছ ছাড়িয়ে নিয়ে বললঃ “দেব না।।” বলে বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো।। পিছন থেকে সেই লোকটা বলতে লাগলো, “কাজটা তুই ভালো করলি না।।” ছেলেটা সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে তার মাকে মাছটা দিয়ে বললঃ “তুমি রান্না করতে থাকো।। আমি আসছি।।” মহিলা মাছটি রান্না করতে লাগলেন।। এই ফাঁকে ছেলেটি গিয়ে তার বন্ধুদের খুলে বলল আজকে বাজার থেকে আসার পথে কি হয়েছে।। সেই রাতে খেয়ে দেয়ে মা ছেলে দুজনই ঘুমালো।। গ্রামের দিকের মানুষ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে।। তো, আসে পাশের সবাই ঘুম থেকে উঠলো কিন্তু ঐ বাড়ির কেউ উঠলো নাহ।। বেলা হয়ে গেলে সবাই ডাকাডাকি করতে লাগলো কিন্তু কেউ দরজা খুলছে নাহ।। এমনকি ভেতর থেকে কোন শব্দও আসছে নাহ।। গ্রামের সবাই মিলে ঠিক করলো দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকবে।। দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকার পর দেখা গেলো, মা এবং ছেলে দুজনই মরে পড়ে আছে।। তাদের দুজনেরই ঘাড় ভাঙ্গা ছিল।। তখন ঐ বোকা ছেলের বন্ধুরা বলল, হয়তো মাছ না দেয়ার ফলেই তাদের মরতে হল।।

শেয়ার করেছেনঃ Nusrat Jahan Ivy

।। আমার রুমে ভূত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 2, 2011 at 10:58pm
আমি দশম শ্রেণীতে পড়ি।। সামনে এক্সাম, তাই প্রতি রাতেই ২-৩ টা পর্যন্ত জাগা হয়।। তো, প্রায় গত ২ মাস আগে আমি একটা অদ্ভুত ঘটনা খেয়াল করলাম।। আমি সাধারণত গুনগুন করে পড়তে ভালোবাসি।। যেদিনের ঘটনা, সেদিন রাতেও আমি গুনগুন করে পড়ছিলাম।। গভীর রাত।। বাসার আর কেউ তখন জেগে নেই।। হটাৎ আমি খেয়াল করলাম কে যেনও আমার মতন গুনগুন করে পড়ছে।। আমি কিছুটা অবাক হয়ে চারপাশে দেখার চেষ্টা করলাম।। কিন্তু কিছুই দেখলাম নাহ।। যাই হোক, ব্যাপারটা বিশেষ পাত্তা দিলাম না।। এরপর হটাৎ একদিন রাতে আমি টয়লেটে গিয়েছিলাম।। কিন্তু ফিরে এসে যা দেখলাম তা শুধুমাত্র সপ্নেই দেখা সম্ভব।। আমি টয়লেটে যাওয়ার সময় আমার বায়োলজি বইটি টেবিলে উল্টে রেখে গিয়েছিলাম।। এসে দেখি বইটি খোলা এবং রুমে কেউ নেই তবুও আপনাআপনি বইটির পাতা উল্টে যাচ্ছে।। (আমার রুমের জানালা এবং ফ্যান তখন বন্ধ ছিল, তাই বাতাসের প্রশ্ন আসে নাহ)।। আমি ভয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম কি হয়।। কিছুক্ষণ পর সেই গুনগুন পড়ার আওয়াজ পেলাম।। এরপর আমাকে ভয়ে আতঙ্কে অস্থির করে দিয়ে আমার কলমটা আপনাআপনি দাঁড়িয়ে গেলো।। রুমে কেউ নেই, কিন্তু কলমটা খাতার উপর দিয়ে লিখে চলছে।। প্রায় ৩০-৪০ মিনিট এরকম চলল।। ভয়ে আমি নরতে চরতেও ভুলে গেছি।। হটাৎ দেখি সব ঠিক হয়ে গেলো।। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সাহস সঞ্চয় করে গেলাম দেখার জন্য, যে এতক্ষণ কি হল।। টেবিলের কাছে গিয়ে আগে খাতা খুললাম।। দেখলাম এতো সুন্দর লেখা।। বায়োলজি বইয়ের যে পাতাটা খোলা ছিল সেটা হুবহু লিখে রেখেছে কেউ।। এতো সুন্দর লেখা আমি আমার জীবনে দেখিনি।। গভীর রাত তাই বাবা মাকে না জাগিয়ে বিছানায় শুতে পড়লাম।। আমার ধারণা ছিল, এটা হয়তো আমার মনের ভুল হতে পারে।। যদিও বিছানায় শুয়ে সারারাত এপাশ ওপাশ করলাম।। সে রাতে ঘুম আর এলো নাহ।। পরদিন সকালে আমি বাবা মাকে সব কথা জানালে উনারা একজন হুজুরকে ডেকে আনেন।। হুজুর খাতাটা দেখতে চাইলে আমি উনাকে তা দেখাই।। কিন্তু দেখা যায়, খাতাটা পুরো ফাঁকা।। কিন্তু, সকালে যখন আমি বাবা মাকে খাতাটা দেখাই তখন উনারাও লেখাটা দেখেছিলেন।। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, আমি আমার মোবাইল ফোনে ঐ লেখার একটা ছবি তুলে রেখেছিলাম।। কিন্তু পরবর্তীতে চেক করে দেখি ছবিটাও সাদা হয়ে গেছে।। এই ঘটনার পর আমাকে একটা তাবিজ দেয়া হয়।। কিন্তু, ঐদিন বিকেলেই আমার প্রচণ্ড জ্বর আসে এবং প্রায় এক সপ্তাহ আমি সেই জ্বরে ভুগি।। আমি এখনও মাঝে মাঝে ভাবি, আসলেই, কি ছিল সেটা?? শেয়ার করেছেনঃ Tariq Bin Aziz Shadin

।। সংগৃহীত গল্প – ০২ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 2, 2011 at 11:28pm
২০১০ সালের জুলাই মাসের ০৬ তারিখে আমরা চার বন্ধু সাতক্ষীরায় একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম ৩ মাসের জন্য। বাড়িটি অবস্থিত ছিল নির্জন স্থানে বিলের ধারে। আশেপাশে বাড়ি ছিল মাত্র দুটি। তবে ঐ দুটি বাড়ি আমাদের এই বাড়িটি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত ছিল। সচরাচর ঐ দুইটি বাড়ির মানুষদের সাথে আমাদের দেখা হতো না। আমাদের চার বন্ধুর মধ্যে তিন জন এক রুমে থাকতাম আর বিহীন নামে আমার আর এক বন্ধু একা এক রুমে থাকত।
আমরা রাতে বাইরে বের হতাম না। আর কোনদিন বের হলেও সবাই একসাথে বের হতাম। সন্ধ্যার আগে ফিরে আসতাম কারণ আমাদের পরীক্ষা চলছিল। জুলাই মাসের ১৭ তারিখে আমাদের এই বাড়িতে এক অবাক করা ঘটনা ঘটে গেল। রাত আনুমানিক ২.৩০ মিনিটের দিকে আমাদের ঘরের দরজায় আঘাতের শব্দ হচ্ছিল খুব জোরে। আমাদের তিন বন্ধুর ঘুম ভেঙে যায়। আমরা তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে দেখি বিহীন ঘর্মাক্ত অবস্থায় আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওর সারা শরীর কাঁপছে চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে, মুখে কোন কথা নেই। দরজা খুলতেই আমাদের রুমের ভিতরে ঢুকে মেঝের ওপর দড়াম দিয়ে পড়ে গেল বিহীন। আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম। বিহীন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে, চোখে মুখে পানি ছিটাতে লাগলাম আমরা। সাথে সাথে বাড়ি মালিককে ফোন দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি মালিক আসল। বাড়ি মালিকের সাথে স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম ছিল। আমরা তিন বন্ধু বুঝতে পারছিলাম না বাড়ি মালিকের সাথে ইমাম কেন। ইমাম বিহীনের চোখে মুখে বিড়বিড় করে কিসব পড়ে ফুঁক দিল, চোখে-মুখে পানির ছিটা দিল। মিনিট পাঁচেক পরে বিহীন তাকালো কিন্তু তখনো ওর চোখে আমরা একটি ভয়ের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছিলাম। ওর যে কি হলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ইমাম সাহেব ও বাড়ি মালিক বিহীনকে আমাদের রুমে রাখতে বলল। ঐ দিন সারা রাত আমাদের চোখে ঘুম ছিল না। উতকন্ঠার মধ্যে রাত কাটিয়েছিলাম আমরা তিন বন্ধু। পরের দিন সকালে বিহীনের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার চেষ্টা করলাম। ঘটনাটি শুনে আমরা সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
গায়ের লোম কাঁটা দিচ্ছিল আমাদের। রাতে আড্ডা শেষ করে বিহীন ওর রুমে চলে গিয়েছিল। ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিহীন জানালা বন্ধ করে। কিন্তু রাত ২.২০ মিনিটের দিকে বিকট এক শব্দে বিহীনের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভাঙতেই জানালার দিকে চোখ যায় ওর। প্রথমে অবাক হয় বিহীন কারণ ঘুমানোর আগেতো সে জানালা বন্ধ করেছিল। কিন্তু জানালা খুললো কিভাবে। কিছু না ভেবেই আবার জানালা বন্ধ করতে উঠে যায় সে। কিন্তু জানালা বন্ধ করতে যেয়েই ঘটে বিপত্তি। বাইরে তাকাতেই সে দেখে যে, একজন লোক বাইরে মাটির ওপর উপুড় হয়ে বসে আছে। শুধু পেছন থেকে দেখা যাচ্ছে যে একজন মানুষ, পুরুষ কি মহিলা বোঝা যাচ্ছিল না। বিহীন চেচিয়ে উঠে জিজ্ঞাসা করে,কে ওখানে? তখন লোকটি উঠে দাঁড়ায়। লোকটি উঠে দাঁড়াতেই বিহীনের চোখ আমড়া আমড়া হয়ে যায়। নিথর হয়ে যায় বিহীনের সারা শরীর। বিহীন যে কতটা ভয় পেয়েছিল তখন তা আমাদের সাথে কথা গুলো বলার সময় আমরা বুঝতে পারছিলাম। কারন তখনও বিহীন প্রচন্ড ঘামছিল। লোকটি বিহীনের দিকে এগিয়ে আসছিল আস্তে আস্তে আর লোকটি যখন এগিয়ে আসছিল তখন বিহীন দেখল যে লোকটির কোন মাথা নেই শুধু শরীরটি তার দিকে এগিয়ে আসছে। বিহীন তখন বেসামাল অবস্থায় ঘরের আলো জ্বালে আর দরজা খুলে আমাদের দরজায় নক করে। ঘটনাটি শুনে আমরা কোন কিছুই আবিস্কার করতে পারছিলাম না। কারণ আমরা ভুত, প্রেত বিশ্বাস করতাম না।
এই ঘটনার পর থেকে প্রায় রাতে বাড়ির ছাদে শিলবাটার শব্দ হতো। কখনও দূর থেকে ভেসে আসতো মেয়ে কন্ঠের হাঁসি। কখনও মুমূর্ষ রোগীর আর্তনাদ। কিন্তু এসব কিছুতে আমরা কর্ণপাত করতাম না। সেপ্টেম্বর মাসের ০৩ তারিখে আবারও এক কাহিনী ঘটে আমাদের ঐ বাড়িতে। ঐ দিনও কাহিনীটি ছিলো বিহীনকে নিয়ে। বিহীন বিকাল বেলা কিছু কেনাকাটর জন্য শহরের উদ্দেশ্যে বের হয়। ঐ দিন সন্ধ্যায় আমরা তিনজন পড়ছিলাম। হঠাত করেই বিদ্যুত চলে যায়। তখন আমরা তিনজন গল্প করছিলাম অন্ধকারে। কিছুক্ষণ পর বিহীনের গলা শোনা যায়, হাবীব গেট খোল। তখন হাবীব চাবি নিয়ে যেয়ে বারান্দার গেট খুলে দেয়। বিহীন আমাদের রুমে ঢুকে ওর খাটের উপর বসে। হাবীব জিজ্ঞাসা করে, কিরে আজ এত দেরী হলো যে, কোথায় ছিলি? বিহীন উত্তর দেয়, ঐ একটু কাজ ছিল। বিহীন রুমে আসার মিনিট সাতেক পরে হাবীব বলে, দোস্ত সিগারেট দে, সিগারেট খাবো। বিহীন উত্তর দেয়, আমার কাছে নেই যা ছিলো শেষ হয়ে গেছে। রাজু বলে, আমার কাছে একটা আছে এইটা ধরা। তখন বিহীন বলে, দাঁড়া এখন ধরাতে হবে না আমি দোকান থেকে আর তিনটা নিয়ে আসি একসাথে ধরাবানে। আমরাতো অবাক হয়ে যায় বিহীন আমাদের পিছনে এক টাকা খরচ করে না আর সে আমাদের কে তিনটা সিগারেট খাওয়াবে। আমি বলি, বিহীন এটাকি জোকস্‌? তখন বিহীন উঠে দাড়িয়ে বলে, তোরা ওয়েট কর আমি আসছি। বিহীন চাবি নিয়ে তালা খুলে বেরিয়ে যায়। বিহীন আসবে ভেবে আমরা আর গেট লক করিনা। বিহীন বেরিয়ে যাওয়ার পর পরই বিদ্যুত চলে আসে। মিনিট বিশেক পরেও বিহীন আসে না। কিন্তু আমাদের ঐ বাড়ি থেকে মুদি দোকনে যেতে-আসতে বড়জোর দশমিনিট লাগবে। বিহীন আসছে না দেখে আমরা গেট লক করে দিই। ওকে নিয়ে না ভেবে আমরা আবার পড়তে বসি। কিছুক্ষণ পর বিহীনের ফোন আসে আমার ফোনে। বিহীন বলে, দোস্ত আমিতো এ্যাকসিডেন্ট করেছি। তখন আমি বলি, কোথায়? - শহরের ভিতরে মটর সাইকেলের সাথে।
- তুই আবার শহরে গেলি কখন?
- ক্যান তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? বিকালেতো তোর সামনে দিয়েই আসলাম।
- তুইতো সিগারেট আনার নাম করে বেরিয়ে গেলি মিনিট বিশেক হলো। এখন বলছিস শহরে?
বিষয়টি আমাদের কাছে ঘোলাটে লাগছিল। আমরা সবাই বিহীনকে আনার জন্য বাড়িতে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে পড়ি। হাসপাতালে গিয়ে সব কিছু বলি বিহীনের সাথে। বিহীন সবকিছু শুনে অবাক হয়। তখন আমাদের মনে একটি ভীতি ঢুকে যায়। ঐ দিন রাতে আমরা হাসপাতালেই থাকি সবাই। পরের দিন স্থানীয় মসজিদের ঐ হুজুরের কাছে বিষয়টি খুলে বলি। তখন সে আমাদের কাছে ঐ বাড়ি সম্পর্কে একটি ঘটনা খুলে বলে। সে বলে- তোমাদের সাথে প্রতিনিয়তই যে ঘটনা গুলি ঘটছে সেটি নতুন কিছু নয়। এর আগেও এই বাড়িটি তিনবার ভাড়া হয়েছে। কিন্তু তারাও এরকম ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে বিধায় বাড়ি ছেড়েছে। এই বাড়িটি সলেমান নামে এক ভদ্র লোক প্রথম ভাড়া নেয়। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজন থাকত। বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার ৪ মাসের মাথায় সলেমান নামের ঐ লোক তার স্ত্রীকে মেরে ফ্যানের সাথে টাঙিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। তার পর থেকে যারা ঐ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছে তারা বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাড়িটাতে বেশিদিন থাকতে পারেনা।
এই সব ঘটনা শোনার পর ঐ দিনই আমরা বাড়িটি ছেড়ে দিই।

সংগ্রহ করেছেনঃ Ethan Martin

।। ছায়ামূর্তি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 3, 2011 at 10:28pm
ঘটনাটা আমার টিচার থেকে শোনা।। আমার টিচার তখন গ্রামে থাকতেন।। একদিন উনার মা উনাকে উনার নানিকে দেখে আসার জন্য বললেন।। তো আমার টিচার এবং উনার ছোট ভাই রওনা হলেন।। নানির বাড়ি দুইভাবে যাওয়া যেত ১।
রোড দিয়ে
২।
নৌকা দিয়ে উনারা নৌকা দিয়ে যাবেন বলে ঠিক করলেন।। রওনা দেয়ার প্রায় ২ ঘণ্টা পর নানির বাড়ি পৌঁছলেন ।। ওখানে সারা দিন থেকে বিকাল ৪.৩০ এর দিকে রওনা হলেন।। তখন ছিল শীতকাল।। জলদি চারদিক অন্ধকার হয়ে পড়ল।। টিচার ও উনার ভাই তখনো বাড়ি পৌঁছাননি।। জলদি যাওয়ার জন্য উনারা শর্টকাট নিলেন।। কিন্তু শর্টকাট রাস্তায় একটা কবরস্থান পড়তো।। তো উনারা আসতে লাগলেন।। কবরস্থানটি যখন পার করছিলেন ঠিক তখন তারা দেখতে পেলেন যে একটা কালো মতন ছায়া মূর্তি কবরস্থান দিয়ে দৌড়ে এসে পানিতে লাফ দিল।। ওই কবরস্থান দিয়ে লোকজন আসা যাওয়া করতো না।। মূর্তিটি লাফ দেওয়ার পর আমার টিচাররা চিত্কাখর করে দ্রুত নৌকা চালাতে লাগলেন।। তাদের সবসময় যেন মনে হতে লাগল যে তাদের নৌকার পিছনে কেউ সাঁতরে আসছে।। কিন্তু টর্চ মারলে কিছু দেখা যায় না।। অবশেষে তারা নদীর ঘাটে পৌঁছে গেলেন।। নদীর ঘাটে পৌঁছে আমার টিচার লাফ দিয়ে নৌকা থেকে নামলেন।। কিন্তু ওনার ভাই নামতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেলেন।। পড়ে গিয়ে উঠতে গিয়ে দেখেন যে কে যেন পিছন থেকে ওনাকে টেনে রেখেছে।। উনি তো ভয়ে আধমরা।। এদিকে আমার টিচারও উনাকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন।। অবশেষে টেনে তুলতে পারলেন এবং দৌড়ে বাড়ি পৌছলেন।। ঘটনার পর ওনার ভাই ৪ দিন জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন।। শেয়ার করেছেনঃ Talukder Shatadru

।। অচেনা আরোহী ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 3, 2011 at 10:58pm
বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ২৫০/৩০০গজ দক্ষিনে রাস্তার পূর্ব পাশে আমার শ্বশুরের এবং আরেকটু দক্ষিনে গিয়ে রাস্তার পশ্চিমে চাচা শ্বশুরের বাসা।। চাচা শ্বশুরের শালা তার বাসায় থেকে পড়াশোনা করত।। ২০০৫সনের মার্চ বা এপ্রিল মাসে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম।। তখন এক রাতে ১১টার দিকে কাকি শ্বাশুরী ফোনে বলে তার ভাইয়ের হঠাৎ প্রচন্ড বমি শুরু হয়েছে।। আমার ডাক্তার স্ত্রী যেন দ্রুত সেখানে যায়।। আমি ওকে সেই বাসার গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে ফিরে আসতে থাকি।। হাইওয়ে পার হওয়ার আগে উঃ দঃ উভয় দিক দেখে রাস্তার মাঝ বরাবর আসা মাত্র পিছন থেকে আমার নাম ধরে একটা ডাক শুনতে পাই।। কন্ঠটা ঠিক আমার স্ত্রীর মতো।। পিছনে ফিরে দেখি গেট পর্যন্ত কেউ নেই।। কিছুক্ষন পিছনে তাকিয়ে থেকে সামনে এগোতে গেলে আবার ডাক শুনতে পাই।। পিছনে তাকিয়ে এবারও কাউকে না দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে যাই।। চোখ ধাঁধানো আলো দেখে সামনে তাকিয়ে দেখি একটা বাস দ্রুত গতিতে আমার দিকে ছুটে আসছে।। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাস্তার কিনারে পৌছুতে না পারলে বাসটা আমাকে চাপা দিবে।। জীবন বাঁচানোর তাগিদে যখন রাস্তার কিনারে যাবো দেখি একটা সাইকেল খুব ধীর গতিতে রাস্তার পাশ দিয়ে আমার দিকে আসছে।। সাইকেল চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বাসের নিচে পরতে হবে আর সামনে এগোলে সাইকেলের নিচে পরতে হবে।। সাইকেলের নিচে পরলে প্রানে বাঁচা যাবে তাই সামনেই এগোলাম।। কিভাবে যে সাইকেলটার সামনে দিয়ে রাস্তার কিনারে পৌছে গেলাম আমি জানিনা।। এর মধ্যে বাসটা চলে গেল।। সাইকলটাও ধীর গতিতে যাচ্ছে।। যার জন্য জীবনটা খোয়াতে যাচ্ছিলাম সেই সাইকেল ওয়ালার দিকে রাগে ক্ষোভে তাকিয়ে দেখি সে একটা কাল চাদর মুড়ি দেওয়া।। এত গরমে চাদর মুড়ি দেওয়া লোক, নাম ধরে ডাকা বিষয়টা উপলব্ধি করে একছুটে শ্বশুরের বাসায় ঢুকে পরি।। কলেজ পড়ুয়া শালাটা আমার বিদ্ধস্ত চেহারা দেখে কারন জানতে চাইলে সব খুলে বলি।। স্থানটার কথা শুনে ও জানায়, ওই স্থানে আগে তিন জন বাস চাপায় মারা পরেছিল।। সর্বশেষ যে মারা যায় সে আমার শ্বশুর বাড়ির লোক।। সে এক্সিডেন্টের কয়েক ঘন্টা পরে মারা গিয়েছিল।। তাকে নাকি কে নাম ধরে ডেকেছিল।। কে ডাকে তা দেখতে গিয়েই সে বাস চাপা পরে।। সব শুনে আমি থ খেয়ে গিয়েছিলাম।। শেয়ার করেছেনঃ আউলা চুলে বাউলা আমি

।। একটি বাড়ি এবং কিছুকথা ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 3, 2011 at 11:35pm
আমরা যারা ঢাকা শহরে থাকি তারা বেশিরভাগ সময়েই ভূত প্রেতের কথা তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দেই।। হ্যাঁ, দিনের আলো হয়তো আপনাকে সেরকম করে ভাবতে বাঁধা দেয়।। কিন্তু যদি আপনি গ্রাম অঞ্ছলে যান, দেখবেন সেখানে এখনও এমন কিছু ঘটনা ঘটছে যা আপনার আমার তথাকথিত বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নাহ।। আপনাদের সাথে আজ তেমনই একটি ঘটনা শেয়ার করতে চাচ্ছি।। আগে মেট্রিক পরীক্ষার পর আমরা তিন মাসের একটা লম্বা ছুটি পেতাম।। তাই, পরীক্ষা শেষ হবার আগেই ছেলেমেয়েদের চিন্তা ভাবনায় চলে আসতো যে কি করে তারা সেই তিনমাস অতিক্রম করবে।। কারো ইচ্ছে থাকে দেশটা ঘুরে বেড়ানো।। কারো ইচ্ছে থাকে অজানাকে জানার জন্য ছুটে চলতে।। আমি দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্য।। এক্সাম শেষ হবার আগেই ঠিক করে ফেললাম, এই ছুটিতে আমরা ফ্রেন্ডরা মিলে পঞ্চগড় যাচ্ছি।। সেখানে যাওয়ার পিছনে কিছু উদ্দেশ্য ছিল।। ১।
জায়গাটা সুন্দর সবার কাছে শুনেছি কিন্তু কখনো যাওয়া হয় নি।।
২।
ইন্ডিয়া বর্ডার নাকি একদম কাছে।। চেনাজানা মানুষ থাকলে ইন্ডিয়া যাওয়া সম্ভব!!
৩।
সত্যিকারের ভূত দেখা।। ভূত দেখার ঘটনাটা আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করলো।। যেই বাক্তি এই ব্যাপারে বলেছেন তার কথা অবিশ্বাস করার কোন কারন আমার কাছে ছিল নাহ।। তিনি সম্পর্কে আমার মামা হন।। পঞ্চগড় আমার নানুর বাড়ি ছিল।। এখনও আছে, কিন্তু সেদিনের পর আমার আর যাওয়া হয়নি।। আমাদের পরীক্ষা শেষ হয় মার্চ মাসে।। ঠিক কত তারিখে শেষ হয়েছিলো তা মনে নেই।। পরীক্ষা শেষ হবার ২দিনের মধ্যে আমরা রওনা দেই।। আমরা মানে, আমি, শিমুল, আর সজীব।। নানু বাড়িতে এটাই আমার প্রথম যাওয়া।। তার উপর সাথে কোন গার্জিয়ান নেই।। মজা মাস্তি করে গন্তব্বে পৌঁছলাম ভোরের দিকে।। বাস থেকে নেমে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা ব্যানে করে জার্নি।। শরীর যেনও আর চলছিলো নাহ।। বলা বাহুল্য, আমরা রাতের বাসে জার্নি করেছিলাম।।
নানু বাড়িটা আসলেই সুন্দর।। ঠিক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটা নদী।। ইন্ডিয়া যাওয়া যায় ঐ নদীটা দিয়ে।। কাচভাঙ্গা নদী বা এমনি কিছু একটা নাম ছিল নদীটার।। গরমের দিনেও পানি বরফের মতন ঠাণ্ডা।। দিনের বেলা গোছল করেও কাঁপতে কাঁপতে উঠতে হল নদী থেকে।। ২দিনেই হাঁপিয়ে উঠলাম গ্রামের পরিবেশে।। মোটামুটি যা যা দেখার ইচ্ছে ছিল ঘুরে দেখে ফেলেছি।। শুধু ভূত দেখাটা বাকি!! মামা ঐ সময় বাড়িতে ছিলেন নাহ।। ঢাকায় একটা বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন তিনি।। ছুটি না মিললে গ্রামে খুব একটা যান নাহ।। আমি যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলাম তাই ছুটি মানেজ করে রেখেছিলেন।। তৃতীয়দিন সকালে পঞ্চগড় পৌঁছান মামা।। পাওয়ার সাথে সাথে পাকড়াও করি উনাকে।। ঘটনা তখনো পর্যন্ত পরিষ্কার ছিল না আমাদের কাছে।। মামা শুধু কিঞ্চিৎ ধারণা দিয়েছিলেন যে, আমাদের এক্সপেরিএঞ্চ জীবনে ভুলতে পারব নাহ।। যাই হোক, আমরা চতুর্থ দিন বের হই ভুতের সন্ধানে।। শহরের আলোক ঝলমলে পরিস্থিতিতে থাকতে থাকতে ব্যাপারটা এমন হয়েছিলো যে, আমরা তিনজন রিতিমত মশকরা করতে লাগলাম।। ভূত, তাও আবার একবিংশ শতাব্দীতে!! আমরা যখন রউনা হই তখন ঘড়িতে ৬.০০ টার মত বাজে।। জায়গাটা একটা পরিতাক্ত বাড়ির পাশে।। কথিত আছে, সেই বাড়ির মালিকের ছোট ছেলের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে।। বজ্রপাতে মৃত্যু হলে নাকি মানুষের কোন একটা অর্গান (শরীরের একটা অংশ) খুব দামি ধাতুতে পরিণত হয়ে যায়।। তাই বজ্রপাতে মৃত মানুষের লাশ চুরি হয়ে যায়।। কিছু খারাপ লোক লাশ চুরি করে সেই অংশটা পাওয়ার জন্য।। যেহেতু লোকটা নিজেই বাড়ির মালিক ছিলেন, তাই ছেলের কবরও দিয়েছিলেন বাড়ির পাশেই।।
মামার মুখ থেকে ব্যানে যেতে এইসব কথা শুনতে লাগলাম।। আমার কাছে ব্যাপারটা তখনো ক্লিয়ার নাহ।। তাই মামাকে একনাগারে প্রশ্ন করেই যাচ্ছিলাম।। মামা ধৈর্য সহকারে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।। মামার কাছে যা জানতে পারি তা সংক্ষেপে
বলছিঃ

ঐ বাড়ির ছোট ছেলেটি এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের মত ছিল।। মানুষজন তো দুরের কথা তার ভয়াল এবং নিষ্ঠুর মন-মানসিকতা থেকে নাকি পশু পাখি ও রেহাই পেত নাহ।। গ্রামের লোক ছেলেটির এইসব কারনে ভয় পেয়ে ঐ বাড়িটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতো।। প্রায়ই নাকি ঐ বাড়ি থেকে মানুষ কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেত।। ভয়ঙ্কর টর্চার করলে মানুষ যেমন বিকৃত স্বরে চিৎকার করে, অনেকটা ঐরকম।। আমার মামা ভয়ানক সাহসী টাইপের।। উনি একদিন তার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে গিয়েছিলেন আসল ব্যাপার দেখতে।। বিকেলে উনারা বাড়িটায় পৌঁছান কিন্তু খুব বেশিদূর যেতে হয় নি।। ঠিক বাড়ির গেটের কাছে এক বিশাল আকৃতির কুকুরের মৃত দেহ পরে ছিল।। পাশবিক নির্যাতন করে কুকুরটাকে মারা হয় তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।। সারা গায়ে চাকুর অগনিত দাগ।। কুকুরটার হৃৎপিণ্ড বরাবর বিশালাকার গর্ত।। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, কুকুরটার চোখ মুখ ভয়ে বিস্ফরিত।। মুখটা যেনও দুহাতে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।। ভয়ানক এই দৃশ্য দেখে মামার বন্ধুরা আর এগোনোর সাহস পেলেন নাহ।। ঠিক তখনই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে গায়ের সব পশম দাড় করিয়ে দিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে কারো আর্ত চিৎকার শোনা গেলো।। উনারা আর সাহস করলেন নাহ।। চলে এলেন।। ছেলেটা যেদিন মারা যায় তার কয়েকদিনের মধ্যে তার লাশ চুরি করার চেষ্টা করা হয়।। এলাকায় একটা চক্র আছে যারা বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া লাশ কবর থেকে তুলে ইন্ডিয়াতে বিক্রি করে দেয়।। যাই হোক, তারপর দিন ঐ চক্রের কয়েকজনকে কাচভাঙ্গা নদীতে ভাসন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।। তাদের প্রত্যেকের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল।। ঐ দলের দুইজনকে প্রায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ঐ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এক চাষের জমিতে।। তাদের একজনের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, আর আরেকজনের গায়ে কেউ যেনও চুরি দিয়ে কেটে ফালি ফালি করে রেখেছে।। তাদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তারা ঐ বাড়িতে গিয়েছিলো লাশ তোলার জন্য, কিন্তু “কিছু একটা” তাদের আক্রমন করে।। জিনিসটা দেখতে মানুষের মতই কিন্তু আকৃতি অনেক বড়।। তাদের মাঝের একজন (যার শরীর চাকু দিয়ে ফালাফালা করা হয়েছিলো) হাসপাতালে মারা যায়।। তখনকার পেপারে এই বিষয়টা এসেছিলো।। ঐ বাড়ির আসেপাশে অন্য কোন বাড়ি নেই।। প্রায় অর্ধেক মাইল পথ গেলে কয়েকটা বাড়ি পাওয়া যায়।। ঐ বাড়ির লোকজন নাকি প্রায়ই বাসাটা থেকে অদ্ভুত সব গোঙানির আওয়াজ পান।। তাদের মাঝে কয়েকজন নাকি দেখেছেন যে, ঐ বাড়ির উঠোনে একটা সাদা ছায়া হেঁটে বেড়ায় এবং বারবার বাড়ির একটা দরজার সামনে গিয়ে গায়েব হয়ে যায়।। প্রত্যেকের সাথে আলাদা আলাদা কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই একি জিনিস দেখেছে এবং তাদের কথার মধ্যে অদ্ভুত মিল।। কোনোরকম অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায় নি দেখে গ্রাম থেকে একবার একদল লোক গিয়ে ঐ বাড়িটা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে।। তাদের মাঝে ২জন শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয় কাজ চলাকালীন সময়ে।। (বিঃ দ্রঃ ছোট ছেলেটা মারা যাবার শোক সইতে না পেরে ঐ বাড়ির মালিক তার পরিবার নিয়ে কয়দিন পর গ্রাম ছেড়ে চলে যান)
এরপর থেকে বাড়িটা মূলত পরিতাক্ত হয়ে পড়ে আছে।। এতটুকু শোনার পর ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে আমাদের।। মজা মাস্তি তো দুরের কথা, মামার গলায় এক এমন আশ্চর্য সুর ছিল যে, আমরা রীতিমতো গরমের মাঝেও ভয়ে কাঁপুনি দিয়ে উঠলাম।। শিমুল, আর সজীবকে দেখে বুঝতে পারছিলাম মারাত্মক ভয় পেয়েছে দুইজনই।। আমার অবস্থাও কোন অংশে ভালো নয়।। তারপরও মান সম্মান রক্ষার্থে ঘাপটি মেরে রইলাম তিনজনই।।
নানু বাড়ি থেকে ঐ বাড়িটার দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার।। আমরা যখন বাড়িটার কাছাকাছি পৌঁছাই তখন ঘড়িতে ঠিক ৬.৪৮ বাজে।। আজান হয়ে গিয়েছিলো।। মামা আমাদেরকে বাড়িটা দেখানোর জন্য এনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাড়িটায় যাবার পথটা প্রায় গাছগাছালিতে ঢাকা পড়ে গিয়েছে।। মামা আগে থেকেই তার কিছু বন্ধুদের বলে রেখেছিলেন তাই উনারা সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।। আকাশের চাঁদটা ভালোই আলো ছড়াচ্ছে।। কিছুদিন আগে মাত্র পূর্ণিমা গেলো।। তাই হয়তো।। বাড়িটার ১০০ মিটারের মধ্যে চলে যাই আমরা।। মামাকে অনেক অনেক রিকুয়েস্ট করার পর তিনি আমাদের ঐ গেটটা পর্যন্ত নিয়ে যেতে রাজি হন।। মামার সাথের বন্ধুরা এই টাইপের অনুরোধ মনে হয় আশা করেনি।। কয়েকজনতো ভয়ে উশখুশ করতে লাগলো।। ২জন (স্পষ্ট মনে আছে) সিগারেট ধরালেন।। সেই সিগারেট নেশার জন্য ছিল না ভুতের হাত থেকে বাঁচার জন্য ছিল তা তখন জিজ্ঞেস করা হয়নি।।
বাড়িটা দেখতে পুরনো আমলের জমিদার বাড়ির মত।। ঠিক সামনেই একটা বিশাল বেদিতে একটা নিম গাছ।। মুসলমান বাড়িতে নিম গাছ সচারচর দেখা যায় নাহ, কিন্তু এখানে দেখলাম।। আমাদের সাথে টর্চ ছিল।। সজীব বুদ্ধি করে ভালো পাওয়ারের একটা টর্চ নিয়ে এসেছে।। মামা নিষেদ করার আগেই সে টর্চটা বাড়ির দিকে তাক করে সুইচ দিয়ে দিল।। প্রথমে মনে হল চোখের ভুল, কিন্তু পাশ থেকে শিমুল চিৎকার করে উঠায় বুঝতে পারলাম যে নাহ, যা দেখছি ঠিকই দেখছি।। একটা ছায়ামূর্তি!! সাদা এবং বাতাসে ভাসমান।। যেনও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আমাদেরকেই দেখছিল।। সজীব লাইট মারাতে আস্তে আস্তে ভেসে চলে যেতে লাগলো।। একটা দরজার কাছে গিয়ে যেনও মিলিয়ে গেলো।। যা ঘটলো তা দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম নাহ।। ঠিক তখনই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে করতে একটা বিশাল আকৃতির কুকুর ছুটে এল।। সাধারণত, রাতের বেলা কুকুরের চোখে কোনোরকম আলো পড়লে তা জ্বলজ্বল করে, কিন্তু সজীব যখন তার টর্চের আলো ঐ কুকুরটার দিকে ঘোরালো, তখন দেখলাম কুকুরটার চোখে যেনও লাল আলো প্রতিফলিত হচ্ছে।। মামা আমার হাত চেপে ধরে দৌড় লাগালেন।। আমার বাকি দুই ফ্রেন্ডকে প্রায় কোলে তুলে নিলো মামার দুই বন্ধু।। এরপর রুদ্রশ্বাসে ছুটলাম আমরা।। কপাল কখনই এতো ভালো হয় না।। কুকুরটা মামার এক বন্ধুর পা কামড়ে ধরল।। উনার চিৎকারে মামা থেমে গিয়ে আমাকে বললেন, “দৌড়তে থাক।। কোন অবস্থাতেই থামবি না।।” না বললেও অবশ্য হতো।। আমার থামার কোন ইচ্ছে ও ছিল নাহ।। তবুও ঘাড় ঘুড়িয়ে একবার দেখার ঝোঁকটা সামলাতে পারলাম নাহ।। দেখলাম, মামা পকেট থেকে কি যেনও বের করে কুকুরটার দিকে ছুড়ে দিল।। সাথে সাথে কুকুরটা মামার ঐ বন্ধুর মা ছেড়ে দিয়ে ছিটকে দূরে সরে গেলো।। ঐ বাড়িটা থেকে কিছু পথ যাওয়ার পর ৪-৫ টা কৃষকের বাড়ি পড়ে।। সেখানে মামার বন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হল।। তিনি অচেতন হয়ে ছিলেন।। সেই রাতেই মামা উনাকে নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেলের উদ্দেশে রউনা হন।। তার আগে আমাদেরকে ঘরে পৌঁছে দিয়ে যান এবং বলেন এই ঘটনা যেনও বাসার কারো সাথে শেয়ার না করি।। কিছু কিছু মিসিং লিঙ্ক এখন ক্লিয়ার করার চেষ্টা করবো।। ** পরবর্তীতে মামা এবং উনার বন্ধুদের সাথে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হই যে, ঐ কুকুরটা সেই কুকুরটা ছিল যেটা মামারা ঐ বাড়িতে এক বিকেলে গিয়ে মৃত পড়ে থাকতে দেখতে পান।। ** ছায়ামূর্তিটা শুধু একজন বা দুইজন দেখলে তাকে হালুসিনাসন বা দৃষ্টিভ্রম বলা যেত।। কিন্তু সেখানে উপস্থিত সবাই সে ছায়ামূর্তিটা দেখতে পায়।। ** কিছুদিন পর ঐ পরিতাক্ত বাড়ির পাশের বাড়িগুলোর এক লোককে ঐ বাড়ির গাছটাতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।। লোকটা তার আগে কিছুদিন নিরুদ্দেশ ছিল।। ** মামা সেদিন ঐ কুকুরটার দিকে তাবিজ ছুঁড়ে মেরেছিল।। আমরা ঐ বাড়িটা দেখতে যাবো এটা জানার পরপরই মামা একজন বিখ্যাত হুজুরের সাথে দেখা করে সতর্কতামূলক বাবস্থা নিয়ে রেখেছিলেন।। এই আমাদের শেয়ার করা দ্বিতীয় গল্প।। সত্য মিথ্যা যাচাই বাছাই করা আপনাদের উপর।। আমি আপনার জায়গায় থাকলে হয়তো বিশ্বাস করতাম নাহ।। আসলেই করতাম না, যদি না আমার সাথে ঐ রাতের কাহিনীগুলো ঘটতো।।

শেয়ার করেছেনঃ অ্যাডমিন (SAJJAD)

।। সেই রাতে ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 4, 2011 at 10:30pm
ঘটনাটা আমার এক বড় ভাইয়ের মুখ থেকে শুনা।। সত্যি বলতেছি এজন্যে যে, কারণ আমি বিশ্বাস করি, উনি একজন শক্ত মনের মানুষ এবং উনি যা দেখেছেন তা ঠিক দেখেছেন।। ঘটনাটা এরকম।। উনার এস,এস,সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।। পরীক্ষার পর ছুটিতে উনি উনার মামাবাড়ি খুলনায় যাবেন।। উনি সিলেট থেকে রওনা দিয়ে রাত সাড়ে নটায় খুলনা পৌচ্ছান।। শহর উনার মামাবাড়ি যাওয়ার রাস্তায় যাওয়ার পথে প্রায় ১০ মিনিটের মত।। টিলার মাঝখান দিয়ে যেতে হয়।। রাতে তিনি কোন রিকশা না পেয়ে একাই হেটে রওয়ানা হন।। একটু জায়গা যাওয়ার পর উনি উনার একটু সামনে একজন বৃদ্ধ লোককে দেখতে পান।। সামনে একজন লোক দেখায় উনি ভাবেন যে উনার সাথে কথা বলে বলে উনার মামাবাড়ি পর্যন্ত চলে যাবেন।। তাই উনি উনার হাটার গতি বাড়িয়ে দিয়ে লোকটিকে ধরতে চান।। কিন্তু লোকটিও ওর হাটার গতি বাড়িয়ে দেয় এবং একটু পর রাস্তার একটি মোড় পার হয়ে গায়েব হয়ে যায়।। তখন তিনি ঐ মোড়ের কাছে এসে দেখেন যে, সামনে ঐ লোকটি নেই, এবং সামনে অনেকটা সরু রাস্তা যা একজন বৃদ্ধ লোকের পক্ষে এত তাড়াতাড়ি পেরোনো সম্ভব নয়।। তাই উনি এদিক ওদিক তাকিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, লোকটি উনার ঠিক পেছনে এবং উনার দিকে তাকিয়ে হাসতেছে।। লোকটি কিছুটা ভাসমান অবস্থায় ছিল, আর চোখটা খুবই ভীতিকর ছিল।। উনার পিছনে লোকটিকে এভাবে দেখে উনি অজ্ঞান হয়ে ঐখানেই পড়ে যান।। কিছুক্ষন পর একদল লোক এ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে উনাকে এভাব পেয়ে উনার মামার বাড়ি পৌচ্ছে দেয়।। ঘটনাটা এমনিতেই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।। (বি:দ্র: আমি খুলনা শহর সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য জানিনা)

শেয়ার করেছেনঃ Tushar Das

। গোরস্থানের বধূ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 4, 2011 at 11:00pm
তখন আমি স্কুলে পড়ি।। পড়ালেখার জন্য নানুবাড়িতে থাকতাম।। একবার আমরা বাসা বদল করে একটা নতুন বাসাতে উঠলাম।। নতুন পরিবেশ।। আসে পাশের কাউকেই চিনি নাহ।। বাসাটা তিনতলা ছিল।। তবে, তিনতলার নির্মাণ কাজ তখনো চলছিলো বলে সেটা ছিল ফাঁকা।। আমরা দ্বিতীয় তলায় থাকতাম।। নিচ তলায় অন্য এক ভাড়াটিয়া থাকতো।। যাই হোক, আমাদের নতুন বাসার ঠিক সামনেই ছিল এক গোরস্থান।। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে গোরস্থানের কবর আর গাছপালা স্পষ্ট দেখা যেত।। সেই বাড়িতে উঠার পর প্রথম রাত।। রাত ১১ টার দিকে হটাৎ পুরো বাড়িতে কড়া আগর বাতির গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো।। আসে পাশে কোন উৎস খুঁজে পেলাম না।। ছোট ছিলাম।। ঘাবড়ে গেলাম।। ভয়ে ভয়ে নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।। গভীর রাতে হটাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো।। মনে হলে ছাদ থেকে একটা আওয়াজ আসছে।। কে যেনও স্যান্ডেল টেনে টেনে হাঁটছে ছাদে।। প্রচণ্ড ভয় পেলাম।। পাশে শোওয়া আম্মুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।। এমনিতে কখন যেনও ঘুমিয়ে গেছি।।
সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ছোট মামা বললেন, উনি নাকি রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিলেন।। তখন তার চোখ যায় গোরস্থানের দিকে।। সেখানে নাকি তিনি দেখেন, এক নব বধূর মত কেউ লাল শাড়ি পড়ে বসে আছে।। বাতাসের আসা যাওয়ার তা কিছুটা দুলছিল।। এছারা আকৃতিটা সাধারন মানুষের মতন ছিল নাহ।। তার চেয়ে অনেক বড় সাইজের ছিল।।
এভাবে অনেকদিন কেটে গেলো।। মামা প্রায় রাতেই সেই অদ্ভুত নতুন বউয়ের সাজের আকৃতিটা দেখতে পেতেন।। একদিন আমরা সবাই মিলে অনুরোধ করলাম, মামা যেহেতু প্রায় রাতেই সেই আকৃতিটা দেখতে পান তাই পরে কোনবার দেখলে যেনও অবশ্যই আমাদের ডাক দেন।। একদিন রাতে মামা আমাদের রাত ২ টার দিকে ডাক দেন।। ঘুম থেকে উঠে দেখি চাঁদের আলোয় সব ঝলমল করছে।। খুব সম্ভবত সেদিন পূর্ণিমা ছিল।। দুরের জিনিশগুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম চাঁদের আলোয়।। আমরা মামার রুমে গেলাম।। চারদিকে শুনশান নিরবতা আর চারপাশে কড়া আগরবাতির গন্ধ।। মাঝে মাঝে কোথায় যেনও একটা কুকুর ডেকে উঠছিল।। সবাই জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম।। যা দেখলাম তাতে সবার চোখ প্রায় কপালে উঠে গেলো।। গোরস্থানের ভেতরের দিকে একটা ঘরের মত ছিল।। ঠিক ঘর নাহ, বাস টিকেট বিক্রি করার জন্য যেমন ছোট ঘর থাকে তেমন।। তবে তা চারদিক দিয়েই খোলা ছিল।। সেখানে যেনও নতুন বউয়ের মতন সেজে কে একজন বসে আছে।। মাথাটা কিঞ্চিৎ দুলাচ্ছে।। অনেকটা আমরা গুনগুন করে পড়ার সময় যেমন মাথা দুলিয়ে পড়ি, সেরকম।। ভয়ে আমার এক কাজিন চিৎকার দিয়ে উঠলো।। সাথে সাথে সেই মূর্তিটা আমাদের দিকে ঘুরে গেলো।। আশ্চর্য, এতো দূর থেকেও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম তার চোখগুলো যেনও জ্বলজ্বল করে জ্বলছে।। আমরা ভয়ে চিৎকার দিয়ে সরে যাই।। মামা তাড়াতাড়ি জানালাটা বন্ধ করে দেন।। পড়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একবার এই গ্রামে নদীতে একটা লাশ ভাসতে ভাসতে আসে।। লাশটার গায়ে নতুন বউয়ের শাড়ি ছিল।। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেই লাশের পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।। সেই গোরস্থানে দাফন করা হয় লাশটা।। এরপর নাকি প্রায়ই অনেকে উল্টাপাল্টা অনেক কিছু দেখে।। মাঝে মাঝে নাকি কড়া গন্ধ পাওয়া যায় আগরবাতির।। আর সেই গোরস্থানটি আসলে প্রচলিত অর্থে শুধু মোসলমানদের কবরখানাই নয়, সেখানে বাকি সব ধর্মের মানুষেরও শেষ কীর্তি সম্পাদন করা হয়।। যাই হোক, এরপর থেকে আমরা আর জানলা দিয়ে বাইরে তাকাতাম নাহ।। যতদিন সেই বাড়িতে ছিলাম ততদিনই সন্ধার পর সব
জানালা বন্ধ করে দেয়া হতো।। আর, ছাদের সেই শব্দটার কোন ব্যাখ্যা পাইনি।।

শেয়ার করেছেনঃ Onni

। একটি ভয়ঙ্কর রাত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 4, 2011 at 11:30pm
।। একটি ভয়ঙ্কর রাত ।।
আমি আজ যে ঘটনাটা শেয়ার করবো তা গত পরশুদিন রাতে(২৭ জুলাই) ঘটে যাওয়া।। সম্ভবত আমি এই পেইজের অনেক কম বছরের সদস্যদের মধ্যে একজন, কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকেই আমার আসে পাশে অনেককিছু দেখেছি এবং অনুভব করতে পেরেছি।। যাই হোক, এইবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।। ৪-৫ দিন আগে আমি আমার রুমে শুয়ে আছি।। যেহেতু নিচ তলায় থাকি, তাই বাড়ির পাশ দিয়ে কারা যায় বা আসে তা সহজেই দেখতে পাই।। আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিলাম।। হটাৎ একটা লোককে আসতে দেখলাম।। কেন যেনও উনাকে একটু আলাদা টাইপের মনে হল।। তাই খুব ভালো করে খেয়াল করলাম।। বয়স ৪৫-৫০ এর মধ্যে হবে।। মুখে বড় বড় দাড়ি।। হাতে একটা ব্যাগ।। আমাকে চমকে দিয়ে হটাৎ জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বলল, “ছেলের পড়ালেখা ভালো হবে!! সকল বিপদ আপদ থেকে দূরে থাকবে।। দে, এইবার শিন্নি দে!!” আপনারা হয়তো অনেকেই দেখেছেন এমন কিছু কিছু ভণ্ড থাকে যারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায় শিন্নির জন্য আর টাকা পয়সা চায়।। আমি উনার আচরণে কিছুটা বিরক্ত হলাম।। তারপরও যথেষ্ট ভদ্র ভাষায় বললাম, “আমরা তো শিন্নি দেই না।। আপনি অন্য বাড়ি যান!!” এইবার লোকটা একটু খেপে গিয়ে রাগী গলায় বললেন, “তাহলে ১৭টা টাকা দে!!”
কিন্তু আমার তখন এমন অবস্থা যে, আমার কাছে ১ টাকাও নেই।। তার উপর বাসায়ও কেউ নেই।। তাই আমি উনাকে বুঝিয়ে বলার জন্য বললাম, “দেখেন, আমার কছে এই মুহূর্তে কোন টাকা নেই।। আর বাসায়ও কেউ নেই।। তাহলে কিভাবে আপনাকে টাকা দিবো বলুন??” লোকটা ঠিক ১৭ টাকাই কেন চাইলো মাথায় ঢুকছিল নাহ।। লোকটার কথা শুনে আরও মেজাজ খারাপ হল।। আমাকে রেগে রেগে বলল, “দিলি নাহ।। দিস কিন্তু!!” মাথা তখন রাগে টগবগ করে ফুটছে।। তারপরও আমি গলা শান্ত রেখে বললাম, “মাফ করেন।। আমার কাছে এই মুহূর্তে টাকা নাই।। তাই দিতে পারছি নাহ!!” এইবার লোকটা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, “যা করলি, করলি!! দেখিস, এর ঠেলা সামলাইতে পারবি তো??”
কথাটা বলে লোকটা খুব দ্রুত চলে গেলো।। আমি সাথে সাথে রুম থেকে বের হয়ে কাউকেই দেখলাম নাহ।। পাশের বাসার এক অ্যান্টি বারান্দায় ছিলেন।। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, “অ্যান্টি, এইমাত্র একটা লোক এসেছিলো এইদিকে।। কিন্তু বের হয়ে দেখলাম নাহ।। কোনদিকে গেছে বলতে পারবেন??” উনি বললেন, “নাহ তো।। কাউকেই তো যেতে দেখিনি।।” অ্যান্টি অনেক্ষন যাবতই বারান্দায় ছিলেন।। কেউ আসলে উনার দেখতে পাবার কথা।। আমি ঠিক বোঝে উঠতে পারলাম নাহ।। রাগ লাগলো।। ব্যাটা মুডটাই নষ্ট করে দিয়েছে।। এই ঘটনাটি দুপুর ২টার দিকে ঘটে।। ঐ রাতটা ভালো মতনই কাটালাম।। রাত ২টার দিকে একবার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো।। কিন্তু এরপর আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ি।।
পরের দিন রাত ২টা থেকে ২.৩০ টার মাঝে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।। ঠিক স্বপ্নে না বাস্তবে বলতে পারছি না তবে কে যেনও আমার পা টা ধরে নাড়ানোর চেষ্টা করছে।। পা টা এমন ভাবে রাখতে চাচ্ছে যেনও আমার নাক আমার পায়ের বৃদ্ধ আঙ্গুল বরাবর হয়।। মানে, সোজা লাইনে।। কিন্তু আমি শক্ত করে রাখলাম পা টা।। কোন মতেই নড়াতে দিবো নাহ।। এরপর হটাত মনে হল, কে যেনও টান দিয়ে আমার কোলবালিশটা আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিলো এবং আমাকে জড়িয়ে ধরে উপরের দিকে টানতে চেষ্টা করলো।। আমার গায়ের সব পশম পড়পড় করে দাঁড়িয়ে গেলো।। প্রচণ্ড ঘামাচ্ছিলাম আমি।। তারপর হটাত আমার মনে হল, আমার মাথাটা আমার বালিশে আছে কিন্তু বাকি দেহ পুরোপুরি বাতাসে।। আমি চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হচ্ছিল নাহ।। আমি অনেক কষ্টে আস্তে আস্তে চোখ খুললাম।। দেখলাম কারেন্ট নেই কিন্তু আই পি এসে ফ্যান চলতেসে এবং একটা ছোট বাল্ব জলতেছে।। আমি টের পেলাম যে, কেউ যেনও আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।। আমি তখন সম্পূর্ণ সচেতন।। পুরোপুরি টের পাচ্ছি মাথায় হাত বুলানোর ব্যাপারটা।। হটাত হাতটা আমার মাথা থেকে নেমে গলার দিকে আসতে লাগলো।। আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।। আমি অনেক কষ্টে ঘাড় ঘুড়িয়ে আড়চোখে আমার পিছনে দেখলাম।। দেখলাম সেই শিন্নিওয়ালা লোকটা হাসতেছে আর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।। আমি ভয়ে দিশেহারা হয়ে বাম হাত দিয়ে সজোরে উনার দিকে একটা ঘুষি মারলাম।। কিন্তু আমাকে আর বেশি অবাক করে দিয়ে সেই হাতটা উনার দেহ কেটে বেড়িয়ে গেলো।। মানে অনেকটা বাতাসে ঘুষি মারলে যেমন হয়, তেমন অবস্থা।। আমি প্রচণ্ড ভয়ে জোড়ে চিৎকার করে উঠি।। সাথে সাথে পাশের রুম থেকে আমার ভাইয়া আর পরিবারের বাকি সবাই ছুটে এলো।। আমাকে শান্ত হবার জন্য কিছুক্ষণ সময় দিয়ে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে।। আমি আস্তে আস্তে সব খুলে বলতে লাগলাম।। ঠিক সেই সময়ে একটা প্রচণ্ড জোড়ে শব্দ হল এবং সেটা আমরা সবাই শুনতে পেলাম।। সেদিন আমি আমার ভাইয়ের পাশেই ঘুমাই।। তারপরে আমাকে এক হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি আমাকে দোয়া পড়ে দেন।। এখন আমি মোটামুটি সুস্থ।। তবে জোর গলায় এতটুকু বলতে পারি যে, ঐদিন আমি ঐ লোকটাকেই দেখেছি এবং তাও পরিপূর্ণ সজ্ঞানে।। ভুল হবার কোন সম্ভবনা নেই।। কিন্তু, ব্যাপারটা কেনও এমন হল টা আমি মিলাতে পারছি নাহ।।

এই ছিল আমার একটি ভয়াল রাত্রির অভিজ্ঞতা।। এটি কোন গল্প নয়।। যা আমার সাথে ঘটেছে, আমি তাই শেয়ার করলাম।। দয়া করে, কেউ বাজে কোন কমেন্ট করবেন নাহ।। ধন্যবাদ।। শেয়ার করেছেনঃ Candy Boy SûzÖñ

। জামিল, রূমানা, এবং একটি পরী ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 5, 2011 at 10:23pm
রূমানার খুব পছন্দের একটা জায়গা ছাদ ।। সুযোগ পেলেই সে আর জামিল (তার স্বামী) ছাদে উঠে।। নতুন বিবাহিত দম্পতি তারা ।। এখনই তো সময়, জীবনকে উপভোগ করার ।। ইদানিং জামিলের আচরন ভাবিয়ে তুলল রূমানাকে ।। এমন করে কেনো জামিল ?? কিছুই ভেবে পায় না সে।। পাশের প্রতিবেশী ভাবীর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে আলাপ করল ।। কিন্তু তাতে কোন ফল হলো না ।। এব্যাপারে কোন রকম সমাধান কেউ দিতে পারল না ।। জামিলের অদ্ভুত আচরন গুলো নিম্নরূপঃ একা একা কথা বলা ।। খুব গভীর রাতে ছাদে চলে যাওয়া, ঘুমের ঘোরে হাঁটা ও আবোল তাবোল বকা।। হাতের নানা অঙ্গভঙ্গি, যেমন কাউকে যেনো ইশারা করে ডাকছে ।। কাউকে জড়িয়ে ধরছে এমন।। রূমানার থেকে দূরে দূরে থাকা, ইত্যাদি ।।
আজ গ্রাম থেকে জামিলের বাবা মা এসেছে, জামিল অসুস্থ শুনে ।। জামিলের মা, ছেলের এমন আচরন দেখে বললেন, “এইডা নিশ্চয় ঔ পরীর কাম !! আইজো আমার পোলাডারে ছাড়লো না চুন্নীডা !! আমার পোলার জীবনডারে নষ্ট কইরা ফালাইবো ঔ পেত্নি !!” বলেই কাঁদতে শুরু করলেন ছেলের জন্য ।। শ্বাশুড়ির কথাগুলো শুনে আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল রুমানা, “আম্মা, এইসব কি বলছেন আপনি ?? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না ।। আমাকে খুলে বলুন সব।।”
জামিলের মায়ের ভাষায়, “ছোড বেলাত থেক্যাই এক বদ পরী আমার পোলার দিকে নজর দিসিল ।। জামিলরে নাকি ওর ভাল লাগে।। ওরে বিয়া করবার চাইছিল ।। আমরা রাজি হই নাই দেইখ্যা, জামিলরে উঠাইয়্যা নিয়া যাইব কয়ছিল ।। আমি আর তোমার শ্বশুড় মিইল্যা হুজুর ডাইক্যা জামিলের শরীর দোয়া (তাবিজ) দিয়া আটকাইয়া দিছিলাম ।। এরপর থেইক্যা পরীডা আর ওর কাছে আইতে পারতো না , তয় মানুষের রূপ ধইরা ওরে নিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল।।” রুমানার মনে পড়ে গেলো হঠাত্।। কিছুদিন আগে তার সামনেই জামিল তার গায়ের তাবিজটা খুলে ফেলেছে।। রুমানার নিষেধ শোনেনি সে।। তাহলে এখন উপায়?? কয়েকদিন পরের ঘটনা।। জামিল এখন পুরোপুরি সুস্থ ।। রুমানা তার শ্বাশুড়ির কথা শুনে, জামিলকে এক নামকরা হুজুর দেখিয়েছিল ।। সেই হুজুর পরীটাকে একেবারের জন্য একটি কাঁচের বোতলে বন্দী করে ,ফেলে দিল নদীতে।। এখন আবার তারা সুখি-সংসার যাপন করতে লাগলো ।। আজ সকালেই ডাক্তারের রিপোর্ট হাতে পেল জামিল ।। রিপোর্টগুলো রুমানার ।। খুশির খবর রুমানা মা হতে চলেছে!!
কয়েকমাস পার হওয়ার পর চেক আপের জন্য রুমানাকে নিয়ে একদিন ডাক্তারের কাছে গেলো জামিল।। আলট্রাসনোতে যা ধরা পড়ল ,তা অবিশ্বাস্য!! মায়ের নাড়ীর সাথে কোন যোগ সূত্র নেই বাচ্চাটার।। অবাক হয়ে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে আছেন ডাক্তার।। ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে হাসছে বাচ্চাটি।। ঘটনাটিকে কেউ বানোয়াট ভাববেন না।। এটা সত্যি একটা অলৌকিক ঘটনা।। যা আমি জেনেছি আমার খালার মুখে।। ঘটনাটি আমি লিখেছি আমার ভাষায়।। আমার খালারা যেখানে থাকেন, ঘটনাটি সেখানেই ঘটেছে।। এখনো জামিল এবং রুমানা আছে।। শুধু নেই তাদের, দুঃখিত, পরীর সেই বাচ্চাটা।।

শেয়ার করেছেনঃ মাহমুদা আকতার বন্যা (অপরাজিতা)

।। আবারো নববধূ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 5, 2011 at 10:05pm
আমার আব্বু একজন মুক্তিযোদ্ধা।। আমি আজ যে ঘটনাটি শেয়ার করবো তা যুদ্ধ পরবর্তী ঘটনা।। আমাদের পুরো পরিবার তখন গ্রামে থাকতো।। গ্রাম মানে, প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চল।। আমার তখন জন্ম হয়নি।। আমি পরে আব্বুর মুখ থেকে ঘটনাটি শুনেছিলাম।।
আব্বু তখন প্রায়ই কাজ শেষে বেশ রাত করে বাসায় ফিরত।। তো, এমনিভাবে একদিন রাত করে বাসায় ফিরছিলেন।। তিনি কিছুদুর আসার পর দেখেলেন যে লাল শাড়ি পরিহিত একটি মেয়ে।। আব্বু ক্ষণিকের জন্য ভাবলেন মেয়েটা হয়তো বিয়ের শাড়ি পড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।। রাত্রি তখন প্রায় ২টা বাজে।। আব্বু দেখে পুরাই থ।। এতো রাতে একটা মেয়ে তাও লাল শাড়ি পড়া।। ব্যাপারটা কোন মতেই মিলছিল নাহ।। মেয়েটা হেঁটে যাচ্ছিল।। আব্বুও মেয়েটার পিছন পিছন হাঁটতে লাগলেন আর মেয়েটাকে থামার জন্য বলতে লাগলেন।। কিন্তু এতে যেনও উল্টো মেয়েটার হাঁটার গতি বেড়ে গেলো।। আব্বু যতই কাছে যাচ্ছে, মেয়েটা ততই দূরে সরে যাচ্ছে।। এভাবে প্রায় ১৫ মিনিট চলার পর আব্বু জোড়ে চিৎকার দিয়ে মেয়েটিকে থামতে বলল।। তখন মেয়েটি থামল।।
এরপর মেয়েটি যখন আব্বুর দিকে ঘুরে তাকায় তখন দেখার সাথে সাথে আব্বু অজ্ঞান হয়ে যান।। পরবর্তীতে সকালে আব্বুকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।। পরে আব্বু বলেছিল, ঐরকম বীভৎস চেহারা উনি কখনো দেখেননি।।

শেয়ার করেছেনঃ Iftekhar Sajjad Rony

।। সিঁড়িঘরে ভূত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 5, 2011 at 10:40pm
এটা প্রায় বছর খানেক আগের ঘটনা।। ঘটনাটা শেয়ার করবো কি করবো না টা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান ছিলাম।। কারন ব্যাপারটা আমার নিজের সাথে না ঘটলে হয়তো আমিয় মানতে পারতাম নাহ।। এই ধরনের ঘটনা সবাই জানতে পছন্দ করলেও শুধু তারাই বিশ্বাস করে যারা ভুক্তভুগি।। যাই হোক, মূল ঘটনায় ফিরে আসি।। আমাদের এপার্টমেন্ট ৬ নম্বর ফ্লোরে মানে সপ্তম তলায়।। আমার বাবা, মা, ভাই, বোন, এরা ভেতরের দিকের রুমে থাকে।। আমার রুমটা একটু বাইরের দিকে।। আমার রুম থেকে কেউ বের হলে বা রুমে কেউ ঢুকলে বাকিরা টের পায় না বললেই চলে।। তো, একদিন রাতে আমি কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে ঘুম থেকে উঠি।। হাত ঘড়ি দেখলাম।। রাত ২.৩০ টার মত বাজে।। এতো রাতে কে এলো?? কিছুটা অবাক হলেও গেট খোলার জন্য রওনা হলাম।। দরজা খোলার পর দেখি কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে।। সে ছেলে না মেয়ে তা দেখে বোঝা যাচ্ছিল নাহ।। আমি দরজা খোলার সাথে সাথে সেই আকৃতিটা ঘুরে চলে যেতে লাগলো।। ঠিক জানি না কেনও বা কোন সাহসে, কিন্তু আমিয় সেই মূর্তিটার পিছু নিলাম।। খানিক যাওয়ার পর আমাকে কে যেনও পিছন থেকে ডাক দিল।। পেছনে ঘুরে কাউকে পেলাম নাহ।। দ্রুত সামনে ঘুরে দেখলাম।। সেখানেও কেউ নেই।। এই ঘটনার সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা হালুসিনাসন হবে হয়তো।। যদিও আমি মানি, সায়েন্স সব কিছু ব্যাখ্যা করতে পারে নাহ।। আর যারা অতিপ্রাকৃত ঘটনার মাঝে এতসব ব্যাখ্যা খুঁজে, আমি তাদের জন্য দুঃখিত।। আমি আমার বাক্তিগত ঘটনা বা এক্সপেরিএঞ্চ শেয়ার করেছি।। নিরস মনে হতে পারে, তবে ঘটনাটি মিথ্যে নয়।। শেয়ার করেছেনঃ Dil Sadman Hossain (Turan)

। অপ্রাকৃতিক ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 5, 2011 at 11:10pm
কখনো কিছু লিখি না।। তবে একটা সত্য ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছা করল।। আমার নিজের গল্প না।। তবে যার কাছ থেকে শোনা তিনি বানিয়ে গল্প বলতে পারেন না এটুকু বলতে পারি।। আমার খালা (লিপি) এবং তার বড় বোনের (জানু) গল্প।। শেয়ার করছি লিপি খালামনির বক্তব্য অনুযায়ী।। প্রায় ২০ বছর আগের তাদের গ্রামের বাড়ির গল্প।। সংক্ষেপে বলছি।। “আমি আর জানু একবার পাশের গ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছিলাম।। অনেক আগের কথা তখন ঘর বাড়ি তেমন ছিল না।। গাছ পালাও ছিল অনেক।। বলতে গেলে গ্রামগুলো প্রায় জঙ্গলের মধ্যে ছিল।। ফিরতে ফিরতে বেশ সন্ধ্যা হয়ে যায়।। আমার বয়স তখন ১২-১৩ হবে।। জানুর হবে ১৫-১৬ এর মত।। বাড়ির কাছাকাছি প্রায় চলেই এসেছিলাম।। হঠাৎ কি হল জানি না, জানু বিকট চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে গড়াতে থাকে।। চোখ উলটে যায় আর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে।। আমি প্রচণ্ড ভয়ে দিশেহারা হয়ে চিৎকার করতে থাকি।। একসময় আশে পাশ থেকে লোকজন এশে আমাদের উদ্ধার করে বাসায় এনে দিয়ে যায়।। পরের দিন জানুর জ্ঞান ফিরে।। কিছুটা অপ্রকিতস্থের মত কথা বলে।। ফলে কবিরাজ ডেকে আনা হয়।। কবিরাজ কৌশলে জানুর সাথে কথা বলে।। জানতে পারে জানুকে এক জীন বশ করেছে।। তারপর সে অনেক রকম চিকিৎসা করে।। বিস্তারিত না বলি।। কারন গল্পের মুল অংশ চিকিৎসা নয়।। যাই হোক।। আস্তে আস্তে জানু সুস্থ হয়ে উঠে।। সুস্থ হয়ে জানু জানায় সে সন্ধ্যার কথা।। হাঁটতে হাঁটতে নাকি হঠাৎ দেখে এক লম্বা কিছু একটা তার পথ আগলে দাড়িয়ে আছে।। যার চোখ রক্তের মত লাল আর গায়ে কেমন যেন আগুনের মত আলো।। এটা দেখে সে প্রচণ্ড ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।। কবিরাজ তখন একটা সমাধান দেন।। একটা তাবিজ জানু কে পড়িয়ে দেন।। আর বলেন আশা করি আর কোন সমস্যা হবে না।। শুধু মাত্র একটা শর্ত পালন করতে হবে।। জানু চাইলে তাবিজ খুলতে পারবে তাতে সমস্যা হবে না।। কিন্তু জানুর শোবার ঘর যেন কোন অবস্থাতেই খালি রাখা না হয়।। অন্তত একজন হলেও যেন কেউ ঘরে থাকে।। সেটা দিনে হোক বা রাতে।। সবাই যেন সাবধান থাকে।। এভাবে সমস্যার সত্যি সমাধান হয়।। বহুদিন পার হয়ে যায়।। জানুর আর কোন সমস্যা হয় না।। আস্তে আস্তে একসময় আমরা ভুলে যেতে থাকি ব্যাপারটা।। হঠাৎ একদিন জানু একি ভাবে আবার সন্ধ্যায় মাটিতে পড়ে যায় সবার সামনে।। চোখ উলটে মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে।। একসময় অজ্ঞান হয়ে যায়।। তাড়াতাড়ি তাকে ঘরে এনে মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা না।। কিভাবে হল?? চারিদিকে খোঁজ পড়ে যায়।। একসময় জানা যায় যে জানু একবার আজকে তাবিজ খুলে রেখেছিল।। আর বাসায় লোক কম থাকায় একটা মুহূর্তের জন্য ঐ শোবার ঘরে কেউ ছিল না।। আর তখনই মনে হয় জীনটা ফিরে এসেছিলো।। এবার সবাই তাবিজের খোঁজ করতে থাকে।। পরের দিন বাড়ি থেকে কিছু দূরে ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে তাবিজটাকে পাওয়া যায়।।

শেয়ার করেছেনঃ Zubaer Mahmud Rupam

। পরিচিতা অশরীরী ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 5, 2011 at 11:23pm
আজ থেকে ৪০ বছর আগে ঘটে যাওয়া কাহিনী বলছি।। তখন গ্রামে শিক্ষার আলো বা বিজলী বাতির আলো কোনটাই পৌঁছায়নি।। তাই বউ পিটিয়ে মেরে ফেলার বিষয়টাও অস্বাভাবিক ছিল না।। কোন একটা পরিবারে এই ঘটনাটাই ঘটল।। স্ত্রীকে হত্যা করার পর রাতেই তাকে কবর দিল স্বামী।। এর ১৭ দিন পরের কথা।। ওই লোকটার ছোটভাই যাত্রাপালা দেখে ফিরছিল।। অনেক দুরের পথ তাই স্বভাবতই মানুষ চাইবে সবচেয়ে ছোট পথে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে।। ভাবনার ভুল হল না।। বাড়িতে পৌঁছানর সবচেয়ে ছোট পথে একটা পুকুর পড়ে।। তো সে আপন মনে পুকুর পাড় ধরে আসছিল।। পুকুর পাড়ে নারিকেল গাছের নিচে একটা ছায়ামূর্তি দেখে সে থমকে যায়।। একটু কাছে যেতেই সে বুঝতে পারে ছায়ামূর্তিটা তার ভাবি।। সে আনমনে বলে উঠে, “কে?? ভাবি নাকি??” এই কথা বলার সাথে সাথেই ছায়ামূর্তি উঠে দাড়ায় এবং তার দিকে আসতে শুরু করে।। হটাত ওই লোকটার মনে পড়ে তার ভাবি তো ১৭ দিন আগে মারা গেছে।। সম্বিত ফিরে পাবার পর সে খুব ভয় পেয়ে যায়।। ততক্ষনে ওই জিনিসটা তার ১০ হাতের মধ্যে চলে আসে।। তখন লোকটা গ্রামের খুব প্রচলিত একটা নিয়মে নিজেকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে ফেলে।। হাতের বাজুতে বাধা তাবিজটাকেও ছিঁড়ে ফেলে।। ছায়ামূর্তি তখন আর কিছুটা এগিয়েছে।। হটাত লোকটাকে অবাক করে দিয়ে ওই জিনিসটা চোখ ঢেকে ফেলে আর অদ্ভুত ভয়াবহ কণ্ঠে বলে ওঠে, “যাহ!! তুই সর আমার সামনে থেকে।। নইলে তর রক্ত খামু!!” এই কথা শুনে লোকটা ছায়ামূর্তির পাশ কাটিয়ে চলে যায়।। যাওয়ার সময় পিছনে খুব অদ্ভুত অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায়।। তবুও সে দৌড়ায় না।। কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর সে তার কানের কাছে শুনতে পায় রক্ত হিম করা কণ্ঠে কেউ তাকে বলছে, “তুই তো বাইচ্ছা গেলি।। কিন্তু তর ভাই রে তো আমি লইয়া জামু।। কইলজা খুইজা পাবি না।।” এর কিছুদিন পরেই তার ভাই মারা যায়, এবং সুস্থ একটা মানুষের এভাবে মৃত্যু।। গ্রামের কেউ কিছু বুঝল না।। সত্যিটা শুধু জানল ছোট ভাইটা।।

শেয়ার করেছেনঃ Zipped Demon

।। সংগৃহীত গল্প – ০৩ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 5, 2011 at 11:35pm
।। অমীমাংসিত ।। ঘটনাটা ৩১জুলাইয়ের। জ্বর জ্বর লাগছে সেই গতকাল দুপুর থেকে। তার ওপর প্রচন্ড গরম- কারেন্ট নেই। বিছানায় শুয়ে কেবল এপাশ ওপাশ করছি। ঘেমে বিছানার চাদর ভিজিয়ে ফেলেছি। ফেনারগান খেয়েছিলাম সর্দি আর কাশির জন্য। সারা দুপুর-রাত মাতালের মত বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছে। বার কয়েক মেঝেতে শুয়ে গরমের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছি। মশার কামড় শুরু হতেই আবার বিছানায় মশারির ভেতর ঢুকে পরতে হয়েছে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ঘুম। ওষুধ খেয়ে ঘুমালে স্বপ্নে যা দেখি সব হয় আবোল তাবোল। কিন্তু গতকাল সেরকম দেখিনি। প্রত্যেক ঘুমের ছোট ছোট অংশে অনেকটা খন্ড নাটকের মত স্বপ্ন দেখেছি দুপুর থেকে একেবারে ভোর রাত পর্যন্ত। স্বপ্নটা আবোল তাবোল নয়। খুব স্পষ্ট এবং প্রত্যেকবারই মনে হয়েছে আমি ঐ সময়টায় সে জায়গাতেই ছিলাম। স্বপ্নের প্রথম অংশে আমি একটা মাদ্রাসার পুকুর পাড়ে বসে ছিলাম। যোহরের আযান দেয়নি তখনো। দেবে দেবে এমন সময়। পুকুরের সবুজ শ্যাওলা ভরা পানি দাপিয়ে মাদ্রাসার বাচ্চাগুলো গোসল করছে। আমি সিঁড়িতে বসে দেখছি তা। দৃশ্যটায় কোনো বৈচিত্র নেই। খুব স্বাভাবিক। ওদের পানির ছিটে এসে আমার গায়ে পড়ছে। শ্যাওলার জমাট পানি শার্টটা ভারি করে তুলছে ক্রমশ। এ অবস্থায় হঠাৎ খেয়াল করলাম এতগুলো বাচ্চাদের ভীড়ে পানির মাঝে আরো একজন। দেখতে অনেকটা বাচ্চা ন্যাড়া মেয়েদের মত। কিন্তু গায়ের চামড়া অস্বাভাবিক রকমের ফ্যাকাসে। চুপচাপ গলা পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। এবং আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। কেমন গা শিরশিরে অনুভূতি হল হঠাৎ। আমার প্রথম বারের মত ঘুম ভাঙ্গল। এবং আমি আবিষ্কার করলাম আমার গায়ের শার্টটা সবুজ শ্যাওলায় রীতিমত মেখে আছে।
শার্টের এ দশা হবার পেছনে কোনো যুক্তি সে সময়ে দাঁড় করাতে পারিনি। তারওপর কড়া ঘুমের ওষুধের প্রভাবে যুক্তি-তর্ক-বিশ্লেষণ- কোনোটাই খাটছিল না মাথার ভেতর। লাগছিল সবটাই খুব স্বাভাবিক। মাতালের মত বিছানা থেকে সে সময় উঠে পড়তে হয়েছে, হোটেল থেকে খাবার নিয়ে এসেছে ছেলেটা। সেটা রেখে দিতে হল। খাবার নেয়ার সময় আমার শার্টের এ অবস্থা দেখে কেমন ভাবে যেন তাকাতে লাগল ছেলেটা। কিছু জিজ্ঞেস করল না অবশ্য। বুড়ো মানুষের ভীমরতি ভাবল বোধ হয়। নামায পড়ার জন্য গোসল সেরে নেয়া উচিত। তাই আর বিছানা মুখো হলাম না। যদিও এখনো ঘুমে শরীর অবশ প্রায়।
আমার দ্বিতীয় দফা ঘুম থেকে স্বপ্ন গুলো এতই জীবন্ত হতে লাগল যে আমি একবারও বুঝতে পারিনি এগুলো স্বপ্ন, এবং কোনো ধরনের প্রশ্নও জাগেনি আমার ভেতরে সে সময়। আমি গোসল সেরে নামায পড়ে শুয়ে পড়ি। খেতে ইচ্ছা করছিল না তখন। খালি পেটেই ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়া। ঘুমে মাতালের মত লাগছে। শুয়ে চোখ বন্ধ করা মাত্রই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। প্রায় সাথে সাথে চোখ মেললাম। আমি মাদ্রাসার মসজিদের বারান্দায় শুয়ে আছি। ছোট ছোট বাচ্চারা পাঞ্জাবী পাজামা পরে নামায পড়ছে আমার সামনের দিকে। আমি ওদের পেছন দিকে। কেউ আমাকে খেয়াল করছে না মনে হল। তাকাচ্ছে না কেউ আমার দিকে দেখলাম। আমি আস্তে আস্তে উঠে বসলাম। চারপাশে তাকালাম। সরাসরি চোখ চলে গেল মসজিদের দান বাক্সের গায়ে লেখাটার ওপর। মসজিদের বারান্দার একটা থামের গায়ে ঝোলানো ওটা। “ হিঙ্গুলী জামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ মেহেদীনগর, বারইয়ার হাট, মিরসরাই, চট্টগ্রাম” আমি উঠে দাঁড়ালাম। টলছি মাতালের মত। আস্তে আস্তে হেটে এলাম দান বাক্সটার সামনে। ওখানে আরো একটা নতুন কাগজ টানানো দেখলাম। “অসুস্থ মাদ্রাসা ছাত্রের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন” একটা ছোট নোটিস দেয়া। বোধ হয় কোনো ছাত্র অসুস্থ। আমি মানিব্যাগ বের করে একটা দশ টাকার ছেঁড়া নোট বের করলাম। টাকা ঢোকানোর ছিদ্রটা জ্যাম হয়ে গেছে। ঢোকানো যাচ্ছে না। তালাটা খোলা। এমনি ছিটকিনিটার হুকে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। চুরি টুরির ভয় নেই মনে হয়। আমি তালাটা খুলে ছিটকিনি উঠিয়ে ঢাকনাটা খুললাম। সবে মাত্র টাকাটা ফেলেছি হঠাৎ দেখলাম উঠানে গায়ে চাঁদর মুড়ি দিয়ে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মাথার মেয়েটা এককোনায় বসে রয়েছে! এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে! ঝটকা দিয়ে জেগে উঠলাম। সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। কারেন্ট আসেনি এখনো। কিন্তু ভীষণ অবাক হলাম একটা জিনিস দেখে। আমার হাতে ছোট একটা তালা! মসজিদের দান বাক্সের সেই তালাটা......... আমার তৃতীয় দফার ঘুমটা হল শেষ বিকেলের দিকে। কারেন্ট এসেছে তখন। ক্যাপাসিটর নষ্ট ওয়ালা ফ্যানটা ঘটর ঘটর করে মাথার ওপর ঘুরছে। হাত দিয়ে ঘোরালে হয়ত আরো জোরেই ঘুরতো। চোখ বোজার সাহতে সাথে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। এবারেও নিজেকে আবিষ্কার করলাম সেই মাদ্রাসাটায় আবার চলে এসেছি আমি। এবার বেশ অবাক হয়ে দেখলাম মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাগুলো একটা লাশ নেয়া খাটিয়ার চারপাশে ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে। নিচু স্বরে ফোঁপাচ্ছে কেউ। আমি মাথা উঁচিয়ে দেখলাম। কোনো ছোট বাচ্চা মারা গেছে। কাফন দিয়ে পেঁচানো। কেবল মুখটা বার করা। চার পাঁচ বছর হবে বয়েস। জানাযা পড়ানো হবে এখন। মাদ্রাসার হুজুর-আলেমরা সহ সবাই এসে সারি করে দাঁড়িয়ে পরতে বললেন। ঈমাম সাহেব লাশটাকে সামনে রেখে জানাযা পড়ানো শুরু করলেন। আমি একরকম ঘোরের মধ্যেই নিয়ত বেঁধে জানাযায় দাঁড়িয়ে গেলাম। এখানে অনেক লোকজন এসেছে। গ্রামের লোকজন বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু যে মারা গেছে- তার কেউ বোধ হয় আসেনি। অন্তত আসলে সেটা হাব ভাবেই প্রকাশ পেত। একবার সন্দেহ হল- বাচ্চাটা অনাথ না তো?
লাশটা কবর দেয়ার জন্য মসজিদের পাশের গোরস্থানের দিকে যখন নিয়ে যাচ্ছে খেয়াল করলাম গ্রামের লোক গুলো খুব অবাক মুখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু কিছু বলছে না। আমি নিজেও কিছুটা দ্বিধা দন্দ্বে ভূগছি। সবার সাথে আমিও কবর দিতে এলাম। প্রকৃয়াটা খুব দ্রুত হল। মাটি দেয়ার সময় কয়েক মুঠো মাটি দেয়ার পর যেই আবার মাটি নিয়েছি হাতে- দেখলাম আমার ঠিক সামনে, কবরের অন্য পাশে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা! লোকজনের আড়াল থেকে স্থির চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে...... আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। এবং এ দফায় আবিষ্কার করলাম আমার ডান হাতে মুঠো ভরা কাঁচা মাটি!
আমার চতুর্থ ও শেষ স্বপ্নটা দেখি মধ্য রাতে। তখন জ্বর বেড়েছে ভীষণ। থেকে থেকে কাঁশছি। কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়েছি। জ্বরে সারা শরীর কাঁপছে। ঘুম আসতে সময় নিচ্ছিল তাই। কখন ঘুমিয়েছিলাম ঠিক মনে নেই। চোখ মেলে দেখলাম আমি মসজিদের পাশের গোরস্থানটার একটা গাছের নিচে হেলান দিয়ে বসে আছি। আমার ঠিক সামনেই নতুন বাঁশের বেড়া দেয়া সেই কবর। আকাশে অর্ধেক চাঁদ। সেই চাঁদের আলোয় অস্পষ্ট একটা শব্দ পাচ্ছি গোরস্থানের ভেতর। অনেকটা ছোট বাচ্চার ভয় পাওয়া কান্নার মতশব্দ। কিন্তু শব্দটা কেমন যেন চাপা। আমি ভয় পেলাম হঠাৎ ভীষণ রকমের একটা ভয়। হাত পা সব অসাড় হয়ে আসতে নিল- এমন একটা ভয়...... খুব হাচড়ে পাচড়ে এক রকম উঠে দাঁড়ালাম গাছটা ধরে। চাঁদের আলোয় কবরটার দিকে তাকালাম। যা দেখলাম তাতে উষ্ণ রক্তের একটা স্রোত বয়ে গেল মেরুদন্ডের ওপর দিয়ে। আমার স্পষ্ট মনে হল কবরটা নিঃশ্বাস নেয়ার সময় যে ভাবে বুক ওঠা নামা করে- সে ভাবে বেশ জোরেই ওঠা নামা করছে! তারপর লাগল কবরের মাটিগুলো থেকে থেকে লাফিয়ে উঠে নেমে যাচ্ছে! যেন নিচ থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে বের হতে চাচ্ছে! সেই সাথে ছোট বাচ্চার ভয় পাওয়া গুমোট-চাপা কন্ঠস্বর! আমি এত ভয় পেলাম যে দ্বিগ্বীদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে গোরস্থানের মাঝ দিয়ে মসজিদের দিকে দৌড়াতে লাগলাম। তার মাঝেই দেখলাম সেই ন্যাড়া মাথার মেয়েটা একটা কোঁদাল হাতে দাঁড়িয়ে আছে একটা গাছের নিচে। হাত তুলে সেই নতুন কবরটার দিকে যেতে বলছে ইসারায় আমাকে। হাতের কোঁদালটা দেখিয়ে বোঝাচ্ছে কবরটা খোঁড়ার জন্য আমাকে!
আমি প্রচন্ড ভয়ে তখন সংজ্ঞাহীন প্রায়। পেছন থেকে আসা কবরের ধুপ ধুপ শব্দটা তাড়া করছে যেন আমাকে.........
আমি জেগে উঠি ফযরের আযানের মুহূর্তে। আমার সারা গায়ে ধূলো বালি, মাটি আর নানান জায়গায় ছিলে গেছে কাঁটার ঘষা খেয়ে...... বিমূঢ়ের মত বসে রইলাম আমি......

আমি পেশায় সরকারী চাকুরীজীবি। টাইপিস্টের কাজ করি। নিজের চলে না বলে বিয়ে থা আর করিনি। পঞ্চাশের মত বয়স হয়েছে বলে এখন আর ওসব করার চিন্তাও মাথায় আনিনা। একা একা থাকি বলে নানান রোগে শোকে ভূগি। ছোট বেলা থেকে এক ফুফুর কাছে মানুষ হয়েছি। তাকে টুকটাক সাহায্য করি এখন। এছাড়া আমার জগৎ খুব সীমাবদ্ধ। সে রাতের স্বপ্ন গুলো নিয়ে খুব যে ব্যস্ত হয়ে পরব এমন মানুষও নই আমি। একা থাকি বলে হয়ত মনের ভূলে এসব দেখেছি। শার্ট, তালা, মাটি- এসবের ব্যাখ্যা মনের ভূল বলেই হয়ত চালিয়ে দিয়ে ভূলে যেতাম পুর ব্যাপারটা। কিন্তু নিছক স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিতে পারিনি আমি সেটাকে।
৩১ জুলাইয়ের বিচিত্র ঘটনা গুলো আমার পক্ষে ভূলে যাওয়া সম্ভব হল না পত্রিকায় একটা লেখা দেখে। ৩রা জুনের একটা পত্রিকায় “হিঙ্গুলী মাদ্রাসা গোরস্থানে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে জীবন্ত কবর দেয়া হয় ভূল বশত” শিরোনামে একটা আর্টিক্যাল চোখে পড়ে আমার। সব ওলোট পালট লাগতে শুরু করে তখন। কারণ সেখানে বলা হয়েছেঃ

৩১ জুলাই বিকালে জুবায়ের আলী নামের এক ছোট পাঁচ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র মারা যায়। স্থানীয় ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করার পর বাদ আসর তাকে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে কবর দেয়া হয়। পরদিন ভোরবেলা ফযরের নামায শেষে ঈমাম সাহেব কবর জিয়ারত করতে গিয়ে দেখেন কবরের মাটি সরে গেছে অনেক। যেন কেউ ধাক্কা দিয়ে সরাতে চেয়েছে। তাঁর সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন দিয়ে কবর খোঁড়ানো হয় এবং সবাই বাক রুদ্ধ হয়ে দেখে কবরের কোনায় সাদা কাফন পরে ছেলেটা বাঁকা হয়ে বসে আছে। তার বসে থাকার ভঙ্গিটা খুব অস্বাভাবিক। কবরের দেয়াল জুরে ছেলেটার আঙ্গুলের আচোঁড়ের চিহ্ন। শ্বাস নিতে না পেরে দেয়াল খাঁমচে বের হবার চেষ্টা করেছিল বোঝা যায়। চোখ গুলো কোটর থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রায়। পা দিয়ে কবরের মেঝে ঘষে লম্বা লম্বা খাঁজ করে মাটি উঠিয়ে ফেলেছে ভয়াবহ মৃত্যু যন্ত্রণায়! আমি এই ঘটনা জানার পর টাকাপয়সা জমিয়ে সেই গ্রামে গিয়েছিলাম বেশ কিছুদিন পর। সেখানে গিয়ে আমি আরো কিছু ধাঁধাঁর মাঝে পড়ে যাই। কিন্তু আজ সেটা আর লিখতে ইচ্ছা করছে না।

সংগ্রহ করেছেনঃ Rudro Aimel

।। কে সে?? ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, August 6, 2011 at 10:30pm
আমার শৈশব ও কৈশর কাটে খুলনার মংলা তে। একটা সরকারী ফ্লাটবাসার আমরা থাকতাম চার তলার ফ্লাটে ঐ ফ্লাটে ওঠার কিছুদিন পরে জানতে পারলাম যে আমাদের পাশের ফ্লাটের এক মেয়ে ঐ বিল্ডিং এর ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়।ছাদে অনেক উচু রেলিং দেয়া ছিল।তারপর ও।মেয়েটি ছাদ থেকে পড়ার অনেক্ক্ষন পর খুলনা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।মারা যাওয়ার আগে শুধু এইটুকুই সে বলতে পারে যে তার মনে হয়েছে কেউ তাকে ধাক্কা মেরে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।এরপর থেকে ছাদে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।আমি কয়েক দিন পালিয়ে ছাদে উঠেছি কিছু দেখতে পাই কিনা এই আশায় কিন্তু কিছুই দেখিনি।যাইহোক একদিন রাতে ঘুমিয়ে আছি।আমার খাট টা ছিল একদম জানালার পাশে।গরমকাল বলে জানালা খোলা রেখে ঘুমাতাম।আর বাসার সামনের রোডে স্ট্রীট ল্যাম্পের আলো জ্বলত। হঠাত্ প্রচন্ড গরম ও অসস্তিবোধ হওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়।জানালার দিকে চোখ পড়তেই দেখি নীল রঙের কামিজ পরা ১৩-১৪ বছের একটি মেয়ে খুর করুন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।অন্য সময় হয়ত ভয় পেতাম কিন্তু অধো ঘুম আধো জাগরনে আর করুন চোখ দেখে ঘুম জড়িত কন্ঠে ডাক দিলাম কি চাই? সাথে সাথে সে যেন হাওয়ায় মিশিয়ে গেল। এটা দেখে আমার হুশ আসলো এবং ভয় ও করতে লাগলো।আমি আমার মা কে ডাকলাম এবং তাকে সব বললাম।আম্মা দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দিল।ওই দিন ই আমার জ্বর আসে। অনেক দিন পর পাশের ফ্লাটে বেড়াতে গিয়ে চমকে উঠলাম।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল কারন ছবির মেয়েটিকেই আমি জানালায় দেখেছি,যে কিনা ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল। শেয়ার করেছেনঃ কে এইচ রাসেল

।। সংগৃহীত গল্প - ০৪ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, August 6, 2011 at 10:49pm
আমি ভূত বিশ্বাস করতামনা, এখন করি। জীবনের কয়েকটি ঘটনা আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে যে , "আমি যা অবিশ্বাস করি, করলেই তা মিথ্যা হয়ে যায়না। " যাই হোক আসল ঘটনায় আসি।
সময়টা হলো ২০০০সাল। আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। উল্লেখ করতেই হচ্ছে ১৯৯৮ সালের ২১শে ফেবঃ তারিখে আমাদের পরিবার একটি ভয়াবহ রোড একসিডেন্টে পড়ে। আমার একমাত্র বোনটি এবং আমার নানী, যিনি আমাকে সবথকে বেশি ভালোবাসতেন, এই দুর্ঘটনায় মারা যায়। মা খুব ভুগে ভুগে বেচে আছেন। কিন্তু তিনি স্মৃতি হারিয়ে একেবারে শিশু হয়ে যান। আমাকে গাইড করার কেউ ছিলোনা। লেখা-পড়ায় বরাবরের মতই ভালো করছিলাম, তাই বাবাও খুব বেশি ভাবেননি। আস্তে আস্তে কিছু বাম দলের সাথে জানাশোনা হয়ে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই সাম্যবাদের তাত্বিক লাইনটা বেশ ভালোভাবেই ধরে ফেলি, এবং পুরোপুরি নাস্তিক হয়ে যাই!! তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি।
এত কথা এজন্য বললাম যে এই ঘটনাটি ঘটেছিল যখন আমি পুরোপুরি নাস্তিক। এবং এর পরেও আরও ৮বছর নাস্তিকই ছিলাম।
এবার মুল কাহিনিতে আসি:
একসিডেন্টের পরে নানাকে আবার বিয়ে দেওয়া হয়। নতুন নানী খুবই ভালো মানুষ, তেমনই তার পরিবারের মানুষেরা। নতুন নানীর বাপের বাড়ি ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে। এই গ্রামের যে বড় বিলটি আছে তার মাঝখানে ছোট ছোট দ্বীপের মত আট-দশটা করে বাড়ি। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছোত ছোট নৌকা। প্রায় সব পরিবারেই একটা করে নৌকা আছে। ইলেকট্রিসিটি পৌছানোর প্রশ্নই ওঠেনা।
আমরা একবার খুব আয়োজন করে সেখানে বেড়াতে গেলাম। ফরিদপুরের মানুষের রান্নার হাত খুবই ভালো। দুপুরে আয়েশ করে একটা ঘুম দিয়ে বিকেলে উঠলাম। এরপর নৌকো নিয়ে বিলে শাপলা তুলে বেড়ালাম। সন্ধার পরে দেখি নানীর ছোট ভাই, জাহিদ ভাই নৌকা নিয়ে মাছ মারতে চলেছেন। আমিও যাব সিদ্ধান্ত হলো। আমরা তিনজন, আমি, জাহিদ ভাই ও তার বন্ধু মেহেদি ভাই। সরন্জাম নেয়া হলো জাল, কোঁচ, হারিকেন এবং পর্যাপ্ত পরিমানে গাঁজা ও সিগারেট। আমিও তখন সিগারেট খাওয়া শিখে গেছি। বুঝতে পারছিলাম আজ ভোম শংকরেও হাতে খরি হয়ে যাবে, খুব রোমান্ঞ্চ হচ্ছিলো।
রাত আটটা। ঐ গ্রামের জন্য মাঝ রাত। আমরা রওনা হলাম।
মেহেদি ভাই গাঁজা বানাতে বসে গেলেন, জাহিদ ভাই দাঁড় টেনে মাঝ বিলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
অর্ধেক চাঁদ আছে আকাশে, আমি নৌকোর মাঝখানে বাবু হয়ে বসে আকাশ দেখছি, আর সিগারেট টানছি। অপুর্ব লাগছে প্রকৃতি!! অর্ধেক চাঁদও শহরের পুর্ণিমাকে হার মানায়।
গাঁজা পর্বে আমাকে ডাকা হলোনা। কিছুটা মন খারাপ হলো। এরপর শুরু হলো মাছ ধরা। আমি বসে আছি চালক মেহেদি ভাইয়ের কাছাকাছি। জাহিদ ভাই জাল মারছেন । মাছ খারাপ উঠছেনা। একটু দুরে বেশি মাছ পাওয়ার আশায় আমরা এগিয়ে চললাম। যতই এগুই ততই মাছের পরিমান বেড়ে যায়। আস্তে আস্তে লোকালয় থেকে বেশ দুরে চলে এলাম। প্রচুর মাছ উঠছে। মাছ গুলো নৌকার খোড়লে জমা করা হচ্ছে।
আমি নিষ্কৃয় বসে আছি। হঠাত ঠান্ডা বাতাস উঠলো, গা হীম করা অনুভুতি। এর পরেই হঠাত নৌকার চারপাশ থেকে কেমন মুট-মুট শব্দ হতে শুরু করলো। জাহিদ ভাইদের কোন বিকার দেখলামনা। একমনে মাছ ধরছেন। কিন্তু শব্দটা ক্রমেই অসহ্য উঠছে। আমি একবার বলেই ফেললাম "ভাই, কেমন একটা কুট-মুট শব্দ পাচ্ছি।"
জাহিদ ভাই অভয় দিয়ে বললেন "নৌকার খোলে মাছ লাফানোর জন্য এমন শব্দ"
আমি ভাবলাম "তাই হবে"!!! তবে একটু ভয় ভয় হটে লাগলো। হারিকেনটা একটু উস্কে দিলাম।
জাহিদ ভাই বেশ কিছু মাছ তুলে মেহেদি ভাইকে বললেন " এবার তুই"।
বলে হারিকেন নিয়ে খোড়লের মাছ দেখতে গেলেন , এবং চিতকার করে লাফিয়ে সরে গেলেন। আমি লাফ দিয়ে উঠে সরতে সরতে বললাম "ভাই কি হয়েছে"।
তিনি কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন "পেত্নি, মাছ খাচ্ছে!!"
আমি একটু উকি দিয়ে তাকালাম খোড়লের ভেতর। যা দেখলাম তাতে গা শিউড়ে উঠলো। একটি মাছেরও শরির নেই, শুধু অসংখ্য মাথা পড়ে আছে, আর রক্ত মেশানো পানি!!
মেহেদি ভাই বললেন "এখান থেকে সরে যেতে হবে!"
প্রানপনে দাঁড় টানা শুরু হলো, এবার শব্দটা কুট-কুট থেকে অনেক বেড়ে গিয়ে মট-মটের মত লাগছে।
জাহিদ ভাই চিতকার করে বললেন "ওরা নৌকা ভাঙতে চাইছে...." বলেই আরও জোরে দাড় বাইতে থাকলেন, কিন্তু অদ্ভুত কারনে আমরা খুব একটা এগুতে পারছিনা। আমার মনে ঝড় বইছে! এটা কিভাবে সম্ভব??
প্রানান্তকর চেষ্টা চলছে বাড়িতে পৌছানোর, শব্দ বেড়েই চলেছে। আমি দুজনের গা ঘেষে বসে আছি। দোয়া দরুদে বিশ্বাস করতামনা বলেই পড়ছিলামনা। কিন্তু ভয়াবহ ভয় জড়িয়ে ফেলেছিলো আমাকে।
যাহোক শেষ মেশ জাহিদ ভাইদের বাড়ির দ্বীপমতো জায়গাটায় পৌছতে পারলাম। নৌকো পাড়ে ঠেকতেই ঝপঝপ করে লাফিয়ে নামলাম। নৌকাটা কোন রকম বেধে রেখেই দে দৌড়! এক দৌড়ে বাসা।
জাহিদ ভাইয়ের চিল্লাচিল্লিতে সবাই উঠে এল। কাহিনি শুনে সবাই হতবাক।
পরে শুনেছিলাম। বিল এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই এই বিপদে পড়েছেন। অনেকের নৌকা উল্টে দেয়া হয়েছে।
কে এমন করে মাছ খায়? ওরা কারা, যাদের বলা হয় মাছ খেকো পেত্নী?
কে উল্টে দেয় নৌকা? কে? কোথায় ওরা থাকে?
আপনাদের কি মনে হয়? সংগ্রহ করেছেনঃ অ্যাডমিন (SAJJAD)

।। করুন পরিনতি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, August 7, 2011 at 10:29pm
খুবই একরোখা আর বদমেজাজি ছিল আমাদের তানিয়া খালামনি।। তবে পরিচিত জনের কাছে শুধু এই নয়, অনেক বেশি উচ্ছলও ছিলেন তিনি।। কিন্তু হটাত করে যেনও উনার জীবনী শক্তি কমে যেতে লাগলো।। কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন।। কারো সাথে তেমন একটা কথা ও বলেন নাহ।। কিছুদিন পর হটাত উনার হাত পা ফুলে যেতে লাগলো।। তাই উনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন আমার মামা।। ডাক্তার অনেক কিছুই পরীক্ষা করতে দিলেন কিন্তু কিছুই ধরতে পারলেন নাহ।। ধীরে ধীরে উনার অবস্থা অনেক বেশি খারাপ হতে লাগলো।। অনেক ডাক্তার দেখানো হলে কিন্তু কেউই কিছু ধরতে পারলেন নাহ।। এদিকে তানিয়া খালামনি দিনকে দিন আর বেশি নিস্তেজ হয়ে পড়তে লাগলেন।। সারাদিন শুধু কান্নাকাটি করতেন।। তানিয়া খালামনি এর কিছুদিন পর মারা যান।। মারা যাওয়ার কয়েক মাস আগে উনার গায়ের চামড়া খসে খসে পড়া শুরু করে।। উনার পুরো শরীর এক বীভৎস রূপ নেয়।। বাড়ির সকলে এই ব্যাপারে অনেক বেশি চেষ্টা করেও কিছু জানতে পারেনি।। অবশেষে, ১২ই ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।।
তানিয়া খালামনি মারা যাওয়ার বেশ কিছুদিন পর, যখন মোটামুটি সবাই তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা ভুলতে বসেছে তখন তার মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হয়।। তানিয়া খালামনির ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল।। মৃত্যুর কারনটা জানা যায় সেই ডায়েরি পড়ে।। সেটায় স্পষ্ট ভাবে লেখা ছিল সব।। তানিয়া খালামনি লিখেছিলেনঃ “আজ আমি বিরক্ত হয়ে একটা বিড়ালের গায়ে গরম পানি ঢেলে দেই।। কিন্তু, আশ্চর্যের ব্যাপার হল, দুপুরে ঘুমানোর সময় আমি বিড়ালটাকে স্বপ্নে দেখতে পাই।। বিড়ালটা আমাকে ৪ টুকরো আপেল খেতে দেয়, কিন্তু, এক টুকরো খেয়েই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।।”
“আজ আবার বিড়ালটা আমার স্বপ্নে এসেছিলো।। আমি যেন শুনতে পাই যে ওটা স্পষ্ট ভাষায় বলছে, “আমাকে যেভাবে কষ্ট দিলি, তোকেও সেভাবে কষ্ট পেতে হবে।।”এরপর বিড়ালটি তার আকার পরিবর্তন করে খুব ভয়ঙ্কর একটা রূপ নেয়।।” ডায়েরিতে এতটুকু পর্যন্ত লেখা ছিল।। এরপর, একবারে একটা পৃষ্ঠাতেই “১৬ই ডিসেম্বর” লেখা ছিল।।
ডায়েরির উপরের ঘটনাটুকু পড়ার পর কারোই আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, ঐ বিড়ালটা কোন সাধারন বিড়াল ছিল না।। বরঞ্ছ অশরীরী টাইপের কিছু ছিল।। গরম পানি ঢেলে দেয়ায় বিড়ালটার গায়ের চামড়া যেমন খসে খসে পড়ে, তেমনি তানিয়া খালামনির গায়ের চামড়া ও খসে খসে পড়েছিল।। (সম্মানিত অ্যাডমিন এবং পাঠকবৃন্দ, উপরক্ত ঘটনাটি মিথ্যে অথবা বানোয়াট নয়।। এটা আমার নিজের খালামনির সাথে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা) শেয়ার করছেনঃ Samia Tasmin

।। কে, কে ওখানে?? ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, August 7, 2011 at 10:59pm
আমার জীবনে একাধিক ভৌতিক ঘটনা ঘটেছে।। এরমধ্যে দুটোর সাথে আপনারা পরিচিত হয়েছেন।। ১। ডর্মিটরিতে ভূত।। ২। অচেনা আরোহী।। এখন যেটা শেয়ার করব তা ১নং ঘটনার সাথে সর্ম্পকিত।। কোন রকমের নোটিশ ছাড়াই আমার স্ত্রী ঘোষনা দিল সে চাকুরী ছেড়ে দিয়েছে। সরকারি চাকুরি না হওয়া পর্যন্ত আর চাকুরি করবে না। এখন থেকে পতিসেবা করবে। কিছুদিনের মধ্যে যেন বাসা নেই। পরদিন ইউএনও এর সাথে দেখা করে আমার নামে কোর্য়াটারে একটা ফ্লাট বরাদ্দের অনুরোধ করি। কারন তিনি এর সভাপতি। যেহেতু ফ্লাট খালি ছিল তাই কয়েক দিনের মধ্যে ফ্লাট পেয়ে গেলাম। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ডর্মিটরী ছেড়ে কোর্য়াটারে উঠে গেলাম। পাশাপাশি দুটো দোতলা বিল্ডিং। প্রত্যেকটায় ৪টা করে ফ্লাট। ডর্মিটরী থেকে বিল্ডিং দুটো ৩০০গজের মতো পশ্চিমে অবস্থিত। আমার ফ্লাট টা ছিল নীচ তলায়। দুটো বেড রুম, অকটা ডাইনিং, একটা ড্রইং রুম এই নিয়ে আমার ফ্লাট। এর পিছন দিকটা জঙ্গলে পরিপূর্ন। তার পরেই একটা পরিত্যক্ত পুকুর। কিছুদিন পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে আসলাম। বিল্ডিংয়ের জানালা গুলো ছিল কাঁচের। আমরা ফ্লাটের সামনের দিকের বেডরুমে ঘুমাতাম। মাঝেমধ্যে পিছনের বেডরুমে রাত ১.00-১.৩০টা পর্যন্ত কাটাতাম। নতুন বাসায় আনন্দেই দিন কাটছিল। প্রায় ছয় মাস পর এক রাতে প্রথম বিপত্তি দেখাদিল। রাত ১টার দিকে সামনের বেডরুমে শুয়ে টিভি দেখছি হঠাত্‍ পিছনের বেড রুমে ঝনঝন করে কিছু পরার শব্দ হলো। আমি ডাইনিং রুমের বাল্ব অন করে বেড রুমের দড়জা খোলা মাত্র দড়জা দিয়ে ঢোকা আলোয় স্পষ্ট দেখলাম মানুষের ছায়ার মত কিছু একটা জানালার দিকে চলে গেল। বেডরুমের বাল্ব অন করে দেখি রুমে কিছু নেই। জানালার পর্দাটা কাঁপছে। পর্দাটা সরিয়ে দেখি জানালাটা বন্দ। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখি চাঁদরটা অগোছালো। চাঁদরটা ঠিকঠাক করে বাল্ব অফ করে সামনের বেড রুমে চলে আসি। স্ত্রীকে বলি ডাইনিংয়ে ইদুরে খাবারের ঢাকনা ফেলেছে। এর কিছু দিন পর রাত ১টার দিকে সেই পিছন দিকের বেডরুমে আমি শুয়ে আছি। আমার স্ত্রী কাপড় ভাঁজ করছে আর আমার সাথে টুকটাক কথা বলছে। জানালার পর্দা ফাকা করা ছিল। ও জানালার দিকে তাকিয়ে হঠাত্‍ 'কে?' বলে চিত্কাফর করে আমার গায়ের উপরে এসে পরে। ওর সারা শরীর থরথর করে কাপছিল। আংগুল দিয়ে জানালা দেখিয়ে বলে, ঐখানে কে যেন চাঁদর মুড়ি দিয়ে দাড়িয়ে রুমের মধ্যে তাকিয়ে আছে। আমি উঠে জানালার দিকে যেতে চাইলে ও বাধা দেয়। তারপরেও টর্চ নিয়ে জানালার কাছে গিয়ে আলো ফেলে দেখি কোথাও কিছু নেই। তবে জানালা ঘেসা সুপারী গাছের সাথে জড়ানো লতাগুলো অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। সেটা আমার স্ত্রীর চোঁখও এড়ায়নি। ওকে এই বলে বোঝাতে চেষ্টা করি যে, ওটা বাতাসে দুলছিল! কিন্তু কে শোনে কার কথা। এর পরে সামনের রুমে চলে আসি। পরদিন ঐ বেডরুমটা লক করে দেই। মাঝেমধ্যে ঐ রুমে অদ্ভুত সব শব্দ হতো। আর এদিকে আমার স্ত্রীর মধ্যে কেমন একটা চেন্জ লক্ষ করলাম। কথা বলা একে বারে কমিয়ে দিল। প্রায় রাতেই ঘুমের মধ্যে চিত্কাকর দিয়ে উঠত। এভাবে আরও কিছু দিন কাটার পর অবস্থা বেগতিক দেখে ওকে শ্বশুর বাড়ি রেখে আসি। এর পর একা একা এভাবে বেশ কিছু দিন কেটে যায়। একদিন অনেক রাত করে ঘুমাই। হঠাত্‍ একটা শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখি চারদিক পরিস্কার। বুয়া রুম ঝাড়ু দিচ্ছে। তাকে জিঞ্জেস করলাম সে রুমে ঢুকলো কিভাবে। সে জানালো সব কটা দড়জা থোলা ছিল। আমি অবাক হয়ে গেলাম। ঘরের সব কিছু চেক করে দেখি ঠিক আছে। কিন্তু দড়জা গুলো কে খুল্লো তা বুঝতে পারলাম না।
এর মধ্যে ১/১১ চলে আসলো। আমাকে বদলী করে দেয়া হলো। বাসা ছেড়ে চলে যাই নতুন কর্মস্থলে। আমার স্ত্রী এখনও মাঝেমঝে ঘুমের ঘোরে কেপে কেপে ওঠে! উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত এটাই আমার জীবনে ঘটে যাওয়া শেষ ভৌতিক ঘটনা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।

শেয়ার করেছেনঃ আউলা চুলে বাউলা আমি

।। বন্ধুত্ব ।। (অ্যাডমিনদের শেয়ার করা)

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, August 7, 2011 at 11:31pm
মাহের, জিতু, রকি, আর শান্ত।। চার বন্ধু।। প্রানের বন্ধু বলতে যাকে বোঝায়।। স্কুল লাইফ থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি অবদি সবাই একসাথে।। একজন আরেকজনের জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, পাওয়া–না পাওয়ার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।। যখন তারা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ত, তখন কত মজা করেই না দিনরাত এক করে আড্ডা দিতো।। টি, এস, সি, রমনা পার্ক, কার্জন হল, ধাপিয়ে বেড়াতো চারবন্ধু মিলে।। কিন্তু সুখপাখি কখনো চিরদিনের জন্য খাঁচায় বন্দি থাকতে চায় না।। ছাড়তে তাকে হবেই।। ভার্সিটি পাশের পর একেকজন চলে গেলো একেক দিকে।। কারো চাকরি হল টেলিকম কোম্পানিতে, তো কারো হল ব্যাংকে।। কেউ আবার চলে গেলো ঢাকা ছেড়ে সুধুর পঞ্চগড়ে।। এখন তাদের মাঝে আর দেখা সাক্ষাত হয় না তেমন একটা।। এইবার ঈদের ছুটিতে সব বন্ধু একত্র হবার প্ল্যান করলো তারা।। পরিকল্পনাকারী মূলত জিতু।। পাশ করার পর গ্রামীনফোনে চাকরি করছে।। খোলামেলা জীবনটা হটাত করে যেনও খুব বেশি যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে।। যেইসব বন্ধুদের ছাড়া আগে একটি দিন কাটানো মুশকিল হয়ে যেত, আজ তাদের সাথে ফোনে কালেভদ্রে কথা হয়।। আর দেখা প্রায় হয় না বললেই চলে।। পরিকল্পনার কথা খুলে বলল সবাইকে।। ঈদের তৃতীয়দিন টি, এস, সি তে চারবন্ধু দেখা করবে ঠিক হল।। যথাসময়ে জায়গামত পৌঁছে গেলো তিনজন।। শুধু মাহেরের দেখা নেই।। রকি জানালো, মাহেরের সাথে কথা হয়েছে তার।। মাহের নাকি অফিসিয়াল কি একটা কাজে ঈদের পরদিনই পঞ্চগড় ফিরে গেছে।। আজকে সকালে ঢাকায় এসে তাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা।। কিন্তু কথা রাখেনি সে।। হয়তো অফিসিয়াল কাজটা বেশি জরুরি ছিল, হয়তো শেষ মুহূর্তে আটকে গেছে।। পরস্পরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল তারা।। কিন্তু মাহেরের একেবারেই যোগাযোগ না করার ব্যাপারটা কেমন কেমন যেনও ঠেকল সবার কাছেই।। তবে কি শুধু সময়ের প্রয়োজনেই বন্ধুত্ব?? আজ সবার জীবন আলাদা পথে ধাবমান।। কে কার জন্য কোথায় বসে আছে তা দেখার সময় কই?? ভুলটা ভাঙল পরেরদিনের খবরের কাগজ পড়ে।। খবরের কাগজে ছোট করে একটা খবর দেয়াঃ বেপরোয়া গাড়ি চালানোঃ বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে পঞ্চগড়ে রুটে ৫জন নিহত।। ব্যাপারটা সর্বপ্রথম লক্ষ্য করে জিতু।। বাকিদের সাথে সাথে জানায়।। হতদন্ত হয়ে ছুটে মাহেরের বাসায়।। যেখানে ঈদের খুশিকে ছাপিয়ে আকাশে বাতাসে গুঞ্জন তুলে বেড়াচ্ছিল মাহেরের আত্মীয় স্বজনের আহাজারি।। যান্ত্রিক জীবনে বেঁচে থাকা এবং নিজেকে মানিয়ে নেয়ার তাড়নায় আবার নতুন করে জীবন শুরু করে তিনবন্ধু।। সেই জীবনে নেই তাদের একজন প্রিয় মানুষ।। যার জন্য তারা অপেক্ষা করে ছিল।। একবারের জন্যও শেষ দেখাটা হল না।।
প্রায় ৪-৫ মাস পরের ঘটনা।। শান্ত বিয়ে করেছে ২ বছর হল।। ভার্সিটিতে পরিচয়, সেই সুত্রেই বিয়ে।। বাবা–মা বিয়ে মেনে নেয়নি দেখে আলাদা বাসা নিয়ে থাকে জামাই বউ।। মঙ্গলবার রাত ১২টার পরের ঘটনা।। ঘুমুচ্ছিল শান্ত।। পাশেই তার বউ মাধবী শোওয়া।। হটাত শান্ত অনুভব করলো তার বিছানার পাশে বসে কে যেনও আলতো করে হাত রাখল তার গায়ে।। মাধবীর হাত মনে করে প্রথমে পাত্তা দিল না সে।। কিন্তু পরের কণ্ঠস্বরটা শুনে ঘুম ছুটে গেলো তার।। এই কণ্ঠস্বর যে তার চিরচেনা!! এ তো মাহেরের কণ্ঠ!! আস্তে আস্তে তাকে ডাকছে, “কিরে গাধা!! এখনও আগের মতই আছিস?? ঘুমুলে আর ঘুম ভাঙ্গানো যায় না রে তোর।। উঠ একটু।। তোর সাথে কথা ছিল।। আমি বেশি সময়ের জন্য আসতে পারেনি।। এখুনি আবার চলে যেতে হবে।।” ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলো শান্ত।। এইতো, সামনে তো মাহেরই বসা!! তার প্রানের বন্ধু, মাহের, ফিরে এসেছে!! শান্তর মাথায় এই বুদ্ধিটুকু তখন কাজ করছিলো না যে মাহের জীবিত নয়।। মৃত।। নিজ হাতে কবর দিয়ে এসেছে সে তাকে।। “উঠলি শেষ অবদি!!” হাল্কা করে হেসে বলল মাহের।।
উল্লসিত শান্ত মাহেরের একটা হাত নিজের হাতে নিলো, “দোস্ত, আছিস কেমন তুই??”
একটু হেসে বলল মাহের, “ভালোই রে!!”
“তারপর কেমন চলছে সব??”
“ভালোই!! শোন, তোর সাথে খুব জরুরি কথা ছিল দোস্ত।। আমার হাতে বেশি সময় নেই।। আমি যা বলব তা চুপচাপ শুনে যা।।”
“আচ্ছা” সুবোধ বালকের মতন উত্তর দিল শান্ত।। ঠিক যেনও একটা ছোট বাচ্চা তার অনেকদিনের প্রিয় খেলনাটা ফিরে পেয়েছে।।
“সেদিন আমি তোদের সাথে মিট করার জন্যই রাতের বাসে পঞ্চগড় থেকে রউনা দেই।। পথে আমাদের বাসটা এক্সিডেন্ট করে।। ঘটনাস্থলেই আমি মারাত্মক ভাবে আহত হই।। বারবার তোদের কথা মনে পড়ছিল।। মারাত্মক কষ্ট হচ্ছিল রে।। মনে হচ্ছিল কেউ যেনও আমার জ্যান্ত দেহটা থেকে চুরি দিয়ে কেটে কেটে হৃৎপিণ্ডটা খুলে নিচ্ছে।। শ্বাস নিতে পারছিলাম নাহ।। পৃথিবীটা যেনও লাটিমের মত ঘুরছিল।। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে নেয়া হয় আমাকে।। ডাক্তাররা চেষ্টা করার আগেই মারা যাই আমি।।” বিমুঢ়ের মত শুনছিল শান্ত।। প্রশ্ন করলো, “তারপর??” “দোস্ত, এতো কষ্ট কেন হচ্ছিল জানি না।। বার বার চোখে তোরা ভাসছিলি।। তোদের কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি দোস্ত।। পড়ে জেনেছি সেদিন আমার জন্য রাত ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলি তোরা।। জিতুটা তো আবার একটু পাগল।। ও নাকি রেগেছিল আমার উপর।। আড়ালে কেঁদেছে আমার উপর অভিমান করে!! আমাকে মাফ করে দিস তোরা।। যাবার বেলায় তোদের বিদায় নিয়ে যেতে পারলাম নাহ।। শেষবারের মত দেখতে পারলাম না চামড়ার চোখ দিয়ে।। আমি অনেক বেশি সরি রে।। মাফ করবি তোদের এই বন্ধুটাকে??” ঘোড়ের মধ্যে বলল শান্ত, “ছিঃ, এইসব কি বলছিস তুই??” এই পর্যায়ে শান্তকে জোড়ে ধাক্কা দেয় মাধবী।। “এই, কি ঘুমের মধ্যে বসে বসে বকবক করছ?? শুয়ে পড়ো!!” সাথে সাথে যেনও ঘুম থেকে জেগে উঠে শান্ত।। নিজেকে খাটের উপর বসে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করে।। সাড়া গাঁ ঘামে ভিজে একাকার।। আসনপিঁড়ি করে বসে আছে।। ঠিক যেই ভঙ্গিতে বসে কথা বলছিল মাহেরের সাথে।।
নিজের মোবাইলের ডিসপ্লে দেখে সে।। রাত ২.৫৫।। ঘটনার ৩দিন পর।। ঢাকার একটি স্বনামধন্য রেস্তোরায় বসে আছে জিতু, রকি, আর শান্ত।। কারো মুখে কথা নেই।। শান্তর বলার জন্য অপেক্ষা করছে।। মূলত শান্তর ফোন পেয়েই এখানে ছুটে এসেছে তারা।। অনেক ইতস্তত করে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে ঘটে যাওয়া পুরো ব্যাপারটা খুলে বলল শান্ত।। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল বাকি দুজন।। বলা শেষ হলে রকি প্রশ্ন করলো, “ঘড়িতে তখন কটা বেজেছিল মনে আছে তোর??” “হুম।। ২.৫৫।।” শান্তর উত্তর।। “মাহের আমার কাছে ঠিক ৩.০০ টার দিকে আসে এবং ঠিক একই রকমের কথাবার্তা হয় তার সাথে।। বারবার বলতে থাকে যেনও তাকে আমরা মাফ করে দেই।।” জিতু জানালো, তার সাথেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটে।। সময় তখন ৩ টা বেজে ১০ মিনিট।।

উপরোক্ত ঘটনাটি আমার ভাইয়ের মুখ থেকে শোনা।। উক্ত কাহিনীর জিতু আমার ভাইয়ের সহকর্মী।। গ্রামীনফোনে কর্মরত।। তিনি নিজে ঘটনাটি সবার সামনে খুলে বলেন।। এর সত্যতা প্রমানের জন্য শান্ত এবং রকির সাথে কথা বলা হয়।। তারাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।।

শেয়ার করেছেনঃ অ্যাডমিন (Irfan)

।। প্রাচীন রাজবাড়ি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Monday, August 8, 2011 at 10:30pm
হয়তো এটা আমার একটা বিভ্রান্তি।। তবুও আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করতে ভীষণ ইচ্ছে করছে।।
তখন আমি অনেক ছোট।। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি।। মুক্তাগাছা রাজবাড়ির পাশেই একটা বাসায় আমরা থাকতাম।। আমাদের বাসায় যিনি কাজ করতেন তার একটা ছোট মেয়ে ছিল।। সেই মেয়েটাই ছিল আমার প্রতিদিনের খেলার সঙ্গি।।
মূল ঘটনায় আসি।। একদিন স্কুল থেকে বাসায় আসার পর বরাবরের মতই আমি হাত মুখ ধুয়ে বাইরে বেরিয়েছি খেলা করতে।। সাথে আমার সঙ্গিনী।। বাসার সামনেই বড়সড় একটা মাথা যেখানে এলাকার আর অন্য সব বাচ্চারাও খেলা করতো।। মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিলেমিশে খেলতাম আমরা।। সেদিন হটাত ২২-২৩ বছর বয়সী একটা মেয়ে আমাকে ডাকল সেই রাজবাড়ির গেটের সামনে থেকে।। আমি এলাকায় পরিচিত ছিলাম আমার বাবার জন্য।। সেখানে সবাই আমার সাথে স্নেহের সহিত কথা বলত।। তাই, উনার ডাকে সাড়া দেয়াটা খুব বেশি অস্বাভাবিক ছিল না আমার জন্য।। উনার কাছে যেতেই, উনি একটু এগিয়ে এসে আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন।। নাম বলার পর জিজ্ঞেস করলেন কই থাকি, বাড়িতে কে কে আছে ইত্যাদি।। সব মোটামুটি উত্তর দেয়ার পর উনি বললেন, উনি এখানে নতুন এসেছেন আর রাজবাড়িটা একটু ঘুরে ফিরে দেখতে চান।। সম্পূর্ণ কথোপকথন আমার মনে নেই, তবে উনার ব্যাবহার আমার খুব ভালো লাগে তাই আমি রাজি হয়ে যাই উনাকে রাজবাড়িটা ঘুরে দেখানোর জন্য।। রাজবাড়িটা অনেক পুরনো।। বেশ কয়েকটি সতন্ত্র ভবন নিয়ে এখন টিকে আছে।। প্রধান ফটকটাই আকর্ষণীয় বেশি।। তার দুপাশে রাজবাড়ির কেয়ারটেকার উনার ফ্যামিলি সহ থাকতেন।। সেই ফ্যামিলির সবাই আমাকে খুব ভালো করে চিনতেন।। ঢুকবার মুখেই উনার স্ত্রী আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছি?? আমার আম্মি ভালো আছে কিনা ইত্যাদি।। আমি অল্প কোথায় উত্তর দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাই।। কেয়ারটেকারের স্ত্রী আমাদের বেশি ভেতরে যেতে মানা করেন।। এমন মানা পূর্বেও অনেকবার শুনেছি।। তাই গ্রাহ্য করলাম নাহ।। সেই মহিলাকে পুরো রাজবাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখাই।। পুরনো সিন্ধুক, কুয়া, মন্দির, ফাঁসিঘর (শোনা কথা, ঘটনার সত্যতা জানি না), নর্তকীর ঘর, বল রুম ইত্যাদি।। অনেক সুন্দর জায়গা ছিল ওগুলো।। কিন্তু, ঐ মেয়েটির উচ্ছ্বাস ছিল না তেমন।। কেমন যেনও নির্লিপ্ত একটা ভাব।। আমাদের সাথে চলছে কিন্তু আমাদের কথা শুনছে বলে মনে হচ্চিল নাহ।। অবশ্য, ঐসব নিয়ে মাথা ঘামানোর মতন বয়স তখন ছিল নাহ।। উল্টো নিজের বিদ্যা জাহির করার কাজে বাস্ত ছিলাম।। হটাত তিনি বলে উঠলেন, উপরের দিকে উঠবেন।।
ঐটা একদম সীমানার শেষ দিকের বিল্ডিং ছিল এবং ঐ বিল্ডিঙের ভেতরের দিকের অংশ ধসে গিয়ে বিল্ডিঙটা মারাত্মক নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিলো।। কিন্তু, একজন মেহমান যেতে চাচ্ছেন।। তাই আপত্তি করলাম নাহ।। বরঞ্চ আর উৎসাহের সহিত দেখাতে নিয়ে চললাম।। হটাত দেখি, কেয়ারটেকার চাচ্চু আমাদের নিচ থেকে ডাকছেন।। “আরেহ মা রা!! তোমরা এইখানে কেন?? নাম, জলদি নাম।।”
এই বলে তিনি নিজেই উপরে উঠে এলেন এবং আমাকে কোলে করে এবং আমার সঙ্গিকে হাত ধরে ধরে নামিয়ে নিয়ে আসলেন।। আমরা দুজনই খুব ভয় পাচ্ছিলাম।। তিনি যদি এই কথা আব্বুকে বলে দেন তাহলে কপালে পিটটি আছে।। ওহ, ঐ মেয়েটার দিকে তখন আর আমাদের দৃষ্টি ছিল নাহ।। নিজের ব্যাপার নিয়েই বেশি ভাবছিলাম।। গেটের সামনে এসে কেয়ারটেকার চাচ্চু উনার স্ত্রীকে ধমক দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, “ এরা ভেতরে গেলো কিভাবে?? গিয়ে একবারে ভাঙ্গা ছাদে উঠছে।। যদি সেখান থেকে পড়ে যেত তাহলে কি হতো??”
এইবার আমার দিকে ফিরে বললেন, “তুমি যদি পড়ে যেতে তাহুলে কি হতো?? বল?? আমি কিভাবে তোমার আব্বাকে বলতাম?? আর কখনো এতো ভেতরে যেয়ো না কেমন?? জায়গাটা ভালো না।।”
এরপর তিনি আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে গেলেন।। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে একছুটে মাঠে চলে গেলাম যেনও আম্মি কিছু বুঝতে না পারে।। ছোট ছিলাম, তাই ব্যাপারগুলো ভুলে গেলাম খুব দ্রুত।। কিন্তু এখন, এই বয়সে এসে কিছু ব্যাপার ভীষণ গোলমেলে লাগে।। কিছু ব্যাপার শেয়ার করতে চাচ্ছি।।
১।
মেয়েটাকে আমি আগে কখনো দেখিনি।। ২।
তার হাতে কিছু ছিল নাহ।। মানে, কোন ব্যাগ বা এই জাতীয় কিছু ছিল নাহ।। কিন্তু সে নিজেকে একজন ট্যুরিস্ট বলে পরিচয় দেয়।। ৩।
ঢোকার পথে কেয়ারটেকার চাচ্চুর স্ত্রী শুধু আমার আর আমার সঙ্গির সাথে কথা বলছিলেন।। ঐ মেয়েটিকে তিনি কিছু জিজ্ঞেস করেননি।। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই এই অবস্থায় একজন বড় মানুষকে পাশে দেখলে তার সাথে কথা বলাটাই যৌক্তিক।। ৪।
ভেতরে যাবার পর মেয়েটা আমাদের কথার খুব একটা জবাব দিচ্ছিল নাহ।। কিন্তু আফসোসের ব্যাপার যে, আমি তার মতিগতি খুব ভালো ভাবে লক্ষ্য করিনি।। ৫।
যখন কেয়ারটেকার চাচ্চু আমাদের বোকা দিচ্ছিলেন, তিনি ঐ মেয়েটার দিকে ভ্রুক্ষেপও করেননি।। কিন্তু এমন অবস্থায় অবশ্যই একটা পূর্ণবয়স্ক মানুষকেই প্রথমে বোকা দেয়া হয়।। তার মানে কি, চাচ্চু উনাকে দেখতে পাচ্ছিলেন নাহ?? ৬।
আমি উনাকে এরপর আর দেখিনি।। আমি জানিনা, সত্য ঘটনা বা এর পিছনে কি লুকিয়ে আছে।। তবে, আমার সেই সঙ্গীটি এই ঘটনার কিছুদিন পর ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং ১১দিনের মাথায় মারা যায়।। মারা যাওয়ার আগে সে কিছু একটা দেখতে পেত।। এবং সে বলেছিল, সে ভয় পেয়েছে।। মারাত্মক ভয়, সেই রাজবাড়িতেই।। শেয়ার করেছেনঃ Tabassum Snigdha

।। রক্তমাখা হাত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Monday, August 8, 2011 at 10:57pm
প্রচণ্ড শীত।। আমি আর আমার জামাই এবং আমার জামাইয়ের এক বন্ধু উনার মিসেস নিয়ে বেড়াতে এসেছেন ময়মনসিংহে।। আমাদের এক আত্মীয়ের বাসা ফাঁকা পরে আছে।। সেখানেই উঠলাম আমরা।। বাসাটা ছিল খুবই নিরিবিলি।। পাশে একটা পুকুর আর চারিদিকে অনেক গাছপালা।। বাসার পিছনে অনেক দূর পর্যন্ত ফাঁকা মাঠ।। আশেপাশে কোন বাড়িঘর নেই।। সেদিন রাতে আমার জামাইয়ের আরেক বন্ধু রাজীব আসলো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।। সে ময়মনসিংহেই থাকতো।। বিজনেস করে।। আমরা আড্ডা দিতে দিতে রাত প্রায় ১০ টা বেজে গেলো।। তখন রাজিব বলল, আমাদেরকে তার একটা প্রোজেক্টে নিয়ে যাবে।। বের হলাম।। মেইন রোড দিয়ে রাস্তা নেই।। তাই মাটির রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলছিলো।। চারপাশে শুধু ফসলের ক্ষেত আর পুকুর।। মানুষজনের অস্তিত্ব চোখে পড়লো নাহ।। যাই হোক, অবশেষে উনার প্রোজেক্টে পৌঁছলাম।। সেখানে একজন দারোয়ান আর একজন কাজের লোক নিয়ে তিনি থাকতেন।। উনার রুমে বসে আবার আড্ডা জমে উঠলো।। কথায় কথায় জীন ভুতের প্রসঙ্গ আসলো।। একজন একজন তাদের জানা সত্য ভুতের ঘটনাগুলো বলছিল।। পরিবেশটা এমন ছিল যে, সামান্য কথাতেই অনেক বেশি ভয় লাগছিল।। আর রাজিব কারো কথাই বিশ্বাস করছিলেন নাহ।। আমরা যেই গল্পই বলছিলাম উনি হেসে উড়িয়ে দিচ্ছিলেন।। এভাবে তর্কে বিতর্কে রাত কখন ২ টো বেজে গেছে আমরা কেউ খেয়াল করিনি।। বাসায় ফেরার কথা মাথায় আসলো।। রাজিব আমাদেরকে পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়ি বের করলো।। রাজিব গাড়ি চালাচ্ছে।। প্রচণ্ড কুয়াশায় ২হাত দুরের জিনিসও ভালো করে দেখা যাচ্ছিল নাহ।। হটাত ঝাঁকুনি দিয়ে গাড়ি থেমে গেলো।। স্পষ্ট দেখতে পেলাম, রাজিবের পাশের গ্লাসে একটা রক্তমাখা হাত আঁচড়িয়ে আঁচড়িয়ে গ্লাসটা খোলার চেষ্টা করছে।। অসম্ভব ভয়ে আমার হৃদপিণ্ড যেনও থেমে গেছে।। চিৎকার দিতে ভুলে গেছি।। সেই রক্তমাখা হাতটার নখের আঁচড়ে যেনও গ্লাসটা ফেটে যাবে।। রাজিব একনাগাড়ে গাড়ি স্টার্ট করার চেষ্টা করছিলো।। হটাত গাড়ি স্টার্ট নেয় এবং রাজিব একটানে গাড়িটি বের করে ঝড়ের বেগে ছোটাতে লাগলো।। কোনোরকমে সে রাতে বাসায় পৌঁছেছিলাম।। রাজিবকে সেই রাতে আর বাসায় ফিরতে দেইনি আমরা।। পরদিন সকালে ঢাকার উদ্দেশে রউনা হয়ে যাই সবাই।। শেয়ার করেছেনঃ Onni

।। অদ্ভুতুরে (নতুন)।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 9, 2011 at 10:27pm
আজ থেকে প্রায় বছরখানেক আগের কথা । আমি একটা কাজে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাই । কাজ শেষ করে আসতে আসতে রাত ১ টা বেজে যায় । বাস থেকে নেমে অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটা রিকশাও পেলাম না । শেষে একা একাই হাঁটা শুরু করলাম । কিছুদুর আসার পর দেখলাম আমার বন্ধু রানা রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার সাইকেল ঠিক করছে । এত রাতে ও এইখানে কেন জিজ্ঞেস করার পর ও বলল যে তার খালাত বোনের বিয়ে আজ, তাই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ করতে করতে রাত হয়ে গেছে । কিন্তু পথে হঠাত্‍ করে সাইকেলটা নষ্ট হয়ে যায় । প্রায় আধাঘন্টা চেষ্টা করার পরও তার সাইকেলটা ঠিক করতে পারলোনা । পরে দুজন মিলে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি চলে আসি ।তার পরদিন ছিল শুক্রবার । জুমার নামাজে রানাকে মসজিদে দেখে তার সাইকেল ঠিক হলো কিনা জিজ্ঞেস করলাম । আমার কথা শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়লো । সে বললো,"আমারতো সাইকেলই নেই ঠিক করবো কি"!! তখন আমার মনে হলো ঠিকইতো , রানার তো কোন সাইকেল নেই । তাকে গত রাতের সব ঘটনা খুলে বললাম । সব শুনে সে আমাকে পাগল বলে অটাক্ষ করলো । কিন্তু আমিতো জানি আমি গতকাল রাতে যা দেখেছি বা গতকাল রাতে যা ঘটেছে তা কোনভাবেই মিথ্যা হতে পারেনা । গতকাল রাতে আমি কার সাথে হেঁটে হেঁটে বাসা পর্যন্ত এলাম এবং রানার যে কোন সাইকেল ছিলনা এটা আমার মাথায় তখন কেন আসেনি তার রহস্য আমি আজও বের করতে পারলামনা ।তার পর থেকে আমি রাতে আর একা একা বের হইনা । শেয়ার করেছেনঃ মোঃ সাইফ উদ্দিন শাহীন ফেইসবুক আইডিঃ www.facebook.com/goodboyshaheen

। ভূতুড়ে চুরি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 9, 2011 at 11:06pm
কোনো এক নীরব গ্রামের মেঠো পথ ধরে এক রিকশা চালক রিকশা চালিয়ে যাচ্ছে বাড়ির দিকে। সূর্য পশ্চিমে লাল হয়ে গেছে একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে, আগে ভাগেই বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নেয়ার কথা ভাবতে ভাবতে চালিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ দেখে সামনে দুজন লোক দাড়িয়ে তাকে থামাবার জন্য হাত দেখাচ্ছে।
চালক ভাবলো দিনের শেষের খ্যাপটা মেরেই একবারে বাড়ি চলে যাই। তাদের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো ‘কোথায় যাবেন বাহে’ জিজ্ঞেস করেই দেখলো তাদের সাথে পাটিতে বাধাঁ একটা লাশ। তারা বলল গোরস্তানে যাব, দাফন করতে হবে। সবাই ওখানেই আছে শুধু লাশটা নিয়ে যেতে হবে। রিকশা চালক বলল ‘গোরস্তান তো ১০ থিকা ১২ মাইল ফাড়াক, তাও আবার লাশ, পারবোনা বাহে’। তারা বলল, তোমাকে ৫০০ টাকা দেবো। চালক ভাবলো সারাদিন রিকশা চালিয়ে পেলাম ১৫০ টাকা আর এক খ্যাপে ৫০০ টাকা! ‘ঠিক আছে লাশ উঠান’। তারা বলল, লাশ কি আর পায়ের তলে নিয়ে যাব, তুমি বরং লাশ নিয়ে যাও আমরা অন্য রিকশা নিয়ে পেছন পেছন আসছি। ‘ঠিক আছে একটু সুন্দর করে ধরে উঠাই দ্যান’।
লাশ নিয়ে রিকশা চালক ছুটলো গোরস্তানের দিকে। মাইল দু’এক দূরে গিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে তাদের কোন খবর নেই। সে ভাবলো মনে হয় রিকশা পায়নি তাই দেরি হচ্ছে, সে আবার রিকশা চালাতে লাগল। মাটির পথের দু’ধারে কড়ই, মেহেগুনী আর কৃষ্ণচূড়া গাছের সারি, এরই মধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, ঘুট ঘুট অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সে ভাবলো হারিকেনটা জ্বালিয়ে নেই। হারিকেন জ্বালিয়ে কিছু দূর যেতেই ধপাস করে একটা ছোট গর্তে ধাক্কা খেল, ওমনিতেই কে যেন বলে উঠল ‘অই আসতে চালা’।
রিকশা চালক ডানে বামে তাকিয়ে দেখে কেউ নাই শুধু অন্ধকার আর ঝিঁঝিঁ পোকার চিং চিং করে করে শব্দ করছে যেন কানের পর্দা ফেটে যাবে। সে ভাবল ‘দূর মনে অয় বুল শুনচ্ছি, লাশ কি আর কথা কয়’। এই বলে সে আবার চালাতে লাগলো। কিছু দূর যেতেই আবার এক গর্তে ঝাকি লাগলো, ওমনিতেই আবার কে যেন বলে উঠলো ‘অই কইছি না আসতে চালা ব্যাথা পাই’। এবার তো ভয়ই পেয়ে গেল সে এবং ভয়ে জোড়ে জোড়ে চালাতে লাগলো। আবার কিছু দুর যেতেই এক গর্তে ধপাস, লাশ পরে গেল মাটিতে ওমনিতেই ‘মাগো বাবাগো ঘারটা ভাইঙ্গা ফালাইসে, ব্যাটা তরেনা কইছি আসতে চালাইতে, খাড়া আইছকা তরে খাইছি, তর ঘার মটকাইয়া খামু’। রিকশা চালক দেখে লাশ নেড়ে চড়ে আবার গালা গালিও করে। ‘খাইছে লাশ দেহি আন্ধার পাইয়া জ্যাতা অইয়া গ্যাছে, ওরে বাবারে, আল্লারে বাচাঁও.... ভূত....ভূত......!’ এই বলে রিকশা চালক এলোপাথারি ধান খেতের উপর দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর ঐ দুইটা লোক অন্য একটা রিকশা করে এসে মুঠো বাধাঁ লাশটা খুলে রিকশা নিয়ে পলিয়ে গেল। দেখা গেল এতো লাশও না ভূতও না এ যে জীবিত মানুষ। এতো অভিনব পন্থায় রিকশা চুরির কৌশল। শেয়ার করেছেনঃ Ethan Martin

।। সংগৃহীত গল্প – ০৫ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 9, 2011 at 11:39pm
মৌলবি আবদুস সোবহান মৌলবি আবদুস সোবহান সাহেবের সাথে আমার পরিচয় অনেক আগে থেকেই। ১৯৯১ সালে গয়েশপুর হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার মাধ্যমে পরিচয়ের ঘনিষ্ঠতা আরো বৃদ্ধি পায়।উনি বয়সে অনেক বড় ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে হাইস্কুলের শিক্ষক এবং গয়েশপুর জামে মসজিদের ইমাম।কন্তিু নির্বিরোধী এই ভালো মানুষটার প্রতি করা হয়েছিল খুব বড় অন্যায়। হাস্যকর এক অপরাধের ধুয়ো তুলে গ্রামের মানুষ কেড়ে নেয় তার ইমামত্ব।
চাকুরির মেয়াদ শেষ হলে তিনি চলে গেলেন পুরোপুরি অবসরে। কিন্তু তার সাথে যোগাযোগ ছিল।ধর্মীয় বিষয় ছাড়াও নানাবিধ আলোচনা করতাম আমরা।এই আলোচনার মাধ্যমেই একদিন জানতে পারলাম তিনি পানি পড়া, তাবিজ দেওয়ার পাশাপাশি ঝাড়ফুকও করেন।নতুন তথ্য হলো, আগে এইসব কম করতেন কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে এখন একটু বেশী করেন।
যাইহোক, মূল গল্পে আসি। কর্মব্যস্ততার কারণে একসময় যোগাযোগ কমে আসে। মাসখানেক পর উনার খোজ নিয়ে জানতে পারি উনি খুবই অসুস্থ।পরদিনেই দেখতে যাই।দেখি উনার দেহ কাঠামো শুকিয়ে যেন অর্ধেক হয়ে গেছে।আমি এসেছি জানতে পেরে পাশ ফিরে আমার দিকে শুলেন।তার অবস্থার কারণ জানতে চাইলে বলেন “না বাবা, এই অসুখ আমার আর সারবে না, এটা অসুখ না’!
'না না অত ভাববেন না, ভালো চিকিৎসা করালে আপনার অসুখ সেরে যাবে’।
কিন্তু তিনি মাথা এপাশ ওপাশ করতে লাগলেন। সেদিন চলে এলাম। এরপর কেটে গেল আরো একটা মাস। এক ভোর বেলায় হন্তদন্ত হয়ে বাসায় এল মৌলবী সাহেবের মেজ ছেলে। বলল “ভাই, একনি হামার সাথে চলেন, আব্বা আপনার সাথে দেকা করার জন্য ছটপট করোচে’।
গেলাম তার সঙ্গে।ঘরে ঢুকে দেখি অবস্থা আসলেই খুব খারাপ।আমাকে দেখে সর্বশক্তি দিয়ে যেন নিজের কষ্ট সামলে রাখলেন।আমাকে ছাড়া ঘরের সকলকে বাইরে চলে যেতে বল্লেন।বাইরে যাওয়া মাত্র আমার হাতদুটো জাপটে ধরে ফিসফিসিয়ে বললেন ‘বাবা, মনে আছে, তোমাকে বলেছিলাম এটা কোনো অসুখ না?’
‘হ্যা মনে আছে’।
মিনিটখানেক অপলক আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর সত্যিই শোনালেন এক ভয়ানক গল্প। তার জবানিতেই তুলে ধরছি:
‘মাসচারেক আগে ঘোলাপাড়া থেকে দুজন লোক এসেছিল, বলল তদের পরিবারের এক মেয়েকে জিনে ধরেছে। তারা এসেছিল সকালে। বললাম ‘আজ আমার জরুরী কয়েকটা কাজ আছে। এখনতো যেতে পারবো না মাগরিবের পর যাবো’। বাড়ির ঠিকানা বলে লোক দুটো চলে গেল।
মাগরিবের পর হেটেই রওনা দিলাম। সেদিন ছিল পূর্ণিমার রাত। চারিদিকে জোছনায় ঝলমল করছে। গয়েশপুর স্কুল ছাড়িয়ে উঠলাম ছোট যমুনার উপরের সেতুতে।সেতুর পর ডান হাতে বড় একটা বাঁশঝাড়। খুবই খারাপ জায়গাটা। অনেক কিছু দেখেছি ওখানে। ঝাড়টার পাশাপাশি যেতেই মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো সুদর্শন এক যুবক। সাধারণ কেই দেখলে তাকে আর দশজন মানুষের মতই মনে করতো।কিন্তু দু’চোখের গনগনে দৃষ্টি মুহূর্তে আমাকে বলে দিল, ওটা কি! অনেক বছর ধরে ওরকম দৃষ্টির সঙ্গে আমি পরিচিত। কিছু না বলে পাশ কাটাতে গেলাম।
‘মৌলবি সাহেব, আছর ছাড়াতে যাচ্ছেন?’ হাসল ওটা।
চুপচাপ এগিয়ে গেলাম ওটাকে পেছনে ফেলে।
‘যাবেন না মৌলবি সাহেব’ বলল ওটা।
‘কেন?’ বললাম আমি।
‘গেলে আপনার ক্ষতি হবে, কারণ আমি ধরেছি মেয়েটিকে’।
এবার রেগে গেলাম। ‘কী ক্ষতি করবিরে তুই? তোর মত ওই রকম অনেক জিনিস দেখা আছে আমার, হুমকিও শুনেছি, কেউ ক্ষতি করতে পারেনি আমার’।
‘কিন্তু আমি পারবো’ ভেসে এল ঠান্ডা স্বর।
‘যা ভাগ, ব্যাটা!’ রাগে গা জ্বলে গেল আমার।
‘খুব ভুল করলেন মৌলবি সাহেব’।
আর কথা না বলে পা চালালাম দ্রুত। পেছনেও আর সাড়া শব্দ নেই।
ঘোলাপাড়া গিয়ে ভর-হওয়া মেয়েটির সামনে দাড়ানো মাত্র দাঁত খিচিয়ে বলল, ‘কী রে হারামজাদা, এত মানা করনো তা-ও শুনলু না?’ এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করলো।
ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে মেয়েটির আছড় ছাড়ালাম।
শেষমেষ ‘তাড়ালু, হামাক তাড়ালু? কুত্তার বাচ্চা, বুঝবু, একন বুঝবু!’ এই বলে বিকট এক চিৎকার করে মেয়েটি জ্ঞান হারালো।
কিছু পরে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। মেয়েটির বাবা সাথে লোক দিতে চেয়েছিল কিন্তু মানা করে দিলাম। ফিরতি পথে বাঁশঝাড়টার কাছাকাছি আসতেই দেখলাম, আবার ওটা এসে দাড়িয়েছে।এবার আর সুন্দর চেহারায় নয়, আসল রূপে! চোখ দু’টো যেন জলন্ত কয়লার টুকরো, শরীরের ওপরের অংশসহ বাম পায়ের হাঁটু পর্যন্ত ভালুকের মতো বড় বড় লোম, ডান পায়ে দগদগে ঘা, দুই হাঁটুর উপর বাড়তি দুটো চোখ, আর মনে হল রক্তের মত লাল টকটকে বিরাট এক জিভ, নেমে এসেছে বুক পর্যন্ত!
‘কী রে শুয়োরের বাচ্চা, মেয়েটির আছড় ছাড়িয়ে দিয়ে এলি? আমাকে থাকতে দিলিনা’! ভয়ংকর গলায় বলতে লাগলো। ‘হারামজাদা এত নিষেধ করলাম তাও শুনলি না কেন?’ প্রত্যেকটা কথার সাথে সাথে ছিটকে ছিটকে পড়ছে আগুনের কণা।
‘আমার কাজ আমি করেছি’ বললাম যথাসম্ভব স্বাভাবিক স্বরে।
‘কাজ করেছিস তাইনা! বল শক্তি দেখালি! এত বড় সাহস তোর! এবার দেখ আমার শক্তি!’
দপ করে জ্বলে উঠলো একটা আগুনের গোলা, কিছু বুঝে উঠার আগেই সোজা ছুটে এসে ঢুকে গেল আমার ভেতর। পড়তে পড়তে সামলে নিলাম, সারা শরীরে যেন আগুন ধরে গেছে! কোনোমতে বাড়িতে এসে সেই যে শুয়ে পড়লাম আর উঠতে পারলাম না।
‘জানতাম আর উঠতে পারবো না তাই তোমাকে বলেছিলাম এটা অসুখ না। গত কয়েক মাস ধরে ওটা কেবল আমার ভেতরে বসে খলখল করে হেসেছে আর চুষে চুষে খেয়েছে আমাকে!’
চুপ করলেন মৌলবি সাহেব, চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো।
খানিকক্ষণ পর বললাম ‘আর কিছু বলতে চান?’
এপাশ ওপাশ মাথা নাড়লেন, বলতে চান না।
কিছুক্ষণ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম। বাড়ি ফিরে আসার মিনিট বিশেক পরেই খবর পাই মৌলবি সাহেব মারা গেছেন। দ্রষ্টব্যঃ খসরু চৌধুরী লিখিত “আমার যত ভৌতিক অভিজ্ঞতা” গ্রন্থ থেকে নেয়া। সংগ্রহ করেছেনঃ Shafayet Jamil

।। সংগৃহীত গল্প – ০৬ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 10, 2011 at 10:20pm
আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটি কাঁচা সড়ক সরাসরি যুক্ত ছিল ফরিদপুর থানার সাথে। সড়কটা ছিল ৩টি গ্রামের কৃষকদের কৃষি জমির মাঝ বরাবর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কোন এক সময় পাকিস্তানী সৈনিকদের একটি ছোট বাহিনী সেই রাস্তা দিয়ে গ্রামে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু আমাদের গ্রামের সাথে রাস্তাটির সংযোগ সড়কের একটা অংশ কাটা থাকায় তারা গ্রামে প্রবেশ করতে ব্যার্থ হয়। তারা সড়ক বরাবর থানার দিকে এগিয়ে যায় এবং স্বল্প সময়েও তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যায়। মৃতের সঠিক সংখ্যা কেউ বলতে পারে না। কারন পাকিস্তানী সৈন্যরা হত্যা শেষে লাশগুলো রাস্তার পাশে একটা গভীর কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে যায়। কুয়োটা ছিল একটা হিজল গাছের পাশে। সেই হিজল গাছের আশেপাশের ২/৩ মাইল শুধুই কৃষি জমি। কোন বাড়ি ঘর নেই। সেই কুয়োর কোন নিশানা আজ পাওয়া না গেলেও হিজল গাছটা ঠিকই সাক্ষী হয়ে আছে সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের। এই হিজল গাছ আর কুয়ো নিয়ে অনেক গল্প চালু রয়েছে গ্রামে। রাতের বেলা অনেকেই নাকি এই গাছের পাশ দিয়ে যাবার সময় ”পানি, পানি” বলে আর্তনাদ করতে শুনেছে। আজও নাকি হিজল গাছের পাশদিয়ে আসার সময় মানুষ পথ হাড়িয়ে ফেলে। হিজল গাছ থেকে গ্রামের দুরত্ব আধা মাইলের মত। ফরিদপুর থেকে রাতের বেলা বাড়ি ফেরার সময় আশরীর কণ্ঠ শুনেছে এমন অনেক মানুষের দেখা পাওয়া যায় গ্রামে। এমনকি রাতের বেলা গ্রামে ফিরতে গিয়ে আধা মাইল পথ সারা রাতেও পার হতে পারে নি, এমন মানুষও কম নেই গ্রামে।
বেতুয়ান গ্রামের পাশের গ্রাম রামনগর। রামনগর গ্রামের আক্কাস নামের এক লোক তার ছাগল হারিয়ে ফেলেছে। সারা দুপুর ছাগল খোঁজা খুঁজির পর বিকেলে সে জানতে পারল তার ছাগল বেতুয়ানের সীমান্তে ঢুকে একজন কৃষকের সবজির ক্ষেত নষ্ট করছিল, তাই বেতুয়ানের চকপহরি (গ্রামে জমি পাহারা দেওয়ার জন্য নিয়জিত প্রতিরক্ষা বাহিনী) তার ছাগল ধরে নিয় গেছে।ঘটনা শুনে রাগে ক্ষোভে কোন কিছু না ভেবেই বেচারা রওনা দিল বেতুয়ানের দিকে। তখন মাগরিবের আযান হয়ে গেছে।
রাগের মাথায় রওনা দিলেও একসময় আক্কাস মিয়ার হটাৎ করেই মনে পরে গেল হিজল গাছের কথা। আরে সামনেই তো হিজল গাছ! ঐ-তো দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে তার সমস্ত শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। আক্কাস মিয়া আর সামনের দিকে অগ্রসর হল না। কারণ ছাগলের চাইতে জীবন অনেক বড়। ছাগল তো কালকেও আনা যাবে। কিন্তু জীবন...
ভয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যাবার জন্য যেই পা বাড়াবেন ঠিক তখনি তার মনে হল কেউ একজন তাকে ডাকছে!
-ভাই কি বেতুয়ান যাবেন?
আক্কাস মিয়া চমকে উঠে জোর গলায় বলল,
-কেডা আপনে?
-ভাই আমি মোক্তার। আমার বাড়ি বেতুয়ানের শেষ মাতায়। ঐ ইজল গাছের থেনে মাইল খানিক ফাঁকে। আপ্নের বাড়ি কোনে?
-আর কয়েন্না বাই। আমার বাড়ি রামনগর। আপ্নেগরে গাওয়ের চকপোউরি আমার বরহি(ছাগল)খান দোইরা লিয়্যা গ্যাছে। সেই বরহি আইনব্যারি যাচ্ছিলাম তিন্তুক আজকা আর যাব লয়। রাইত ম্যালা হয়্যা গেছে।
-ঐ চিনত্যাতেই তো ভাই একা জাসসিন্যা। গেছিল্যাম আপ্নেগরে গাওয়ের হাঁটে। ফিরতি ফিরতি বেলা গরা আইলো। এহন একা যাতি ক্যাবা জানি লাগতেছে। তারচে চলেন ভাই আমার বাড়িত যাই। রাইত খান থাইকা কাইলকা বরহি(ছাগল) লিয়্যা বাড়ি জায়েন্নে।
আক্কাস মিয়া দেখল প্রস্তাবটা খারাপ না। তাছাড়া আকাশে মেঘও করেছে। এই অবস্থায় বাড়ি ফিরে যাওয়া ও ঝামেলা। তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে লোকটার সাথে রওনা দিলো।
দুজনে গল্প করতে করতে একসময় হিজল গাছের প্রায় কাছে চলে এলো। এমন সময় হঠাৎ করেই মোক্তার নামের লোকটা কাঁদার মধ্যে পরে গেল। সাথে সাথে আক্কাস মোক্তার কে হাত ধরে তুলতে গিয়ে চমকে উঠল। একি এই লোকটার হাত এতো ঠাণ্ডা কেন? মানুষের শরীর কি এতো ঠাণ্ডা হয়?
মোক্তার আস্তে করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-দুরা। সারা গায় ক্যাদো লাইগা গেল। চলেন ভাই সামনের কুয়োত যাই। হাত মুক ধুইয়া আসি।
কথাটা বলেই মোক্তার আক্কাসের উত্তরের অপেক্ষা না করেই কুয়োর দিকে পা বাড়াল। আক্কাসের শরীরে ভয়ের শীতল স্রোত খেলে গেল। কুয়োটা অনেক দিন আগে থেকেই পরিত্যক্ত। সেখানে পানি আসবে কোথা থেকে? হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। বিদ্যুতের আলোতে আক্কাস স্পষ্ট দেখতে পেল, মোক্তারের পা নাই।
সারা শরীর কেমন জানি একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠল আক্কাসের। তাহলে মোক্তার মানুষ না! আবার এতো রাতে তাকে কুয়োর দিকে নিয়ে যাচ্ছে; তার মানে কি সে আইষ্ঠাখোঁর ভূত!
আক্কাস আর এক মুহূর্তও দেরি করলনা। সোজা মাটির উপর চোখ বুজে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। (গ্রামে কথিত আছে, ভূত বা খারাপ আত্মা মাটি স্পর্শ করতে পারেনা। তাদের ক্ষমতা মাটির একহাত উপরে) কিছুক্ষণ পর আক্কাস শুনতে পেলো কেউ একজন ন্যাকা সুরে আক্কাসকে উদেশ্য করে বলছে, কুঁত্তার বাঁচ্চা বাঁইছা গেঁলু। মাঁটির উপঁর না শুঁলি আঁজক্যা তোঁক কুঁয়োর মঁদ্দি গাঁইরা থুঁল্যামনে।
ঠিক এভাবেই পরের দিন সকাল পর্যন্ত মাটির উপর শুয়েছিল আক্কাস মিয়াঁ। হয়তো আজও রাতের বেলা কোনও মানুষ সেই আধা মাইল পথ পার হতে পারেনি।। সংগ্রহ করেছেনঃ Ethan Martin

।। স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 10, 2011 at 10:23pm
মানুষের এই পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যার কোনো ব্যাখ্যা খুজেঁ পাওয়া যায়না। আর আমি অত সহজে কোনো কিছু বিশ্বাস করিনা। আমি যুক্তিবাদী মানুষ। অনেকেই আমাকে নাস্তিক বলে। কিন্তু আমি নাস্তিক না। আমার সাথে যে গঠনাগুলো ঘটে আমি সেগুলোর ব্যাখ্যা দাড় করানোর চেষ্টা করি কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পারিনা।
আমার যতদুর মনে পড়ে আমার ৪ বছর বয়স থেকেই ঘটনার সুত্রপাত। (এর আগে ঘটে থাকলে তা আমার মনে নেই।) তখন আমরা খাগড়াছড়িতে ছিলাম। আমি তখন ও স্কুলে ভর্তি হইনি। সম্ববত ১৯৯৪ সাল। আমরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসার পাশে মাঠে খেলা করতাম। আম্মু ও আন্টিরা হাঁটাহাটি করত। তখন আমি দেখতাম মাঠে আমাদেরই মত, কিন্তু আমাদের চাইতে আলাদা কিছু মানুষ ও হাঁটাহাটি করছে। এককথায়, আমি একটা দেয়ালের সামনে দাড়ালে যেমন ছায়া পড়বে তেমন, কিন্তু ছায়াটা সাদা, টর্চ লাইটের আলোর মত সাদা। অনেকগুলো সাদা আলোর মানুষ মাঠে খেলছে, আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করতাম ওগুলো কি ? আম্মু বলত শেয়াল (পাশের জঙ্গলে অনেক শেয়াল ছিল, আম্মু ভাবত শেয়াল দেখে ভয় পাচ্ছি)। এভাবে প্রতিদিনই আমি তাদের দেখতাম, আমার কাছে সেটা স্বাভাবিক ছিল। আমি ভয় পেতাম না।
কাহিনীতে কিছুটা পরিবর্তন আসে ১৯৯৭/৯৮ এর দিকে। তখন আব্বুর বদলি হয়ে গেছে চট্টগ্রামে। আমি থ্রিতে পড়ি। বদলটা হল, খাগড়াছড়িতে আমি ওদের দেখতাম মাঠে, আর চট্টগ্রামে ওরা চলে যায় দেয়ালে, ছায়ার মত। অবিকল একটা মানুষের ছায়া কিন্তু টর্চ লাইটের আলোর মত উজ্জ্বল। সন্ধ্যায় খেলার সময় দেখতাম দেয়াল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে অনেকগুলো আলোর মানুষ। কিন্তু ওদের পা কখনো মাটিতে লাগানো থাকতনা। শূন্যে ভাসমান থাকত। আমি ভয় পেতাম না। খেলার সাথীদের বলতাম, তারা মজা করে ধরতে যেত, কিন্তু ধরতে পারত না। (পরে জানতে পারি তারা কেউ দেখত না, দুষ্টুমি করত)
২০০৩ সালে আমরা ব্রাক্ষনবাড়িয়া চলে আসি। আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। সন্ধ্যায় বের হওয়া বন্ধ। তাই আর আলোর মানুষ দেখিনা।
২০০৬ সাল। আমি এস.এস.সি পরীক্ষার্থী। গ্রাম থেকে নানু ও মামা এসেছে। পরীক্ষার আর ১৫/১৬ দিন বাকী। নানু আমার সাথে ঘুমায়। আমি রাত ১.৩০ পর্যন্ত পড়ি। হঠাত এক রাতে-
আনুমানিক রাত ৩.০০টা। আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। হঠাত দেখি আমার রূমে তিনজন লোক চাঁদর মুড়ি দিয়ে হাঁটছে। তাদের গাঁ থেকে আলো ছড়াচ্ছে। মুখ দেখা যাচ্ছেনা। আমি ভয়ে পাথর হয়ে গেলাম। প্রায় ৩০ মিনিট জেগে ছিলাম। নানুকে জড়িয়ে ধরলাম। নানু বলল_ "কি হয়েছে ?" আমি বললাম_ " ভয় পাই"।
সকালে আমি নানুকে জিজ্ঞেস করলে নানু বলেন সত্যিই গতরাতে গতরাতে আমি "ভয় পাই" বলেছি। (জিজ্ঞেস করার কারন আমি যুক্তি, প্রমাণ ছাড়া কিছু বিশ্বাস করিনা) ঘটনাটা আমার স্যারের সাথে শেয়ার করলে উনি বলেন এগুলো জ্বীন। আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমাতে বলেন।
এর পর কেটে গেল আরও ২ বছর।
২০০৮ সাল। আমি এইচ. এস. সি দিয়ে ঢাকা গেছি কোচিং করতে। হোষ্টেলে থাকি। হঠাত একদিন _
স্বপ্নে দেখি আমাকে আমার বড় খালা মারছে। পেটে জোরে জোরে লাথি মারছে। আমার চোখ লাল হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি মরে যাচ্ছি। ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি কোথায় ? এরা কারা ? আমি কে ? কিছুই মনে করতে পারছিনা। আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা। পেটে খুব ব্যাথা। প্রায় ১৫/২০ মিনিট। হঠাত আমার রূমমেট আমার গা ধরে ঝাঁকুনি মারে। আমার সব মনে পড়ে যায়। তাকিয়ে দেখি সকাল ১১.০০ টা। তার পর দেখি আমার পেট লাল হয়ে আছে। যেন সত্যিই কেউ প্রচন্ড জোরে লাথি মেরেছে। ঘটনাটা আমার মাকে বলি। তারপর বাসায় চলে যাই। আম্মু একটা তাবিজ দিয়ে দেন। হোষ্টেলে হঠাত একদিন দেখি হাতে তাবিজ নেই। কোথাও খুঁজে পাইনা। তারপর যখন বাসায় যাই_ টানা ২১ দিন জ্বর, বমি। আর ভয়াবহ সব দুঃস্বপ্ন। প্রতিটা স্বপ্নের বিষয় বস্তু _ আমাকে মারছে, আমি মরে যাচ্ছি, মৃতু্যর এক সেকেন্ড আগে ঘুম ভেঙ্গে যেত। শরীরে খুব ব্যাথা করত। সকাল, বিকাল, দুপুর, রাত যখন তখন স্বপ্ন। এমনকি সোফায় বসে ৫ মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ করলে ও স্বপ্ন চলে আসত।
তারপর, সুস্থ্য হই। হোষ্টেলে যাই। তাবিজটা খুজে পাই বিছানার তোশকের নিচে। কিন্তু তোশকের নিচে কিভাবে গেল ?
যাই হোক। ২০০৯ সালে আমরা সিলেটে। ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। আমার বয়স ১৮+ । আমার জীবনে নেমে এল ভয়াবহ বিপর্যয়। একটা রাত ঘুমাতে পারিনি। এক কথায় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। স্বপ্নের মাঝে কতবার যে মৃতু্যর হাত থেকে ফিরে আসতাম...।
ভয়াবহ সেই ড্রাকুলার চেহারা আমাকে প্রতি রাতে তাড়িয়ে বেড়াত। ৫ মিনিটের জন্য ঘুমাতে পারতাম না। স্বপ্নে যে জায়গায় মারা হতো ঘুম থেকে উঠার পর সে জায়গা ব্যাথা করত। লাল হয়ে থাকত। সায়েন্স এ নাকি এ সমস্যাকে ওহাবৎঃ জবধপঃরড়হ বলে। আমার ভার্সিটিতে যাওয়া বন্ধ প্রায় ৩ মাস। আমি কি বলি, কি করি কিছুই মনে থাকেনা। এমনকি আমার নানা_নানু নাকি ঐসময় আমাদের বাসায় ছিলেন কিন্তু আমি আজ ও মনে করতে পারিনা। অনেকের সাথে কথা বলে জানতে পারি আমাকে নাকি তখন দেখতে অপ্রকৃতস্থের মতো দেখাত। বিশেষ করে আমার চোখ। সাধারন ও মানসিক সব ডাক্তারই দেখানো হয়েছে। তারা শুধু ঘুমের ওষুধ দিয়ে দিত। আর যখন খুব সমস্যা হত, ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিত। স্যালাইন দেয়া হত। আমার মনে আছে, দিনে ৭টা ইনজেকশন পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।
আমার একপাশে ভাই আর একপাশে মা ঘুমাতো, আমি মাকে ধরে রাখতাম আর ভাই আমাকে ধরে রাখতো। কিন্তু স্বপ্নগুলো আমাকে ছাড়তোনা। আমি প্রতি রাতে চিৎকার করতাম, দিনে যখন তখন মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম। আবোল তাবোল বকতাম।
এক হুজুর (আমি এগুলোতে বিশ্বাস করতাম না) আমাকে তেলপড়া মেখে ঘুমাতে বলল। অবিশ্বাস্যরকম ভাবে যেদিন তেলপড়া মাখতাম সেদিন রাতে স্বপ্ন দেখতামনা। যেদিন মাখতামনা সেদিন ই...।
আমাকে অসহায়ভাবে "হুজুর" বিশ্বাস করতে হলো। কিন্তু সেই হুজুর আমাকে স্পষ্ট করে কিছুই বললেননা।
শাহপরাণ মাজার এর হুজুর বললেন আমার উপর জ্বীনের নজর আছে। (আমি বিশ্বাস করিনা) আমাকে পানি পড়া আর তাবিজ দিলেন। আমি ব্যবহার করিনি। ফেলে দিয়েছি সুরমা নদীতে। আর আমার সেই "হুজুর" আমাকে একটা শরীর বন্ধের তাবিজ দিলেন যা আমি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছি। (তাবিজ গলায় লাগাবার সাথে সাথে অবিশ্বাস্যভাবে সব ভয় চলে গেছে)
২০১০ সাল। আমি ২য় বর্ষে পড়ি।
হঠাৎ একদিন দেখি গলায় তাবিজ নেই। আমি ভয় পেলাম। তাবিজ খুঁজে পেলাম ঘরের এক কোণায়। কিন্তু আর গলায় দিলাম না। একদিন-
আম্মু অসুস্থ্য হয়েগেছে। আবোল তাবোল বকছে। হঠাৎ আমাকে ডাক দিল। "তোর যে বড় তাবিজটা আছে না, হুজুর যে দিছে, ঐটা ফেলে দে, ঐটা ভালো না, এক্ষন ই ফেলে দে যা ফেলে দে" (যদিও আম্মু পরে অস্বীকার করেছে)।
আমি ঘাবড়ে গেলাম। কিন্তু তাবিজ ফেললাম না। একটা কাঁচের বয়ামে রেখে দিলাম।
তারপর-
আমি আবার স্বপ্ন দেখি.....
প্রতি রাতে.....
২০১১ সাল-
একদিন রাতে বাথরূমের আয়নায় একজনকে দেখি। সেই ড্রাকুলা (অথবা অন্যকিছু)। আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। তার চেহারা কী যে ভয়ংকর, আমার অনুভুতি নাহয় না ই লিখলাম। তবে অনেক কেঁদেছি। আমার সাথেই কেন এমন হবে? আমি কি দোষ করেছি....?
এখন আমার কাছে এটা কোন ব্যাপার না। একজনের সাথে এই ঘটনা শেয়ার করেছিলাম সে বলেছে রাতের বেলা রূমের মাঝখানে বসে তার/তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে, তারা কি চায় জানতে। করিনি। কি লাভ?
ক'দিন আগে। আমার ভাইয়ের পরীক্ষা। দেখলাম, সে আকাশি রঙের আর নীল জিন্স পড়ে ডান হাতে বোর্ড নিয়ে বাম হাতে দরজা খুলে বেড়িয়ে গেল। একটু পড়ে দেখি সে আবার একইভাবে বেড়িয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম "কিরে তুই ঢুকলি কখন?" সে তো পুরা অবাক। - "আমি বের হলাম কখন?" আমি বললাম- "তাহলে দুই মিনিট আগে কে গেলো?" সে বলল "মানে?" আমি বুঝতে পাড়লাম ঘটনা কি। আমি ওকে যেতে বললাম। কারণ এর আগেও এ ঘটনা দুই তিন বার ঘটেছে। শুধু ভয় পাচ্ছিলাম ওর যাতে কিছু না হয়।
আমি অনেক কিছুই বলে দিতে পারতাম। যা অন্য কেউ পারতোনা। নিজেই অবাক হতাম । যেমন- আমার বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড ভালোবাসা দিবসে কার সাথে কোথায় বেড়াতে গেছে আমি সেটা পর্যন্ত বলে দিয়েছিলাম। (যেটা এখন আর পারিনা বা পারতে চেষ্টা করিনা) *** যারা এ লেখাটি পড়লেন আমি তাদের জায়গায় হলে এটি বিশ্বাস করতাম না। কারন আমি অবিশ্বাসিদের দলে। তবে আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যার সাথে ঘটে সে ই বুঝে।। লেখক/ লেখিকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।।

।। বিভ্রাট ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 11, 2011 at 10:29pm
আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে আমি কানাডা গিয়েছিলাম। কানাডার ওন্টারিওতে। শীতকাল, তুষারপাত হচ্ছিল।তাপমাত্রা শূন্যর নিচে! আব্বু সেদিন সেমিনারে গেল। ঠান্ডার কারণে আমি বের হইনি। আব্বু চলে যাবার পরের ঘটনা। কি কারণে যেন বাইরে তাকালাম জানালা দিয়ে- দেখি একটা ছোট মেয়ে দাড়িয়ে আছে এদিকে ফিরে! গায়ে খুব হালকা একটা ওভার কোট, ঠান্ডায় মুখটা যেন লাল হয়ে আছে! এত ঠান্ডায় একা! ভাবলাম হারিয়ে গেছে। দরজা খুলে দৌড়ে আনতে গেলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি নেই! ভেতরে চলে এলাম। আন্টি ঘুমাচ্ছিল। ডেকে তুলে ঘটনাটা বললাম, কিন্তু কিছু বললনা। ওইদিন রাতের কথা…. ঘুমাচ্ছিলাম..হঠাৎ কিসের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। শব্দটা পাচ্ছিলাম তখনো কিন্তু ভয়ে শুয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর সাহস করে বাতি জালালাম! যা দেখলাম বুক কেঁপে উঠলো! দেখি- ওই ছোট মেয়েটা মেঝেতে বসে একটা বল নিয়ে খেলছে! মেয়েটা আমার দিকে ঘুরে তাকালো- হঠাৎ করে দেখি মেয়েটার চেহারা আমার ছোট বেলার চেহারার মত হয়ে গেল!! ভয়ে আমি শক্ত হয়ে গেলাম, তারপর কি ঘটলো জানিনা। ভোর বেলায় দেখি আমি আন্টির রুমে! এই ঘটনার পর থেকে মেয়েটাকে মাঝেমাঝে স্বপ্নে দেখি। তখন ঘুম ভেঙ্গে গেলে মনে হয় বাইরে তুষারপাত হচ্ছে আর আমি ওই কটেজে একা।। রাইটার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।। বাংলা ফন্টে লিখতে সাহায্য করেছেনঃ Safayet Jamil

।। সম্ভব-অসম্ভব ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 11, 2011 at 11:02pm
গত এপ্রিল মাসে মা একদিন এসে বলে আমাদের পাড়ার একটা পিচ্চি মারা গেছে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে জমা রাখা পানিতে ডুবে।শুনে খুব খারাপ লাগছিল।পরদিন দুপুরে ক্লাস থেকে ফিরছি দেখলাম মসজিদের সামনে একটা খাটিয়া,অনেক মানুষজন।লাশটা দেখে চমকে উঠলাম। ওকে কত দেখেছি আমাদের বিল্ডিং এর নিচে খেলতে। এই ঘটনার ১৫/২০ দিন পর আমি আর আমার ছোটবোন(কলেজে পড়ে) সন্ধ্যার সময় গল্প করতে করতে বাসায় ফিরছিলাম।হটাৎ দেখি একটা পিচ্চি ওই নির্মাণাধীন বিল্ডিংটার নিচে দাড়িয়ে আছে। আমি কাছে যেয়ে বলি “বাবু একা একা এখানে কি করো? জানোনা একটা পিচ্চি এখানে মারা গেছে?” এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে বাবুটা মুখ তুলে তাকায়। এরপর যা দেখলাম তাতে মনে হল আমি পাথর হয়ে গেছি। একটু পর শুনলাম আমার বোন বলছে, আপু দৌড়াও। আমরা দুজনে দৌড় দিলাম, মসজিদ পর্যন্ত এসে ফিরে তাকাইছি। কিন্তু কেউ ছিল না ওখানে। কিন্তু একটু আগে আমরা দুজনে যাকে দেখেছি সে হল ওই বাবুটা যে মারা গেছে মাত্র ১৫ দিন আগে। শেয়ার করেছেনঃ Tasnuva Akhtar Riya

।। কে?? ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 11, 2011 at 11:20pm
আমি যে ঘটনাটি শেয়ার করতে যাচ্ছি সেটা আমার বাবার জীবনের ঘটনা। শবে বরাতের রাতে বাবা প্রায়ই দাদা-দাদীর কবর(বনানী) যিয়ারত করতে যান। দাদা-দাদীর কবর অনেকটা ডেড এন্ড এর মত জায়গায়। অর্থাৎ এরপর ৬/৭ টা কবর তারপর উঁচু দেয়াল দেওয়া, বেরিয়ে যাবার পথ নেই। আর বের হওয়ার গেইট অনেক দূরে। দাদা-দাদীর কবরের পাশেই মোটামুটি চওড়া (গোরস্থানের অন্যান্য রাস্তার তুলনায়) রাস্তা আছে। দাদা-দাদীর কবরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালে বামদিকে ডেড এন্ড, ডানদিক দিয়ে আসতে হয়। আমিও বেশ কয়েকবার শবে বরাতের রাতে ওখানে গিয়েছিলাম, তাই জানি এই রাতে কবরস্থানে সাধারণত জনসমাগম বেশি হয়। আমি যেদিনের ঘটনা বলছি সেদিন অবশ্য আমি যাইনি, বাবা একা গিয়েছিলেন। বরাবরের মত সেই রাতেও বেশ জনসমাগম ছিল কবর জিয়ারতের জন্য। বাবা দাদীর কবর জিয়ারতের সময় হঠাত্‍ বিদ্যুত্‍ চলে যায়। দোয়া-দুরূদ পড়া শেষ করে বাবা তখন মোনাজাতের জন্য হাত তোলেন। ঠিক সেই সময় ডানদিক থেকে কারো আসার শব্দ পান। শব্দটা বাবার ঠিক পেছনে এসে থেমে যায়। মোনাজাতের সময় অনেকেই যোগ দেন। কেউ টাকা পাবার আশায়, কেউবা ভালো মন নিয়ে। তাই বাবা সেদিকে মনোযোগ দেননি। বাবা মোনাজাত শেষ করে পিছনে ফিরে কাউকেই দেখতে পেলেন না। এরপর তিনি চলে আসেন। আসার পথে দেখলেন গেইটের ভেতরে কেউ নেই, বাইরেও মানুষজন খুব একটা ছিল না। বাবা বের হয়ে গাড়ির কাছে আসতেই ড্রাইভার বললেন, আপনি এতক্ষণ ভিতরে ছিলেন? কারেন্ট চলে যাবার সাথে সাথেই তো সবাই বের হয়ে গেছে। শেয়ার করেছেনঃ Dil Sadman Hossain ফেসবুক আইডিঃ http://www.facebook.com/dshossain বাংলা ফন্টে লিখতে সাহায্য করেছেনঃ আমাদের একজন রেগুলার রিডার, তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।।

। অমীমাংসিত – দ্বিতীয় পর্ব ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 12, 2011 at 11:21pm
চিনকী আস্তানা স্টেশনটা বেশ নির্জন। যখন ওখানে ট্রেনটা গিয়ে থামল তখন রাত সাড়ে দশটার মত বাজে। বাহিরে ঘুট ঘুটে অন্ধকার- তার মাঝে টিপটিপিয়ে বৃষ্টি। ছাতা আনা হয়নি। ব্যাগ হাতে প্লাটফর্মে নামার সাথে সাথে ভেজা শুরু করলাম। লোকাল ট্রেনে করে এসেছি বলে স্টেশনের বৃষ্টিতে নামা মাত্র মনে হল একটু শান্তি পেলাম। এতক্ষণ ট্রেনের টয়লেট বিহীন কামড়ায় মুরগীর খাঁচার মত অবস্থায় ছিলাম। বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে বেশি সেটা লোকাল ট্রেনে উঠলেই বোঝা যায়। ঘামে পাঞ্জাবী পিঠের সাথে লেগে গেছে। বৃষ্টির ঠান্ডা ফোঁটা গুলো গায়ে লাগতেই মনে হচ্ছে শান্তিতে ঘুম এসে যাবে। ব্যাগ হাতে হাটতে লাগলাম। হিঙ্গুলী গ্রামটা এখান থেকে আরো মাইল খানেক উত্তর-পূর্ব দিকে। এত রাতে সেখানে যাওয়াটা সামান্য ঝামেলার মনে হল। একে তো ইলেক্ট্রিসিটি নেই এ অঞ্চলটায়, তার ওপর রার দশটার পর রিক্সা-ভ্যান কোনোটাই যাবে না।
স্টেশন মাষ্টার আক্ষরিক অর্থেই মাছি মারা কেরানী গোছের লোক। দশটা প্রশ্ন করার পর একটা জবাব দেন। যাওবা দেন সেটা কাজে লাগার মত না। মাষ্টার সাহেব ম্যাচের কাঠি দিয়ে খুব যত্নের সাথে কান খোঁচাচ্ছিলেন আমি যখন তার অফিসে ঢুকি। কেবল একটা হারিকেন জ্বলেছে। ময়লা হারিকেনের তেল যাই যাই অবস্থা, আলোই নেই।
“আসসালামুয়ালাইকুম, ভাই- হিঙ্গুলী গ্রামটায় যাওয়ার নিয়মটা বলতে পারবেন? এখানের কোনো রিক্সা-ভ্যান যাবে না বলছে।”
“উঁ?”
“হিঙ্গুলী যাওয়ার ব্যবস্থাটা কি?” ভাবলাম শুনতে পায়নি, তাই আবার বললাম।
“ঊঁ?” আবারো কোনো জবাব না দিয়ে বিদঘূটে শব্দ করলেন।
“ভাই আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি।” সামান্য উষ্ণ গলায় বললাম।
কান চুলকাতে চুলকাতেই বেদম জোরে কেঁশে উঠলেন মাষ্টার সাহেব। ম্যাচের বাঙ্গা কাঠিটা চোখের সামনে এনে বিরক্ত চোখে তাকালেন আমার দিকে। বাকি অংশটা কানের ভেতরে আটকা পড়েছে বোধ হয়। দেখলাম মাথা একপাশে কাত করে বার কয়েক ঝাঁকি দিলেন।
আমি গলা খাকারি দিলাম, “ ভাই? হিঙ্গুলী.........”
হাত তুলে থামিয়ে দিলেন, “ যে কোনো ভ্যান ধরে উইঠা যান, লয়া যাইবো। এখানে খাঁড়ায়া লাব নাই।” একটা চিমটা বের করে কানের কাঠি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলেন। বোঝাই গেল ভাঙ্গা কাঠি প্রায়ই কানে আটকা পড়ে তার, এবং সেটা উদ্ধার কাজেও সিদ্ধ হস্ত। কারণ আমি থাকা অবস্থাতেই কাঠিটা টেনে বের করলেন। মুখে প্রশান্তির হাসি। আমি বেরিয়ে এলাম বিরক্ত হয়ে।
হাত ঘড়িতে রাত এগারোটা দশ বাজে। বৃষ্টির পরিমান বেড়েছে আরো অনেক। এ বয়সে ভিজলে জ্বর আসতে সময় নেবে না। হিঙ্গুলী গ্রামটায় পৌছানো জরুরী। আগে যদি বুঝতাম এত রাত হবে, তাহলে আরো সকাল সকাল করে বের হতাম। ভ্যান-রিক্সা কোনোটাকেই রাজী করাতে পারলাম না শত চেষ্টার পরেও। শেষে মহা বিরক্ত হয়ে স্টেশনের একটা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম সকাল হবার। এর বেশি আর কিছু করার নেই আমার।
রাত যত গভীর হয় স্টেশন তত বিচিত্র ভাবে জেগে উঠতে থাকে। গাঁজা আর জুয়ার আড্ডা বসল সামনে একটা প্লাটফর্মে। ট্রেন আসলে স্টেশনটা জীবন্ত হয়, নয়ত মরার মত পড়ে থাকে।
গাঁজার আড্ডায় গান ধরেছে কয়েকজন, তাস খেলা চলছে। আমি দেখছি তা...... এক সময় ঝিমানির মত শুরু হল...... গাঁজার আড্ডার গানটা কানে বাজছে...... ক্রমশ চোখের পাতা ভারি হয়ে আসতে লাগল..... দূরে কোথাও ঘন্টা বাজছে...... অদ্ভূত শোনাছে শব্দটা... মনে হচ্ছে অনেক লোকজন কথা বলছে... তার মাঝ দিয়ে গানটা ঘুর পাঁক খাচ্ছে মাথার ভেতর...
“বলেছিলে আমার হবে
মন দিয়াছি এই ভেবে
সাক্ষি কেউ ছিলনা সে সময়......” চোখ মেললাম যখন- তখন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অবাক হয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম সেই গোরস্থানের গাছটার নিচে! যেখানে নিজেকে পেয়েছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে! ধরমরিয়ে উঠে বসলাম। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তবে গোরস্থানের ভেতর দিকে চার্জার লাইটের আলো। আমি আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালাম। আমার ঠিক সামনেই আবছা ভাবে সেই বাচ্চা ছেলেটার কবরের অবয়বটা বোঝা যাচ্ছে। আমার হৃদপিন্ডটা অস্বাভাবিক ভাবে লাফাচ্ছে। চার্জারের আলো আসছে আরো ভেতরের দিক থেকে। আমি প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে দ্বিধান্বিত পায়ে হাটতে লাগলাম আলোটার দিকে। পায়ের নিচে প্যাঁচ প্যাঁচে কাঁদা। বার কয়েক পুরনো কবরে পা ঢুকে যেতে যেতে সামলে নিলাম। গাছ গুলোর অন্য পাশ থেকে আলো আসছে, তাতে বেশ কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা করছে সবাই। সবার হাতে ছাতা, ছাতার জন্য বোঝা যাচ্ছে না কি করছে তারা। আমি এগোতে এগোতে টের পেলাম অসম্ভব একটা ভয় ভেতরে দানা বাধতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে যতই এগোচ্ছি, ভয়টা ততই বাড়ছে...... চার্জারের আলো ভেবেছিলাম যেটাকে এতক্ষণ- কাছে আসায় স্পষ্ট হল, হ্যাজাক বাতি। সাদা কাপড় পরা বেশ কিছু লোক ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
আমি আর হাটতে পারছিলাম না, একটা গাছে হেলান দিয়ে কোনো মতে দাঁড়ালাম। অবাক হয়ে দেখলাম একটা লাশের দাফন কাজ চলছে। দুজন লোক একটা নতুন খোঁড়া কবরে নেমেছে। ওপর থেকে কাফন পরা লাশটা নামিয়ে ওদের হাতে দিচ্ছে লোক গুলো। কেউ একজন জোরে জোরে দরুদ পাঠ করছে সুর করে। আমি টলতে টলতে আরেকটু এগিয়ে গেলাম। ছাতা হাতে ওরা কেউই আমাকে লক্ষ করছে না। হ্যাজাকের আলোয় দেখলাম কবরের ভেতর জমে ওঠা পানির মাঝে কাফন পরা লাশটাকে উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে নামাচ্ছে লোক দুটো। লাশটার দৈর্ঘ্য দেখেই অনুমান করলাম বয়ষ্ক, বড় মানুষের লাশ। কবরের পানিতে রাখা মাত্র কাফন ভিজে অনেকখানি ডুবে গেল লাশটা। আমার দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। ভয়টা ক্রমশ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। বাড়ছে শুধুই। তীব্র একটা ভয়।
কেউ একজন বলল, “লাশের মুখ শেষবারের মতন দেখবেন কেউ? নাইলে বাঁশ লাগায় দিক।”
দেখলাম কেউ মুখ দেখার মত আগ্রহ দেখাল না। লোক দুটো কবরের ওপর আড়া আড়ি বাঁশ দেয়া শুরু করল। দ্রুত চাটাই বিছিয়ে ঢেকে ফেলল কবরের ওপরটা। বৃষ্টিতে ভিজে মাটি দেয়া শুরু করল লোক গুলো।
আমি বসে পড়েছি মাটিতে। কেউ লক্ষ করছে না আমাকে। কিন্তু হ্যাজাকের আলোয় স্পষত দেখতে পেলাম কবরের অন্য পাশে ছাতা ওয়ালা লোক গুলোর ভীড়ে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে! শীতল শান্ত চোখ দুটোয় ক্রুড়ো একটা দৃষ্টি। সোজা তাকিয়ে আছে আমার দিকে...... তখনি মাথার ভেতর তীব্র ব্যথা শুরু হল আমার! মনে হল কেউ যেন আমার মগজটা ধারাল ক্ষুর দিয়ে পোঁচ দিচ্ছে...... ঝটকা দিয়ে জেগে উঠলাম। আমার দু পা আর প্যান্টের নিচের দিক কাঁদায় মেখে আছে! ঘড়িতে দেখলাম- রাত আড়াইটা বাজে। ট্রেন এসেছে স্টেশনে। জীবন্ত মনে হচ্ছে রাতের মৃত এ স্টেশনকে এখন। কতক্ষন জীবন্ত থাকবে? আমার হিঙ্গুলী গ্রামে আসাটা যে বিরাট একটা ধাক্কা দিয়ে শুরু হবে জানা ছিল না। আমি পরদিন সকাল বেলা একটা চা দোকানে পাউরূটি আর কলা খেয়ে রওনা দিলাম ভ্যানে করে হিঙ্গুলীর দিকে। তবে তার আগে ওয়েটিং রুমে গিয়ে কাঁদা মাখা প্যান্টটা বদলে নিলাম। সকালে ভ্যান ওয়ালারা কেউ ‘না’ বলল না, বলা মাত্রই আমাকে নিয়ে রওনা দিল। হিঙ্গুলী যাওয়ার পথটা পাঁকা না, কাঁচা রাস্তা। তারওপর বর্ষা কাল বলে রাস্তা ঘাটের করুণ অবস্থা। ভ্যান একেকবার এমন কাত হয়ে যাচ্ছে যে মনে হয় তখন সোজা গিয়ে কাঁদার ওপর পড়বো!
হিঙ্গুলী প্রামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটা ছোট খাট ধাক্কার মত খেলাম। আমি শৈশবে যে গ্রামটায় মানুষ হয়েছিলাম অবিকল সেই রকম গ্রাম এটা। ধাক্কাটা যে কারণে খেলাম তা হল- আমি যেখানে, যে রকম বাড়ি, গাছপালা, সাঁকো, রাস্তা দেখেছি আমার শৈশবের গ্রামে- এখানে ঠিক সে রকম- হুবহু এক! কোথাও কোনো অমিল নেই! অবাক হবার কারণটা হল আমার শৈশবের গ্রামটা দিনাজপুরে! আর এটা চট্টগ্রামে।
“হিঙ্গুলী” গ্রামটা আমার জন্য বেশ কিছু রহস্য নিয়ে অপেক্ষা করছিল। তার প্রথমটার সাথে সাক্ষাত হল গ্রামে ঢোকা মাত্রই। হিঙ্গুলী মাদ্রাসার মোয়াজ্জ্বেনের সঙ্গে কাকতালীয় ভাবে দেখা হয়ে গেল গ্রামে ঢুকেই। বাজারে যাচ্ছিলেন সম্ভবত। এখানে থাকার মত কোনো হোটেল কিম্বা বোর্ডিং আছে নাকি আর মাদ্রাসাটা কোন দিকে তাকে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি ভ্যান থেকে সবে নেমেছি - আমাকে নামতে দেখেই ভূত দেখার মত চমকে উঠলেন! কিছু বোঝার আগেই চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালালো! আমি ব্যাপারটা বোঝার জন্য কাউকে যে জিজ্ঞেস করব তা সম্ভব হল না- গ্রামের কেউ আমাকে যে’ই দেখছে এখন- সবাই ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে!
আমি ভীষণ অবাক হলাম। এক রকম হতভম্ব! আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে এমন? ভ্যান ওয়ালা ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “ ফালাইলো ক্যান বাই?”
আমি বিমূঢ়ের মত মাথা নাড়ালাম, “জানি না, আপনি মাদ্রাসায় চলেন।”
আমি ভ্যান ওয়ালাকে নিয়ে মাদ্রাসাটা খঁজে বের করলাম। আমার স্বপ্নে দেখা মাদ্রাসাটার সঙ্গে খুব একটা মিল নেই। পুকুরটা বেশ ছোট, পানিও পরিষ্কার। শ্যাওলা নেই। তবে মিলও রয়েছে। মসজিদের সেই বারান্দা অবিকল এক। এখানীসেই আমি প্রথম রহস্যটার সাথে জড়িয়ে পড়ি। মাদ্রাসার প্রধান ঈমাম মোহাম্মদ ইদ্রীস শেখের সঙ্গে পরিচয় যখন হল তিনি আমাকে দেখে অবাক হলেন ঠিকি, কিন্তু ভয় পেলেন না। মাদ্রাসার শত শত ছাত্র ততক্ষণে আমাকে দেখতে চলে এসেছে। মসজিদের বারান্দায় বসে আমি প্রথম ইদ্রীস সাহেবের কাছে জানতে পারলাম- আমি “মোঃ নজরুল হোসেন” গত চার দিন ধরে এই হিঙ্গুলী মাদ্রাসায় ছিলাম! এবং গত কাল বিকেলে আমার মৃত্যু হয়েছে- মৃত্যুর আগে আমি বলে গেছি এখানের গোরস্থানে আমাকে কবর দিতে। এবং আমার ফুফুর জন্য চিঠিও লিখে গেছি আমি! গত রাতে আমাকে তারা সবাই কবর দিয়েছে গোরস্থানে!
আমি মসজিদের বারান্দায় বসে ঘোরের মধ্যে সেই চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়লাম যেটা ‘আমি’ ঈমাম সাহেবকে দিয়েছি আমার ফুফুকে দিতে! আমার’ই হাতের লেখা! আমি কাঁপতে শুরু করলাম মৃগী রোগীর মত। সে অবস্থাতেই আমি কবরটা খুঁড়তে অনুরোধ করলাম ঈমাম সাহেবকে।
বলা বাহুল্য আমি বলার আগেই কবর খোঁড়া শুরু হয়ে গেছে। মোয়াজ্জ্বেন সহ আরো কয়েকজন লোক কবরটা খুঁড়লো। আমি নিজে সেখানে যাওয়ার শক্তি পাচ্ছিলাম না। তাই ঈমাম সাহেব আমাকে ধরে নিয়ে গেলেন সেখানে। এটা সেই জায়গা, গত কাল রাতে স্বপ্নে যেখানে আমি কবর দিতে দেখেছিলাম কাউকে!
দিনের বেলা সূর্যের আলোতেও আমার ভয়ংকর একটা অশুভ ভয় করছিল কবরটার পাশে দাঁড়িয়ে। কাঁদা আর পানিতে অর্ধেক ডুবে আছে কাফন জড়ানো লাশটা। কবরের ভেতর অনেক পানি। একজন লোক নামল কবরে মুখ দেখানোর জন্য।
মুখের কাপড় সরানোর পর যাকে দেখলাম- আয়নায় একে আমি বহুবার দেখেছি- আমি, মোঃ নজরুল হোসেন। কাঁদা লেগে থাকলেও না চেনার কোনো কারণ নেই...... আধ খোলা চোখে পৃথিবী দেখছে কবরের পানিতে ভাসতে ভাসতে।
নিজের পায়ের ওপর ভর টিকিয়ে রাখতে পারলাম না আর...... এ যদি নজরুল হোসেন হয়, তাহলে আমি কে? আর আমিই যদি আসল জন হয়ে থাকি- তবে এ কে?

আমি সেদিন গোরস্থানে মৃগী রোগীর মত কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারাই। ঈমাম সাহেব উপায় না দেখে আমাকে মস্তান নগর হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে আমি প্রচন্ড জ্বরের মাঝে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তিন দিন ছিলাম। অবশ্য টানা তিন দিন অজ্ঞান থাকিনি। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরতো। কিন্তু বেশিক্ষণ জেগে থাকতে পারতাম না। প্রচন্ড ভয় আর জ্বরের ঘোরে বার বার জ্ঞান হারাতাম। বলা বাহুল্য এই দীর্ঘ সময়ে আমি স্বপ্ন দেখতাম ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবে। কিন্তু প্রতিটাই একটার সাথে আরেকটা যুক্ত। আশ্চর্যের বিষয় হল এই দীর্ঘ সময়ে আমি নাকি কিছুই খাইনি।
আমার ঠিক মনে নেই কখন স্বপ্ন দেখা শুরু করি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। কেবল মনে আছে প্রথমবার হঠাৎ করেই আমার নাকে মুখে পানি ঢোকা শুরু করে। মাথায় যেতেই ভীষণ জোরে কেঁশে উঠে চোখ মেলে তাকাই। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে! আমি পানির ভেতরে রয়েছি অর্ধেক! ভেসে আছি পানিতে! অবাক হয়ে চারপাশে হাত বুলাতে লাগলাম। নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাটু পানি জমে থাকা একটা ছোট ঘরের ভেতর। সেটা যে একটা কবর বুঝতে সময় লাগল আমার। জায়গাটা কবর কারণ মাথার ওপরে হাত দিতেই বুঝলাম শক্ত বাঁশের টুকরো দিয়ে ঢেকে দেয়া। চার কোনা আয়তাকার ছোট একটা ঘরের মত। হাটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছি। উঠে দাঁড়ানো যায় না, মাথা লেগে যায় বাঁশের ছাদের সাথে। ওপরে মাটি মাটি দিয়ে ঢেকে থাকায় সমস্ত গায়ের শক্তি দিয়েও ধাক্কা দিয়ে বাঁশের পড়ত গুলো সরাতে পারলাম না। তবে অবাক হবার বিষয় হলঃ আমি এক সময় খেয়াল করলাম আমার গায়ে কাপড় বলতে একটুকরো থান কাপড়। কি রঙের সেটা বুঝতে না পারলেও বুঝতে পারলাম কাপড়টা বেস লম্বা।
আমি অজানা একটা ভয় পেতে শুরু করলাম। কারণ যতই সময় যেতে লাগলো, মনে হল আমি দম নিতে পারছি না...... বাতাস্র জন্য ফুসফুসটা আঁকু পাঁকু করা শুরু করেছে...... আমি পাগলের মত মাথার ওপরের ছাদটা ধাক্কা মেরে ওঠাতে চাইলাম। কিন্তু একটু নড়েই স্থির হয়ে গেল। আমি আবারও ধাক্কা দিতে লাগলাম। শক্তি কমে আসছে শরীরের...... ধাক্কা দিয়ে একচুলও নড়াতে পারছি না আর। মনে হল কবরের ওপর খুব ভারী কিছু একটা জিনিস চাপিয়ে দেয়া হল...... আমার ভয়টা দ্রুত আতংকে রুপ নেয়া শুরু করল। আমি অক্সিজেনের জন্য দেয়াল খাঁমচাতে লাগলাম, আচঁড়াতে লাগলাম পাগলের মত...পানিতে পা ছুড়তে লাগলাম পশুর মত...... তার মাঝেই খেয়াল করলাম এই ঘুটঘুটে অন্ধকার কবরের অন্য মাথায় কেউ একজন বসে আছে...... কেবল অবয়বটা বোঝা যায়...... অন্ধকারেও বুঝতে পারলাম সেই ন্যাড় ফ্যাকাসে মেয়েটা জ্বলন্ত অঙ্গার চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। স্থির হয়ে বসে আছে কবরের পানির মাঝে...... আমি জান্তব একটা চিৎকার করে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য দেয়াল খাঁমচাতে লাগলাম। কিন্তু ফুসফুসের বাতাস ফুরিয়ে এসেছে...... ধীরে ধীরে পানিতে ডুবতে শুরু করেছি... এখনো মেয়েটা আমার দিকে স্থির চোখে চেয়ে আছে...... গভীর রাতে জ্ঞান ফিরল আমার। হাসপাতালের সব বাতি নেভানো। তারপরও বুঝতে পারলাম আমার সারা শরীর কাঁদায় লেপ্টে আছে। আমার নাকে মুখে কাঁদা পানি...... কেঁশে উঠলাম। মাথা জ্বালা করছে প্রচন্ড। পাগলের মত বুক ভরে শ্বাস নিতে পাগলাম। আহা! বেঁচে থাকাটা কত অদ্ভূত! আস্তে আস্তে বিছানায় উঠে বসলাম। আমি এখন জানি- হিঙ্গুলী মাদ্রাসা গোরস্থানে কাল সকালে আবারো খোঁড়া হবে “মোঃ নজরুল হোসেন”-এর কবরটা। কারণ সেটার ওপর থেকে মাটি সরে গেছে অনেকখানি। আর অনেকেই একটা চিৎকার শুনেছে......
আমি শুয়ে পড়লাম ধীরে ধীরে। ভয় লাগছে ভীষণ। কেন যেন মনে হচ্ছে হাসপাতালের অন্ধকার করিডোরে, জানালার পর্দার ওপাশ থেকে সেই ন্যাড়া-ফ্যাকাসে মেয়েটা শীতল শান্ত চোখে আমার প্রতিটা নড়াচড়া লক্ষ করছে......
আমি তখনো জানতাম না আমার জন্য আরো কিছু অপেক্ষা করছে......
লেখকের নামঃ- মোঃ ফরহাদ চৌধুরী (শিহাব)
ফেসবুক আই ডিঃ- Nithor Shrabon Shihab
ই-মেইল আই ডিঃ- Rudroaimel@yahoo.com

।। ভয়ঙ্কর রাত ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, August 13, 2011 at 10:29pm
ঘটনাটা আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি তখনকার।। আমি ঢাকায় একটা রেসিডেণ্ট স্কুলে পরতাম তখন।। গ্রীষ্মের ছুটিতে দেশের বাড়িতে বেড়াতে গেছি।। জায়গাটা ময়মনসিংহে।। আমি যেইদিন বাসায় পৌঁছলাম তার কয়েকদিন পরের ঘটনা।। আমাদের এলাকায় হাফিয নামের একজন লোক থাকতেন।। লোকটা ছিল খুবই বদমেজাজি আর রাগী।। সবার সাথেই তার ঝগড়া লেগে থাকতো।। এমনকি নিজের ভাইয়ের সাথেও জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে অনেকদিন যাবত তার ঝগড়া লেগে ছিল।। হয়তো এতো শত্রু থাকার কারনেই কে বা কারা তাকে একরাতে বাজার থেকে আসার সময় তাকে নেরে ফেলে।। গ্রাম অঞ্ছলের খুন।। তাই পুলিশ এসে লাশটাকে পোস্ট মরটেম এর জন্য লাশ কাঁটা ঘরে পাঠাতে চাইলো।। রাস্তা ভয়াবহ খারাপ থাকায় কোনও গাড়ি পাওয়া গেলো না।। শেষমেশ এক ব্যান গাড়ি চালককে তারা রাজি করাতে পারলো লাশ নিয়ে যাবার জন্য।। ব্যান চালক ছিল জুয়ান তাগড়া মানুষ তাই ভয়ভিতি তেমন একটা ছিল না।। লাশকাটা ঘরটা মোটামুটি ভালোই দূরে আর যাওয়ার পথে রাস্তায় একটা জঙ্গলের মত জায়গা পরে।। লাশ নিয়ে পরিবারের লোকদের কান্নাকাটি, বিলাপের কারনে রউনা হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো।। অনেকেই লাশ এতো রাতে নিয়ে যেতে না করলেও ব্যান চালক পাত্তা দিল না।। নিজের সাহস দেখানোর জন্য তখনই রউনা হল সে।। বলা বাহুল্য, এতো রাতে তার সাথে যাওয়ার মত তেমন কেউ উপস্থিত ছিল না।। তাই সে একাই রউনা হয় লাশ নিয়ে।। গল্পের বাকি অংশটুকু ব্যান চালকের মুখ থেকে শোনা।। তার জবানবন্দিতে যা শুনতে পারলাম তা নিজের ভাষায় লিখতে চেষ্টা করছি।। নুরু ভাই(ব্যান চালক) রউনা হবার ৩০ মিনিটের মধ্যে অন্ধকার হয়ে গেলো।। তখন তিনি একটা হারিকেন জ্বালিয়ে সেটা ব্যান এর নিচে ঝুলিয়ে দিলেন।। যারা গ্রামে গঞ্জে গেছেন তারা হয়তো বা দেখেছেন।। যারা শহরে থাকেন তারা তো প্রায় কিছুই দেখেন নাহ।। যাক গিয়ে, মূল ঘটনায় ফিরে আসি।। সেদিন পূর্ণিমা রাত ছিল।। তাই রাস্তা একদম ফকফকে দেখা যাচ্ছিল।। তো, সেই জঙ্গলের পাশাপাশি আসা মাত্রই নাকি বাতাসে নাকি অন্য কোনও উপায়ে কে জানে, হারিকেন তা নিভে গেলো।। নুরু ভাই ব্যান থেকে নেমে আবারো হারিকেন জালানর চেষ্টা করলো।। কিন্তু জোর বাতাস বার বার ম্যাচের কাঠি নিভিয়ে দিচ্ছিল।। যখন নুরু ভাই ম্যাচের কাঠি জালানর চেষ্টা করছিলেন, তখন হটাত উনার মনে হল লাশটা যেনও খানিকটা নড়ে উঠলো।। গ্রাম্য আর কুসংস্কার আক্রান্ত হলেও নুরু ভাই ছিলেন বিরাট সাহসী লোক।। তাই তিনি মনকে সান্ত্বনা দিলেন যে, ও কিছু না।। শুধুই মনের ভুল।। কিন্তু তবুও তার মনের মধ্যে একটা খটকা রয়ে গেলো।। হারিকেনটা শেষ পর্যন্ত জালাতে না পেরে হাল ছেড়ে দিলেন তিনি।। ভাবলেন, চাঁদের আলোতেই কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।। রাস্তাঘাট চাঁদের আলোতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে তাহলে আর বাড়তি আলোর দরকার কি।। ব্যান চালিয়ে কিছুদুর যাওয়ার পর হটাত উনার খটকা লাগলো।। পিছনে লাশটার নড়াচড়ার আওয়াজ পাওয়া গেলো যেনও।। মনে হলে পাশ ফিরে শুল।। নুরু ভাই পাত্তা না দিয়ে ব্যান চালাতে লাগলো।। বাইরে যতই সাহসীর ভাব দেখান, আসলে ভেতরে ভেতরে তখন ঠিকই ভয় ঢুকে গেছে।। আর কিছুদূর যাওয়ার পর তার মনে হল লাশটা যেনও উঠে বসেছে আর কষ্ট করে টেনে টেনে শ্বাস নেয়া শুরু করেছে।। তিনি সাথে সাথে পেছনে তাকিয়ে দেখলেন, এবার আর ভুল নয়।। আসলেই লাশটা উঠে বসেছে।। লাশের উপর থেকে কাপড়টা সরে গেছে।। চাঁদের আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে মুখখানি।। চোখের জায়গাটায় বড় গর্ত।। আর মুখটা যেনও কেউ এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে।। ওটা দেখে নুরু ভাই ভয়ে কাপাকাপি শুরু করে দিল।। ব্যান থেকে নেমে যেই দৌড় দিতে যাবে অমনি দেখল লাশটা সামনের রাস্তায় পরে আছে।। আড়াআড়ি ভাবে, পথ আটকে।। এটা দেখে পিছনে তাকিয়ে সে দেখল লাশটা ব্যানে নেই।। উনি আর সহ্য করতে পারলেন না।। ভয়ে দিক্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে দৌড় মারলেন।। কোন দিকে যাচ্ছেন তাতে তার কোনও হুশ নেই।। কেবলি মনে হতে লাগলো, পেছনে কে যেনও দৌড়ে আসছে।। সে দৌড়ের স্পীড বাড়িয়ে দিল।। এভাবে কিছুক্ষণ ছোটার পর সে দূরে কিছু আলো দেখে সেদিকে রুদ্রশাসে দৌড়াতে লাগলো।। আলোটা আসছিলো একটা বাড়ি থেকে।। নুরু ভাই দৌড়ে গিয়ে একটা বাড়ির দরজায় ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন।। শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন বের হয়ে এলে নুরুকে অচেতন অবস্থায় পায়।। সেবা যত্ন করার পর নুরু ভাইয়ের জ্ঞান ফিরে।। তার মুখে ঘটনার বিস্তারিত শুনে বাড়ির জউয়ানরা মিলে বের হয় লাথি সোটা হাতে।। কিন্তু নুরু ভাইয়ের দেখানো মত জায়গায় গিয়ে কিছুই দেখতে পেলো না।। শুধু দেখা গেলো, যেই জায়গায় নুরু ভাই লাশটাকে শুয়ে থাকতে দেখেছিল, সে জায়গাটা কেমন যেনও উঁচু হয়ে আছে।। আমি নিজেও পরে জায়গাটা দেখেছিলাম।। অনেকটা স্পীদ ব্রেকারের মত।। গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত কিন্তু আরেকটু ঘটনা বাকি রয়ে যায়।। এর পরেরবার যখন আমি বাসায় যাই তখন শুনি যে, রাস্তার মাঝে উঁচু জায়গা থাকায় সমস্যা হচ্ছিল।। তাই রাস্তা কেটে জায়গাটা সমান করে দেয়া হয়।। কিন্তু, এর পরদিনই আবার জায়গাটা উঁচু হয়ে যায়।। আবারো গ্রামবাসী মিলে জায়গাটা কেটে সমান করে দেয়।। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই আগের মতন উঁচু।। এরপর গ্রামের সকলের উপস্থিতিতে একটা বড় গর্ত খোঁড়া হয় সেখানে।। খুঁড়ে সেখানে ঐ হাফিজ নামক বেক্তির পচাগলা লাশ পাওয়া যায়।। পরে তাকে ঠিক মতন দাফন করা হয়েছিলো আর রাস্তাটাও আর কখনো উঁচু হয়নি।। শেয়ার করেছেনঃ Mehedi MD. Abdullah

।। সংগৃহীত গল্প – ০৭ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, August 14, 2011 at 10:35pm
।। লাভলু মামার ভুতের গল্প।। ''ডুমনীগড় ফরেস্ট রেঞ্জে আমার পোস্টিং অনেক দিন হলো।''....লাভলু মামা গল্প বলা শুরু করলেন। ডুমনীগড় যে মানচিত্রের ঠিক কোন জায়গাটায়, আমরা কেউই মালুম করতে পারলামনা, কিন্তু ঐ এক ধরন লাভলু মামার..... গল্পের মাঝখানে ফোঁড়ন কাটলেই মহা ক্ষেপে যান তিনি... তাই মাথা নেড়ে চুপচাপ গল্প শুনছি আমরা..... ''জায়গাটা আমার মনের মত। বড় বড় চাপালিশ আর শিরীশ গাছে ঢাকা বন.... গোটা বন জুড়ে আছে বাঁশ আর বেতের ঘন ঝোপ। সাপ, বেজি, বানর ছাড়াও আরও কত কি বন্য প্রাণী যে আছে ডুমনীগড় বনে.. তার কোন ইয়ত্তা নাই।''
হারিকেনের ভৌতিক আলোয় কাচারী ঘরে মামার গল্প শুনতে বসেছি আমরা চার কাজিন... পল্টু, বিল্টু, টগর আর আমি। অনেকদিন পরে লাভলু মামাকে পেয়েছি। সারাদেশে যুদ্ধ চলছে.... জানের ভয়ে আমরা শহর ছেড়ে গেছি নানার বাড়ীতে... গ্রামে। বড় খালা, সেজ খালা কয়েকদিন আগেই ছেলে মেয়ে নিয়ে চলে এসেছেন গ্রামে। চির ব্যাচেলর লাভলু মামা বাড়ী এসেছেন আজই সন্ধ্যায়। বাড়ী ভর্তি লোকজন। বড়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে লাভলু মামা আমাদের গল্প শোনাতে নিয়ে গেছেন কাচারী ঘরে... আমরাও তাঁর গল্পের খুব ভক্ত। মামার অভিজ্ঞতার ভান্ডার খুব সমৃদ্ধ.... গল্প বলেনও খুব জম্পেস করে!
'' খাসিয়া পল্লীতে পরব অনুষ্ঠান.. সেখানে আমার নেমন্তন্ন।'' বলে চলেছেন মামা...'' ডুমনীগড় বনে দশ-বারো ঘর খাসিয়ার বাস। নেমন্তন্ন খেয়ে ফিরছি আমার বাংলোয়। রাত তখন.. এই ধর, দশটা। বন বাঁদারেই-তো জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়ে দিলাম.... বনে জঙ্গলে আমার কোন ভয়-ডর লাগেনা। সাথে আছে তিন ব্যাটারীর টর্চ লাইট আর আমার অফিসের দারোয়ান প্রদীপ। সেদিন ছিল কৃষ্ণপক্ষ... চারদিকে অন্ধকার। টর্চের আলোয় ঝর্ণার ধার ধরে চলছি। পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ... আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। এরইমধ্যে হঠাৎ খেয়াল করলাম পাতা মাড়ানোর খসখস শব্দ!''
অন্ধকার রাতে বন জঙ্গলের পরিবেশ, কাহিনীতে একটা ছমছম ভাব! আমরা নড়েচড়ে বসলাম......'' ভাবলাম কোন বন্য শুকর বা শেয়াল-টেয়াল হবে হয়তো! চারদিকে টর্চ মেরে কিছু দেখতে পেলামনা। কিছুদূর এগুতেই আবার সেই খসখস শব্দ! আমরা চলতে শুরু করলেই খসখস শব্দটা যেন আমাদের পিছু নিচ্ছে... আমরা থেমে গেলেই শব্দটাও থেমে যাচ্ছে! উহু... বুঝলাম কিছু একটা আমাদের ফলো করছে।''
গল্পে এখনই হয়তো কোন অশরীরি আত্মার আবির্ভাব ঘটবে... ভৌতিক পরিবেশ.. আর মামার গল্প বলার মুন্সিয়ানার ফলে তেমনই আশা করছিলাম আমরা। গুটিশুটি মেরে ভয়ে ভয়ে গল্প শুনছি...'' শীতের রাত! সাপ-খোপ হবার সম্ভাবনা কম। রাতের বেলায় এই এলাকায় মানুষেরও যাতায়াত নাই। প্রদীপ একটু ভয় পেয়েছে মনে হচ্ছে..... ভূত-প্রেতে বিশ্বাস আছে ওর। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কিছু। ডুমনীগড় বনের পরেই যে পাহাড়টা... ওটা ইন্ডিয়ায় পরেছে। কোন অপারেশনে গেলে এ পথ দিয়েই ওপার থেকে গোলাবারুদ নিয়ে ঢোকে মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু আজ-তো কোন অপারেশনের ইনফরমেশন নাই! কোন অপারেশন হলেই আগাম ইনফরমেশন পেতাম আমি। মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিঘ্নে পাড় করার দায়িত্ব ছিল আমার।''
প্রায় জমে ওঠা একটা ভুতের গল্প হঠাৎ করে অন্যদিকে টার্ন নেওয়ায় আমরা সবাই আশাহত!... তারপরও অধীর আগ্রহ নিয়ে শুনছি...'' আবছা অলোয় হঠাৎ দেখলাম প্রদীপের চোখ কপালে.. কিছু একটা দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়েছে ও...ভয়ে ওর মুখ হা হয়ে আছে! পিছন ফিরতেই দেখি... অন্ধকারের আড়ালে সাদা আলখেল্লা পড়া এক মূর্তি...মাথায় সাদা টুপি! বাতাসে নড়ছে আলখেল্লার আস্তিন! সাক্ষাত যেন যমদূত!''
গল্পটা এবার কোন দিকে টার্ন নেবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা...''ভুত-প্রেতে আমার বিশ্বাস নাই। আমি টর্চ মারতে যাব...এমন সময় কেউ একজন আমার হাত দু'টো পেছনমোড়া করে শক্ত করে বেঁধে ফেললো। সাদা আলখেল্লা-টা দু'পা এগিয়ে এলো আমার দিকে... পরিচিত গলার আওয়াজ পেলাম -'মাফ করবেন জনাব, আপনার বড্ড বাড় বেড়েছে... আপনি পাকিস্তান বিরোধী।... বেজন্মা মুক্তির সাথে হাত মিলিয়েছেন... আপনি দেশের শত্রু... আপনাকে উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে।'..... গলা শুনেই বুঝলাম আমার অফিসেরই বড়বাবু (সিনিয়র ক্লার্ক) আব্দুল লতিফ পাটোয়ারী.... ব্যাটা রাজাকারের বাচ্চা!''
চুপচাপ শুনছি আমরা...'' বনের নির্জনতাকে ভেঙে দিয়ে হঠাৎ ঠা ঠা করে পরপর চারটা গুলির আওয়াজ। একটা আমার বুক ভেদ করে চলে গেল... আর একটা লাগলো তলপেটে! প্রদীপের লাশটা গড়াতে গড়াতে গিয়ে পড়লো ঝিরির পানিতে.... আমার লাশটা গিয়ে পড়লো বিশ ফুট নীচে ঝিরির খাদে।'' গল্পের এই পর্যায়ে এসে একটু দম নিলেন মামা। তিনি খুব চমৎকার গল্প বলেন বটে, তাঁর গল্প বলার স্টাইলই আলাদা.... গল্পের আবহ ফুটিয়ে তুলে এমনভাবে বলেন যেন সব সত্যি বলছেন!... তাই বলে এতটা?! জলজ্যান্ত শরীরে নিজের মরার গল্প বলে গেলেন অবলিলায়?! ... মামা পারেনও বটে!
কিন্তু বিটকেল বিল্টুটা এবার আর চুপ থাকতে পারলো না.... ''চাপাটা একটু বেশী হয়ে গেলনা মামা? আপনি নিশ্চয়ই এটা সত্যি কাহিনী বলে চালিয়ে দিচ্ছেন না?!'' ..... কিন্তু আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে মামা নিজের স্বপক্ষে অবস্থান নিলেন...'' তোদের ওই এক দোষ! তোরা সব কিছুকেই বানোয়াট ভাবিস! ডুমনীগড় বনের ঝিরির খাদে গিয়ে এখনও লাশটা দেখতে পাবি। আর হ্যাঁ.... তোদের যেটা বলার জন্য আজ এই গল্প বলা... যে যুদ্ধ আমরা শুরু করে গেছি... সেই যুদ্ধে একদিন বিজয় নিশ্চিত করতে হবে তোদেরকেই। কথাটা মনে রাখিস।''
মামার ধমক খেয়ে আমরা বিনা বাক্য ব্যয়ে চুপচাপ উঠে ঘুমাতে গেলাম। বুঝলামনা.... এমন জলজ্যান্ত ডাহা মিথ্যা গল্পটা সত্যি বলে চালিয়ে দেবার হাস্যকর প্রয়াস পেলেন কেন তিনি?! রাতে ভাল ঘুম হয়নি.... সকালে অনেক্ষণ বিছানাতেই গড়াড়ড়ি করছি। হঠাৎ শুনি বাড়ীর ভিতরে শোরগোল... সবাই কান্নাকাটি করছে। ..... ডাক পিওন চিঠি দিয়ে গেছে.... ডুমনীগড় থেকে লাভলু মামার এক সহকর্মীর চিঠি! গত প্রায় এক মাস যাবৎ মামা বিনা নোটিশে দপ্তরে অনুপস্থিত। তিন দিন আগে বনের ভিতর ঝর্ণার খাদের নীচে একটা অর্ধগলিত বিকৃত লাশ পাওয়া গেছে... পোষাক দেখে লাশটা লাভলু মামার বলে ধারনা করা হচ্ছে......
আমি আর বিল্টু মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলাম। তারপর চারজনে ছুটলাম বাড়ীর আশপাশে লাভলু মামাকে খুঁজতে.... কোথাও খুঁজে পেলামনা তাঁকে... আমরা চারজন.... অনেক খুঁজেছি...... কিন্তু আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাঁকে। সংগ্রহ করেছেনঃ অ্যাডমিন

।। ভিনদেশি গল্প – ০১ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Monday, August 15, 2011 at 10:46pm
কেউ আপনারা টোকিওর আসাকাসাতে এলেই দেখতে পাবেন, আসাকাসা রোডের ধারে "কি-নো-কুনি-যাকা' নামে একটা ঢাল আছে। এটার মানে হল 'কি' প্রদেশের ঢাল। আমি জানি না, এটার নাম কেন 'কি' প্রদেশের ঢাল হল। সেই ঢালের এক ধারে দেখতে পাবেন একটি পুরোনো মোটেল। অনেক বড় আর প্রশস্ত। মোটেলের চারপাশের খালি জায়গাটুকুর কোথাও কোথাও ঘন এবং লম্বা সবুজ ঝোপঝাড়ে ঢাকা। রাস্তার আরেক পাশে সম্রাটদের প্রাসাদের সুউচ্চ দেয়াল লম্বা হয়ে রাস্তার সাথে সাথে চলে গেছে। অনেক অনেক আগে, টোকিওতে যখন রাস্তায় বিজলী বাতি আসেনি অথবা মানুষে টানা রিক্সা গাড়ি চলা শুরু করেনি, তখন আসাকাসার এই ঢালটা ছিল ভীষন ভয়ঙ্কর আর নির্জন। মানুষ পারতঃপক্ষে সূর্য ডোবার পরে এ রাস্তা দিয়ে কখনই যেত না । কখনও কোন পথচারীর সূর্যডোবার পরে বাড়ি ফিরতে হলে "কি-নো-কুনি-যাকা' অনেক লম্বা পাহাড়ি পথ ঘুরে বাড়ি ফিরত, তবুও এ পথ দিয়ে যেত না। কারণ তখন রাত হলেই "মুজিনারা" পথে নেমে আসত। সব শেষ যে মানুষটি এক মুজিনাকে দেখেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি কাছেই কোবায়েশী কোয়ার্টারএ থাকতেন। বছর তিরিশেক আগেই তিনি মারা যান। একদিন রাতে তিনি কি ভাবে মুজিনা দেখেছিলেন, তার গল্পই আজ বলবো। একদিন রাতে সেই ব্যবসায়ী তাড়াহুড়ো করে "কি-নো-কুনি-যাকা'র ঢাল পার হচ্ছিলেন। তখন বেশ রাত হয়ে গেছে। হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন, মোটেলের ধারে, গুটিসুটি মেরে হাঁটুতে মুখ গুঁজে এক মেয়ে ভয়ঙ্কর ভাবে কাঁদছে। তিনি ভয় পেলেন এই ভেবে যে, এই অন্ধকারে, এই নির্জন রাস্তায় মেয়েটা কি ভাবে এল? আর কেনই বা কাঁদছে? ডুবে টুবে মরবে না তো!
তিনি কোন শব্দ না করে, মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে, মেয়েটার পাশে এসে দাঁড়ালেন। "মেয়েটাকে দেখে ভদ্রঘরের মেয়ে বলেই মনে হচ্ছে। পরনে দামী পোশাক। চুল বাঁধার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, কুমারী মেয়ে।" তিনি ভাবলেন। কিছুটা বিষ্ময় নিয়ে তিনি মেয়েটার আরও কাছে এগিয়ে এলেন, তারপর বললেন, "ও-জোচু" তুমি কাঁদছ কেন? কেঁদ না। তোমার কি হয়েছে আমাকে খুলে বল, দেখি তোমাকে কোন সাহায্য করতে পারি কিনা? তোমাকে সাহায্য করতে পারলে আমার খুব ভালো লাগবে। ভদ্র লোক প্রকৃতই বেশ দয়ালু ছিলেন। তাই তিনি কথা গুলো মন থেকেই বলছিলেন। কিন্তু মেয়েটা তার লম্বা হাতায় মুখ ঢেকে কেঁদে যাচ্ছে তো কেঁদেই যাচ্ছে। একবারও মুখ তুলে তাকাচ্ছে না।
ভদ্রলোক আবার বললেন, "ও-জোচু" তুমি কেঁদ না। লক্ষী মেয়ে আমার, কথা শোন প্লীজ! জায়গাটা মোটেও ভালো নয়। আর তোমার মত একটা যুবতী মেয়ের এখানে থাকা একেবারেই নিরাপদ নয়। আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, কি হয়েছে আমাকে খুলে বল? দেখি তোমার জন্য আমি কিছু করতে পারি কিনা?
ভদ্রলোকের অনুরোধে তাকে পেছনে রেখে, মেয়েটা আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো । তখনও সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। হাত দিয়ে মুখ ঢাকা। ভদ্রলোক চেষ্টা করে যেতেই লাগলেন, তিনি বললেন, "ও-জোচু, আর কেঁদ না প্লীজ। আমর কথা শোন, লক্ষী বোন আমার! বলে, তিনি মেয়েটার কাঁধে আলতো করে হাত রাখলেন। মেয়েটা এবার তার দিকে মুখ করে ঘুরে দাঁড়ালো। তার মুখ থেকে যেন খসে পড়ল, লম্ব হাতাটা। মেয়েটা তার অব্য়বে হাত বুলিয়ে, সেই ব্যবসায়ীর দিকে এগিয়ে এল। আবছা অন্ধকারে তিনি দেখলেন। একটা ভয়ঙ্কর অবয়ব- যেখানে চোখ, নাক,কান, মুখ কিছু নেই। আর তখুনি চারিদিকটা কেমন অন্ধকার আর শূণ্য হয়ে গেল। তিনি দিগ্বিদিকশূণ্য হয়ে ভয়ে দৌঁড়াতে শুরু করলেন। একবারও পেছন ফিরে তাকালেন না। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে কতক্ষণ মনে নেই, তিনি দূরে একট বাতির আলো দেখতে পেলেন। দূর থেকে টিমটিমে আলোটুকুকে জ্বোনকির আলোর মত লাগছিল। তিনি ভাবছিলেন, এ আলো নিশ্চই "সোবা" দোকানীর কাছে থেকে আসছে কারণ যেখানে তিনি আলোটা দেখলেন, সেখানে রাস্তার ধারে তার এক চেনা দোকনী "সোবা" বিক্রী করেন। যেই থাক না কেন? তিনি ঐ আলো লক্ষ্য করে দৌঁড়াতে শুরু করলেন।
তারপর হুড়মুড় করে এসে তিনি সোবার দোকানে ঢুকে ধপাস করে বসে, শব্দ করে কেঁদে উঠলেন।
এখানে, এখানে, সোবার দোকনী রুক্ষ স্বরে লোকটিকে কাছে ডাকল। "কেউ মেরেছে নাকি আপনাকে? ব্যাথা পেয়েছেন?
না না, ব্যাথা পাইনি- শুধু---------
শুধু কি? ভয় দেখিয়েছে? লোকটার গলা খসখসে, কোন সহানুভূতি নেই। ডাকাত নাকি?
না না! ডাকাত নয়। ভীত সন্ত্রস্ত লোকটা একটা ঢোক গিলে, কাঁপতে কাঁপতে বললেন, আমি ----আমি এক মেয়েকে দেখলাম মোটেলের পাশে------ তার মুখটা দেখে------ওহ! আমি বলতে পারবো না, কি দেখলাম।
সোব দোকানী চেঁচিয়ে বলল, সে কি তোমাকে খুব ভ্য় দেখিয়েছে? ঠিক এরকম একটা মুখ দেখিয়েছে? ঠিক আমার মত---- মুখের ওপরেরটা ডিমের মত সমান?
লোকটা সোবার দোকানীর দিকে তাকিয়ে দেখলেন, একটা অবয়ব তাতে কোন নাক, মুখ আর চোখ নেই।

সংগ্রহ করেছেনঃ Tushar Rahman Sishir

ভয়

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Monday, August 15, 2011 at 4:43pm
১.
মধুপুরের বিখ্যাত ডাকাত ইদ্রিস আলি কে খুন করা হয়েছিল সন্ধাবেলা । মাথার পেছনে প্রথমে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে অজ্ঞান করা হয় , তারপর গলায় রশি পেচিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয় মধুপুর মসজিদের পাশের আম গাছটায় । ফজরের নামাজ পড়তে এসে গ্রামের সব চেয়ে বৃদ্ধ লালু শেখ যখন আমগাছ তলায় কিছু একটা দেখে অজ্ঞান হয়ে যায় , খবরটা তখনও কেউ জানেনি । বোবা জামাল শীতে কাপতে কাপতে খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়িটা নিয়ে যখন নামছিল , হঠাৎ করেই তার চোখ গেল আমগাছটার দিকে , আধহাত লম্বা জিহ্বা বের করে ইদ্রিস আলি তখন তার দিকেই চেয়ে আছে । বোবা জ়ামালের হাত থেকে রসের হাড়িটা পড়ে গেল , গাছ থেকে এলোপাথাড়ি নামতে গিয়ে দুই পা কেটে গেল , সেখান থেকে দরদর করে রক্ত বেরুতে লাগল । গাছ থেকে নেমেই সে বিকট চিৎকার করতে করতে গ্রামের দিকে ছুটল । যে খবর সারারাতে কেউ জানেনি , পরবর্তী আধ ঘন্টায় গ্রামের সকল মানুষ তা জেনে গেল । বোবা জামাল তাদের মুখে কিছুই বলতে পারে নি, কিন্তু বারবার আমগাছ তলার দিকে আঙ্গুল উচিয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করছিল , লোকজন কিছু একটা আন্দাজ করে আমগাছতলায় এসে থমকে যায় । ইদ্রিস আলীর বের করা জিভে তখন মাছি ভন ভন করছে ,সারা মুখ কালো হয়ে আছে রক্তে , কোটর থেকে চোখটা যেন বের হয়ে আসতে চাচ্ছে । জীবিত ইদ্রিস আলীর সাথে এ মৃত ইদ্রিস আলীর কোনই মিল নেই । এ ভয়ংকর মৃত্যু অনেকেই সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যায় আমগাছতলা থেকে । লাশের নিচে তখনো লালু শেখ পড়ে আছে , বিড়বিড় করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে ।কেউ তাকে তুলতে যাচ্ছেনা , সবাই তাকিয়ে আছে লাশের দিকে , এ যেন এক মায়া ! কুহক ! । ক্রমে মানুষ ভীড় করতে লাগল এ আমগাছতলায় । যে আমগাছতলা এতকাল ছিল নিরব নির্জন , সকাল দশটার মাঝেই সে আমগাছতলা হয়ে গেল লোকে লোকারণ্য । দশটার কিছু পরে সাবইন্সপেকটর কাওসার আহমেদ গ্রামের চেয়ারম্যান জলিল হোসেনের বাড়িতে এসে হাক ছাড়ল,
--জলিল সাব বাড়িতে আছেন নি?
জলিল হোসেন তখন উঠোনে পিড়িতে বসে নাপিত দিয়ে চুল কাটাচ্ছিলেন । বিরক্ত স্বরে বললেন
--আছি । কেডা?
--আমি কাওসার ।
--ও , সাবইন্সপেকটর সাব । আসেন ভিতরে আসেন ।
কাওসার বাড়ির ভিতরে ঢুকেই চেয়্যারম্যানকে বলল,
--তা , লাশের কি করবেন ,কিছু ঠিক করলেন ?
--না , এহনো ঠিক করি নাই ।আপনে কি কন , কি করা যায় ?
--আমি কই ,লাশ কবর দিয়া ফালান । এইটা নিয়া ঝামেলা করার ইচ্ছা করতাছেনা ।
--ঠিক আছে , ইস্নপেকটর সাব । তাই করতাছি। আপনে কিন্তু চা খাইয়া যাইয়েন ।
সাবইন্সপেকটর কাওসার চা খেয়ে চলে গেলেন ।
লাশটা তখনো গাছে ঝুলছে । কেউ লাশ নামাতে যাচ্ছে না । এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয় । মানুষ সকল অস্বাভাবিকতাকে ভয় পায় । এটা মানুষের এক সহজাত ধর্ম । এখানে কোন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা ঘটেনি , কিন্তু ইদ্রিস আলীর মৃত্যু সব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে । এখানে সবাই মৌন । কিছু একটা দেখার প্রতীক্ষায় তাকিয়ে আছে সবাই ।
হঠাৎ মসজিদের ইমাম সিরাজ মিয়া কোথা হতে উদয় হয়ে চেচিয়ে উঠল ,
--ওই মিয়ারা লাশ কি গাছেই পচব নাকি ? আসেন , লাশ নামাইতে অইব ।
বলেই সিরাজ মিয়া লুঙ্গি মালকোচা মেরে তরতরিয়ে গাছে উঠে গেল । লাশের নিচে দুইজন চট বিছিয়ে ধরল । সিরাজ মিয়া উপর থেকে রশি কেটে দিতেই ধপ করে লাশটা পড়ল চটে । তীব্র মানুষ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল এলাকাজুড়ে ।
বিকেল হওয়ার আগেই, জানাজা না পড়িয়েই ইদ্রিস আলীকে পুঁতে ফেলা হল গ্রামের দক্ষিণ দিকের পোড়াবাড়ির পাশের জমিতে । অপঘাতে মরা লাশ । কি না কি হয়, এই ভয়ে গ্রামের সকল ছেলেবুড়োকে নিষেধ করা হল আগামী সাতদিন যাতে এদিকে কেউ না আসে । পরদিন সকালে লাল্টুদের মুদি দোকানে বসে সিরাজ মিয়া চা খেতে খেতে আচমকা বলে উঠল
--ও লাল্টুর বাপ । কালকে রাইতে তো মনে হয় ইদ্রিসরে দেখলাম ।
--কি কন ইমাম সাব! ইদ্রিসরে ?
--হ, ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য ওজু করতাছিলাম । আন্ধাইর তহনো যায় নাই । হঠাৎ চোখ গেলগা আম গাছটার দিকে । আন্ধাইরে ঠিকমতো কিছু দেহা যায়না । তবুও ছায়ার মতো দেখলাম আমগাছতলায় আন্ধইরে কিছু একটা বইয়া আছে । আমি পাত্তা না দিয়া ওজু করতে লাগলাম । আন্ধাইরে কত কিছুই দেহা যায় । সবকিছুকে পাত্তা দিতে নাই । কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হুনলাম ,খুবই অদ্ভুত স্বরে কেডা জানি কানতাছে । আর কান্নার শব্দটা আইতাছিল ওই আমগাছের তল থেইকা । তহন পাইলাম ভয় । তাড়াতাড়ি ওজু শেষ কইরা মারলাম দৌড় ।
এ ঘটনা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে বেশী দেরি হলনা । আমগাছতলাটা সকলের কাছে হয়ে গেল ভীতিকর এক জায়গা ।
এর একমাস পর ফজরের নামাজ পড়তে এসে গ্রামের লোকজন, ইমাম সিরাজ মিয়াকে মসজিদে না পেয়ে খুজতে খুজতে যখন আমগাছতলায় আসল , তখন আমগাছের ডালে সিরাজ মিয়ার ফাসিতে ঝুলানো বিকৃত লাশটা দেখতে পায় । ২

করপোরেট জীবনে ছুটি খুব একটা পাওয়া যায় না । এবার তিনদিনের ছুটি পাওয়াতে বন্ধু অরুণের সাথে বেড়াতে চলে এলাম মধুপুরে । মধুপুর গ্রামটি সত্যিই সুন্দর । অরুণ যতটুকু বলেছিল তার চেয়েও বেশী । সে এ গ্রামেই জন্মেছে । পৃথিবীতে কিছু স্বপ্নাবিষ্ট মানুষ জন্মায় যারা কখনো তাদের শিকড়কে অস্বীকার করে না । অরুণ তাদেরই দলে । তার কাছে এ গ্রামের কথা এতো শুনেছি যে , এখানে এসে মনে হচ্ছে মধুপুরকে আমি অরুণের চেয়েও ভাল চিনি ।
ট্রেন থেকে নেমেছি সেই দুপুরবেলা । এখন গরু গাড়িতে করে চলেছি অরুণদের বাড়িতে । বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় গরুর গাড়িতে চড়া খুবই আরামের । কিন্তু গরু গাড়ি যে এতঝাকি খায় , না চড়লে বুঝা যায়না । তীব্র ঝাকিতে আমার মাথাব্যথা শুরু হয়েছে । অরুণ আমার পাশে বসে একনাগাড়ে কথা বলেই যাচ্ছে । শেষে বিরক্ত হয়ে বললাম
--কি রে ? আর কত দূর?
--এইতো দোস্ত , এসে পড়েছি । আর আধঘন্টাখানেক ।
-- আরও আধঘন্টা ! প্রচুর ক্ষুধা লাগছে রে । এখন কি করি ?
-- চিন্তা করিস না ,বাড়িতে ফোন কইরা দিছি । সব রান্না রেডী । খাইয়া খাইয়া পেট বানাইছস বটে একখান ! দোস্ত এখন থেকে একটু কম খাওয়া শুরু কর । ডায়েট করা শুরু কর ।
--এত কথা বলিস না । এখন চুপ কর , মাথা ব্যথা করছে ।
বিকেলের আগেই পৌছে গেলাম অরুণদের বাড়িতে । অরুণের চাচা রহিম উদ্দিন আগেই দাড়িয়ে ছিলেন রাস্তায় এসে । গাড়ি থেকে নেমেই চাচাকে সালাম দিলাম, চাচা হাসি মুখে বললেন,
--এতক্ষণে আইলা তোমরা ।
--আর বইলেন না চাচা , গরুর গাড়িতে চড়ে মাথা ব্যাথা করতাছে ।
--নতুন উঠলে একটু আধটু মাথা ব্যথা করেই । লও লও ভিতরে লও।
অরুণদের বাড়িটা সুন্দর । শুধু সুন্দরই না ,সজানোও বটে । উঠোনের এক কোণায় ফুলের বাগান , ফুল ফুটে আছে সেখানে । আর এতেই এ বাড়ির সৌন্দর্য বেড়ে গেছে বহুগুণে । কিছু অচেনা ফুলের গন্ধে বাড়ি ভরে গেছে । আমি বললাম ,
-- এটা কি ফুলের গন্ধরে?
--কি জানি । চল আগে হাতমুখ ধুয়ে আসি ।
বাড়ির পাশেই বিরাট পুকুর । আমরা পুকুর থেকে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেলাম । খাওয়া শেষে অরুণ আমায় ঘুরতে নিয়ে বের হল । রাত তখন দশটা । হারিকেনের আলোয় অরুণ আর আমি বিছানা ঝাড়ু দিয়ে ঘুমানোর আয়োজন করছি । অরুণ হঠাৎ বলল
--সকালে আমার আবার ফজরর নামাজ পড়ার অভ্যাস আছে , তুই পড়বি নাকি ?
--আমার যা ঘুম । হাতি দিয়েও টেনে তুলতে পারবি কিনা সন্দেহ । ডাক দিয়ে তুলতে পারলে যাব ,ডাকিস ।
দুজনে শুয়ে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি জানিনা । ঘুম ভাঙল অরুণের ডাকে ।
--দোস্ত উঠ ,উঠ । সকাল হয়ে গেছে । নয়টা বাজে । উঠ ।
বিছানায় উঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে । রোদের আলোয় ঝলমল করছে চারপাশে । অরুণ গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছে বিছানার পাশে ,বলল
--আজকেই ঢাকা চলে যাব । উঠ । রেডি হয়ে নে ।
আমি অবাক হয়ে বললাম
--কিরে কি হয়েছে ? এসেছি তিনদিন থাকব বলে । আর তুই আজই চলে যাবি ? কিছু কি হয়েছে?
-- না কিছু হয়নি । এখন রেডি হয়ে নে । দুপুরের ট্রেন ধরতে হবে ।
আমি অবাক হয়ে অরুণের দিকে তাকিয়ে রইলাম । ভাবলাম হয়তো অরুণের সাথে তার চাচা বা চাচীর ঝগড়া হয়েছে । কথা না বাড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে সোজা পুকুর পাড়ে চলে এলাম । হাত মুখ ধুয়ে পুকুর থেকে উঠেই দেখি অরুণের চাচা দাড়িয়ে
--তোমরা না কি আজই চইলা যাইতাছ ?
--অরুণতো তাই বলল । আচ্ছা চাচা কি হয়েছে যে অরুণ চলে যেতে চাচ্ছে ?
--কি জানি । বুঝবার পারলাম না । তুমি মনে কিছু লইও না , ও একটু এমনই । তয় পরে আরেকবার সময় কইরা আইস । ৩

সেদিন বিকালের ট্রেনেই আমরা ঢাকায় রওনা দিলাম । অরুণ সকাল থেকেই গম্ভীর হয়ে আছে । আমার সাথে তেমন একটা কথা বলছে না । অরুণকে আমি সবসময়ই হাসিখুশি থাকতে দেখেছি । এমন গম্ভীর মুখে তাকে কখনোই দেখিনি । আমি শতবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি --কিরে কি হয়েছে ? একবারও সে উত্তর দেয়নি ।
রাত তখন আটটা কি নয়টা । অরুণ আর আমি ট্রেনে সামনাসামনি বসে আছি । ট্রেনের এ কামরাটা অপেক্ষাকৃত নির্জন । ট্রেনের সকল বাতি নিভানো হয়েছে অনেক আগেই । পাশের জানালাটা খোলা । খোলা জনালা দিয়ে হুহু করে বাতাস আসছে । চাঁদের আলো খানিকটা এসে পড়েছে অরুণের মুখে । আর এতেই আমি তাকে আবছাভাবে দেখছি । এ অদ্ভূত পরিবেশে হঠাৎ অরুণ আমার দিকে ফিরে আচমকা বলল
--আচছা,শহিদ, তুই কি আত্নায় বিশ্বাস করিস?
আলো ছায়াময় সেই নির্জন ট্রেনের কামরায় এমন একটা প্রশ্ন শুনে আমি শিউরে উঠলেও বলি
-- না । আমি বিশ্বাস করিনা । হঠাৎ এ প্রশ্ন করলি যে ।
অরুণ কিছুক্ষন চুপ করে কি যেন ভাবল , তারপর বলতে লাগল,
-- তাহলে শোন , তোকে একটা ঘটনা বলি ,অনেকদিন আগে মধুপুরে দুইজন মানুষ মারা যায় । একজনকে মসজিদের পাশের আমগাছটায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় । এর একমাস পরেই আরেকজন সেই একই গাছে আত্নহত্যা করে । গ্রামাঞ্চলে এইসব ঘটনা নিয়ে খুব তোলপাড় হয় । তখন থেকে আমগাছটা সবাই এড়িয়ে চলতে শুরু করে ।পারতপক্ষে কেউ রাতে ভুলেও আমগাছটার তলা দিয়ে যায়না । গতকাল রাতে ফজরের নামাজ পড়তে এই আমগাছটার তলা দিয়েই যাচ্ছিলাম । তখনো অন্ধকার কাটেনি । চাঁদের আলো হয়তো ছিল । কিন্তু আমি যখন যাচ্ছি তখন ঘোর অন্ধকার । এমনিতে আমি বেশ সাহসী । কিন্তু আমগাছটার তলা দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম , তখন খেয়াল করলাম আমি আসলে ভয় পাচ্ছি , সম্পূর্ণ বিনা কারণে ভয় । নির্জন একটা রাস্তা দিয়ে একা গেলে যে কেউ ভয় পেতে পারে । কিন্তু আমার ভয়টা সম্পূর্ণ অন্যরকম । আমার মনে হল ঠিক আমগাছের গোড়ায় কিছু একটা দাড়িয়ে আছে । আমি কিছু দেখিনি , তবুও মনে হল কিছু একটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে । তার অস্তিত্ত্ব নেই , শরীর নেই , কিছু নেই , তবুও মনে হইল কিছু একটা আমার পাশে ঠিকই আছে । ঠিক তখনি ,অন্ধকারে দেখলাম ঠিক মানুষ বলা যায়না , তবুও অনেকটা মানুষের মত অবয়ব ঠিক আমগাছের গোড়ায় দাড়িয়ে আছে । তখন এক জান্তব ভয় আমাকে গ্রাস করল । এমন তীব্র ভয় আমি জীবনে কখনো পাইনি । তখন আমি খেয়াল করলাম আমার পা কাঁপছে । আমি এক চিৎকার দিয়ে মসজিদের বারান্দায় এসে অজ্ঞান হয়ে যাই । তারপর কি হয় জানিনা । জ্ঞান ফিরলে দেখি মসজিদের বারান্দায় শুয়ে আছি । অনেক মানুষ ভীড় করে আছে ।
একনিশ্বাসে কথাগুলো বলে অরুণ হাপাতে লাগল । আমি প্রচন্ড ভয়ে কথা হারিয়ে ফেলেছি । সেদিন ট্রেনে অরুণের সাথে আর কোন কথা হয়নি । অরুণ সারা পথই কি যেন ভাবছিল । রাত তিনটায় যখন ট্রেনটা ঢাকায় আসে তখন ট্রেন থেকে নেমে অরুণ শুধু বলেছিল - যাই । পরে দেখা হবে ।
অরুণ থাকে মগবাজারে , তার বাবা মাকে নিয়ে । আর আমি থাকি মালিবাগে , একা একটা ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া করে । বাসায় ফিরে সেদিন আর ভয়ে ঘুমুতে পারিনি । বই পড়ে , আলো জ্বালিয়ে রাতটা কোনমতে পার করেছিলাম ।
কিছুদিন পর প্রচন্ড কাজের চাপে অরুণের গল্প ভুলেই গেছিলাম । মধুপুরে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরে হঠাৎ অরুণ আমাকে ফোন করে উদভ্রান্তের মত বলল
-- দোস্ত তুই আমারে বাঁচা
-- কেন কি হয়েছে ?
--আমি বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছি ।
--কি হয়েছে । খুলে বল ।
--সেদিন গভীর রাতে মধুপুর থেকে ফিরে , ট্রেন স্টেশন থেকেই একটা রিকশা নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম । রিকশাটা চলতে চলতে যখন একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকল , ঠিক তখনি আমার মনে হল কিছু একটা আমার পাশের খালি জায়গায় বসে আছে । অনুভূতিটা এতই তীব্র যে আমি আমার পাশে একঝলক তাকিয়েও দেখলাম । সেখানে কিছুই নেই ।আমি বুঝতে পারলাম এটা আমার মনের ভুল । ঠিক তখনই আমার মনে একটা অদ্ভুত চিন্তা আসল , ভয়ানক কোনকিছু মধুপুর থেকে আমি আমার সাথে করে নিয়ে আসিনি তো ? মন থেকে যতই চিন্তাটা ফেলে দিতে চাইলাম ততই তা ঝাকিয়ে বসল । কিন্তু রিকশা ভাড়া মিটিয়ে যখনই আমাদের বাড়ির গলিটাতে ঢুকলাম তখনই ঐটাকে দেখলাম । সামনেই অন্ধকারে দাড়িয়ে আছে । তার চোখ নেই ,মুখ নই, পা নেই , তবু মনে হল ওটা চেয়ে আছে আমারই দিকে , তার মুখে ক্রুর হাসি ।। আমি দৌড়ে বাড়ির গেটে যেয়ে দারোয়ানকে ডাকতে থাকি । দারোয়ান আমাকে ধরে নিয়ে পৌছে দিয়ে আসে আমাদের ফ্ল্যাটে ।
এতকথা অরুণ একনাগাড়ে বলে হাপাতে লাগল । আমি বললাম
--এ সবই তোর কল্পনা । চিকিৎসা নিলে মনে হয় ঠিক হয়ে যাবে ।
--প্রথমে আমিও তাই ভেবেছিলাম । তিনজন সাইকোলজিস্টের সাথে দেখা করেছি , সব বলেছি, কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেনি । এখন আমি আমার রুমে তাকে দেখি , দেখি কিছু একটা হাটছে আমার অন্ধকার ঘরে । -ঘর অন্ধকার করে ঘুমালে প্রায়ই দেখি মশারির ওপাশে কিছু একটা দাড়িয়ে আছে । তাই এখন বাতি জ্বালিয়ে ঘুমাই ।
--ঠিক আছে তোকে আরো কিছু সাইকিয়াট্রিস্টের ঠিকানা দিই , তুই গিয়ে দেখা করে আয় ।
ঠিকানা নিয়ে অরুণ ফোন রেখে দেয়।
আমার দেয়া ঠিকানাগুলোতে সে গিয়েছিল কিনা জানিনা । কিন্তু মাসখানেক পর অরুণ যখন তার রুমের ফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে তখন খুবই অবাক হই । বহু কাজের মধ্যেও তার জানাজায় যাই । তার বাবা সেদিন আমাকে জড়িয়ে কাঁদলেন অনেকক্ষন । কেন অরুণ আত্নহত্যা করেছে তা কেউ বলতে পারেনি । তবে শেষের দিকে অরুণ নাকি গভীর রাতে- কে কে বলে চেচিয়ে উঠত আর একা একা কথা বলত । ৪

অরুণের লাশ কবর দিয়ে যখন বাসায় ফিরছি তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে । অরুণ আমার অনেক কালের বন্ধু । সে আর আমি একসাথে কত জায়গায় ঘুরতে গেছি । তার আর আমার বহু স্মৃতি মনে পড়ে কষ্ট হতে লাগল । জানিনা কতক্ষণ উদ্দেশ্যবিহীন হেটেছি , জানিনা কেদেছি কিনা , কত কি ভেবেছি তাও জানিনা । রাত দশটায় বাড়ির গেটে আসতই দারোয়ান বলল
--ভাইজানের কি মন খারাপ ?
--না ।
--তাইলে মুখ অমন শুকনা কে ?
আমি ঊত্তর না দিয়ে গেট দিয়ে ঢুকে পড়লাম । সিড়ি দিয়ে উঠার সময় পাশের বাসার বিড়ালটাও উঠতে লাগল আমার সাথে । আমার ফ্ল্যাট তিনতলায় । ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভিতরে তাকাতেই এক তীব্র ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল । আমার রুম তখন পুরো অন্ধকারে ডুবে আছে , পাশের বাড়ি থেকে কিছু আলো এসে পড়েছে আমার রুমে । আর এই অস্পষ্ট অদ্ভূত আলোতে আমি স্পষ্ট দেখলাম আমার শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানটায় ঝুলে আছে অরুণের লাশ ! তীব্র ভয়ে কাপতে কাপতে দৌড়ে নিচে নেমে ,গেটের কাছে এসে হাপাতে লাগলাম । দারোয়ান দৌড়ে এসে বলল -- আরে ভাইজান কি হইছে?
--লাশ!
-- লাশ ? কোথায় ?
--আমার রুমে
দারোয়ান পানি দিয়ে বলল
-- লন পানি খান । আর কি হইছে একটু খুইলা কন ।
--রুমের দরজা খুলে তাকিয়ে দেখি , সামনের রুমে যে ফ্যানটা তাতে রশি পেচিয়ে কেউ একজন ঝুলে আছে ।
--কন কি? চলেন তো আমার সাথে ।
ফ্ল্যাটে এসে দেখি কিছুই নেই । দারোয়ান মৃদু হাসি দিয়ে বলল-- বেহুদাই ভয় পাইছেন ।
দারোয়ান চলে গেলেও আমি ফ্ল্যাটে ঢুকতে সাহস পেলাম না । আধ ঘন্টা পরে যখন ঢুকলাম তখন আগের ঘটনাটা নিজের কাছেই কেমন হাস্যকর লাগছে। রাতে আরেকবার গোসল সেরে কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম ।
গভীর রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল । আমার ঘুম এত সহজে ভাঙ্গে না । তারমানে কিছু একটা হয়েছে । ভালো করে কান পেতে কিছু একটা শুনতে চেষ্টা করলাম তখন হঠাৎ মনে হল কিছু একটা নিশব্দে হাটছে আমার বিছানার চারপাশ দিয়ে । মশারির জন্য ভালো করে কিছুই দেখতে পারছি না তবু মনে হল গাঢ় অন্ধকারে আরো গাঢ় কিছু একটা নড়াচড়া করছে । তীব্র একটা ভয় আমাকে গ্রাস করল । এতো তীব্র ভয় আমি জীবনে পাইনি । ঘরে বাতাস নেই , ফ্যান বন্ধ, তবুও আমি স্পষ্ট দেখলাম , আমার মশারিটা হঠাৎ নড়ে উঠল । হঠাৎ পায়ের দিকে মশারির দিকে আমার চোখ গেল , আর তীব্র আতঙ্ক নিয়ে দেখলাম , সেখানে একজন মানুষের মুখ দেখা যাচ্ছে , অনেকখানি জিভ বের হয়ে আছে , মুখ রক্তে কালো , চোখটা বের হয়ে আসতে চাচ্ছে বাইরের দিকে । জ্ঞান হারানোর পূর্বে টের পেলাম মানুষ পচা তীব্র দুর্গন্ধ আমার রুমজুড়ে ছড়িয়ে গেছে । ৫

গভীর রাতে এখনো আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় । তাকিয়ে থাকি অন্ধকারে । কিছুই দেখি না । তবু মনে হয় কিছু একটা তাকিয়ে আছে আমার দিকে!!ভয়ানক কিছু একটা হওয়ার প্রতীক্ষায় আমি দিন গুনছি ।
বারান্দায় কিছু একটা হাটছে । ধীর পদশব্দ শোনা যাচ্ছে , আর কিছু ফিস ফিস শব্দ । নাহ! আজ আর লিখতে ইচছে করছে না , জানিনা আর কোনদিন লিখার সুযোগ পাব কিনা । লেখক : কবিশহিদুল

"অশরীরি” একটি ভৌতিক রহস্য গল্প

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Tuesday, August 16, 2011 at 7:57pm
ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় রাত পৌনে ১টা বাজে । ক্রিং ক্রিং ক্রিং করে ড্রইং রুমে ফোনটা অনেকক্ষন ধরে বাজছে । এই শীতের রাতে ফোন ধরার কোন ইচ্ছেই শান্তুর নেই । শান্তু মনে মনে ভাবছে যেই ফোন করুক, ভোরে কলার আইডি দেখে কল ব্যাক করা যাবে । শান্তু এখন মনে প্রাণে চাইছে যে, ফোন বাজাটা বন্ধ হয়ে যাক । এমনিতেই শুতে শুতে অনেক রাত হয়ে গেছে, তার উপড়ে ভোরে অফিস ধরতে হবে । এতো রাতে ফোন ধরার কোন মানে হয় না ।
শান্তু কম্বল দিয়ে মাথা ঢেকে ফেলে । কিন্তু তবুও ফোনের একঘেয়ে ক্রিং ক্রিং শব্দটা ওর মাথায় গিয়ে লাগে । ও চিৎকার করে বলে উঠে উফ.... অসহ্য ! অসহ্য ।
যে ফোন করেছে সেও যেন নাছড়বান্দা, যেন পণ করে বসে আছে , এ প্রান্ত থেকে কেউ ফোন না ধরা পর্যন্ত রিং করেই যাবে । শান্তু নিজেকে আর কম্বলের নীচে আটকে রাখতে পারে না । যন্ত্রনারে, যন্ত্রনারে বলতে বলতে বিছানা থেকে উঠে যায় । বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে শান্তু মনে মনে ঠিক করে উল্টা পাল্টা ফোন হলে -যেই করুক চৌদ্দ গোষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়বে ।
গভীর রাতের ফোন গুলো সাধারনত হয় শোক সংবাদের, নয় তো উল্টা পাল্টা । কেউ মারা গেলে অথবা অসুস্থ্য হলেই আত্মীয়-স্বজনরা গভীর রাতে একে অপরকে ফোন করে । তবে বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় যে, এ যুগের কোমড়ের নীচে প্যান্ট পরা চেংড়া চেংড়া সব পোলাপান উল্টা পাল্টা ডায়াল খেঁজুরা আলাপ করার জন্য মেয়েদের খুঁজে বেড়ায় ।
শান্তু মনে মনে নিজেকে একরকম তৈরি করেই ড্রইং রুমে দিকে রওনা দেয় । ও ধরেই নিয়েছে যে, এটা উল্টা পাল্টা ফোন ছাড়া আর কিছুই হবে না । ড্রইং রুমের দিকে যেতে যেতে শান্তুর একবার মনে হয়, দেখা যাবে যেই ও ফোনের কাছে গিয়ে দাঁড়াবে ওমনি ফোন বাজা বন্ধ হয়ে যাবে । কপাল কুচকে ড্রইং রুমের বাতিটা জ্বালিয়ে শান্তু ফোনের সামনে এসে দাঁড়ায় । দুই সোফার মাঝখানে রাখা ফোনটা তখনও বেজে চলেছে । সোফায় বসে, শান্তু রিসিভারটা তুলে নিয়ে বলে - হ্যালো, কে বলছেন ? কয়েক মুহুত কেটে যায় ।
অপর পাশ থেকে কোন শব্দ নেই । শান্তু আবারও বলে - হ্যালো, কে বলছেন ? ওপর পাশে থেকে এবারও কেউ উত্তর দেয় না । এবার শান্তু বিরক্তি আর চেপে রাখতে পারে না - প্রায় চিৎকার করে বলে - আরে কথা বলছেন না কেন ? বেশ কিছুক্ষন চুপ করে কানে রিসিভার ধরে রাখার পর শান্তুর মনে হলো, অপর পাশে কেউ একজন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ।
শান্তু আবারও বলে উঠে - হ্যালো ! হ্যালো ! আশ্চর্য কথা বলছেন না কেন ? কথা না বললে এতো রাতে ফোন করেছেন কেন ? যতোসব যন্ত্রনা । ওপর পাশে থেকে আবার ও দীর্ঘশ্বাস ফেরার শব্দ ভেসে এলো । শান্তু আবার বললো - হ্যালো ! হ্যালো ! হঠাৎই ডায়াল টোন ফিরে আসাতে শান্তু রিসিভারটা প্রায় আছড়ে রেখে বলে উঠলো - যতোসব নরকের কীট । শান্তুর চোখ থেকে ঘুম পুরোপুরি সড়ে গেছে । সোফা থেকে উঠে ওর রুমে যাবার জন্য যেই না মাঝখানে ডাইনিং রুমের দরজায় তাকিয়েছে, ওমনি কয়েক মুহুর্তের জন্য চমকে উঠলো শান্তু - ওর মনে হলো চট করে কে যেন সড়ে গেল । শান্তুর পুরো শরীর হঠাৎ কেঁপে উঠলো । সমস্ত শরীরে একটা শিরশির অনুভুতি ভয়ে গেল । শান্তুর মনে হলো,যে কেউ একজন দরজায় দাড়িয়ে ওকে দেখছিল । ও তাকাতেই যেন চোখের পলকে শূণ্যে একটা অবয়বটা মিলিয়ে গেল । শান্তুর পুরো শরীর ঝিম ঝিম করেছে । কেউ আছে কিনা, ভাল করে দেখার জন্য শান্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইনিং রুমের বাতিটা জ্বেলে দিল । মুর্হুতে পুরো ড্রাইনিং রুমটা আলোকিত হয়ে গেল । ড্রাইনিং টেবিল, চেয়ার, ফ্রিজ, ফ্রিজের উপড় রাখা বিভিন্ন বোতলগুলো যেন ওর দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গাত্নক হাঁসি হাসতে লাগলো ।
এছাড়া আর কোথাও কেউ নেই । নির্ঘাত চোখের ভুল বলে , মন থেকে শান্তু ব্যাপারটা সড়িয়ে দিতে চেষ্টা করলো । কিন্তু ও’র অবচের্তন মন ব্যাপারটা ভুলতে পারলো না ।
শান্তু ড্রাইনিং টেবিলের নীচটায় একবার তাকিয়ে দেখলো, কেউ লুকিয়ে আছে কিনা , তারপর যেই বাতি নেভাবার জন্য সুইচে হাত দিয়েছে, ঠিক তখনই ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা আবারো বেজে উঠলো । হঠাৎ শব্দে শান্তু প্রায় চমকে উঠলো । বুকটা ধকধক করছে । রাতের বেলায় সব শব্দ বুঝি একটু জোড়ে শোনা যায় ।
শান্তু নিজেকে শান্ত রেখে থু থু করে বুকে দু’বার থুতু দিল ।তারপর ফোনের রিসিভারটা তুলে বললো - হ্যালো ! কে ? এবার অপর পাশে থেকে শো শো শব্দ শোনা গেল । ঝড় হলে দরজা জানালা বন্ধ থাকা ঘরের ভেতর থেকে যে রকম শব্দ শোনা যায়,অনেকটা সে রকম । এ ছাড়া অপর পাশে অন্য কোন শব্দ নেই । শান্তু তবুও বেশ বিরক্তি নিয়ে বললো -এতো রাতে ফোন করে বিরক্ত করার মানে কি ? কথা বলছেন না কেন ? হ্যালো! হ্যালো! । হঠাৎ ফোনের শো শো শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল । এবং আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দ শোনা গেল ।
আরে ব্যাটা ছাগলের মতো খালি খালি দীর্ঘশ্বাস ছাড়রস কেন ? বাপের ব্যাটা হলে কথা বল । অন্যদিক দিয়ে দম বেড় করে দিমু । যতোসব ইডিয়টের দল । খুঁট করে ফোন রেখে দেবার শব্দ হলো ।
শান্তু রাগে গজগজ করতে করতে কলার লিষ্টটা দেখলো ০০ দিয়ে একটা অপরিচিত নাম্বার উঠে আছে । হঠাৎ শান্তুর মনে হলো কোন ওভারসিস কল নাতো ? ওভারসিস কল হলে, নরওয়ে থেকে একমাত্র বড়মামা ফোন করতে পারে । কিন্তু মামা তো জানে মা -বাবা, টুম্পা সবাই সিলেট গেছে । তাহলে ! কে ফোন করলো ? এভাবে গালি দেওয়া কি ঠিক হলো ?
কথাটা চিন্তা করতে করতে বার্থরুম হয়ে, শান্তু ওর ঘরে চলে এলো ।
কম্বল টেনে শুতে শুতে শান্তু ঘড়ি দেখলো , পৌনে দুটো বাজে । মনে মনে দোয়া পড়ে শান্তু ডানপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো । দুই শান্তু কতোক্ষন ঘুমিয়েছে ঠিক বলতে পারবে না । ঘুম ভাঙ্গল কোন কিছুর খুঁটুর মুঁটুর শব্দে । শান্তু মাথা তুলে শুনতে চেষ্টা করলো শব্দটা কোথা থেকে আসছে । শান্তু ওর ঘরের বাতি জ্বেলেই শুয়েছে । দরজা খোলা থাকায় ড্রাইনিং রুমের ফ্রিজ দুটো স্পস্ট দেখা যাচ্ছে । নরমাল ফ্লিজটার গা ঘেষেই রান্না ঘর - শান্তুর হঠাৎ মনে হলো-রান্না ঘরে কেউ একজন কিছু একটা করছে । খুঁটুর খুঁটুর শব্দটা রান্না ঘরে থেকেই আসছে ।
এতো রাতে কে হতে পারে ? যেহেতু পুরো বাসায় শান্তু একা । তাহলে রান্না ঘরে কে ? শান্তু বেশ ঘাবড়ে গেল । কে আসবে এতো রাতে রান্না ঘরে ? ভূতটুত না তো ? ড্রইং রুমের দরজায় দেখা অবয়বটার কথা মনে পরে গেল শান্তুর । কেমন একটা ভয়ে পেটটা মোচড় দিয়ে উঠলো । শান্তু কম্বলটা গাঁ থেকে সড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো । ভয়টা যাচ্ছে না । শান্তু গলা খাকারি দিয়ে বললো -কে ? কে ওখানে ? প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খুঁট খুঁট শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল ।
শান্তু ওর ঘর থেকে পুরোপুরি না বেড় হয়ে রান্না ঘরের দিকে উকি দিল । ঠিক তখনি ওর মনে হলো, রান্না ঘরের দরজা থেকে কেউ একজন হুট করে সড়ে গেল । শান্তু চমকে উঠে বেশ ঘনঘন বলে উঠলো- কে ? কে ?
রান্না ঘরটা বেশ অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছে না । শান্তু রান্না ঘরে না গিয়ে ড্রইং রুমের দিকে গিয়ে ড্রইং রুমের বাতিটা জ্বালাল । ভয়ে এর পুরো শরীর কাঁপছে । ড্রইং রুমের বাতিতে রান্না ঘরের অন্ধকারটা কিছুটা কেটে গেল । শান্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বেশ ভয়ে ভয়ে রান্না ঘরে উকি দিল । না । কেউ নেই । রান্না ঘরের বাইরে থেকেই শান্তু একটু ঝুকে রান্না ঘরের বাতিটা জ্বালাল । না । আসলেই কেউ নেই । শান্তু বেশ স্বস্থ্যিবোধ করলো । শুধু শুধু ভয় পাবার জন্য নিজেকে শান্তু ধিক্কার দিলো, এই বলে যে, ব্যাটা শান্তু , তুই একটা ভীতুর ডিম। বাবা, মা, আর টুম্পা যদি তোমার এই সাহসের কথা জানতে পারে তা হলে আর দেখতে হবে না । তোমার সাহসের কথা আত্মীয় স্বজনসহ চারিদিকে রাষ্ট্র হয়ে যাবে । রান্না ঘরের বাতিটা নিবিয়ে, শান্তু রান্না ঘরের পাশের বার্থরুমে ঢুকলো পেশাব করার জন্য ।
বাসায় কেউ না থাকলেও শান্তু বার্থরুমের দরজাটা একটু চেপে দিল । পেশাব প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এমন সময় ও আবারও খুটুর খুটুর শব্দটা শুনতে পেল । ওর মনে হলো কেউ যেন ইচ্ছে খুটঁ খুঁট খুঁট করে মাত্র তিনটা শব্দটা করলো । এমন করে শব্দটা করলো যেন শান্তু শুনতে পায় ।
ভয়ে আবারও ওর শরীর ঝিম ঝিম করে উঠলো । শান্তু মনে মনে ভাবলো ভূত টুত নাতো ? কিন্তু পরক্ষনেই ভূতের চিন্তাটা মাথা থেকে বাদ দিয়ে ও বার্থরুমেই অপেক্ষা করতে লাগলো আরো শব্দ শুনার জন্য । কিন্তু না, আর কোন শব্দ হলো না । বেশ কিছুক্ষন বার্থরুমে অপেক্ষা করে শান্তু ওর রুমে চলে এলো ।
বার্থরুম থেকে বেড় হয়ে ওর রুমে আসার সময় শান্তু ইচ্ছে করেই রান্না ঘরের দিকে তাকালো না । ওর হঠাৎ কেন যেন মনে হলো, রান্না ঘরের দিকে তাকালে ও ভয়ণ্কর কিছু একটা দেখতে পাবে । ড্রাইনিং এর বাতি না নিভিয়েই শান্তু ওর রুমে চলে এলো । নানান আজে বাজে চিন্তা ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । নিজ বাসায় এমন পরিস্হিতির সন্মুক্ষিন হতে হবে ও কখনও তা কল্পনাও ভাবতে পারেনি ।
যদিও শান্তু নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে, ভয় পাবার কোন কারন নেই । সব হচ্ছে মনের ভুল । কিন্তু তবুও ভয় যাচ্ছে না । বরং একটু একটু করে অজানা ভয়টা ওকে আরো জড়িয়ে ধরে । আসলে ভয় ব্যাপারটাই এমন, একবার কেউ ভয় পেতে শুরু করলে ভয়টা আস্তে আস্তে বাড়তেই থাকে, বাড়তেই থাকে । শান্তু বিছানায় শুয়ে পুরো ব্যাপারটা বিশ্লেষন করতে শুরু করলো । ওর ধারনা তাতে ভয় ব্যাপারটা চলে যাবে । ওর বিশ্লেষনের প্রদ্বতিটা হচ্ছে নিজের সঙ্গে মনে মনে কথা বলা । শান্তু ওর বিশ্লেষন শুরু করলো -
"মিয়া শান্তু তুমি ভয় পাচ্ছো কেন ?"
"আমি ভয় পাচ্ছি না ।"
"ইমহু....নিজের সঙ্গে মিথ্যা চলে না । ডাক্টার,উকিল আর নিজের সঙ্গে মিথ্যা বলতে নেই মিয়া । তুমি এই মুর্হুতে ভয়ে কেঁচো হয়ে আছো । কি ভয় পাচ্ছো না ?"
"তা, কিছুটা ভয় পাচ্ছি ।"
"কেন পাচ্ছো ?"
"জানিনা ।"
"আবারও মিথ্যা ? ইমহু.... ঝেড়ে কাশ মিয়া । ঝেড়ে কাশ। তারপর টুক করে সত্যটা বলে ফেলো । বিশ্লেষন করতে বসে মিথ্যা বললে তো কোন কাজ হবে না ।"
"আমার মনে হচ্ছে, এই মূহুতে আমি ছাড়াও এ বাসায় কেউ একজন আছে ।" বলতে বলতে শান্তু টের পায় ও’র মধ্যে আমারও সেই জিম ধরানো ব্যাপারটা চলে এসেছে । মাথার পেছনের চুলগুলো আপনা আপনা একটু একটু করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ।
"কে আছে ?"
"আমি জানিনা ?"
"কিভাবে বুঝলে যে তুমি ছাড়াও বাসায় আরো কেউ আছে ?"
"ড্রইং রুম থেকে ফোন রেখে ফেরার সময় মনে হলো - কেউ একজন হুট করে সড়ে গেল । রান্না ঘরের দরজায় ও একই ব্যাপার ঘটলো ।"
"এটা তোমার মনের ভুল । বিজ্ঞান বলেও তো একটা বিষয় আছে মিয়া । হঠাৎ আলো থেকে অন্ধকারে তাকালে এমনটা হতে পারে । সবই আলোর খেলা ।"
"কিন্তু, একটু আগে যে, রান্না ঘর থেকে খুটুর খুটুর শব্দ শুনতে পেলাম । সেটাও কি মনের ভুল ? নাকি সেটাও আলোর খেলা ?"
"না ,সেটা মনের ভুল বা আলোর খেলা না । সেটা হলো ইঁদুরের খেলা । তুমি কি রান্না ঘরে কাউকে দেখতে পেয়েছো ?"
"না ।"
"তাহলে, তো শব্দটা ইদুঁরই করছে, নাকি ?" শান্তু যুক্তিটা একেবারে উড়িয়ে দিতে না পারলেও বললো- "আমাদের বাসায় কোন ইঁদুর নেই ।"
"তুমি কি বিলাই নাকি মিয়া ? যে জান, বাসায় কোন ইঁদুর নাই । ইঁদুরের খবর জানে বিড়াল ।"
"না, তা ঠিক না ।"
"শুন মিয়া, সব তোমার মনের ভুল । আসলে বাসায় তুমি ছাড়া আর কিছুই নাই । সব তোমার মনের ভুল । কম্বলমুড়ী দিয়া ঘুমাও । আমি তা হলে আসি ।"
শান্তু নিজের অজান্তেই মাথা নাড়লো । নিজের সঙ্গে ভয় বিষয়ক বিশ্লেষনে শান্তুর ভয়টা অনেকাংশে কমে যায় । চোখেও ঘুম চলে এসেছে । শান্তু কম্বলটা গলা পর্যন্তটেনে যে ই পাশ ফিরে শুয়েছে, ওমনি কুট করে ড্রাইনিং এর টিউব লাইটা আপনা আপনি নিবে গেল । সঙ্গে সঙ্গে শান্তুর পুরো শরীর ভয়ে আবার ও শক্ত হয়ে গেল । মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটা শিরশির অনুভুতি খেলে গেল । শান্তু চুপ করে বিছানায় পড়ে আছে কি হয় দেখার জন্য । কয়েক মূর্হুত কোন কিছু হলো না । ড্রইং রুম থেকে দেয়াল ঘড়ির টিক টিক শব্দটা শুনা যাচ্ছে । কিছুসময় পর আবারও রান্না ঘর থেকে খুঁটুর মুঁটুর শব্দটা শোনা গেল ।
তবে এবারের শব্দটা শান্তুর মনে হলো আগের চেয়েও একটু বেশি জোড়ে হচ্ছে । যে শব্দটা করছে তার মধ্যে কোন রাখ- ঢাকের ব্যাপার নেই । যেন কে, শব্দ শুনলো আর কে, না শুনলো তাতে তার কিচ্ছুই যায় আসে না । শান্তু কি করবে বুঝতে পারছে না । শব্দের পরিমান একটু একটু করে বাড়ছে । শান্তু হঠাৎ বলে উঠলো- কে রে ?
সঙ্গে সঙ্গে খুঁটুর মুঁটুর শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল । শান্তু কি করবে বুঝতে পারছে না । বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে । মনে মনে দোয়া দুরুদ পড়ে বুকে ফুঁ’দিল । কি দোয়া পড়লো নিজেও বুঝলো না । ভয়ের সময় সব তালগোল পাকিয়ে যায় । শান্তু ঠিক করলো, যা হোক হবে ও একদৌড়ে রান্নাঘরে যাবে । আজ দেখতেই হবে রান্না ঘরে কে ? পাজলামোর একটা সীমা আছে । এটা তো দেখছি দুনিয়া ছাড়া ফাজলামো । ভয় পেলেই ভয় । রান্না ঘর থেকে আর কোন শব্দ শুনা গেল না । শান্তু কান খাঁড়া করে বিছানায় আধ শোয়া হয়ে আছে ।
শীতের এই রাতেও ও টের পেল যে, ও দরদর করে ঘামছে । ড্রাইনিংয়ের বাতিটা বারদুয়েক ফুরুত ফুরুত করে জ্বলে উঠে আবারও নীভে গেল । শান্তু ওর ঘরের দরজাটা দিয়ে রান্না ঘরের দিকেই তাকিয়ে আছে ।
কিছুসময় পর আবার শুরু হলো খুঁটুর মুঁটুর শব্দ । শান্তু এক ঝারা দিয়ে উঠে দাঁড়ালো , এদিক সেদিক তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজলো, সঙ্গে নেবার জন্য । কিন্তু কিছুই পেল না । মনে মনে বিরক্ত হলো, এই ভেবে যে, সময় মতো খুঁজলে কিছু পাওয়া যায় না । শেষমেস আলতো কম্পিউটার টেবিল এর ড্রয়ারটা খুলে, একটা প্লাস পেয়ে সেটাই হাতে নিয়ে ওর ঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়াল । শান্তু এবার নিশ্চত হলো যে, রান্না ঘর থেকে খুঁটুর মুঁটুর শব্দটা আসছে । তবে এখন মনে হচ্ছে শব্দটা বেশ আস্তে আস্তে হচ্ছে ।
শান্তু দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখলো সাড়ে চারটা বাজে । তারপর খুব আস্তে আস্তে রান্না ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালো, রান্না ঘরের ভেতরে উকি দিতেই ও যা দেখলো তাতে ওর পুরো শরীর অবস হয়ে এলো । বিস্ময়ে ওর মনে হলো মাথা ঘুরে পরে যাবে । নিজের চোখকে বিশ্বাষ হচ্ছে না । ও দেখলো রান্না ঘরে একটা মেয়ে বসে একাগ্র মনে পাটাতে কিছু একটা বাটছে । আবচ্ছা আলোয় মেয়েটা মুখটা দেখা যাচ্ছে না । ঘারের দু’পাশে আর পিঠে ঘনকারো চুল গুলো ছড়ানো রয়েছে । পাটার ঘষাতে ঘষাতে খোলা চুলগুলোসহ মেয়েটার মাথাটা সামনে পিছে দুলছে । শান্তু মুখ দিয়ে অর্স্পষ্ট ভাবে বেড় হয়ে এলো - কে ?
সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটা শান্তর দিকে ঘুরে তাকায়, মেয়েটার চুলের ফাঁক দিয়ে সাদা ডিমের মতো দু’টো চোখের চাহনী দেখে শান্তু’র ভেতটা পর্যন্তু কেঁপে উঠলো । হিষ্টিরিয়ার রোগীর মতো ও কোন মতে তোতলাতে তোতলাতে প্লাস ধরা হাতটা তুলে ধরে লাফাতে লাফাতে বললো কে ? কে ? শান্তুর পুরো শরীর ওর থরথর করে কাঁপতে শুরু করে । চোখে ঠিক মতো কিছু দেখছে না । হঠাৎ ওর মনে হলো ওর হার্ট আট্যাক হয়ে যাবে ।
রান্না ঘরে পাটাতে বসা মেয়েটা কোন কথা বললো না , শুধু শান্তুর চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । মেয়েটার মুখটা নীচের দিকে করা কিন্তু চোখ দুটো উল্টো করে শান্তুর দিকে কঠিন চেহারা করে তাকিয়ে আছে । সেই চোখে কোন মনি নেই । কারো চোখ যে, এতো ভয়ন্কর হতে পারে তা শান্তুর কল্পনাতেও ছিল না । মেয়েটার ভয়ন্কর চাহনির কাছে শান্তু হঠাৎ যেন আরো বেশি অসহায় হয়ে পরে । মেয়েটার গাল বেয়ে বেয়ে পচাঁ ,গলা মাংস খসে খসে পরছে । মেয়েটা মুখে পশুর মতো ক্যামন একটা গগগগগগর শব্দ করতেই শান্তু লাফাতে লাফাতে বলে- যা, যা । তারপর হাতে থাকা প্লাসটা মেয়েটার দিকে ছুড়ে মারে । মেয়েটার ভেতর দিয়ে প্লাসটা উড়ে গিয়ে রান্না ঘরের জানালায় লাগাতে জানালার কাঁচগুলো ঝনঝন করে ভেংগে পরে ।
শান্তুর এ ব্যর্থতায় মেয়েটা যেন আরো বেশি হিংস্র হয়ে উঠলো । চোখে মুখে কেমন একটা ভয়ন্কর হাসি ফুঁটিয়ে মুখে ঘঘঘঘঘঘরর শব্দ করে শান্তুর দিকে ছুটে আসে । হুঁট করে শান্তু ছুটে পালানোর জন্য পেছন ঘুরে দৌড় দেবার জন্য ঘুরতেই ওর রুমের দরজার সঙ্গে প্রচন্ড আঘাত খেয়ে ছিটকে পড়লো মাটিতে । এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেললো । পরিশেষ : শান্তুর ছুড়ে মারা প্লাসের আঘাতে রান্না ঘরের কাঁচ ঝনঝন শব্দে ভেঙ্গে পরাতে পুরো বিল্ডিয়ের লোকজন জেগে উঠে । নীচ থেকে সিকিউরিটি গার্ডসহ বাড়ীওয়ালা এসে অনেকক্ষন বেল বাজানোর পরেও শান্তু দরজা না খুলায়, সবাই দরজা ভেঙ্গে শান্তুকে মাটিতে পর অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে । যেখানে সপ্তাহ্ খানেক কোমাতে থাকার পর শান্তু মারা যায় । আর, শান্তুর মৃত্যটা রহস্য হয়ে ঐ বাড়ীর দেয়ালে দেয়ালে হাহাকার করতে থাকে ।

রক্তমাখা কাটা হাত

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Wednesday, August 17, 2011 at 10:15pm
আমি ভেবেছিলাম আজকে সন্ধ্যার মধ্যেই ক্লাসের পড়া শেষ করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাব। রোজ রোজ রাত জাগতে ভাল লাগেনা। তাছাড়া আম্মু ঢাকার বাইরে গেছেন অফিসের কাজে। আম্মুর অনুপস্থিতিতে লক্ষী মেয়ে হয়ে চলাটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু কিভাবে কি হল জানিনা,সারা বিকেল ফেসবুকে গুঁতাগুতি করে যখন পড়ার বই খুললাম তখন বাজে রাত দশটা। গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে পড়তে বসেছি,এমন সময় হঠাৎ করে একটা কাক “কা-কা” করে কেমন যেন আর্তচিৎকার করে উঠল। আমি খুব-ই অবাক হলাম। রাতের বেলা কাক ডাকে,তাও আবার এরকম আর্তচিৎকার করে—সেটা এই প্রথম শুনলাম। যাইহোক,ব্যাপারটাকে বেশি পাত্তা না দিয়ে আমি পড়া শুরু করলাম। মাঝে দুই-এক বার কাক ডেকে আমার পড়ার মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করছিল,কিন্তু গুরুত্ব দেইনি। পড়া শেষ করে ঘড়ির দিকে তাকালাম। এখন ঘুমানো যায়। আড়াইটা বাজে প্রায়। আব্বু মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে। প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে। আমি পা টিপে টিপে ডাইনিং রুমের দিকে গেলাম। যদি মুড়ি-টুড়ি কিছু বাসায় থাকে তাহলে উদরপূর্তি করা যাবে! ডাইনিং রুমের টেবিলের উপর রাখা টিনটাতে একটা ঝাঁকি দিলাম। ঠন ঠন করে টিনের মধ্যে শব্দ হল। যতটা জোরে হওয়া উচিত,তার থেকে অনেক জোরে। আমি একটু চমকে ঊঠলাম। টিনটা খুলে দেখলাম ফাঁকা। আশ্চর্য তো! এত জোরে শব্দ হ্‌ওয়ার কারণ কি? আমার কেমন যেন ভয় ভয় লাগল। গা ছম-ছমে একটা ভয়। যেভাবে পা টিপে টিপে ডাইনিং রুমে গেছিলাম,সেভাবেই আমার নিজের রুমে ফিরে আসলাম। নিজের ঘরের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতর ডিপ ডিপ করে শব্দ হতে লাগল। আমার ঘরটা আজকে অন্যরকম লাগছে। অনেক বেশি ঠান্ডা আর নীরব। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। চারপাশটা কেমন যেন নিকষ কালো হয়ে আছে। অন্যদিন সাধারণত আশেপাশের ফ্ল্যাটগুলোতে অনেক রাত পর্যন্ত আলো জ্বলে। আজকে সেই আলোর চিহ্নমাত্র নেই। এরকম তো কখনো হ্‌ওয়ার কথা না। ভাল করে আবার বাইরে তাকাতেই দেখি শোঁ শোঁ করে একটা শব্দ হচ্ছে। ঝড় হচ্ছে নাকি? বুঝতে পারছিনা। ঝড় হলে বাতাস থাকার কথা। কিন্তু বাইরে বাতাস নেই। শুধু শব্দ। শব্দটা তীব্র হচ্ছে ক্রমাগত। আমি আর বেশি কিছু চিন্তা না করে লাইট অফ করে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমিয়ে গেলে দুনিয়ার সব ভয় ঠান্ডা। বিছানায় শুয়ে পড়ার পর দেখি আর ঘুম আসেনা। চুপ করে শুয়ে আছি আর কি সব যেন আগামাথাহীন ভাবে ভাবছি। এমন সময় খাটের নীচ থেকে হঠাৎ হিসহিস শব্দ ভেসে এল! আতঙ্কে আমি একেবারে জমে গেলাম। খাটের নীচে উঁকি দেওয়ার চিন্তাটা মাথায় এসেই আবার মিলিয়ে গেল। এই মুহূর্তে খাটের নীচে উঁকি দেওয়ার মানেই নেই। তার চেয়ে ঘুমিয়ে যাওয়াই উত্তম। আমি চোখ বন্ধ করলাম।

কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানিনা,ভয়ংকর গোঙ্গানির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি নিথর হয়ে শুয়ে গোঙ্গানিটার উৎস খোজার চেষ্টা করছি। একবার মনে হচ্ছে খাটের নীচ থেকে শব্দ আসছে,আর একবার মনে হচ্ছে ড্রেসিং টেবিলের কাছ থেকে। এখন যে রাত কয়টা বাজে সেটাও বুঝতে পারছিনা। বাথরুমে যাওয়া দরকার। কিন্তু ভয়ে বিছানা থেকে ঊঠতে ইচ্ছা করছেনা। ভূত-প্রেতে আমার তেমন বিশ্বাস নেই—আমি আসলে ভাবছি,খাটের নীচে চোর-টোর লুকিয়ে আছে কিনা! গোঙ্গানির শব্দ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আব্বু পাশের রুমে ঘুমাচ্ছে। একবার ভাবলাম আব্বুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। কিন্তু পরে মনে হল সেটা ঠিক হবেনা। এমনিতেই আব্বুর ব্লাড প্রেসার বেশি থাকে সবসময়। আর তাছাড়া আমি তো ভয়ে বিছানা থেকে নামতেই পারছিনা! হঠাৎ হাতের মধ্যে কিসের যেন স্পর্শ পেলাম,ধাতব কিছু। জোরে চিৎকার দিতে যাব,এমন সময় বুঝতে পারলাম আমার মোবাইলটা নিয়ে শুয়েছি। ধড়ে প্রাণ ফিরে এল যেন। সাথে সাথে বাটন টিপে মোবাইলের টর্চটা জ্বালালাম। টর্চ দিয়ে দেয়ালে টাঙ্গানো ঘড়িটার দিকে আলো ফেললাম। ঘড়িতে দুইটা চল্লিশ বাজে। এতক্ষণে মাত্র দশ মিনিট পার হয়েছে। আমি মাত্র দশ মিনিট আগে শুয়েছি! সব কিছু কেমন যেন অবিশ্বাস্য লাগে আমার। আমি খুব সাবধানে টর্চের আলো মেঝের দিকে নিলাম। মেঝেতে রক্ত! মেঝেতে জমাট বেঁধে আছে রক্ত! আমি কান্ডজ্ঞানহীন ভাবে বিছানা থেকে ঊঠে ছুটে গিয়ে রুমের দরজার নবে হাত রাখলাম। প্রচন্ড শক্তি দিয়ে নব ঘুরিয়েও দরজা খুলতে পারছিনা। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে,ঘুমানোর আগে আমি দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়েছি। বিড়বিড় করে সূরা পড়তে পড়তে নিজেকে প্রবোধ দিলাম আসলে হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। আমি যা ভাবছি,শুনছি, দেখছি সব মিথ্যা। মনে হয় বেশি বেশি হরর মুভি দেখার ফল। আমি চিৎকার করে আব্বুকে ডাকতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হলনা। ঘরের ভেতর জান্তব গোঙ্গানি বেড়েই চলেছে। সাথে কান ফাটানো শোঁ শোঁ শব্দ। আমি কোন কিছু চিন্তা না করেই ঘরের সাথে লাগোয়া বাথরুমে ঢুকে পড়লাম। বাথরুমের লাইট অন করেই দেখি আমার পায়ের পাতা রক্তে মাখামাখি হয়ে আছে! আমি নিজেই বুঝতে পারছিনা আমার জ্ঞান আছে কি নাই? হঠাৎ চোখে পড়ল বাথরুমের এক কোণে বাক্সে রাখা ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়ার জন্য কেনা bones গুলোর দিকে। এক কাজিনকে দেব দেখে সেগুলো আর বিক্রি করা হয়নি। কেমন জীবন্ত হয়ে আছে হাড্ডিগুলো! মনে হচ্ছে এক একটা bones জোড়া লেগে কঙ্কাল হয়ে এক্ষুণি ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার উপর! আমি যথাসম্ভব চিৎকার করে বাথরুম থেকে বের হয়ে আছড়ে পড়লাম লক হয়ে যাওয়া রুমের দরজার উপর! আব্বুউউউউউ বলে চিৎকার ঢেকে গেল জান্তব অট্টহাসিতে! পিছনে ঘুরে দেখি ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়ার সুবিধার জন্য সবগুলো হাতের আঙ্গুল জোড়া লাগিয়ে বাঁধানো কঙ্কালের হাত ভেসে আসছে আমার দিকে। কব্জির কাছ থেকে নাই হয়ে যাওয়া অংশটুকু থেকে টপটপ করে ঝরছে রক্ত। আমি আরেকবার চিৎকার দেওয়ার আগেই আমার কন্ঠরোধ করে ধরল কঙ্কালের কাটা হাত...... ............................................................ রাতের বেলা যে কেউ মেয়েটাকে এক নজর দেখলে ভাববে মেয়েটা ভুল করে মেঝেতেই ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু ভোরের আলো যখন মেয়েটার মুখে এসে পড়বে,তখন সবাই দেখবে মৃতা মেয়েটার ঠান্ডা গলার কাছে কালসিটে পড়া,সেখানে রয়েছে সরু একটা হাতের ছাপ! Story By: সরলতা (Last 2 ta story pore ami nijei moja paini, tai delete kore ai story ta post korlam.Asha kori apnader valo lagbe)

।। অমীমাংসিত ।। ঘটনাটা ৩১জুলাইয়ের। জ্বর জ্বর লাগছে সেই গতকাল দুপুর থেকে। তার ওপর প্রচন্ড গরম- কারেন্ট নেই। বিছানায় শুয়ে কেবল এপাশ ওপাশ করছি। ঘেমে বিছানার চাদর ভিজিয়ে ফেলেছি। ফেনারগান খেয়েছিলাম সর্দি আর কাশির জন্য। সারা দুপুর-রাত মাতালের মত বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছে। বার কয়েক মেঝেতে শুয়ে গরমের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছি। মশার কামড় শুরু হতেই আবার বিছানায় মশারির ভেতর ঢুকে পরতে হয়েছে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ঘুম। ওষুধ খেয়ে ঘুমালে স্বপ্নে যা দেখি সব হয় আবোল তাবোল। কিন্তু গতকাল সেরকম দেখিনি। প্রত্যেক ঘুমের ছোট ছোট অংশে অনেকটা খন্ড নাটকের মত স্বপ্ন দেখেছি দুপুর থেকে একেবারে ভোর রাত পর্যন্ত। স্বপ্নটা আবোল তাবোল নয়। খুব স্পষ্ট এবং প্রত্যেকবারই মনে হয়েছে আমি ঐ সময়টায় সে জায়গাতেই ছিলাম। স্বপ্নের প্রথম অংশে আমি একটা মাদ্রাসার পুকুর পাড়ে বসে ছিলাম। যোহরের আযান দেয়নি তখনো। দেবে দেবে এমন সময়। পুকুরের সবুজ শ্যাওলা ভরা পানি দাপিয়ে মাদ্রাসার বাচ্চাগুলো গোসল করছে। আমি সিঁড়িতে বসে দেখছি তা। দৃশ্যটায় কোনো বৈচিত্র নেই। খুব স্বাভাবিক। ওদের পানির ছিটে এসে আমার গায়ে পড়ছে। শ্যাওলার জমাট পানি শার্টটা ভারি করে তুলছে ক্রমশ। এ অবস্থায় হঠাৎ খেয়াল করলাম এতগুলো বাচ্চাদের ভীড়ে পানির মাঝে আরো একজন। দেখতে অনেকটা বাচ্চা ন্যাড়া মেয়েদের মত। কিন্তু গায়ের চামড়া অস্বাভাবিক রকমের ফ্যাকাসে। চুপচাপ গলা পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। এবং আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। কেমন গা শিরশিরে অনুভূতি হল হঠাৎ। আমার প্রথম বারের মত ঘুম ভাঙ্গল। এবং আমি আবিষ্কার করলাম আমার গায়ের শার্টটা সবুজ শ্যাওলায় রীতিমত মেখে আছে।
শার্টের এ দশা হবার পেছনে কোনো যুক্তি সে সময়ে দাঁড় করাতে পারিনি। তারওপর কড়া ঘুমের ওষুধের প্রভাবে যুক্তি-তর্ক-বিশ্লেষণ- কোনোটাই খাটছিল না মাথার ভেতর। লাগছিল সবটাই খুব স্বাভাবিক। মাতালের মত বিছানা থেকে সে সময় উঠে পড়তে হয়েছে, হোটেল থেকে খাবার নিয়ে এসেছে ছেলেটা। সেটা রেখে দিতে হল। খাবার নেয়ার সময় আমার শার্টের এ অবস্থা দেখে কেমন ভাবে যেন তাকাতে লাগল ছেলেটা। কিছু জিজ্ঞেস করল না অবশ্য। বুড়ো মানুষের ভীমরতি ভাবল বোধ হয়। নামায পড়ার জন্য গোসল সেরে নেয়া উচিত। তাই আর বিছানা মুখো হলাম না। যদিও এখনো ঘুমে শরীর অবশ প্রায়।
আমার দ্বিতীয় দফা ঘুম থেকে স্বপ্ন গুলো এতই জীবন্ত হতে লাগল যে আমি একবারও বুঝতে পারিনি এগুলো স্বপ্ন, এবং কোনো ধরনের প্রশ্নও জাগেনি আমার ভেতরে সে সময়। আমি গোসল সেরে নামায পড়ে শুয়ে পড়ি। খেতে ইচ্ছা করছিল না তখন। খালি পেটেই ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়া। ঘুমে মাতালের মত লাগছে। শুয়ে চোখ বন্ধ করা মাত্রই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। প্রায় সাথে সাথে চোখ মেললাম। আমি মাদ্রাসার মসজিদের বারান্দায় শুয়ে আছি। ছোট ছোট বাচ্চারা পাঞ্জাবী পাজামা পরে নামায পড়ছে আমার সামনের দিকে। আমি ওদের পেছন দিকে। কেউ আমাকে খেয়াল করছে না মনে হল। তাকাচ্ছে না কেউ আমার দিকে দেখলাম। আমি আস্তে আস্তে উঠে বসলাম। চারপাশে তাকালাম। সরাসরি চোখ চলে গেল মসজিদের দান বাক্সের গায়ে লেখাটার ওপর। মসজিদের বারান্দার একটা থামের গায়ে ঝোলানো ওটা। “ হিঙ্গুলী জামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ মেহেদীনগর, বারইয়ার হাট, মিরসরাই, চট্টগ্রাম” আমি উঠে দাঁড়ালাম। টলছি মাতালের মত। আস্তে আস্তে হেটে এলাম দান বাক্সটার সামনে। ওখানে আরো একটা নতুন কাগজ টানানো দেখলাম। “অসুস্থ মাদ্রাসা ছাত্রের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন” একটা ছোট নোটিস দেয়া। বোধ হয় কোনো ছাত্র অসুস্থ। আমি মানিব্যাগ বের করে একটা দশ টাকার ছেঁড়া নোট বের করলাম। টাকা ঢোকানোর ছিদ্রটা জ্যাম হয়ে গেছে। ঢোকানো যাচ্ছে না। তালাটা খোলা। এমনি ছিটকিনিটার হুকে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। চুরি টুরির ভয় নেই মনে হয়। আমি তালাটা খুলে ছিটকিনি উঠিয়ে ঢাকনাটা খুললাম। সবে মাত্র টাকাটা ফেলেছি হঠাৎ দেখলাম উঠানে গায়ে চাঁদর মুড়ি দিয়ে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মাথার মেয়েটা এককোনায় বসে রয়েছে! এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে! ঝটকা দিয়ে জেগে উঠলাম। সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। কারেন্ট আসেনি এখনো। কিন্তু ভীষণ অবাক হলাম একটা জিনিস দেখে। আমার হাতে ছোট একটা তালা! মসজিদের দান বাক্সের সেই তালাটা......... আমার তৃতীয় দফার ঘুমটা হল শেষ বিকেলের দিকে। কারেন্ট এসেছে তখন। ক্যাপাসিটর নষ্ট ওয়ালা ফ্যানটা ঘটর ঘটর করে মাথার ওপর ঘুরছে। হাত দিয়ে ঘোরালে হয়ত আরো জোরেই ঘুরতো। চোখ বোজার সাহতে সাথে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। এবারেও নিজেকে আবিষ্কার করলাম সেই মাদ্রাসাটায় আবার চলে এসেছি আমি। এবার বেশ অবাক হয়ে দেখলাম মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাগুলো একটা লাশ নেয়া খাটিয়ার চারপাশে ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে। নিচু স্বরে ফোঁপাচ্ছে কেউ। আমি মাথা উঁচিয়ে দেখলাম। কোনো ছোট বাচ্চা মারা গেছে। কাফন দিয়ে পেঁচানো। কেবল মুখটা বার করা। চার পাঁচ বছর হবে বয়েস। জানাযা পড়ানো হবে এখন। মাদ্রাসার হুজুর-আলেমরা সহ সবাই এসে সারি করে দাঁড়িয়ে পরতে বললেন। ঈমাম সাহেব লাশটাকে সামনে রেখে জানাযা পড়ানো শুরু করলেন। আমি একরকম ঘোরের মধ্যেই নিয়ত বেঁধে জানাযায় দাঁড়িয়ে গেলাম। এখানে অনেক লোকজন এসেছে। গ্রামের লোকজন বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু যে মারা গেছে- তার কেউ বোধ হয় আসেনি। অন্তত আসলে সেটা হাব ভাবেই প্রকাশ পেত। একবার সন্দেহ হল- বাচ্চাটা অনাথ না তো?
লাশটা কবর দেয়ার জন্য মসজিদের পাশের গোরস্থানের দিকে যখন নিয়ে যাচ্ছে খেয়াল করলাম গ্রামের লোক গুলো খুব অবাক মুখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু কিছু বলছে না। আমি নিজেও কিছুটা দ্বিধা দন্দ্বে ভূগছি। সবার সাথে আমিও কবর দিতে এলাম। প্রকৃয়াটা খুব দ্রুত হল। মাটি দেয়ার সময় কয়েক মুঠো মাটি দেয়ার পর যেই আবার মাটি নিয়েছি হাতে- দেখলাম আমার ঠিক সামনে, কবরের অন্য পাশে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা! লোকজনের আড়াল থেকে স্থির চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে...... আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। এবং এ দফায় আবিষ্কার করলাম আমার ডান হাতে মুঠো ভরা কাঁচা মাটি!
আমার চতুর্থ ও শেষ স্বপ্নটা দেখি মধ্য রাতে। তখন জ্বর বেড়েছে ভীষণ। থেকে থেকে কাঁশছি। কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়েছি। জ্বরে সারা শরীর কাঁপছে। ঘুম আসতে সময় নিচ্ছিল তাই। কখন ঘুমিয়েছিলাম ঠিক মনে নেই। চোখ মেলে দেখলাম আমি মসজিদের পাশের গোরস্থানটার একটা গাছের নিচে হেলান দিয়ে বসে আছি। আমার ঠিক সামনেই নতুন বাঁশের বেড়া দেয়া সেই কবর। আকাশে অর্ধেক চাঁদ। সেই চাঁদের আলোয় অস্পষ্ট একটা শব্দ পাচ্ছি গোরস্থানের ভেতর। অনেকটা ছোট বাচ্চার ভয় পাওয়া কান্নার মতশব্দ। কিন্তু শব্দটা কেমন যেন চাপা। আমি ভয় পেলাম হঠাৎ ভীষণ রকমের একটা ভয়। হাত পা সব অসাড় হয়ে আসতে নিল- এমন একটা ভয়...... খুব হাচড়ে পাচড়ে এক রকম উঠে দাঁড়ালাম গাছটা ধরে। চাঁদের আলোয় কবরটার দিকে তাকালাম। যা দেখলাম তাতে উষ্ণ রক্তের একটা স্রোত বয়ে গেল মেরুদন্ডের ওপর দিয়ে। আমার স্পষ্ট মনে হল কবরটা নিঃশ্বাস নেয়ার সময় যে ভাবে বুক ওঠা নামা করে- সে ভাবে বেশ জোরেই ওঠা নামা করছে! তারপর লাগল কবরের মাটিগুলো থেকে থেকে লাফিয়ে উঠে নেমে যাচ্ছে! যেন নিচ থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে বের হতে চাচ্ছে! সেই সাথে ছোট বাচ্চার ভয় পাওয়া গুমোট-চাপা কন্ঠস্বর! আমি এত ভয় পেলাম যে দ্বিগ্বীদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে গোরস্থানের মাঝ দিয়ে মসজিদের দিকে দৌড়াতে লাগলাম। তার মাঝেই দেখলাম সেই ন্যাড়া মাথার মেয়েটা একটা কোঁদাল হাতে দাঁড়িয়ে আছে একটা গাছের নিচে। হাত তুলে সেই নতুন কবরটার দিকে যেতে বলছে ইসারায় আমাকে। হাতের কোঁদালটা দেখিয়ে বোঝাচ্ছে কবরটা খোঁড়ার জন্য আমাকে!
আমি প্রচন্ড ভয়ে তখন সংজ্ঞাহীন প্রায়। পেছন থেকে আসা কবরের ধুপ ধুপ শব্দটা তাড়া করছে যেন আমাকে.........
আমি জেগে উঠি ফযরের আযানের মুহূর্তে। আমার সারা গায়ে ধূলো বালি, মাটি আর নানান জায়গায় ছিলে গেছে কাঁটার ঘষা খেয়ে...... বিমূঢ়ের মত বসে রইলাম আমি......

আমি পেশায় সরকারী চাকুরীজীবি। টাইপিস্টের কাজ করি। নিজের চলে না বলে বিয়ে থা আর করিনি। পঞ্চাশের মত বয়স হয়েছে বলে এখন আর ওসব করার চিন্তাও মাথায় আনিনা। একা একা থাকি বলে নানান রোগে শোকে ভূগি। ছোট বেলা থেকে এক ফুফুর কাছে মানুষ হয়েছি। তাকে টুকটাক সাহায্য করি এখন। এছাড়া আমার জগৎ খুব সীমাবদ্ধ। সে রাতের স্বপ্ন গুলো নিয়ে খুব যে ব্যস্ত হয়ে পরব এমন মানুষও নই আমি। একা থাকি বলে হয়ত মনের ভূলে এসব দেখেছি। শার্ট, তালা, মাটি- এসবের ব্যাখ্যা মনের ভূল বলেই হয়ত চালিয়ে দিয়ে ভূলে যেতাম পুর ব্যাপারটা। কিন্তু নিছক স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিতে পারিনি আমি সেটাকে।
৩১ জুলাইয়ের বিচিত্র ঘটনা গুলো আমার পক্ষে ভূলে যাওয়া সম্ভব হল না পত্রিকায় একটা লেখা দেখে। ৩রা জুনের একটা পত্রিকায় “হিঙ্গুলী মাদ্রাসা গোরস্থানে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে জীবন্ত কবর দেয়া হয় ভূল বশত” শিরোনামে একটা আর্টিক্যাল চোখে পড়ে আমার। সব ওলোট পালট লাগতে শুরু করে তখন। কারণ সেখানে বলা হয়েছেঃ

৩১ জুলাই বিকালে জুবায়ের আলী নামের এক ছোট পাঁচ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র মারা যায়। স্থানীয় ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করার পর বাদ আসর তাকে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে কবর দেয়া হয়। পরদিন ভোরবেলা ফযরের নামায শেষে ঈমাম সাহেব কবর জিয়ারত করতে গিয়ে দেখেন কবরের মাটি সরে গেছে অনেক। যেন কেউ ধাক্কা দিয়ে সরাতে চেয়েছে। তাঁর সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন দিয়ে কবর খোঁড়ানো হয় এবং সবাই বাক রুদ্ধ হয়ে দেখে কবরের কোনায় সাদা কাফন পরে ছেলেটা বাঁকা হয়ে বসে আছে। তার বসে থাকার ভঙ্গিটা খুব অস্বাভাবিক। কবরের দেয়াল জুরে ছেলেটার আঙ্গুলের আচোঁড়ের চিহ্ন। শ্বাস নিতে না পেরে দেয়াল খাঁমচে বের হবার চেষ্টা করেছিল বোঝা যায়। চোখ গুলো কোটর থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রায়। পা দিয়ে কবরের মেঝে ঘষে লম্বা লম্বা খাঁজ করে মাটি উঠিয়ে ফেলেছে ভয়াবহ মৃত্যু যন্ত্রণায়! আমি এই ঘটনা জানার পর টাকাপয়সা জমিয়ে সেই গ্রামে গিয়েছিলাম বেশ কিছুদিন পর। সেখানে গিয়ে আমি আরো কিছু ধাঁধাঁর মাঝে পড়ে যাই। কিন্তু আজ সেটা আর লিখতে ইচ্ছা করছে না।

সংগ্রহ করেছেনঃ Rudro Aimel

মেইল আইডিঃ rudroaimel@yahoo.com

।। অমীমাংসিত – দ্বিতীয় পর্ব ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 12, 2011 at 11:21pm
চিনকী আস্তানা স্টেশনটা বেশ নির্জন। যখন ওখানে ট্রেনটা গিয়ে থামল তখন রাত সাড়ে দশটার মত বাজে। বাহিরে ঘুট ঘুটে অন্ধকার- তার মাঝে টিপটিপিয়ে বৃষ্টি। ছাতা আনা হয়নি। ব্যাগ হাতে প্লাটফর্মে নামার সাথে সাথে ভেজা শুরু করলাম। লোকাল ট্রেনে করে এসেছি বলে স্টেশনের বৃষ্টিতে নামা মাত্র মনে হল একটু শান্তি পেলাম। এতক্ষণ ট্রেনের টয়লেট বিহীন কামড়ায় মুরগীর খাঁচার মত অবস্থায় ছিলাম। বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে বেশি সেটা লোকাল ট্রেনে উঠলেই বোঝা যায়। ঘামে পাঞ্জাবী পিঠের সাথে লেগে গেছে। বৃষ্টির ঠান্ডা ফোঁটা গুলো গায়ে লাগতেই মনে হচ্ছে শান্তিতে ঘুম এসে যাবে। ব্যাগ হাতে হাটতে লাগলাম। হিঙ্গুলী গ্রামটা এখান থেকে আরো মাইল খানেক উত্তর-পূর্ব দিকে। এত রাতে সেখানে যাওয়াটা সামান্য ঝামেলার মনে হল। একে তো ইলেক্ট্রিসিটি নেই এ অঞ্চলটায়, তার ওপর রার দশটার পর রিক্সা-ভ্যান কোনোটাই যাবে না।
স্টেশন মাষ্টার আক্ষরিক অর্থেই মাছি মারা কেরানী গোছের লোক। দশটা প্রশ্ন করার পর একটা জবাব দেন। যাওবা দেন সেটা কাজে লাগার মত না। মাষ্টার সাহেব ম্যাচের কাঠি দিয়ে খুব যত্নের সাথে কান খোঁচাচ্ছিলেন আমি যখন তার অফিসে ঢুকি। কেবল একটা হারিকেন জ্বলেছে। ময়লা হারিকেনের তেল যাই যাই অবস্থা, আলোই নেই।
“আসসালামুয়ালাইকুম, ভাই- হিঙ্গুলী গ্রামটায় যাওয়ার নিয়মটা বলতে পারবেন? এখানের কোনো রিক্সা-ভ্যান যাবে না বলছে।”
“উঁ?”
“হিঙ্গুলী যাওয়ার ব্যবস্থাটা কি?” ভাবলাম শুনতে পায়নি, তাই আবার বললাম।
“ঊঁ?” আবারো কোনো জবাব না দিয়ে বিদঘূটে শব্দ করলেন।
“ভাই আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি।” সামান্য উষ্ণ গলায় বললাম।
কান চুলকাতে চুলকাতেই বেদম জোরে কেঁশে উঠলেন মাষ্টার সাহেব। ম্যাচের বাঙ্গা কাঠিটা চোখের সামনে এনে বিরক্ত চোখে তাকালেন আমার দিকে। বাকি অংশটা কানের ভেতরে আটকা পড়েছে বোধ হয়। দেখলাম মাথা একপাশে কাত করে বার কয়েক ঝাঁকি দিলেন।
আমি গলা খাকারি দিলাম, “ ভাই? হিঙ্গুলী.........”
হাত তুলে থামিয়ে দিলেন, “ যে কোনো ভ্যান ধরে উইঠা যান, লয়া যাইবো। এখানে খাঁড়ায়া লাব নাই।” একটা চিমটা বের করে কানের কাঠি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলেন। বোঝাই গেল ভাঙ্গা কাঠি প্রায়ই কানে আটকা পড়ে তার, এবং সেটা উদ্ধার কাজেও সিদ্ধ হস্ত। কারণ আমি থাকা অবস্থাতেই কাঠিটা টেনে বের করলেন। মুখে প্রশান্তির হাসি। আমি বেরিয়ে এলাম বিরক্ত হয়ে।
হাত ঘড়িতে রাত এগারোটা দশ বাজে। বৃষ্টির পরিমান বেড়েছে আরো অনেক। এ বয়সে ভিজলে জ্বর আসতে সময় নেবে না। হিঙ্গুলী গ্রামটায় পৌছানো জরুরী। আগে যদি বুঝতাম এত রাত হবে, তাহলে আরো সকাল সকাল করে বের হতাম। ভ্যান-রিক্সা কোনোটাকেই রাজী করাতে পারলাম না শত চেষ্টার পরেও। শেষে মহা বিরক্ত হয়ে স্টেশনের একটা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম সকাল হবার। এর বেশি আর কিছু করার নেই আমার।
রাত যত গভীর হয় স্টেশন তত বিচিত্র ভাবে জেগে উঠতে থাকে। গাঁজা আর জুয়ার আড্ডা বসল সামনে একটা প্লাটফর্মে। ট্রেন আসলে স্টেশনটা জীবন্ত হয়, নয়ত মরার মত পড়ে থাকে।
গাঁজার আড্ডায় গান ধরেছে কয়েকজন, তাস খেলা চলছে। আমি দেখছি তা...... এক সময় ঝিমানির মত শুরু হল...... গাঁজার আড্ডার গানটা কানে বাজছে...... ক্রমশ চোখের পাতা ভারি হয়ে আসতে লাগল..... দূরে কোথাও ঘন্টা বাজছে...... অদ্ভূত শোনাছে শব্দটা... মনে হচ্ছে অনেক লোকজন কথা বলছে... তার মাঝ দিয়ে গানটা ঘুর পাঁক খাচ্ছে মাথার ভেতর...
“বলেছিলে আমার হবে
মন দিয়াছি এই ভেবে
সাক্ষি কেউ ছিলনা সে সময়......” চোখ মেললাম যখন- তখন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অবাক হয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম সেই গোরস্থানের গাছটার নিচে! যেখানে নিজেকে পেয়েছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে! ধরমরিয়ে উঠে বসলাম। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তবে গোরস্থানের ভেতর দিকে চার্জার লাইটের আলো। আমি আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালাম। আমার ঠিক সামনেই আবছা ভাবে সেই বাচ্চা ছেলেটার কবরের অবয়বটা বোঝা যাচ্ছে। আমার হৃদপিন্ডটা অস্বাভাবিক ভাবে লাফাচ্ছে। চার্জারের আলো আসছে আরো ভেতরের দিক থেকে। আমি প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে দ্বিধান্বিত পায়ে হাটতে লাগলাম আলোটার দিকে। পায়ের নিচে প্যাঁচ প্যাঁচে কাঁদা। বার কয়েক পুরনো কবরে পা ঢুকে যেতে যেতে সামলে নিলাম। গাছ গুলোর অন্য পাশ থেকে আলো আসছে, তাতে বেশ কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা করছে সবাই। সবার হাতে ছাতা, ছাতার জন্য বোঝা যাচ্ছে না কি করছে তারা। আমি এগোতে এগোতে টের পেলাম অসম্ভব একটা ভয় ভেতরে দানা বাধতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে যতই এগোচ্ছি, ভয়টা ততই বাড়ছে...... চার্জারের আলো ভেবেছিলাম যেটাকে এতক্ষণ- কাছে আসায় স্পষ্ট হল, হ্যাজাক বাতি। সাদা কাপড় পরা বেশ কিছু লোক ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
আমি আর হাটতে পারছিলাম না, একটা গাছে হেলান দিয়ে কোনো মতে দাঁড়ালাম। অবাক হয়ে দেখলাম একটা লাশের দাফন কাজ চলছে। দুজন লোক একটা নতুন খোঁড়া কবরে নেমেছে। ওপর থেকে কাফন পরা লাশটা নামিয়ে ওদের হাতে দিচ্ছে লোক গুলো। কেউ একজন জোরে জোরে দরুদ পাঠ করছে সুর করে। আমি টলতে টলতে আরেকটু এগিয়ে গেলাম। ছাতা হাতে ওরা কেউই আমাকে লক্ষ করছে না। হ্যাজাকের আলোয় দেখলাম কবরের ভেতর জমে ওঠা পানির মাঝে কাফন পরা লাশটাকে উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে নামাচ্ছে লোক দুটো। লাশটার দৈর্ঘ্য দেখেই অনুমান করলাম বয়ষ্ক, বড় মানুষের লাশ। কবরের পানিতে রাখা মাত্র কাফন ভিজে অনেকখানি ডুবে গেল লাশটা। আমার দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। ভয়টা ক্রমশ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। বাড়ছে শুধুই। তীব্র একটা ভয়।
কেউ একজন বলল, “লাশের মুখ শেষবারের মতন দেখবেন কেউ? নাইলে বাঁশ লাগায় দিক।”
দেখলাম কেউ মুখ দেখার মত আগ্রহ দেখাল না। লোক দুটো কবরের ওপর আড়া আড়ি বাঁশ দেয়া শুরু করল। দ্রুত চাটাই বিছিয়ে ঢেকে ফেলল কবরের ওপরটা। বৃষ্টিতে ভিজে মাটি দেয়া শুরু করল লোক গুলো।
আমি বসে পড়েছি মাটিতে। কেউ লক্ষ করছে না আমাকে। কিন্তু হ্যাজাকের আলোয় স্পষত দেখতে পেলাম কবরের অন্য পাশে ছাতা ওয়ালা লোক গুলোর ভীড়ে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে! শীতল শান্ত চোখ দুটোয় ক্রুড়ো একটা দৃষ্টি। সোজা তাকিয়ে আছে আমার দিকে...... তখনি মাথার ভেতর তীব্র ব্যথা শুরু হল আমার! মনে হল কেউ যেন আমার মগজটা ধারাল ক্ষুর দিয়ে পোঁচ দিচ্ছে...... ঝটকা দিয়ে জেগে উঠলাম। আমার দু পা আর প্যান্টের নিচের দিক কাঁদায় মেখে আছে! ঘড়িতে দেখলাম- রাত আড়াইটা বাজে। ট্রেন এসেছে স্টেশনে। জীবন্ত মনে হচ্ছে রাতের মৃত এ স্টেশনকে এখন। কতক্ষন জীবন্ত থাকবে? আমার হিঙ্গুলী গ্রামে আসাটা যে বিরাট একটা ধাক্কা দিয়ে শুরু হবে জানা ছিল না। আমি পরদিন সকাল বেলা একটা চা দোকানে পাউরূটি আর কলা খেয়ে রওনা দিলাম ভ্যানে করে হিঙ্গুলীর দিকে। তবে তার আগে ওয়েটিং রুমে গিয়ে কাঁদা মাখা প্যান্টটা বদলে নিলাম। সকালে ভ্যান ওয়ালারা কেউ ‘না’ বলল না, বলা মাত্রই আমাকে নিয়ে রওনা দিল। হিঙ্গুলী যাওয়ার পথটা পাঁকা না, কাঁচা রাস্তা। তারওপর বর্ষা কাল বলে রাস্তা ঘাটের করুণ অবস্থা। ভ্যান একেকবার এমন কাত হয়ে যাচ্ছে যে মনে হয় তখন সোজা গিয়ে কাঁদার ওপর পড়বো!
হিঙ্গুলী প্রামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটা ছোট খাট ধাক্কার মত খেলাম। আমি শৈশবে যে গ্রামটায় মানুষ হয়েছিলাম অবিকল সেই রকম গ্রাম এটা। ধাক্কাটা যে কারণে খেলাম তা হল- আমি যেখানে, যে রকম বাড়ি, গাছপালা, সাঁকো, রাস্তা দেখেছি আমার শৈশবের গ্রামে- এখানে ঠিক সে রকম- হুবহু এক! কোথাও কোনো অমিল নেই! অবাক হবার কারণটা হল আমার শৈশবের গ্রামটা দিনাজপুরে! আর এটা চট্টগ্রামে।
“হিঙ্গুলী” গ্রামটা আমার জন্য বেশ কিছু রহস্য নিয়ে অপেক্ষা করছিল। তার প্রথমটার সাথে সাক্ষাত হল গ্রামে ঢোকা মাত্রই। হিঙ্গুলী মাদ্রাসার মোয়াজ্জ্বেনের সঙ্গে কাকতালীয় ভাবে দেখা হয়ে গেল গ্রামে ঢুকেই। বাজারে যাচ্ছিলেন সম্ভবত। এখানে থাকার মত কোনো হোটেল কিম্বা বোর্ডিং আছে নাকি আর মাদ্রাসাটা কোন দিকে তাকে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি ভ্যান থেকে সবে নেমেছি - আমাকে নামতে দেখেই ভূত দেখার মত চমকে উঠলেন! কিছু বোঝার আগেই চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালালো! আমি ব্যাপারটা বোঝার জন্য কাউকে যে জিজ্ঞেস করব তা সম্ভব হল না- গ্রামের কেউ আমাকে যে’ই দেখছে এখন- সবাই ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে!
আমি ভীষণ অবাক হলাম। এক রকম হতভম্ব! আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে এমন? ভ্যান ওয়ালা ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “ ফালাইলো ক্যান বাই?”
আমি বিমূঢ়ের মত মাথা নাড়ালাম, “জানি না, আপনি মাদ্রাসায় চলেন।”
আমি ভ্যান ওয়ালাকে নিয়ে মাদ্রাসাটা খঁজে বের করলাম। আমার স্বপ্নে দেখা মাদ্রাসাটার সঙ্গে খুব একটা মিল নেই। পুকুরটা বেশ ছোট, পানিও পরিষ্কার। শ্যাওলা নেই। তবে মিলও রয়েছে। মসজিদের সেই বারান্দা অবিকল এক। এখানীসেই আমি প্রথম রহস্যটার সাথে জড়িয়ে পড়ি। মাদ্রাসার প্রধান ঈমাম মোহাম্মদ ইদ্রীস শেখের সঙ্গে পরিচয় যখন হল তিনি আমাকে দেখে অবাক হলেন ঠিকি, কিন্তু ভয় পেলেন না। মাদ্রাসার শত শত ছাত্র ততক্ষণে আমাকে দেখতে চলে এসেছে। মসজিদের বারান্দায় বসে আমি প্রথম ইদ্রীস সাহেবের কাছে জানতে পারলাম- আমি “মোঃ নজরুল হোসেন” গত চার দিন ধরে এই হিঙ্গুলী মাদ্রাসায় ছিলাম! এবং গত কাল বিকেলে আমার মৃত্যু হয়েছে- মৃত্যুর আগে আমি বলে গেছি এখানের গোরস্থানে আমাকে কবর দিতে। এবং আমার ফুফুর জন্য চিঠিও লিখে গেছি আমি! গত রাতে আমাকে তারা সবাই কবর দিয়েছে গোরস্থানে!
আমি মসজিদের বারান্দায় বসে ঘোরের মধ্যে সেই চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়লাম যেটা ‘আমি’ ঈমাম সাহেবকে দিয়েছি আমার ফুফুকে দিতে! আমার’ই হাতের লেখা! আমি কাঁপতে শুরু করলাম মৃগী রোগীর মত। সে অবস্থাতেই আমি কবরটা খুঁড়তে অনুরোধ করলাম ঈমাম সাহেবকে।
বলা বাহুল্য আমি বলার আগেই কবর খোঁড়া শুরু হয়ে গেছে। মোয়াজ্জ্বেন সহ আরো কয়েকজন লোক কবরটা খুঁড়লো। আমি নিজে সেখানে যাওয়ার শক্তি পাচ্ছিলাম না। তাই ঈমাম সাহেব আমাকে ধরে নিয়ে গেলেন সেখানে। এটা সেই জায়গা, গত কাল রাতে স্বপ্নে যেখানে আমি কবর দিতে দেখেছিলাম কাউকে!
দিনের বেলা সূর্যের আলোতেও আমার ভয়ংকর একটা অশুভ ভয় করছিল কবরটার পাশে দাঁড়িয়ে। কাঁদা আর পানিতে অর্ধেক ডুবে আছে কাফন জড়ানো লাশটা। কবরের ভেতর অনেক পানি। একজন লোক নামল কবরে মুখ দেখানোর জন্য।
মুখের কাপড় সরানোর পর যাকে দেখলাম- আয়নায় একে আমি বহুবার দেখেছি- আমি, মোঃ নজরুল হোসেন। কাঁদা লেগে থাকলেও না চেনার কোনো কারণ নেই...... আধ খোলা চোখে পৃথিবী দেখছে কবরের পানিতে ভাসতে ভাসতে।
নিজের পায়ের ওপর ভর টিকিয়ে রাখতে পারলাম না আর...... এ যদি নজরুল হোসেন হয়, তাহলে আমি কে? আর আমিই যদি আসল জন হয়ে থাকি- তবে এ কে?

আমি সেদিন গোরস্থানে মৃগী রোগীর মত কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারাই। ঈমাম সাহেব উপায় না দেখে আমাকে মস্তান নগর হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে আমি প্রচন্ড জ্বরের মাঝে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তিন দিন ছিলাম। অবশ্য টানা তিন দিন অজ্ঞান থাকিনি। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরতো। কিন্তু বেশিক্ষণ জেগে থাকতে পারতাম না। প্রচন্ড ভয় আর জ্বরের ঘোরে বার বার জ্ঞান হারাতাম। বলা বাহুল্য এই দীর্ঘ সময়ে আমি স্বপ্ন দেখতাম ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবে। কিন্তু প্রতিটাই একটার সাথে আরেকটা যুক্ত। আশ্চর্যের বিষয় হল এই দীর্ঘ সময়ে আমি নাকি কিছুই খাইনি।
আমার ঠিক মনে নেই কখন স্বপ্ন দেখা শুরু করি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। কেবল মনে আছে প্রথমবার হঠাৎ করেই আমার নাকে মুখে পানি ঢোকা শুরু করে। মাথায় যেতেই ভীষণ জোরে কেঁশে উঠে চোখ মেলে তাকাই। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে! আমি পানির ভেতরে রয়েছি অর্ধেক! ভেসে আছি পানিতে! অবাক হয়ে চারপাশে হাত বুলাতে লাগলাম। নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাটু পানি জমে থাকা একটা ছোট ঘরের ভেতর। সেটা যে একটা কবর বুঝতে সময় লাগল আমার। জায়গাটা কবর কারণ মাথার ওপরে হাত দিতেই বুঝলাম শক্ত বাঁশের টুকরো দিয়ে ঢেকে দেয়া। চার কোনা আয়তাকার ছোট একটা ঘরের মত। হাটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছি। উঠে দাঁড়ানো যায় না, মাথা লেগে যায় বাঁশের ছাদের সাথে। ওপরে মাটি মাটি দিয়ে ঢেকে থাকায় সমস্ত গায়ের শক্তি দিয়েও ধাক্কা দিয়ে বাঁশের পড়ত গুলো সরাতে পারলাম না। তবে অবাক হবার বিষয় হলঃ আমি এক সময় খেয়াল করলাম আমার গায়ে কাপড় বলতে একটুকরো থান কাপড়। কি রঙের সেটা বুঝতে না পারলেও বুঝতে পারলাম কাপড়টা বেস লম্বা।
আমি অজানা একটা ভয় পেতে শুরু করলাম। কারণ যতই সময় যেতে লাগলো, মনে হল আমি দম নিতে পারছি না...... বাতাস্র জন্য ফুসফুসটা আঁকু পাঁকু করা শুরু করেছে...... আমি পাগলের মত মাথার ওপরের ছাদটা ধাক্কা মেরে ওঠাতে চাইলাম। কিন্তু একটু নড়েই স্থির হয়ে গেল। আমি আবারও ধাক্কা দিতে লাগলাম। শক্তি কমে আসছে শরীরের...... ধাক্কা দিয়ে একচুলও নড়াতে পারছি না আর। মনে হল কবরের ওপর খুব ভারী কিছু একটা জিনিস চাপিয়ে দেয়া হল...... আমার ভয়টা দ্রুত আতংকে রুপ নেয়া শুরু করল। আমি অক্সিজেনের জন্য দেয়াল খাঁমচাতে লাগলাম, আচঁড়াতে লাগলাম পাগলের মত...পানিতে পা ছুড়তে লাগলাম পশুর মত...... তার মাঝেই খেয়াল করলাম এই ঘুটঘুটে অন্ধকার কবরের অন্য মাথায় কেউ একজন বসে আছে...... কেবল অবয়বটা বোঝা যায়...... অন্ধকারেও বুঝতে পারলাম সেই ন্যাড় ফ্যাকাসে মেয়েটা জ্বলন্ত অঙ্গার চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। স্থির হয়ে বসে আছে কবরের পানির মাঝে...... আমি জান্তব একটা চিৎকার করে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য দেয়াল খাঁমচাতে লাগলাম। কিন্তু ফুসফুসের বাতাস ফুরিয়ে এসেছে...... ধীরে ধীরে পানিতে ডুবতে শুরু করেছি... এখনো মেয়েটা আমার দিকে স্থির চোখে চেয়ে আছে...... গভীর রাতে জ্ঞান ফিরল আমার। হাসপাতালের সব বাতি নেভানো। তারপরও বুঝতে পারলাম আমার সারা শরীর কাঁদায় লেপ্টে আছে। আমার নাকে মুখে কাঁদা পানি...... কেঁশে উঠলাম। মাথা জ্বালা করছে প্রচন্ড। পাগলের মত বুক ভরে শ্বাস নিতে পাগলাম। আহা! বেঁচে থাকাটা কত অদ্ভূত! আস্তে আস্তে বিছানায় উঠে বসলাম। আমি এখন জানি- হিঙ্গুলী মাদ্রাসা গোরস্থানে কাল সকালে আবারো খোঁড়া হবে “মোঃ নজরুল হোসেন”-এর কবরটা। কারণ সেটার ওপর থেকে মাটি সরে গেছে অনেকখানি। আর অনেকেই একটা চিৎকার শুনেছে......
আমি শুয়ে পড়লাম ধীরে ধীরে। ভয় লাগছে ভীষণ। কেন যেন মনে হচ্ছে হাসপাতালের অন্ধকার করিডোরে, জানালার পর্দার ওপাশ থেকে সেই ন্যাড়া-ফ্যাকাসে মেয়েটা শীতল শান্ত চোখে আমার প্রতিটা নড়াচড়া লক্ষ করছে......
আমি তখনো জানতাম না আমার জন্য আরো কিছু অপেক্ষা করছে......
লেখকের নামঃ- মোঃ ফরহাদ চৌধুরী (শিহাব)
ফেসবুক আই ডিঃ- Nithor Shrabon Shihab
ই-মেইল আই ডিঃ- Rudroaimel@yahoo.com

।। অমীমাংসিত – ০৩ ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 17, 2011 at 10:36pm
আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারলাম না। জ্বরটা লেগেই থাকল। জ্বরের কাঁপুনি নিয়েই হাসপাতাল ছাড়লাম। সাথে টাকা পয়সা তেমন ছিল না যে আরো কিছুদিন হাসপাতাল-ওষুধের খরচ চালাবো। ঈমাম ইদ্রীস শেখের কাছে আমি কৃতজ্ঞ- কারণ শেষের দিকের প্রায় সব খরচ’ই উওনি দিয়েছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে ওখানে থাকাটাও সম্ভব ছিল না। টাকা পয়সার টান পড়তেই বাধ্য হলাম শহরে ফিরে আসতে। অবশ্য চলে আসার আগে মাদ্রাসায় একদিন ছিলাম। ইদ্রীস সাহেবের সঙ্গে সে সময়টায় আমার অনেক কথা হল। সে সময় তাঁকে জানালাম এখানে আমার আসার কারণ সম্পর্কে। যদিও তিনি আগে থেকেই জানেন আমি কেন এসেছি এখানে। কারণ অন্য “নজরুল হোসেন” তাঁকে নাকি সব বলেছিল। “সে” স্বপ্ন দেখে তার সত্যতা যাচাই করতে এসেছিল। তবে ঈমাম সাহেব সে সময় তাকে যা বলেছিলেন- তা আমি জানতাম না, তাই নতুন করে আমাকে তিনি বলা শুরু করলেন। সে রাতে খাওয়ার পর ঈমাম ইদ্রীস শেখ মসজিদের বারান্দায় আমার সাথে বসে অনেক গল্প করলেন। চারপাশে নিরেট ঘন অন্ধকার। কেবল বারান্দায় একটা হারিকেন জ্বলছে। মাদ্রাসার ঘর গুলোর দু-একটা থেকে ছাত্রদের আরবী পড়ার মৃদু গুঞ্জন ভেসে আসছে। বাকিরা ঘুমিয়ে পড়েছে। আলো নেই সে সব ঘরে। রাত তখন সাড়ে এগারোটার মত। একটু আগেই বৃষ্টি হয়েছে, এখন আর হচ্ছে না, তবে হালকা বাতাস এদিক সেদিক থেকে দু-এক ফোঁটা বৃষ্টির ছটা উড়িয়ে এনে গায়ে ফেলছে। ইদ্রীস সাহেব মুখে সবে পান পুড়েছেন। বারান্দায় হেলান দিলেন দেয়ালে। আমার দিকে তাকিয়ে সমবেদনার সুরে বললেন, “আমি বুঝতে পারতেছি আপনে অনেক পেরেশানির মধ্যে আছেন। আল্লাহ পাক কাকে কখন কি পরীক্ষায় ফালায়- তিনিই কইতে পারেন কেবল।” আমি নড়ে চড়ে বসলাম। শীত লাগছে। গায়ে একটা চাঁদর দিয়েও শীতে পোষ মানছে না। জ্বরটা ভাল মত জাঁকিয়ে বসেছে হাঁড়ের ভেতর। সামান্য দ্বিধা মেশানো গলায় বললাম, “আমি এখনো বুঝতে পারছি না আমার পরিচয়ে কে এসেছিল এখানে? আর সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটাই বা কে? কেন আমি বার বার তাকে দেখি? গত পঞ্চাশ বছরেও আমার এরকম সমস্যা ছিল না- নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ আমি। কারো ক্ষতিও করিনি কখনো।” ঈমাম সাহেব সঙ্গে সঙ্গে কিছু বললেন না। দীর্ঘ একটা গুমোট নীরবতা। বৃষ্টি থামায় দু-একটা ঝিঁ ঝিঁ পোঁকা এখান-ওখান থেকে চাপা স্বরে ডাকা শুরু করেছে। আমি বাহিরের ঘুট ঘুটে কালি গুলে দেয়া অন্ধকারের মাঝ দিয়ে গোরস্থানের দিকে তাকালাম। কিছু বোঝা যায় না। শুধু অদ্ভূত একটা ভয় উঁকি দেয় মনের ভেতর। মিলিয়ে যায় না সেটা। ঈমাম সাহেব কেঁশে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করলেন, “আপনে জিজ্ঞাস করছিলেন জুবায়ের আলীর কোনো বোইন আছিল নাকি?”
“আমি?” অবাক হয়ে তাকাল, “কখন?”
“না মানে আপনে না, আপনের আগের জন।”
“কি বলেছিলেন জবাবে?”
“কেউ ছিল না। জুবায়ের এতিম ছেলে। মা, বাপ, ভাই-বোইন কেউ আছিল না। তিন বৎসর বয়স যখন তখন থেইকা এই মাদ্রাসায় ছিল। বলতে পারেন এই মাদ্রাসার ছেলে।” একটু বিষাদ মেশানো কন্ঠে বললেন।
আমি কিছু বললাম না। চুপ হয়ে বসে আছি।
ইদ্রীস সাহেব আপন মনেই বলতে লাগলেন, “জুবায়ের খুবই শান্ত কিসিমের ছেলে আছিল। একদম কথা বার্তা বলত না। এই পাঁচ বছর বয়সেই পুরা অর্ধেক কুরান মুখস্ত করে ফেলছিল!”
আনমনেই বললাম, “তাই নাকি?”
“হ্যা ভাই। খুবই ভাল স্বরণ শক্তি আছিল ছেলেটার। আজব একটা খেয়াল আছিল ওর। সারা দিন রাত গোরস্থানের ভিতর গিয়া নতুন কবরের নাম, তারিখ, সাল- মুখস্ত করত।”
আমি অন্য মনষ্ক হয়ে পড়েছিলাম। কথাটা কানে যেতেই ঝট করে সোজা হয়ে বসলাম। শিরদাঁড়া পুরো টান টান, “কি বললেন?”
“ইয়ে- কবরের নাম, তারিখ, সাল মুখস্ত করত।” একটু অবাক হয়ে তাকালেন আমার দিকে।
আমি বেশ বিষ্মিত মুখে জিজ্ঞেস করলাম, “ মানে? মুখস্ত করত?”
“জী ভাই। আরো একটা কাজ করতো- কবরের পাশে বসে কান পাইতা থাকত, যেন কিছু শুনবার চেষ্টা করতেছে।”
আমি স্থির দৃষ্টিতে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মূর্তির মত দীর্ঘ একটা মুহূর্ত নড়লাম না।
“ভাই? কী ভাবতেছেন?” অবাক গলায় বললেন ইদ্রীস সাহেব।
আমি জবাব দিলাম না। আমার মাথায় বিচিত্র একটা সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে তখন। আমি ঠিক জানি না আমি যেটা ভাবছি- সেটা ঠিক কিনা। কিন্তু আমার যুক্তিতে সব খাঁপে খাঁপে মিলে যাচ্ছে।। (চলবে) লেখকের নামঃ মোঃ ফরহাদ চৌধুরী ( শিহাব )
ফেসবুক আইডিঃ Nithor Shrabon Shihab
ই-মেইল আইডিঃ Rudroaimel@yahoo.com

।। অমীমাংসিত – শেষ পর্ব ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 18, 2011 at 11:07pm
আমি সে রাতটা মসজিদের বারান্দায় শুয়ে কাটিয়ে দিলাম। এক মুহূর্তের জন্য দু চোখের পাতা এক করলাম না। কারণ ঘুমালেই আমি স্বপ্ন দেখা শুরু করবো। আমার জেগে থাকা এখন ভীষণ দরকার। ভীষণ। জ্বরের ঘোরে কাঁপতে কাঁপতে অন্ধকার গোরস্থানটার দিকে তাকিয়ে রইলাম সারা রাত। অপেক্ষা করতে লাগলাম সূর্যের জন্য। অজানা আশংকায় বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা পাগল হয়ে গেছে। আমি পরদিন খুব ভোরে চলে আসি রেল স্টেশনে। আসার আগে ফযরের নামাজ শেষে বিদায় নেই ঈমাম সাহেবের কাছ থেকে। আমাকে এগিয়ে দিতে তিনি রেল স্টেশন পর্যন্ত এলেন। ভদ্রলোক বুকে জড়িয়ে ধরে আমাকে বিদায় জানালেন। বহুকাল মানুষের এমন গভীর ভালবাসা পাইনি। খারাপ লাগল কেন জানি। আসার আগে তাঁকে বললাম, “ ভাই, একটা কথা বলি?”
“অবশ্যি বলেন ভাই।”
“আমাকে পাগল ভাববেন না। কথাটা শুনলে পাগল মনে হতে পারে আমাকে।” স্টেশনের প্লাটফর্ম দিয়ে হাটতে হাটতে বললাম। ট্রেন ছাড়বে ছাড়বে করছে।
“কি কথা?” বেশ অবাক হলেন।
“জুবায়ের আলী নামের সেই ছেলেটার ছবি আর বর্ণনা দিয়ে পত্রিকায় একটা হারানো বিজ্ঞপ্তি দেন। ছেলেটাকে খুঁজে পাবেন আমার মনে হয়।”
ঈমাম সাহেব এমন ভাবে তাকালেন যেন আমার মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। আমি একটা নিঃশ্বাস ফেলে তাঁর কাঁধে হাত রেখে মৃদু চাপ দিলাম, “আপনি আমার কথা বিশ্বাস করতে পারেন ভাই, আমি বুঝে শুনে কথাটা বলেছি আপনাকে।”
ট্রেনের বাঁশি দিল। আমি দরজার হ্যান্ডেল ধরে উঠে পড়লাম। ঈমাম ভদ্রলোক তখনো হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্লাটফর্মে। ট্রেনটা ছেড়ে দিল। ঈমাম সাহেবের সঙ্গে এটাই আমার শেষ দেখা।

পৃথিবীতে অতিপ্রাকৃত কিছু আছে কিনা আমি ঠিক জানি না। কিন্তু এখন একটা জিনিস আমি জানি। অতিপ্রাকৃত কিছু মানুষ ঠিকি রয়েছে।
প্রকৃতি যখন সিদ্ধান্ত নেয় তার সৃষ্ট মানুষ গুলোর মাঝ থেকে কাউকে সে বিচ্ছিন্ন করবে- তখন একই সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের পরিপুরোক অন্য কোথাও একটা মানুষকে সৃষ্টিও করেন। আর প্রকৃতি তার সিদ্ধান্ত মাঝ পথে বদলে ফেলার জন্য তৈরি করেছেন কিছু মাধ্যম। সেই রকম একজন মাধ্যম হল “মোঃ নজরুল হোসেন” কিংবা “জুবায়ের আলী”।
আমি ৩১ জুলাই রাতে জুবায়ের আলীর দ্বিতীয় সত্ত্বাকে বাঁচাতে পারিনি। সেদিন কবর দেয়া হয়েছিল জুবায়ের আলীর দ্বিতীয় অস্তিত্বকে। আসল জুবায়ের আলীকে নয়। কবরের ভেতর মারা যাওয়া বাচ্চাটা ছিল “মোঃ নজরুল হোসেন”এর সেই দ্বিতীয় জনের মত। আসল জুবায়ের আলী আমার মত এখনো বেঁচে আছে কোথাও না কোথাও। পালিয়ে বেরাচ্ছে ভয়ের হাত থেকে বাঁচতে- কারণ সে এখনো ছোট। ভয়টাকে সহ্য করার মত শক্তি তার এখনো হয়নি।
আমার এ অদ্ভূত ব্যাখ্যার অর্থ অনেকেই বুঝতে পারবেন না। তাই একটু বুঝিয়ে বলছি- জুবায়ের আলী নামের সেই বাচ্চা ছেলেটা খুব ছোট থাকতেই একটা জিনিস জেনে গিয়েছিল। প্রকৃতি তার সৃষ্ট মানুষদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে যদি টেনে নেন- মাঝে মাঝে তাদের ফিরিয়েও দেন। কিন্তু সেটা খুবই অল্প সময়ের জন্য। সেই অল্প সময়ে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ আছে যারাই কেবল বুঝতে পারে প্রকৃতি সেই মানুষটাকে আবার ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তখন তাদের কাজ হয় সেই মৃত মানুষটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। জুবায়ের আলী নতুন কবরের নাম, তারিখ, সাল দেখে বলে দিতে পারত এই কবরের ব্যক্তি কি দ্বিতীয় বার বেঁচে উঠবে নাকি। সে এসব কিভাবে জানতে পেরেছিল সেটা আমার কাছে ধোঁয়াটে। হতে পারে সেই ন্যাড়া ফ্যাকাসে মেয়েটার মাধ্যমে জানতে পারতো।
জুবায়ের আলী ছোট ছিল বলে ভয় পেত জিনিসটা। কারণ ও শখের বশে নয়, ভয়ের বশে কাজটা করতো। খুব সম্ভব ও কোনো কবরের লাশের জীবন্ত হওয়ার পর ভয় পেয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে পালিয়ে গিয়েছিল মাদ্রাসা ছেড়ে। আর সে কারণেই শাস্তি সরুপ তার দ্বিতীয় একজন অস্তিত্বকে এখানে পাঠানো হয় এবং অসুখ হয়ে মারা যায়, তারপর কবরের ভেতরে সেই কষ্টটা পেয়ে মৃত্যু হয় তার- যে কষ্টটা অন্য কেউ একজন পেয়েছিল কবরের ভেতর দ্বিতীয়বার বেঁচে উঠেও শ্বাস নিতে না পেরে মারা যাওয়ায়।
জুবায়ের আলী যে রাতে কবরের ভেতর মারা যায়- সে রাতে আমিও একই কাজ করেছিলাম। ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। হয়ত সে কারণেই আমার দ্বিতীয় সত্ত্বাকে পাঠানো হয় এবং কবরের ভেতর জেগে উঠে শ্বাস বদ্ধ হয়ে মরার কষ্টটা পেতে হয়। আমি স্বপ্নের মাঝেই আমার যাত্রা করি- হয়ত জুবায়ের আলীও সেরকম কিছু করে। হয়ত আমার মত দুঃস্বপ্ন যাত্রা সে করে না, সে তারিখ মিলিয়ে খুঁজে বের করে কার পুনরাগমন ঘটবে আবার? কে জানে হয়ত এখনো করে।
তবে জুবায়ের কবরের নাম, তারিখ দেখে যে কাজটা করতে পারত আমি তা পারি না। হয়ত আমাদের ধরন আলাদা। আমি জানি না কে জেগে উঠবে কবরের মাঝে? শুধু এটুকু আন্দাজ করে বলতে পারি- আমি যে রাতে কবরের ভেতরে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাই- সে রাতে আমার কবরের ওপরে কিংবা আশে পাশে কেউ একজন ছিল...... হয়ত আমার মত কেউ...... যে ভয় পেয়ে আমাকে বের করতে যায়নি। হয়ত এভাবেই প্রকৃতি তার বিচিত্র শৃংখ্যলটা সৃষ্টি করেছেন। হয়ত এভাবেই এই মানুষ গুলো তাদের নিজেদেরকে আবিষ্কার করবে...... আমি দিনাজপুর চলে আসার দীর্ঘ দিন পর হিঙ্গুলী মাদ্রাসার ঈমাম ইদ্রীস শেখের চিঠি আসে আমার কাছে। চিঠিতে সাধু-চলিত মিশিয়ে ফেলেছেন ভদ্রলোক। তিনি লিখেছেনঃ-
“ভাই মোঃ নজরুল হোসেন,
আমার সালাম নিবেন। আমি আসলে ঠিক কিভাবে লেখবো ব্যাপারটা বুঝতে পারিতেছি না। আমি আপনি চলিয়া যাওয়ার পর খেয়ালের বসেই পত্রিকায় জুবায়ের আলীর নিখোঁজ সংবাদ দিয়া খবর ছাপাই। অনেকেই আমাকে পাগল ঠাউরেছিল সেই সময়।
ইহা মহান আল্লাহ তা আলার বড় অদ্ভূত কুদরত- এক মাসের মাথায় জুবায়ের আলীকে ব্রাক্ষ্মণ বাড়িয়ায় খুঁজিয়া পাওয়া যায়! বড়ই আশ্চর্যের বিষয় সে সুস্থ আছে এবং মতি ভ্রমও হয় নাই! বর্তমানে মাদ্রাসায় আছে সে। আপনি একবার তাকে দেখিতে আসলে খুশি হইতাম। সে এখনো নতুন কবরের নাম, তারিখ পড়িয়া বেড়ায়।
- আরজ গুজার
মাওলানা মোঃ ইদ্রীস শেখ” আমি যাইনি। চিঠির জবাবও দেইনি। ইদ্রীস সাহেবের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, তবুও কেন যেন এড়িয়ে গেলাম চিঠিটাকে। কারণ এখন আমার কাছে কোন প্রশ্ন জমা নেই। যেটার উত্তর জুবায়ের আলী দেবে আমাকে। হ্যা, কবরের নাম, তারিখ দেখে কিভাবে সে বের করে যে এই কবরের মানুষ পুনরুত্থিত হবে- সেটা জানার আগ্রহ ছিল। কিন্তু মনে হয় না সে আমাকে বলবে। কারণ আমরা দুজনেই ভয় পাই, অজানা একটা ভয়।। প্রচন্ড মাথা ব্যথা আর জ্বরে কাঁপছি। সাথে বুকের ভেতর কফ জমেছে। ঘড় ঘড় করে সারাক্ষণ। দুপুরে দুটো প্যারাসিটামল খেয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়েছি। তাতেও শীতে মানছে না। কিছুদিন হল বাসার কাজ করে দেয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি থেকে ফুফু একটা নয় বছরের বাচ্চা মেয়েকে পাঠিয়েছে। অনাথ। কেউ নেই বলেই আমার কাছে পাঠিয়েছে। আমি ত সারাক্ষণ রোগে শোকে ভূগি, তাই ও এখানে থাকলে খাওয়া দাওয়াটা অন্তত করা হয়। নামটা বলা হয়নি- পারুল। শ্যামলা মত হালকা পাতলা মানুষ। বাতাস এলে উড়ে যাবে এরকম। আমার জ্বর আসলেই খুব ব্যস্ত হয়ে পরে পারুল। মাথায় পানি ঢেলে দেয়, কপালে জলপট্টি দেয়। আজকেও মাথা ব্যথা আর জ্বরে যখন কাঁপছিলাম, পারুল আমার গায়ের ওপর আরো দুটো কাঁথা চাপিয়ে দিয়ে উদ্বিগ্ন মুখে বলল, “চাচা আপনের তো অনেক জ্বর! আপনে শুইয়া থাকেন। আমি ডাক্তার ডাকে আনতেছি, মোড়েরই ডাক্তারের দোকান।”
আমি কিছু বলার শক্তি পাচ্ছিলাম না। প্রচন্ড মাথা ব্যথায় মগজটা ছিঁড়ে যাচ্ছে আমার, জ্বরের ঘোরে কেবল গোঙ্গাচ্ছি...... পারুলের কথা শুনতে পেলাম না...... তলিয়ে যাচ্ছি কোথাও আমি...... ভীষণ স্যাঁত স্যাঁতে কোথাও বসে আছি। ঠান্ডা আর ভ্যাপসা একটা স্থির বাতাস। নিজের হাত পা কিছুই দেখতে পারছি না। কিন্তু হাত বুলিয়ে চারপাশে বুঝতে পারলাম একটা কবরের ভেতরে আছি। আমার পা নাড়াতেই এই কবরের লাশটার গায়ে লাগল। স্থির হয়ে গেলাম। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে লাশটা। খারাপ ধরণের একটা গন্ধ। নাকে হাত দিলাম। বুকের ভেতর ঢাকের মত আওয়াজ করা শুরু হয়েছে। শান্ত রাখার চেষ্টা করলাম নিজেকে। বোঝার চেষ্টা করলাম কোথায় আছি। মাথার ওপরের ছাদ মাটি চেপে সিমেন্টের মত হয়ে গেছে, তবে দেয়ালের মাটি খুব আলগা। হাত দিতেই ঝুর ঝুর করে ঝরে পড়ল। পুরনো কবর। খুব ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছি আমি। বাতাস ফুরিয়ে গেলে মরতে হবে...... চারপাশে পিনপতন নীরবতা। জমাট নিস্তব্ধতা।
হঠাৎ মনে হল খুব চাপা, গুমোট একটা কান্নার শব্দ কানে এল...... কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম কোত্থেকে আসছে। কিছুতে থাবড়ানো, আচঁড়ানোর শব্দ শুরু হল। আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। কবরের দেয়ালে কান লাগিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম শব্দটার উৎসটা কোথায়......
হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম এই কবরের পাশেই আরেকটা কবর! ওটা থেকেই আসছে শব্দটা! বাচ্চা কোনো মেয়ের কান্নার শব্দ। কিন্তু খুব দ্রুত কান্নাটা আতংকের চিৎকারে রুপ নেয়া শুরু করল। সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেলাম কি ঘটতে যাচ্ছে। আমি গায়ের শক্তি দিয়ে আমার কবরের ঐ পাশের দেয়ালের মাটি খাঁমচে ভেঙ্গে ফেলতে লাগলাম। মাটি নরম। দ্রুত পাতলা হয়ে আসতে লাগল দেয়ালটা। ওপাশের চিৎকার থামছে না।
দেয়ালে ছিদ্র হওয়া মাত্রই ওপাশের বাচ্চা মেয়েটা প্রচন্ড চিৎকার দিয়ে এক কোনায় চলে গেল ভয়ে। আমি আরো দ্রুত দেয়াল ভেঙ্গে ওপাশের কবরে এসে ঢুকলাম। অন্ধকারে কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু সময় নেই হাতে। আমি কেবল বললাম, “ মা, তুমি ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে বের করে দিচ্ছি।” মেয়েটার দিক থেকে আরো ভয়ার্ত কান্নার শব্দ হল। কিন্তু বেশ দূর্বল। নিঃশ্বাস না নিতে পেরে দূর্বল হয়ে আসছে মেয়েটা।
আমি দেরি না করে কবরের ছাদের এক পাশে জোরে জোরে ঠেলা দিয়ে বাঁশ, চাটাই খুলে ফেলতে লাগলাম। বাচ্চার কবর বলে সবকিছু অল্প ছিল। তাই ছাদটার এক পাশে দ্রুত একটা ফোঁকর করে ফেলতে পারলাম। গায়ে বালু মাটি লেগে একাকার অবস্থা। ঘুরে মেয়েটার দিকে তাকালাম। অন্ধকারে মেয়েটার সারা আর না পেয়ে চমকে গেলাম। তাড়াতাড়ি ওর কাছে গিয়ে দেখলাম খুব দূর্বল হয়ে এসেছে শ্বাস নিতে না পেরে। কেবল মাটিতে পা ঘসছে নিস্তেজ ভাবে। আমি কোলে তুলে ওকে নিয়ে এলাম ফোঁকরটার মুখের কাছে। তুলে ধরলাম।খোলা বাতাসে শ্বাস নিতেই শক্তি পেল মেয়েটা। হাঁচড়ে পাচঁড়ে বেরিয়ে গেল কবর থেকে। ভেবছিলাম আমার জন্য দাঁড়াবে। কিন্তু দাঁড়ালো না, ভয় পেয়ে পালাতে লাগল...... চাঁদের আলোয় হারিয়ে গেল......
আমি ক্লান্ত ভঙ্গিতে একটু নিঃশ্বাস নিলাম ফোঁকরটা দিয়ে। রাতের ভাঙ্গা চাঁদের আলোয় গোরস্থানটা চিনতে পারলাম না। কে জানে কোথায় এটা?
আস্তে আস্তে বসে পড়লাম আবার কবরের ভেতর। চাঁদের আলো ঢুকছে ফোঁকর দিয়ে কবরের এ পাশে। আমি জানি অন্য পাশের অন্ধকার কোনাটায় এখনো মূর্তির মত বসে রয়েছে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা...... স্থির চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে...... চোখ মেললাম। জ্বরের তেজটা কমে এসেছে। মাথা ব্যথাটাও নেই একদম। হালকা লাগছে খুব মাথাটা। দেখলাম আমার মাথার কাছে একটা টুলে বসে আমার মাথায় মগ দিয়ে পানি ঢালছে পারুল আর একটু পর পর হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছছে। ঘরের জানালাটা খোলা। মধ্য রাতের চাঁদের আলো এসে আমার ঘরটা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কাঁপা হাতে পারুলের মাথায় হাত রাখলাম। মেয়েটা এখন আরো জোরে কাঁদা শুরু করল।
আহারে...... বুকের ভেতর অদ্ভূত একটা শূণ্যতা মোচড় দিয়ে উঠল। বিয়ে করিনি বলে জানি না সন্তান হলে কেমন লাগে। কিন্তু কেন যেন হঠাৎ মনে হল আমার মেয়ে থাকলে মেয়েটা ঠিক পারুলের মতই হত, এভাবেই হয়ত কাঁদত আমার মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে...... ঝাপসা হয়ে এল আমার চোখের দৃষ্টি......... আহারে...... মমতা বড় কঠিন জিনিস। স্রষ্টা এই একটা জিনিস দিয়ে জগৎটাকে এত সুন্দর করে ফেলেছেন! লেখকের নামঃ মোঃ ফরহাদ চৌধুরী ( শিহাব ) ফেসবুক আইডিঃ Nithor Shrabon Shihab ই-মেইল আইডিঃ Rudroaimel@yahoo.com

অভিশপ্ত আয়না

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Friday, August 19, 2011 at 8:07pm
এক
আয়নাটির দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুপ্তি। চমৎকার ডিম্বাকৃতি আয়না, চারপাশে লাল আর কালোর অদ্ভূত নকশা করা বর্ডার। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে আয়নার উপরে বসানো ময়ূর দুটি। ময়ূর দুটির লেজ আয়নার দুই পাশে ঝুলে রয়েছে। চোখ গুলিতে কি পাথর বসানো কে জানে, লাল রঙ এর চোখগুলো আলো না পড়লেও যেন ঝিকমিক করছে। প্রথম দৃষ্টিতেই আয়নাটির প্রেমে পড়ে গেলো সে। এরপর পুরো ঘরে এক চক্কর দিয়ে আবার সেই আয়নার সামনেই এসে দাঁড়িয়েছে। মনের কল্পনায় দেখছে, আয়নাটিকে তার রুমের ওয়ার্ডরোবের পাশের দেয়ালে কি চমৎকারই না দেখাচ্ছে। আয়নার দাম যে তার নাগালের বাইরে হবে, সে নিয়ে সুপ্তির মনে কোন সন্দেহ নেই। তার স্কলারশিপের টাকা বেশীর ভাগই সে মনের আনন্দে উড়িয়েছে। সেটা নিয়ে এখন তার অনেক মন খারাপ হলো।
সে এসেছে তার মায়ের সাথে পুরান ঢাকার গলির মাঝে তস্য গলির তিনতলা এক বাড়ীতে। বাড়ীটি এত পুরনো যে যে কোন সময়ে ঝুর ঝুর করে ভেঙে পড়বে। সেই কোন আমলের জমিদার বাড়ি, বয়স প্রায় ৩০০ বছর।অনেক বছর বাড়িটি বন্ধ থাকার পর কে বা কারা যেন পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে অ্যান্টিক পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি হবে। তার মার সখ অ্যান্টিক শো পিসের, একারনেই শুক্রবারের সকালে আরাম ছেড়ে তারা এখন এই পুরনো বাড়ীর বৈঠক খানায় দাঁড়ানো। সুপ্তি পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে, তৃতীয় বর্ষে। শুক্রবারে তাকে বেলা ১২টার আগে বিছানা থেকে তোলা কষ্টসাধ্য নয়, একেবার দুঃসাধ্য কাজ। আজকে সেই কাজটি তার আম্মু, নাসরিন বেগম ওরফে নাসু, করতে সক্ষম হয়ে আব্বুর কাছ থেকে বাজীর ৩০০০ টাকা আদায় করেছে। সেই টাকা নিয়েই নাসরিন ঢু মারতে এসেছে এই পোড়ো বাড়িতে। তার আম্মুর ইতোমধ্যে একটা পানের বাটা আর একটি ফুলদানি খুবই পছন্দ হয়েছে। এখন সে দরদাম করতে ব্যস্ত সাদা চুলের বুড়োর সাথে। সেই এই বাড়িটি দেখাশোনা করে। বাড়িটির বর্তমান মালিক জন্মের পর থেকেই আমেরিকা। একবারো দেশে আসেনি। এখন সে চায় সব কিছু বিক্রি করে দেশের সাথে সম্পর্ক একেবারেই মিটিয়ে দিতে।
এক ফাঁকে সুপ্তি বাড়ির নীচতলা পুরোটাই ঘুরে এসেছে। সবকিছুরই ঝুরঝুরে দশা। দোতলার একটি ঘর কোনমতে আস্ত আছে, যেটিতে বুড়ো চৌকিদার থাকে। তিনতলায় কেউ ওঠে না প্রায় ১০০ বছর হয়ে গেছে নাকি। নীচ তলার রুমগুলি এখনো কিছুটা আস্ত আছে বটে, কিন্তু ভ্যাপসা গন্ধ আর প্রচন্ড ধূলা। এক কালের রঙিন কাঁচ গুলো অবহেলা আর পরিচ্ছন্নতার অভাবে ধূলি ধূসরিত। ঘুরতে ঘুরতে একটা বন্ধ দরজার সামনে এসে পড়ে সুপ্তি। বিশাল কাঠের দরজা, অতীতে হয়ত চমৎকার কাঠের কাজ করা ছিল; এখন তার উপরে কয়েক পরত ধূলার আস্তরন। সুপ্তি টানাটানি করতেই ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ করে খুলে গেলো। রুমটি বেশী বড় নয়, মাঝারি আকৃতির। ভিতরে ঢুকে সুপ্তি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। চারপাশে বিশাল বিশাল সব আলমারি, আর তাতে না হলেও হাজার দশেক বই হবে। এ বাড়ির লাইব্রেরী বোধ হয়। মাকড়সার জাল সরিয়ে সরিয়ে ঢুকতে হয়, অবস্থা এতই করুণ। ঝটপট শব্দ হচ্ছে, তার মানে ইঁদুরের সাম্রাজ্য।সাথে চামচিকাও অবশ্যই আছে। ঘরের কোনে একটা লাঠি পেয়ে সেটা নিয়েই সুপ্তি এগুতে থাকে জাল সরিয়ে।একটা আলমারি টানাটানি করে খুলতে ব্যর্থ হয়। সব মনে হয় তালা দেয়া। ঘরের এক কোনে একটা টেবিল আর ইজি চেয়ার। চেয়ারের কোন দশা নেই, কি করে এখনো দাঁড়িয়ে আছে তা এক বিস্ময়। টেবিলের উপরে এখনো কিছু বই ইতঃস্তত পড়ে আছে। শত বছর আগে এই টেবিলে বসেই কেউ লিখতো, বই গুলি পড়তো – ভাবতেই সুপ্তির গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। সবকিছুর উপর শত বছরের ধূলা। সুপ্তি ভাবলো তার মা এই রুমে এলেই সর্বনাশ। মার প্রবল ডাস্ট এলার্জি। বাসার সব ধূলা ঝাড়াঝাড়ি সুপ্তি আর তার বাবাকেই করতে হয়। সুপ্তি টেবিলের রাখা বইগুলোর উপর থেকে হাত দিয়েই ধূলা সরাতে থাকে। কালো মলাটের একটি মোটা বই, প্রথম পাতা খুলতেই ঝুর ঝুর করে সব খসে পড়লো। পাতা নেই বললেই চলে, যা আছে সব ইঁদুর আর পিঁপড়া মিলে ভোগে লাগিয়েছে। কিসের বই বোঝার কোন উপায় নেই। বইটির পাশে ছোট একটি ডায়েরী। সুপ্তি অবাক হয়ে দেখলো সবকিছুর ধূলার সাম্রাজ্যে ঢাকা হলেও ডায়েরীটি যথেষ্টই পরিস্কার। কেউ যেন নিয়মিত এর ধূলা ঝাড়ে। পাশেই কালির দোয়াত, তার মাঝে পাখির পালকের কলম। ধূলায় রঙ অস্পস্ট। সুপ্তি ডায়েরীটি তুলে নিল।
“এখানে কি চাই?” – গম্ভীর রাগী গলায় কেউ একজন প্রশ্ন করলো।
সুপ্তি ভয়ে চেঁচিয়ে উঠে হাত থেকে ডায়েরী ফেলে দিলো। আতংকে তার গলা রুদ্ধ হয়ে গেলো, কোনমতে পিছনে ফিরে দেখলো বুড়ো চৌকিদার কোন ফাঁকে চলে এসেছে। এত তন্ময় হয়ে সুপ্তি সব দেখছিলো যে সে বুঝতেই পারেনি অন্য কেউ ঘরে প্রবেশ করেছে। তোতলাতে তোতলাতে সুপ্তি বললো,
“এই তো, এমনি। এমনি আমি সব ঘুরে দেখছিলাম”।
বুড়ো চৌকিদারের চোখ রাগে ধক ধক করে জ্বলছে। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“কখনো এমন কোথাও যেতে হয় না যেখানে তুমি অবাঞ্চিত। এমন কোন কিছু স্পর্শ করতে হয় না যা তোমার নয়। তোমার কৌতুহল তোমাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, সে সম্পর্কে তোমার কোন ধারনা নেই”।
সুপ্তির কাঁপুনি বেড়ে গেলো। আজকাল সে অনেক সাইকো থ্রীলারের ছবি দেখে তার বন্ধু চৈতীর পাল্লায় পড়ে। এই লোকটিও সাইকো নয় তো?
“আমি…… আমি দুঃখিত। বুঝতে পারিনি”। কাঁপা কন্ঠে কথা গুলো বলেই লোকটির পাশ দিয়ে দৌড় দিলো সুপ্তি। দরজা দিয়ে বের হতে হতে সে শুনতে পেলো লোকটি কারন ছাড়াই হাসছে।
বাইরে বৈঠক খানায় এসে দেখলো তার মা চার পাঁচটি প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে। যেতেই সুপ্তি ধমক খেলো।
“অ্যাই পাজি মেয়ে, কোথায় ছিলি তুই? জানিস আমি কতক্ষন ধরে খুঁজছি। বাসায় যেতে হবে না? রান্না কি ভূতে করে দিয়ে যাবে?”
সুপ্তি কথার উত্তর না দিয়ে দৌড়ে দরজা দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলো। রাস্তায় লোকজনের মাঝে না গেলে তার কাঁপুনি কমবে না। অদ্ভুত কিছু একটা আছে এই বাড়ীতে। এক মূহুর্ত সে এখানে থাকবে না।
বুড়ো চৌকিদার ততক্ষণে ফিরে এসেছে। সুপ্তির মা তার দিকে তাকিয়ে লজ্জিত ভাবে বললেন,
“মেয়েটা আমার বড় পাগলী হয়েছে। তাহলে আজ আসি?”
“জ্বী জ্বী। তবে কি আমি চায়ের সেটটি আপনার জন্য রাখবো? একেবারে খাঁটি পুরনো জিনিস কিন্তু, ১৫০ বছরের কম বয়স না”।
সুপ্তির মা দুঃখের সাথে মাথা নাড়লেন, “যে দাম বলছেন, তাতে কোন ভাবেই সম্ভব না”।
“আরেকটু না হয় কমালাম, আপনি এত জিনিস নিলেন”।
সুপ্তির মা কিছুক্ষন ভেবে বললেন, “আপনি দিন ১৫ যদি রাখতে পারেন তবে ভালো হয়, এর পর আমি এসে নিয়ে যাবো”।
“ভালো খদ্দের না পেলে রাখবো। আপনি খবর নিয়েন”।
প্রথম দুই তিন দিন সুপ্তির রাতে একা ঘুমুতে একটু ভয় ভয় করছিলো; কিন্তু তার ছোট বোন হচ্ছে পাজির পা ঝাড়া। কি ভেবে যে আব্বু তার নাম সুকন্যা রেখেছে সে আল্লাহ মালুম। একবার যদি শোনে যে সুপ্তির রাতে ঘুমুতে ভয় করছে, ফোন করে করে সবার কাছে খবর পৌঁছে দেবে। তাই সে যে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাচ্ছে, তা কাউকে জানতে দিলো না। দিন তিনেক পরেই সব আগের মত। অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার ধাক্কায় সুপ্তির জীবন চলতে লাগলো আগের ধারায়।
২৪শে এপ্রিল সুপ্তির জন্মদিন। ২৩শে এপ্রিল রাতে সে খুবই আনন্দ নিয়ে জেগে থাকে। প্রতিবারই জন্মদিনে রাত ১২টা এক মিনিটে সে বেশ কিছু উপহার পায়। তার মাঝে কিছু উপহার গৎবাঁধা। তার ভালো মানুষ বাবা একটা খামে শুভ জন্মদিন লিখে কিছু টাকা দেবে, যেটাতে সে বন্ধুদের খাওয়ায়। তার পাজি বোন একটা কার্ডে হ্যাপী বার্থডে লিখেই খালাস। ছোট খালা উপহার আগেই পাঠিয়ে রাখে। প্রতি বছরই সে একটা করে জামা পায়। পাশের বাসার নীনা আন্টির কেক পুরো বিল্ডিং এ হিট। নীনা আন্টি একটা কেক বানিয়ে আনে। গত বছর নীনা আন্টির ৪ বছরের ছেলে কৌশিক একটা ললিপপ দিয়েছিল। যেটা দেয়ার আগে আবার সে খানিকক্ষন খেয়েছে। এবছর কি করবে কে জানে! তবে তার আম্মুর দেয়া উপহার সবসময়ই ব্যতিক্রম। কোনবারের সাথে কোন বারের টা মিল থাকে না। এই তো দুই বছর আগে সে পেয়েছিলো রবীন্দ্র রচনাবলীর সেট, গত বছর আম্মু তার জন্য কিনে এনেছিল মুক্তার চমৎকার একটা সেট। পার্টিতে সে প্রায়ই সেটা পড়ে। এবছর কি পাবে তা নিয়ে সে খুবই উত্তেজিত। শুয়ে শুয়ে সে ঘুমের ভান করতে লাগলো। ১২টা ১ বাজার সাথে সাথে সবাই হ্যাপী বার্থডে টু সুপ্তি বলতে বলতে রুমে ঢুকে পড়লো। সুপ্তি ভান করলো যে সে একেবারে আকাশ থেকে পড়েছে। ডাইনিং রুমের টেবিলের উপরে নীনা আন্টির কেক রাখা। চারপাশে মোমবাতি সাজানো।মোবাইলে টানা ভাইব্রেশন হচ্ছে, মেসেজ আসার জন্য। আনন্দে সুপ্তির চোখে জল এলো। কেক কাটা পর্ব শেষ করেই সবাই ঘুমানোর জন্য দে ছুট। আম্মু এসে সুপ্তির কপালে চুমু দিয়ে তার উপহারটি বিছানায় রেখে গেলো। সবাই চলে গেলে পরে গভীর রাতে সুপ্তি তার উপহারগুলো খুলতে বসলো। তার বোনের কার্ডটির মাঝে এবার বান্দরের ছবি। দাঁত বের করে বান্দরটি হ্যাপী বার্থডে জানাচ্ছে।সুখের বিষয় এবার কৌশিক কোন উপহার ছাড়াই এসেছে। ছোট খালার জামাটিও মন্দ না। আব্বুর দেয়া টাকা গুলি ব্যাগে ভরে সুপ্তি আগ্রহ ভরে আম্মুর দেয়া উপহার খুললো।
উপহার খুলে সুপ্তি খানিকক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। এরপর আবার নতুন করে চোখে জল আসা শুরু হলো। যে আয়নাটি দেখে সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো ওই পোড়ো বাড়িতে, আয়নাটি তার আম্মু তার জন্য নিয়ে এসেছে। মা দের চোখে কি কিছুই এড়ায় না? সুপ্তি উঠে তার ওয়ার্ডরোবের পাশের দেয়াল থেকে ক্যালেন্ডারটি সরিয়ে আয়নাটা লাগায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সে আবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে। চারপাশের বর্ডারে কি সূক্ষ্ণ কারুকাজ। কাঠের মাঝে লাল আর কালো রঙ করা। উপরের ময়ূরের লেজ দুইটি কি দিয়ে বানানো যে এত বছর পরেও এতটুকু রঙ নষ্ট হয়নি? আর চোখ গুলি কি রুবী? সুপ্তির চেহারা তার নিজের কাছে বিশেষ সুবিধার কখনোই মনে হয় না। কিন্তু এখন সে নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো। আয়নায় কি সুন্দরই না তাকে লাগছে। একটা লাল টিপ এনে কপালে পড়লো। রূপকথার রাজকন্যা যেন। আনন্দ দিয়ে সুপ্তি ঘুমাতে গেলো। কিন্তু ঘুম কেন যেন খুব ছাড়া ছাড়া হলো। শেষ রাতের দিকে তার ঘুমের মাঝেই মনে হতে লাগলো কেউ তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

দুই
পরের দিন বাসায় বিকেলে হৈ হৈ করতে করতে চৈতী, সুমন আর তুলি আসলো। সুপ্তির আম্মু মানুষ কে খাওয়াতে পারলেই খুশী। ৬/৭ পদের নাস্তা বানিয়ে ফেললেন তখনই। আয়না দেখে সবাই থ। চৈতী তো পারলে নিয়েই যায়। কয়শ বছরের পুরনো জিনিস, কে এটা বানিয়েছে, কেই বা ব্যবহার করতো- এসব নিয়ে ব্যাপক আড্ডাবাজী।সুমন বরাবরই কল্পনার রঙ ছড়াতে ভালোবাসে। তার ধারণা, আয়নাটা অভিশপ্ত। সবার রক্ত চুষে নেয়। একারণেই ময়ূরগুলোর চোখ লাল। নতুবা কে কবে শুনেছে ময়ূরের চোখ লাল। সবার হো হো অট্টহাসিতে তার মতবাদ চাপা পড়লো। কিন্তু সুপ্তি বিশেষ খুশী হতে পারলো না। বন্ধুরা যখন ডাইনিং রুমে খেতে বসেছে, আর সে এসেছে তুলির মোবাইলটা তার ঘর থেকে নিতে; আবার তার সেই অনুভূতি ফিরে ফিরে এলো। কেউ তাকে দেখছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেংচি দিলো সুপ্তি। নাহ, এটা তার মনের ভুলই হবে।
সবাই চলে গেলে রাতের খাওয়া সেরে সুপ্তি নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো। ঘুমুতে যাবার আগে সে আবার আয়নার সামনে দাঁড়ালো। আয়নাটা যেন তাকে আবিষ্ট করে ফেলছে। ঘড়ির আওয়াজে চমকে গেলে সে দেখলো ১টা বেজে গেছে। মানে সে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। এত সময় ধরে আয়নায় সে কি দেখছে? হঠাৎ তার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি জাগলো। মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটা বইতে সে পড়েছে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ১৭শ সালের ডাইনী ব্লাডি মেরীকে ডাকলে সে আসে। অবশ্য প্রতিবার ৪৫ বার করে ডাকতে হবে অনেক দিন ধরে। সে আয়নার দিকে তাকিয়ে বললো, “ব্লাডি মেরী, ব্লাডি মেরী, ব্লাডি মেরী”। নিঃশ্বাস বন্ধ করে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো। কিছুই হলো না। নিজের নির্বুদ্ধিতায় নিজেই হেসে ফেললো। কি বোকার মত সে গল্পের বই এর কথায় মেরী না কাকে ডাকাডাকি করছে। সবুজ রঙের ডিম লাইট জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। আবার ঘুমের মাঝে সেই অস্বস্তিকর অনুভূতি। কেউ অবশ্যই তাকে দেখছে।
রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে গেলো। সারা ঘরে কেমন যেন শীতল একটা ভাব। বৈশাখ মাসের এই বিশ্রী গরমে এরকম ঠান্ডা ভাব কি করে হলো? বৃষ্টি নাকি বাইরে? পরদা সরালো সুপ্তি। নাহ, বাইরে সব শুকনো, বাতাস পর্যন্ত নেই। গাছের পাতাগুলিও চুপ চাপ, সবাই ঘুমে বিভোর। হঠাৎ মনে হলো কেউ যেন বিছানার মাথার কাছ দিয়ে সরে গেলো। ঝট করে ঘাড় ঘোরালো সুপ্তি। শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের একটা ঠান্ডা স্রোত নামলো। নাক কুঁচকে গেলো তার। কেমন যেন একটা গন্ধ; বিশ্রী পচা গন্ধ। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমলো কপালে। এসব কি হচ্ছে? তার জানামতে বাসায় কোন ইঁদুর নেই, তেলাপোকা অবশ্য আছে। তেলাপোকা মরলে এরকম গন্ধ কখনো হয়না। বিছানা থেকে লাফিয়ে নামলো সুপ্তি। উদ্দেশ্য আয়নার পাশের সুইচবোর্ডে টিউব লাইটের সুইচ অন করবে। আয়নার কাছাকাছি গিয়ে সে কেমন যেন আওয়াজ শুনতে পেলো। কেউ গুন গুন করে কোন গান গাচ্ছে, না কবিতা পড়ছে। ধীর লয়ে নীচু সুরে কেউ গুন গুন করছে। একটু গোঙগাচ্ছেও যেন। আয়নার দিকে তাকাবে না তাকাবে না করেও সুপ্তি তাকিয়ে ফেললো।
নাহ, আয়নায় তাকেই দেখা যাচ্ছে। ওই তো সে, ফুল আঁকা টি শার্ট পড়া। সবুজ ডিম আলোতে নিজেকে দেখতে একটু অন্যরকম লাগছে, কিন্তু এটা তারই প্রতিবিম্ব। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাত বাড়ালো সুইচের দিকে। আয়নার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো সুপ্তি। আয়নার সুপ্তি এখনো তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে; হাত দুইটা পাশে রাখা। কিন্তু সে তো বাম হাত উপরে তুলেছে সুইচ অন করার জন্য। আতংকে চিৎকার দিয়ে সে পিছনে সরে এলো। আয়নার সুপ্তি এখনো তার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আয়নার সুপ্তি হাত বাড়িয়ে দিল, যেন সুপ্তিকে ছুঁতে চায়।দুই হাতে মুখ ঢেকে আকাশচূর্ণ করা চিৎকার করে উঠলো সুপ্তি। আতংকে থর থর করে কাঁপছে। বাইরে তার আম্মু আব্বু দরজা ধাক্কাচ্ছে। সুকন্যার গলাও যেন শোনা যাচ্ছে। সুপ্তি মুখ থেকে হাত সরিয়ে দেখলো আয়নায় এখনো তাকে দেখা যাচ্ছে। হাত নাড়ালে আয়নার হাতও নড়ছে। কোনমতে আলো জ্বালিয়ে দরজা খুলতেই তার আম্মু ঝাঁপিয়ে পড়লো।
“কি? কি হয়েছে রে মা? সর্বনাশ, এত ঘেমে গেছিস কেন?”
“জানি না আম্মু”। বলে সুপ্তি একেবারে শুয়ে পড়লো তার মার কোলে।
১৫ মিনিট পর লেবুর সরবত খেয়ে মাথা মুছে সে মোটামোটি সুস্থির হলো। তার বাবা মার ধারনা সে কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছে। এখন এই আলোকিত রুমে এত প্রিয় মানুষের মাঝে সুপ্তির নিজেরই লজ্জ্বা করতে লাগলো। তার কোন সন্দেহ নেই যে মাঝ রাত্তিরে ঘুম ভাঙার জন্য এবং বেশী সাইকো থ্রীলার দেখার ফলাফল হচ্ছে এটা। ফিচলে সুকন্যা ঘোষনা দিলো যে রাত্রে গুরু ভোজন হবার কারণে পেট গরম হওয়ায় সুপ্তি উলটা পালটা স্বপ্ন দেখছে। ইদানিং সে নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ের ভক্ত হয়েছে। কথায় কথায় টেনিদার উক্তি উদ্ধৃতি করে সবার মাথা ধরায়। সুকন্যাকে ভেংচি দিয়ে সুপ্তি আবার ঘুমুতে চলে গেলো, তবে এবার আম্মুও সাথে এলেন। আবার কি স্বপ্ন দেখে কোন ঠিক নাই।
পরের দিন দুপুরে খাবার টেবিলে রাত্রের কাহিনী নিয়ে আলোচনা হলো। আসলে ঘটনা টা কি? সুপ্তি দুঃস্বপ্ন বলে এড়িয়ে গেলো। এখন আবার সুকন্যাকে টিজ করার কোন সুযোগ দেয়ার মানে হয় না। তবে সে নিজেই চিন্তিত, আসলেই কি দুঃস্বপ্ন ছিলো? সবকিছু এত বাস্তব মনে হচ্ছিল—নাহ সুপ্তি এ নিয়ে আর ভাবতে চায় না। বিকেলে তুলি আর সুমনের সাথে সুমনের গুরুর গিটার বাজানো শুনতে যাওয়ার কথা, সে সেটা নিয়েই ভাববে।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হবার সাথে সাথে সুপ্তির আবার অস্বস্তি হতে থাকে। আজ রাতে কি হবে কে জানে। আজ সে দরজা না লাগিয়ে শুয়ে পড়ে। ডাইনিং এর লাইট সারা রাত্রি জ্বালানো থাকে, তাতে করে তার রুমেও আলো পৌঁছায়। ওই ভৌতিক সবুজ আলোর চাইতে সাদা আলো যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক। রাত গভীর হতে থাকে, কিন্তু সুপ্তির আর ঘুম আসে না। চাপা অস্বস্তিতে সে জেগে থাকে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেও জানেনা। হঠাৎ তার আবার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সারা ঘরে গুন গুন একটা আওয়াজ ছড়িয়ে পড়েছে। সুপ্তি উঠে বসে। সাথে সাথে সব চুপ। তার ভয় ভয় করতে থাকে। ঘড়ির দিকে তাকে দেখলো, আড়াইটা বাজে। ঘরটা আবার কেমন যেন শীতল, যেন এসি চালানো হয়েছে। সাথে সেই গন্ধ। সুপ্তি নাক কুঁচকে বসে থাকে। আবার আম্মুকে ডাকার একটা ইচ্ছে জেগে উঠে। অনেক কষ্টে নিজেকে বার কয়েক গালি দিয়ে আবার শুয়ে পড়ে। চোখ বন্ধ করতেই আবার সেই গুন গুন আওয়াজ। এবার একটু জোরে। তীক্ষ্ণ স্বরে কে যেন একটানা মন্ত্র পাঠ করে চলেছে অত্যন্ত দ্রুত লয়ে। সুপ্তি লাফিয়ে নামে বিছানা থেকে। কিন্তু একটা অমোঘ আকর্ষন তাকে টেনে আয়নার দিকে নিয়ে চলে। কোন এক অজানা শক্তি তাকে বাধ্য করে আয়নার দিকে তাকাতে। না এবার আয়নায় তাকেই দেখা যাচ্ছে, ভীত মুখে তাকিয়ে আছে। চোখ বন্ধ করে সুপ্তি। এবার চোখ খুলতেই সে ভয়ানক ভাবে চমকে যায়। আয়নায় এ কার মুখ? চিৎকার দেবার জন্য মুখ খোলে সে, কিন্তু আয়নার চোখটির ব্যথিত ভাব দেখে থমকে যায়। অপূর্ব এক চেহারা। তবে অনেক শুকনো। ঘন কালো চুল, বাতাসে আস্তে আস্তে দুলছে। খাড়া নাক, উন্নত ললাট, যেন এক গ্রীক দেবতা। তবে সবচেয়ে মায়াভরা তার চোখ, তার মাঝে যেন সাগরের গভীরতা। ছেলেটি ব্যথিত চোখে সুপ্তির দিকে তাকিয়ে আছে। মায়াভরা বিষন্ন সেই চোখ অগ্রাহ্য করা সুপ্তির পক্ষে অসম্ভব। সুপ্তি ভুলে যায় সে কোথায় আছে, তার কাছে মনে হয় এটাই বাস্তব। আয়নার মাঝে মানুষ দেখা যাবে, এটাই স্বাভাবিক। সে চাপা কন্ঠে প্রশ্ন করে,
“তুমি কে?”
ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপরে বলে, “আমি ইভান”।
দৃপ্ত এবং ভরাট কিন্তু ভীষন আপন করা কন্ঠ।
“তুমি আয়নার মাঝে কেন? তুমিই কি কাল রাতে এসেছিলে?”
“হ্যাঁ, আমি তোমাকে ডাকার চেষ্টা করছিলাম”।
“তুমি আয়নায় কেন? তোমার পরিচয় কি?”
আর কোন কথা না বলে আয়নার মাঝে ছবি মিলিয়ে যায়। লাইট জ্বালিয়ে সুপ্তি অনেক করে দেখে, নাহ, আয়না আবার স্বাভাবিক একটা আয়না হয়ে গেছে। লাইট নিভিয়ে সুপ্তি অনেক বার বলে, “ইভান, ইভান, শুনতে পাচ্ছ?” আয়না নিশ্চুপ থাকে, অন্ধকারে শুধু ময়ূরের চোখগুলো ঝিকমিকিয়ে ওঠে।
পরের দিন সারাটা ক্ষণ সুপ্তি ভার্সিটিতে অস্থির হয়ে থাকে। কখন সে বাড়ি যাবে, কখন রাত হবে। তার অস্থিরতা দেখে চৈতী বললো, “কি রে প্রেমে পড়েছিস নাকি কারো? এত ছট ফট কেন?” সুপ্তি না শোনার ভান করলো। ইভান দেখতে যেন রুশ দেশের রূপকথার ইভানের মত। সে কি কখনো ভেবেছিল, তার ঘরের আয়নায় কোন এক রাজপুত্র এসে দেখা দেবে?
রাত ১২টা বাজতে সুপ্তি তাড়াতাড়ি লাইট নিভিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। আজ রাতে সে ঘুমাবে না। রাত দুইটার দিকে হঠাৎ ঘরে ধীর গতিতে শীতল হাওয়া বইতে থাকে, সাথে সেই গন্ধ। এত সুন্দর দেখতে ইভান, কিন্তু এই পচা গন্ধ কেন আসে তবে? সুপ্তি তাড়াতাড়ি আয়নার সামনে যায়। ইভানের মুখে স্মিত হাসি। ইভান ভীষন রকম ফ্যাকাসে।
“কেমন আছ সুপ্তি?”
“ভালো। তুমি?”
ইভানের মুখ বিষন্ন হয়ে যায়। “আয়নার মাঝে আর কেমন থাকবো?”
“তুমি আয়নায় কেন? কি হয়েছে?”
ইভান বিষন্ন কন্ঠে জবাব দেয়, “আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু এক সকালে উঠে দেখতে পাই আমি আমার ঘরের আয়নার মাঝে বন্দি হয়ে গেছি। তারপর থেকে এখানেই আছি। কতবার কতজন কে ডাকার চেষ্টা করেছি, কেউ শোনেনি। ১০০ বছর পর আজ তুমি শুনলে”।
১০০ বছর! সুপ্তির গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
“তোমার তাহলে বয়স কত?”
ইভান হাসে।“৩০০ বছর আগে তো ২৩ ছিল, এখন তোমাদের হিসেবে নিশ্চই ৩২৩, কিন্তু আমার হিসেবে ২৩”।
“১০০ বছর পর আমি ডাক শুনলাম, আগে কে শুনেছিল?” সুপ্তি নিজের কন্ঠের আবেগ লক্ষ্য করে নিজেই অবাক হয়।
ইভান উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ ফুঁপিয়ে উঠে।
“সুপ্তি, আমার অনেক কষ্ট, অনেক কষ্ট”।
সুপ্তির বুকে আবেগের বান ডাকে। তার ইচ্ছে হতে থাকে গ্রীক দেবতার মত দেখতে ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে স্বান্তনা দেয়।
“তুমি কি আমার হাতে হাত রাখবে সুপ্তি?”- করুণ ভাবে ইভান জিজ্ঞেস করে।
সুপ্তি হাত বাড়িয়ে দেয়। আয়নায় সে ইভানের হাতের উপর হাত রাখে। বরফের মত ঠান্ডা। হাত যেন বেশীক্ষন রাখা যায় না। সে সরিয়ে নিতে চায়, কিন্তু অবাক হয়ে দেখে সে হাত সরাতে পারছে না। ইভানের চোখের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠে সে। ইভানের চোখে এখন জান্তব উল্লাস। ভীষন লোভে চোখ ঝক ঝক করছে। সুপ্তি ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠে। সাথে সাথে ইভান আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ছবি মিলিয়ে যায়। সুপ্তি তারপরো পরের রাতের জন্য অপেক্ষা করে। আবার ইভান আসে, হাতে হাত রেখে তারা গল্প করে। ইভান চলে যায়। ইভান দিনে দিনে আরো সুন্দর হয়।ফ্যাকাশে গালে গোলাপী ছোপ লাগে। মাত্র ৩ দিনেই সুপ্তির স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে। কিছুতেই সে কোন শক্তি পায় না। চোখের কোণে কালি। তার মা ব্যস্ত হয়।
“কি হয়েছে রে সুপ্তি? তুই দেখতে এমন হচ্ছিস কেন? রাতে ঘুমাস না?”
সুপ্তি দুর্বল কন্ঠে প্রতিবাদ করে। “কই মা, ঠিকই তো আছি”।

তিন
পরের দিন ক্লাসে দ্বিতীয় পিরিয়ডেই সুপ্তি মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তাড়াতাড়ি তার বন্ধুরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে তার আম্মু আব্বু আর সুকন্যা দৌড়ে যায়। ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করে অবাক হয়ে যায়। কোন রক্তপাতের ইতিহাস নেই, কিন্তু কি ভীষন রকম রক্তশূন্যতা। রক্তের রিপোর্টে দেখা যায় হিমোগ্লোবিনের লেভেল কমে ৪গ্রাম/ডিএল এ এসেছে। যেখানে তার থাকার কথা নিদেন পক্ষে ১৩। ডাক্তার বলে এখনি রক্ত দিতে হবে। আম্মুর সাথে রক্তের গ্রুপে তার মিল আছে। বন্ধুরা দৌড়ে আরো দুই ব্যাগ জোগাড় করলো। সুপ্তির আম্মু ক্রমাগত কাঁদতে থাকে, কি অসুখ ডাক্তার তখন কিছুই বলতে পারছে না। এরকম হলে নাকি ক্যান্সারের সম্ভাবনা দেখা যায়। আম্মুর অফিসের কলিগের ফুফাতো ভাইএর ছেলের তো তাই হলো। রাত বাড়ার সাথে সাথেই সুপ্তি অস্থির হয়ে যায় বাসায় যাবার জন্য। ডাক্তারের কড়া নির্দেশ, রক্ত না দিয়ে বাসায় যাওয়া যাবে না। আম্মু আব্বুও কোন রিস্ক নেবেন না। কিন্তু ইভানের যে আসার সময় হয়ে যাচ্ছে। সারাটা রাত সুপ্তির অস্থিরতার সাথে কাটে। পরের দিনই সে কান্নাকাটি করে হাসপাতালে থেকে সন্ধায় বাসায় ফিরে আসে। সে কথা দেয় যে রক্ত নিতে সে কালই আবার আসবে। রাতে আম্মু সাথেই থাকতে চায়, কিন্তু সুপ্তি মানা করে। রাত ২টা বাজতেই সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। কিন্তু ইভান কই?
সুপ্তি ইভান কে অনেক ডাকে। অনেকবার করে ক্ষমা চায়, বার বার করে তার অসুস্থতার কথা বলে। কিন্তু ইভান তো আসে না। কাঁদতে কাঁদতে সুপ্তি ঘুমিয়ে পড়ে।রাত সাড়ে তিনটার দিকে তীব্র অস্বস্তির সাথে তার ঘুম ভাঙ্গে। ঘরে বিকট গন্ধ। এত ঠান্ডা যে সুপ্তি কেঁপে কেঁপে উঠে। গন্ধে সুপ্তির বমি চলে আসতে থাকে। অনেক কষ্টে নাকে হাত চাপা দিয়ে সুপ্তি আয়নার সামনে আসে। ভিতরে আবছা একটা ছায়া। সুপ্তি ডাকে, “ইভান?”
ছায়ামূর্তি ঘুরে তাকায়। সুপ্তি আতংকে স্তব্ধ হয়ে যায়। এ কে? কি ভীষন চেহারার এক বুড়ী। সাদা শনের মত চুল, চোখ দুটো ধক ধক করে যেন জ্বলছে, কি তীব্র জিঘাংসা তার মাঝে। চামড়া শত শত বছরের পুরনো চামড়ার মত ঝুলে পড়েছে। লাল জিহবা মাঝে মাঝে সাপের মত লকলক করছে। খলখল করে বিশ্রীভাবে হেসে উঠলো বুড়ী। সুপ্তির বোধবুদ্ধি সব লোপ পায়। তার পা কে যেন পাঁচ মণ পাথর দিয়ে আটকে রেখেছে; কন্ঠস্বর হয়েছে রুদ্ধ। সে শুধু ভীত শশকের মত চেয়ে রইলো। আবার হেসে উঠলো বুড়ী। অশ্রাব্য এক গালি দিয়ে বললো্‌, “হাত বাড়া সামনে”।
সুপ্তি তীব্র আতংকে মাথা নাড়লো। বুড়ী চিৎকার দিলো, “হাত বাড়া বলছি”।
সুপ্তির ডান হাত তার আয়ত্তের বাইরে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার হাতকে আটকাতে পারলো না, হাত আয়না স্পর্শ করলো।
ভীষণ অট্টহাসিতে ঘর ভরে গেলো। এমন জান্তব ভয়ংকর গা শিউরানো হাসির যে পৃথিবীতে অস্তিত্ত আছে সুপ্তি তাই জানে না। এর জন্ম এ পৃথিবীতে না, অন্য কোথাও। অন্য কোন জগতে। পচা মাংসের তীব্র গন্ধ সইতে না পেরে সুপ্তি বমি করে ফেললো ঘরের মাঝেই। বুড়ি খল খল করে হাসতে হাসতে বললো,
“ইভান কে পেয়েছিস তুই? তোর প্রাণের ইভান? আমিই তোর ইভান। ১০০ বছর পর আজ আমি মুক্তি পেয়েছি। আমি, আজিনাহা! আহ, কি আনন্দ!”
সুপ্তির মাথা কাজ করে না। সে মেঝেতে বসে থর থর করে কাঁপতে থাকে।
“আজ থেকে আমি তোর মাঝেই থাকবো। তুই রাতে যখনই ঘুমাবি, আমি তোর মাঝ থেকে জেগে উঠবো। ১০০ বছর আমি কোন রক্তের স্বাদ পাইনি। আজ আমার রক্ত চাই, অনেক অনেক রক্ত”।
সুপ্তি জ্ঞান হারানোর আগ মূহুর্তে অনুভব করতে পারে, একটা শীতল ছায়া তার মাঝে ঢুকে যাচ্ছে।
সকালে জ্ঞান ফিরে সে দেখতে পায়, আম্মু তাকে নিয়ে আবার হাসপাতালে চলে এসেছে। তবে সে অনেক সুস্থ বোধ করছে। ডাক্তাররা রিপোর্ট দেখে অবাক। মাত্র ৩ ব্যাগ রক্ত পেয়ে হিমোগ্লোবিন লেভেল বেড়ে ১৬তে ওঠা এক কথায় অসম্ভব। বাংলাদেশের রিপোর্টের অবস্থা দেখে ডাক্তাররা ভীষন রাগারাগি করতে লাগলেন। এই রিপোর্ট অবশ্যই ভুল। কিন্তু চোখও তো স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আগের দিন যে মেয়ের চোখ একেবারে কাগজের মত সাদা ছিল, তার তো এখন একদম স্বাভাবিক চোখ। রিপোর্ট নিয়ে আব্বু আম্মুর মাথা ব্যথা নেই। তাদের মেয়ে সুস্থ, তাতেই তারা খুশী। কিন্তু সুপ্তির মাথা এখনো কাজ করছে না। তার সাথে এসব কি হচ্ছে? বাসায় ফিরে সুপ্তি আয়নার দিকে তাকায়। এ যেন একদম স্বাভাবিক আয়না। তার মাঝে কি বুড়ীটা ঢুকে পড়েছে? কই? তার তো একদম স্বাভাবিক লাগছে, যেন কিছুই হয়নি। আর ইভান? ইভানকে কি বুড়ী আয়নায় বন্দি করে রেখেছে? ইভানকে ছাড়া সে বাঁচবে না।
রাত বাড়ার সাথে সাথে সুপ্তি অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। কি যেন তার মাঝে জেগে উঠতে চাইছে। ভীষন ঘুমে তার দুই চোখ জড়িয়ে আসছে। রাত ১২টা বাজতেই সুপ্তি গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। সারাটা রাত সুপ্তি ভয়ংকর ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন দেখে। সে যেন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মুখ দিয়ে ভক ভক করে বিশ্রী মাংস পচা গন্ধ বেরুচ্ছে। সে রক্তের স্বাদ পেতে থাকে। সে রক্তে যেন মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে। কি বিশ্রী ভাবেই না সে হাসছে। চিৎকার দিচ্ছে, জান্তব উল্লাসে সে যেন ফেটে পড়ছে।
খুব ভোরে তার ঘুম ভাঙ্গে। সারা শরীরে কালসিটে পড়ে গেছে, ভীষন ব্যথা। নিজের দিকে তাকিয়ে তার মাথা ঘুরে ওঠে। টি শার্ট রক্তে মাখা মাখি। বাথরুমে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠে সে, মুখ হাত সবই রক্তে রঞ্জিত। এবং সে জানে অবশ্যই এই রক্ত মানুষের রক্ত। কাঁদতে কাঁদতে সে গোসল করতে থাকে। সে এখন পিশাচীনী। এক ভয়ংকর পিশাচ তার মাঝে ঢুকে পড়েছে। সে যখনই ঘুমাবে, পিশাচ জেগে উঠবে। এখন সে কি করবে?
আম্মু দরজা ধাক্কাতে থাকে, “এই সুপ্তি, তোর রুমে নিশ্চই ইঁদুর মরেছে রে, এত বাজে গন্ধ কেন? আজই রুম ফিনাইল দিয়ে পরিস্কার করাবো বুয়াকে দিয়ে। আগে চল বাইরে যাই”।
সুপ্তি বলে উঠে, “আমি কোথাও যাবো না আম্মু”।
আম্মু ধমকে উঠে, “কথা বাড়াবি না। কত কষ্টে তোর বাবার কাছ থেকে টাকা নিলাম, আর বলিস বাইরে যাবি না?”
সুপ্তি রেডি হয়ে ডাইনিং এ আসতেই শুনলো বুয়া আম্মুর সাথে কথা বলছে উত্তেজিত ভাবে। কয়েক গলি পরেই তার বস্তি। সেখানে নাকি আজকে একটা অদ্ভুত লাশ পাওয়া গেছে। কেউ লাশের গলায় কামড় দিয়ে ধমনী ছিড়ে সব রক্ত শুষে নিয়েছে। পুলিশ কোন কিনারাই করতে পারছে না। সুপ্তি ভয়ে থর থর করে কাঁপতে থাকে। এটা অবশ্যই ডাইনী আজিনাহার কাজ। আম্মু তার অবস্থা দেখে বুয়াকে ধমকায়, “যাও তোমার কাজ করো। আমার মেয়েকে ভয় দেখিও না”।
আম্মুর সাথে সুপ্তি বেরোয়। আজ থেকে সে আর ঘুমাবে না। রাতে যত কষ্টই হোক সে ঘুমাবে না। ডাইনীটাকে সে জেগে উঠতে দেবে না। সে জিজ্ঞেস করে, “আম্মু কোথায় যাচ্ছি?”
আম্মু লাজুক ভাবে বললো, “চায়ের সেটটা খুবই পছন্দ হয়েছে বুঝলি। দেখি ওই বাড়ির চৌকিদার যদি এখনো সেটা বিক্রি না করে থাকে, তবে নিয়েই আসি”।
আবার সেই অভিশপ্ত বাড়ি; যেখান থেকে আয়না এসেছে। সুপ্তি আতঙ্কে ফুঁপিয়ে ওঠে, “না না আম্মু, ঐ বাড়িতে যাবো না”।
আম্মু অনুনয় করে, “লক্ষী মা, তুই বাইরে থাকিস, আমি যাব আর নিয়ে আসবো”।
বাড়িটি আগের মতই আছে, ১৫ দিনে কোন পরিবর্তনই হয় নি; তবে সাবেকী আমলের বৈঠক খানার আসবাবপত্র অনেক কমেছে। ভালোই বিক্রি হয়েছে মনে হয়। তাদের দেখেই চৌকিদার বলে উঠলো,
“আমি জানতাম, আপনারা আসবেন। তাই চায়ের সেট তুলে রেখেছি”।
চৌকিদার তীব্র দৃষ্টিতে সুপ্তির দিকে তাকালো। সুপ্তির মনে হলো, উনি সব দেখতে পাচ্ছেন। সব কিছু জেনে যাচ্ছেন। ভয়ে কুঁকড়ে গেলো সে ওই অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সামনে। আম্মু চায়ের সেট দামাদামি করে কিনে ফেললেন। সুপ্তি বেরিয়ে যাবে, তখন বুড়ো মানুষটি তার সামনে এসে দাঁড়ালো।
“তুমি তোমার একটা জিনিস ফেলে গেছো। আমি জানতাম তুমি তা নিতে আসবে”।
সুপ্তি অবাক হয়ে দেখলো, তার হাতে সেই ডায়েরী।
“এটা…… এটা আমার নয়”। ঢোক গিললো সে।
মানুষটি কোন কথা না বলে ডায়েরী বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আম্মু বাইরে থেকে তাড়া দিচ্ছেন। সুপ্তি দেখলো বুড়ো মানুষটির চোখে সহৃদয়তার ছোঁয়া। সুপ্তি হাত বাড়িয়ে ডায়রীটি নিলো। মানুষটি বললো,
“ভালো থেকো। আমারো তোমার মত একটি মেয়ে আছে”।

চার
সুপ্তি বাসায় ফিরেই ডায়েরী খুললো। ১০০ বছরের পুরনো ডায়েরী, কিন্তু সে তুলনায় অবস্থা যথেষ্ট ভালো। পাতা গুলি হলদেটে, কিছু কিছু জায়গায় কালি ছড়িয়ে গেছে; কিন্তু বেশ কিছু লাইন পড়া যায়। ডায়েরীর কিছু পাতা মাঝ থেকে নাই হয়ে গিয়েছে। ডায়েরীর প্রথম পাতায় লেখা, “আমার জীবন নামা”। নীচে লেখিকার নাম দেয়া; মালবিকা রায়। ১০০ বছর আগে এই মেয়েটিও হাসতো, খেলতো, ডায়েরী লিখতো, আজ সে কোথায়? প্রথম দিকে শুধু ঘর কন্নার গল্প। আজ তার বান্ধবী এসেছে, কাল বাবা ঘোড়া্র গাড়িতে চড়ে বেড়াতে নিয়ে যাবে বলেছে। পড়তে পড়তে টের পেলো, সে বাবা মায়ের অতি আদরের কিশোরী কন্যার লেখা পড়ছে। ডায়েরীর মাঝা মাঝি একটি পৃষ্ঠা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। একটি লাইন অতি কষ্টে পড়া যায়,
“আজ বাবা আমাকে চমৎকার একটি আয়না আনিয়া দিয়াছেন। শ্মশান ঘাটের বিখ্যাত তান্ত্রিক বাবাকে উহা দিয়াছেন”।
সুপ্তির গা শিউরে উঠলো। এর পরের পাতা গুলি সবই অল্পবিস্তর পানিতে ভেজা; কালি ছড়িয়েছে। এর পর পাতায় পাতায় যা পড়া গেলো সবই আয়নার গল্প। একটা লাইন পড়ে চমকে উঠলো সুপ্তি,
‘আয়নায় আমার জন্য বাবা রাজপুত্র পাঠাইয়াছেন’।
থর থর করে ভেতর টা কেঁপে উঠলো সুপ্তির। মালবিকাও তার মত রাজপুত্র দেখেছিল। তবে তার রাজপুত্রের নাম কুমার বীরেন্দ্র; ইভান নয়। সুপ্তি বুঝলো, ইভান যথেষ্ট আধুনিক নাম। যুগে যুগে ডাইনী রাজপুত্রের নাম বদলায়। ইভান নামে কেউ নেই, ইভান একটা মায়া। সুপ্তি ফুঁপিয়ে উঠলো। ইভানের বেশ ধরে ডাইনী তার রক্ত নিয়ে হয়েছে শক্তিশালী। সে প্রতারিত; যেমনটি হয়েছিল বেচারী মালবিকা। সুপ্তি কান্না সামলাতে সামলাতে পড়ে চললো। এর পর শুধুই ভালোবাসার গল্প; শুধুই রাজপুত্রের গল্প। সুপ্তির দুই গাল বেয়ে পানি ঝরতে লাগলো।
বেশ কয়টি পৃষ্ঠা ঝরে গেছে। এর পরের পাতায় দুই তিনটা লাইন কোনক্রমে পড়া যায়। তাতে লেখা,
“আমার রাজপুত্রকে ডাইনী ধরিয়া লইয়া গিয়াছে। ডাইনী আমার মাঝে বসবাস করিতেছে। হায় ভগবান, আমি কি করিব?”
পরের পৃষ্ঠাগুলো মর্মান্তিক। ডাইনী রুপী মালবিকা নিজের বাবাসহ আরো অনেককে হত্যা করে রক্ত খেয়েছে, পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়েছে এক অজানা আতঙ্ক। তীব্র অনুশোচনায় মালবিকা পাগল প্রায়। সে ঘুমায় না, ঘুমাতে চায় না। কিন্তু তারপরো ঘুমিয়ে পড়ে।
সুপ্তি থর থর করে কাঁপতে থাকে। যদি আজিনাহা আজ রাতে তার আম্মু আব্বুকে মারে? অথবা সুকন্যাকে? না

অভিশপ্ত আয়না - By ছন্নছাড়া ত্রিনিত্রি (শেষ পর্ব)

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Saturday, August 20, 2011 at 10:55pm
সুপ্তি রান্নাঘরে গিয়ে যত কাগজের প্যাকেট পেলো সব নিয়ে তার রুমে জড়ো করলো। ছোট একটা নড়বড়ে কাঠের টুল ছিল, তাও নিয়ে এলো। ছুরিটা রাখলো তার ডান পাশে। কেরোসিন ঢেলে সে আগুন জ্বালিয়ে দিলো আয়নার সামনে। ধোঁয়ায় সুপ্তি কাশতে লাগলো। তাড়াতাড়ি করতে হবে। আগুন যদি বেশী বেড়ে যায়, তবে বিল্ডিং এ ধরে যেতে পারে। সতর্কতার সাথে সে আগুনে ভাঙ্গা টুলের পা আর কাগজ দিতে লাগলো। ধোঁয়া চারিদিক গ্রাস করে ফেললো। এর মাঝে সুপ্তির ভীষন ঘুম পেতে লাগলো। সুপ্তি টের পেলো আজিনাহা বেরিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু করেছে। সুপ্তি জোরে জোরে বলতে লাগলো,
আজিনাহা তুই তোর রাজ্যে ফিরে যা
রক্তপিপাসু তুই নিপাত যা
হত্যাকারী তুই তোর অন্ধকার দুনিয়াতে ফিরে যা।
সুপ্তি টানা বলে যেতে লাগলো। ধোঁয়া তার ফুসফুসে ঢুকে যাচ্ছে, কাশির দমক সামলে সে বলে যেতে লাগলো। ঘুমে তার দুই চোখ জড়িয়ে যাচ্ছে। প্রাণপণ চেষ্টাতেও খুলে রাখা যাচ্ছে না। সুপ্তির মনে হতে থাকলো, আ্জিনাহা জাহান্নামে যাক, আমি একটু ঘুমাই। তখনই তার বাবা-মার চেহারা ভেসে উঠলো তার সামনে। সুপ্তির বুকে নতুন করে বল এলো যেন। সুপ্তি আরো জোরে চেঁচিয়ে উঠলো,
আজিনাহা তুই তোর রাজ্যে ফিরে যা।
উফফ, কি ব্যথা! কেউ যেন ধারালো ছুরি সুপ্তির আঙ্গুলের ফাঁকে চালাচ্ছে। তীব্র ব্যথায় সুপ্তি কাঁদতে লাগলো। কিন্তু মন্ত্র পড়া থামালো না। বরফ শীতল চাই কেউ সুপ্তির নাকে ঠেশে ধরেছে, এক বিন্দু বাতাসের জন্য ফুসফুস আকুলি বিকুলি করছে; সুপ্তি মনে প্রাণে চাচ্ছে সে এখনি মারা যাক। কিন্তু আজনাহা তাকে মরতেও দেবে না। সুপ্তি হাঁস ফাঁস করতে করতে বলতে লাগলো, তুই নিপাত যা। কতক্ষন সে কষ্ট সহ্য করছে সে জানে না, তার এখন কোন বোধও নেই। সে শুধু ভাঙ্গা রেকর্ডের মত একই কথা বলে যাচ্ছে। হঠাৎ তীব্র বোটকা গন্ধে চারিদিক ভরে গেলো। শীতল ভেজা ভেজা স্পর্শ আগুনের উত্তাপ থাকা সত্বেও টের পাওয়া যাচ্ছে। সুপ্তি আরো জোরে জোরে বলতে লাগলো। আজনাহার তীব্র বিদ্রুপাত্মক খল খল হাসির শব্দ শোনা গেলো। সুপ্তির ভয়ে গায়ে কাঁটা দিলো। সে নিজেকে সাহস দিলো, আজিনাহা তোমাকে মারবে না, তুমি ওর আবাস। ভাবতেই ঘেন্নায় তার বমি এলো।
আজিনাহার অশ্রাব্য গালাগালি শোনা গেলো।
“তুই কি চাস? তোর কি ধারণা এসব করলেই আমি চলে যাব? আমি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী! এসবে আমার কিছুই হবে না”। খল খল হাসি বয়ে গেলো চারিদিকে।
সুপ্তি কোন কথা না বলে ছুরি হাতে নিলো।
আজনাহার বিশ্রী কন্ঠ শোনা গেলো,
“তুই যে হাতের ধমনী কাটলে মরে যাবি, তা কি তুই জানিস? তুই মরে গেলে তোর বাবা মার কি হবে? তোর মাও যে আত্মহত্যা করবে তা জানিস?”
সুপ্তি কেঁপে উঠলো। আজিনাহা সন্তষ্টির হাসি হাসলো মনে মনে।
ডাইনী বলে চললো, “তোর বন্ধুরা পরীক্ষা শেষে সেন্ট মার্টিন যাবে, আর তুই যাবি কবরের তলায়। তোকে কেউ মনে রাখবে না”।
সুপ্তি ফুঁপিয়ে উঠলো।
“ছুরি নামিয়ে রাখ বদমাইস মেয়ে। নিজের কথা ভাব। তুই মরলে তুই আর ইভানকে দেখতে পাবি ভেবেছিস? আমি জানি ইভান কোথায় আছে। ইভানকে চাস না তুই?”
সুপ্তি চোখ বুজ়ে রইলো। তারপরে সর্বশক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো, “না না না, ইভান কে চাই না। ও একটা মায়া। তুই জাহান্নামে যা”।
বলেই ছুরি দিয়ে বাম হাতের রেডিয়াল আর্টারি কেটে ফেললো। রক্ত ধারা আগুনে পড়তে লাগলো। আগুন যেন রক্ত পেয়ে পাগল হয়ে গেলো।
আজিনাহা ভয়ংকর ভাবে চিৎকার দিয়ে উঠলো, “না না না”। সাথে অশ্রাব্য সব গালাগালি।
শেষ শক্তি দিয়ে সুপ্তি তার হাত আগুনের উপরে ধরে রাখলো; এর পর আস্তে আস্তে ঢলে পড়লো। এখন সে ঘুমাবে, শান্তির ঘুম ঘুমাবে। দরজায় কে এখন ঘন্টা বাজাচ্ছে? তারা কি জানে না সুপ্তি অনেক ক্লান্ত?
পরিশিষ্ট:
অভিশপ্ত আয়নাটাকে সুপ্তি ভাঙ্গার অনেক চেষ্টা করেও না পেরে সেটিকে বুড়িগঙ্গায় বিসর্জন দিয়েছে। ডায়েরীটি যে খুব যত্ম করে বুড়ো মানুষটিকে ফেরত দিয়ে এসেছে। বুড়ো তাকে চা খাইয়েছে, এবং যাবার সময় বলেছে, “আমি জানতাম, তুমি ভালো থাকবে”।
সুপ্তির রূপকথার রাজকুমার এখনো আসে নি। তবে সুপ্তি জানে যে সুমন তাকে নিয়ে লুকিয়ে কবিতা লেখে। প্রায়ই সে সুমনের ডায়রীর মাঝে লুকিয়ে গোলাপ, কৃষ্ণচূড়া এমনকি বাঁদরলাঠি ফুলের পাপড়িও রেখে আসে। সুমন এখনো ধরতে পারেনি কাজটা কে করে।
৬ মাস পরের ঘটনাঃ
কামরাঙ্গি চরের বিন্তি প্রতিদিনের মত আজ সকালেও দাঁতন করতে করতে নদীর পাড়ে এসেছে। দূরে কিছু একটা চক চক করছে। আলো পড়লেই ঝিকিয়ে উঠছে। আয়না নাকি? বিন্তি আগ্রহ ভরে এগিয়ে যেতে থাকে।

।। শ্মাশানঘাট ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 19, 2011 at 11:10pm
সজল ব্যাটা একেবারে মহা হারকিপটে । কখনও ভুলেও ওর কাছ থেকে একটা টাকা খসানো যায় না । এমন নয় যে ওরা গরীব। টাকা পয়সা নেই । টাকা শহরে ও’র বাবার চার-চারটে বাড়ি । এখানে সেখানে ছড়ানো ছিটানো নানা রকমের ব্যবসা-বাণিজ্য । ভাইগুলো সব বিদেশে লেখাপড়া করছে । দু’দিক থেকে টাকা পয়সা ওদের বাসায় ঢুকছে কিন্তু বেরুবার পথ পাচ্ছে না । তবুও ব্যাটার এমন কিপটেমি আমাদের আর সহ্য হয় না । দিনের পর দিন আমাদের টাকায় এটা সেটা খেয়ে দেয়ে বেশ আছে । তাই আমরা একদিন ঠিক করলাম যে, ওকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো । তাতে যাদি ওর হাড় কিপটেমি ভাবটা দূর হয়। রতনদের বাড়ী বুড়িগঙ্গা নদীর খুব কাছে । আমাদের স্কুল থেকে ওদের বাসাটা কাছে হওয়ায় স্কুল ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনগুলোতে আমাদের বেশির ভাগ আড্ডাগুলেই রতনদের দোতালার ছাদেই হতো । রতনদের ছাদ থেকে বড়ীগঙ্গা নদীর পুরোটা দেখা যায় । বিকেল বেলা নদীর বুকে ব্যস্ত লঞ্চগুলো দেখতে বেশ লাগে । তাই আড্ডার জন্য এর চেয়ে আর্দশের জায়গা আর হয় না । যে কোন ভাল জিনিষের পাশাপাশি যেমন একটা খারাপ জিনিষ থাকে । ঠিক তেমনি রতনদের ছাদ থেকে বুড়ীগঙ্গার সন্ধ্যাকালীন মনোরম দৃশ্য দেখার পাশাপাশি আরেকটি খারাপ জিনিসও খুব ভাল করে দেখা যায় । সেটি হলো - পোস্তগোলা শ্মশানঘাট ।
এটি মনে হয় ঢাকা শহরের একমাত্র শ্মশানঘাট । তাই মরদেহ পোড়ানোর ধুম লেগেই থাকে । কারো জন্য সেটি শেষ যাত্রা হলেও আমাদের জন্য শ্মশানঘাটটি অতি ভয়ন্কর একটা জায়গা। কেননা এই শ্মশানঘাটটি নিয়ে নানান ভৌতিক ঘটনা প্রচলিত আছে । যেগুলোর বেশির ভাগই খুব ভয়ন্কর । শুনলেই গা শিনশিন করে উঠে । শ্মশানঘাটে নাকি রাতের অন্ধকারে প্রায়ই - তেনাদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় । বিশেষ করে অমাবশ্যার রাতে । তখন যদি কেউ তেনাদের সামনে পরে তাহলে আর রক্ষা নাই । নির্ঘাত পরের দিন হয় মৃতদেহ পাওয়া যাবে নয়তো পাগল অবস্হায় পাওয়া । তাই আমরা পারতে খুব একটা ওদিকটা মারাই না । এড়িয়ে চলি ।
রতনদের ছাদ থেকে প্রায়ই দেখা যায় শ্মশানঘাটে কুন্ডুলি পাকিয়ে মরদেহ পোড়ানোর ধোয়া আকাশে উঠে যাচ্ছে । বাতাস আমাদের দিকে বইতে থাকলে চামরা পোড়ার একটু গন্ধও পাওয়া যায় বলে আমার মনে হয় । যদিও গন্ধ পাওয়ার ব্যাপারটা কেউই স্বীকার করে না । তবুও আমার মনে হয়েছে আমি বার দু’য়েক পোড়া চামরার গন্ধ পেয়েছি । একদিন সাহস করে আমরা ক’জন মিলে গিয়েছিলাম শ্মশানঘাটে লাশ পোড়ানো দেখতে। কিন্তু সে দৃর্শ্যটা আমি সহ্য করতে পারিনি ভয় পেয়ে চলে এসেছি । দু-তিন জন লোক বিরাট বিরাট লাঠি দিয়ে নেড়ে চেড়ে মরা পোড়াচ্ছে । দেখলেই গা ঘুলিয়ে উঠে। আমাদের মধ্যে ফিরোজই সব চাইতে সাহসি । ফিরোজ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো লাশ পোড়ানো দেখেছে । লাশ পোড়ানো শেষে ছাইগুলো যে একটি ছোট কলসিতে ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় ও সেটাও দেখে এসেছে । সেই ফিরোজকে একদিন ছাদে দাঁড়িয়ে শ্মশানঘাটটির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়তে দেখলাম । আমরা তখন কেরাম খেলছিলাম । আমরা বলতে- আমি , বাপ্পি ,তপন আর সজল । রতন গিয়েছিল নীচে আমাদের জন্য ঠান্ডা পানি আনতে । ফিরোজ একটু দেরি করে আসায় খেলায় অংশ গ্রহন না করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কখনও নদী আবার কখনও শ্মশানঘাটটি দেখছিল । ওকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে দেখে আমি আর বাপ্পি এগিয়ে গিয়ে ওর কাধে হাত রেখে - জিজ্ঞেস করলাম কিরে কি হয়েছে?
- না কিছু না । ফিরোজ মাথা নেড়ে কিছু না বলে আমাদের এড়িয়ে যেতে চাইল ।
- কিছু না বললেই হলো ! আমি স্পস্ঠ তোকে বোয়াল মাছের মতো বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে দেখলাম ।
- বললাম তো কিছু না । এমনি ....
- দেখ মিথ্যা বলবি না । আমরা না তোর বন্ধু । বাপ্পি ফিরোজ এর কাধে হাত রেখে বলল ।
- না, মানে শ্মশানঘটটা দেখে ভাবছিলাম -মানুষ মরে গেলেই তো সব শেষ তাই না ? ফিরোজ আবারও উদাস হয়ে বলল ।
- তা তো ঠিকই মরে গেলেই তো সব শেষ । বলে আমিও ওর সঙ্গে মাথা নাড়ালাম ।
- মরে গেলে সব শেষ হবে কেন ? মরে গেলে তো মানুষ ভূত হয়েওতো টিকে থাকার চেষ্টা করে । তপন এর কথায় আমরা সবাই হেসে উঠলাম ।
- শুন ব্যাটা ভূত বলে আসলে কিছু নাই । সব মনের ভূল । সজন বীরের মতো বলল ।
- তুই জানস না , আমাদের ঠাকুর মারা বলেন - যারা বেঁচে থাকতে অন্যায় জুলুম করে তারা মরে গেলে ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায় ।
- তোর দাদি মার কি ভাবে জানলো এ কথা ? তারা কি ভূত প্রেত দেখেছে ? সজল তপনকে একেবারে তুচ্ছ তাচ্ছিল করে প্রশ্ন করল ।
- দেখেছেই তো । তপন আমতা আমতা করে উত্তর দিল ।
- যতোসব বাকোয়াস কথা ।
- বাকোয়াস না , দিদা বলছে দাহের পর তিন চার ঘন্টা পর্যন্ত নাকি তেনাদের আত্মা শ্মাশানঘটে ঘুরে বেড়ায় । তখন নাকি তেনাদের দেখাও যায় ।
- তোর দিদা চাপা মেরেছেরে । পুরো আজেন্টিনা চাপা মেরেছে। বলে সজল হো হো করে হাসতে লাগল ।
- তোর খুব সাহস মনে হচ্ছে যে । ফিরোজ সজলকে উদ্দেশ্য করে বলল ।
- সাহসই তো , তোর মতো নাকি যে, দিনের বেলায় শ্মাশানঘাটে ঘুরে এসে বাহাবা ফলাবো । আমি চাইলে রাতেও শ্মাশানঘাট ঘুরে আসতে পারি ।
- তাই নাকি ! তাহলে প্রমাণ দিয়ে দে ? দেখবো কতো বড় বুকের পাটা । ফিরোজ তেতে উঠে বলল।
- প্রমাণ লাগবে কেন , যা সত্য তাই বললাম ।
- কি ভাবে বুঝবো যে তুই রাতের বেলা শ্মাশানঘাট থেকে ঘুরে আসতে পারবি ? আমি বললাম ।
- আমি ইচ্ছে করলে প্রমাণও দিতে পারি কিন্তু দিমু না । কিন্তু দিমু না , প্রমান দিয়ে আমার লাভ কি । আমি বুঝলাম সজল ধান্ধা খুঁজছে ।
- যদি তুই রাতের বেলা শ্মাশানঘাট থেকে ঘুরে আসতে পারিস তা হলে তুই যা খেতে চাবি তাই তোকে খাওয়াবো । ফিরোজ বলে আমাদের সবার দিকে তাকালো।
- হু যা তাই খাওয়াবো । বলে আমরা সবাই মাথা নাড়লাম ।
- আবে রাখ তোদের খাওয়া দাওয়া । নগদ মাল কতো দিবি তা ক ?
- যা , সবাই মিলে তোকে একশ টাকা দিমু ।
- দিবি তো ? সজল এর চোখ দু’টো চকচক করে উঠতে দেখলাম ।
- অবশ্যই দেবে । তবে আমাদের কথাও তোকে শুনতে হবে । ফিরোজ বলল ।
- কি কথা ?
- তুই শ্মাশানে রাত ১২টা পরে যাবি । বলে ফিরোজ আমাদের দিকে চেয়ে একটু হাসল । আমি মনে মনে ভাবলাম রাত ১২টা কথাশুনে সজল হয়তো পিছিয়ে যাবে । কিন্তু আমাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে ও বলে উঠলো - রাত ১২টা কেন ? মাল পেলে রাত ১টা’র পরে যেতেও রাজি আছি ।
- তাহলে আজ রাতেই যা । ফিরোজ বলল ।
- ওকে নো প্রবলেম । আগে মাল দে । আমি বাকির কাজ করিনা । জানস তো বাকি কাজ ফাঁকি । আমরা আমাদের সবার পকেটে যা ছিল তা মিলমিশ করে একশটাকা জোগার করে সজল এর হাতে তুলে দিলাম । তপন শুধু বলল ও আসতে পারবে না । এতো রাতে নাকি ও কিছুতেই বাসা থেকে বেড় হতে পারবেনা । সবাই মিলে ঠিক করা হলো যে, রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে আমরা যার যার মতো রতন এর বাসার নীচে চলে আসবো । তারপর ১২টা বাজলে সজল চলে যাবে শ্মাশানে আর আমরা শ্মাশানের কাছে কর্টন মেলের গেটে অপেক্ষা করবো ।
দুই
স্কুল বন্ধ থাকলেও এতো রাতে বাসা থেকে বেড় হওয়াটা আমার জন্য খুব একটা সহজ হলো না । শেষমেস ছোট মামাকে সব খুলে বলার পর মামা নিজেই আমাকে নিয়ে বেড় হলেন । রতনদের বাসায় নীচে আসার পর দেখলাম রতন, ফিরোজ, বাপ্পি অপেক্ষা করছে ।
সজল কোথায় জিজ্ঞেস করাতে ফিরোজ বলল - ও শালায় এখনও আসেনি ।
- মনে হয় ভেগেছে । রতন ফিরোজ এর কাধে হাত রেখে বলল।
- টাকা নিয়েছে না, ভেগে যাবে কোথায় ? ডাবোল আদায় করে ছাড়বো । আমাদের সঙ্গে মামদো বাজি চলবে না । ফিরোজ উত্তেজিত হয়ে বলল । আমি হাতঘড়ি দেখলাম রাত পৌনে ১২টা বাজে । একটু যেন শীতও পড়ছে । তবে আকাশ বেশ পরিস্কার । সাদাসাদা মেঘ মাথার উপড় দিয়ে উড়ে চাচ্ছে। আকাশে বিশাল রুপালী একটা চাঁদ । আমি মুগ্ধ হয়ে আকাশ দেখতে লাগলাম । বাপ্পি কোন কিছু না বললেও ঘুনঘুন করে গান গাইছে । ছোট মামাকে দেখলাম একটু দূরে সড়ে গিয়ে সিগারেট ধরিয়েছে। আমরা যখন সজল আসবে না ভেবে ফিরে যাবার বলো ঠিক করে ফেলেছিলাম । ঠিক সে সময় সজল আসল । ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় ১২টা বাজে । সজল এসেই আমাদের কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলল- চল, যাওয়া যাক । সজলকে দেখে আমার কিছুটা অন্যমনন্স্ক আর কেমন যানি চুপচাপ মনে হলো । আমি ভাবলাম হয়তো সাহস দেখাতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফান্দে পরে গেছে সেই জন্য মন খারাপ । আমি ওর পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বললাম - কিরে সজল ! ভয় লাগছে ? যাওয়া বাদ দিবি?
- না , চল, যাওয়া যাক । সজল বেশ গম্ভীর ভাবে বলল ।
- তোর খারাপ লাগলে, থাক না ।
- আহা : বিরক্ত করিস না, বললাম তো চল ।
- কি হইছে রে ? ফিরোজ আমার পাশে এসে জিজ্ঞেস করল ।
- না , কিছু না । আমি জিজ্ঞেস করছিলাম ওর খারাপ লাগছে কিনা ।
- কিরে সজলা বাদ দিবিনি যাওয়া ? ফিরোজ হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল । ফিরোজ এর বলার মধ্যে কেমন একটা খোঁচার আভাস পেলাম । সজল কিছু না বলে হাঁটতে লাগল ।
হঠাৎই সবাই কেমন যানি চুপচাপ হয়ে গেছি । সবাই নীরবে হাঁটছি । বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পরে আমরা কর্টন মেলের পেছনের গেটে এসে দাঁড়ালাম । কর্টন মেলের পেছনটা বেশ নীরব । সামনের দিকের মেইন রাস্তায় দু’চারজন লোকজন থাকলেও এদিকটা একেবারে জনশূন্য ।
আমরা দাঁড়িয়ে পরলেও সজল কিন্তু দাঁড়ালো না । ও সোজা শ্মাশান ঘাট এর দিকে হাঁটতে থাকলো । আমি প্রায় দৈড়ে গিয়ে বললাম - সজল দাঁড়া , ভাল করে ভেবে দেখ যাবি কি না !
- ভাবাভাবির কিছু নাই । তোরা এখানে থাক আমি শ্মাশান ঘাট থেকে ঘুরে আসছি ।
- আমরা বুঝবো কি করে যে, তুই আসলেই শ্মাশান ঘাটের ভেতরে গেছিস । বাপ্পি এসে প্রশ্ন করল ।
- আমি প্রমাণ নিয়ে আসবো ;
- কি প্রমাণ আনবি শুনি ।
- মরা পোড়ানোর লাকড়ী নিয়ে আসলে চলবে ? কথাটা বলে সজল খেক খেক করে হাসতে হাসতে এগিয়ে গেল । এ সজলকে আমার কেমন যানি খুব অপরিচিত মনে হলো । মনে হলো - ওকে যেন আমি ঠিক চিনিনা । এই প্রথম দেখলাম । ওর হাসির শব্দে আমার পুরো শরীর কাটা দিয়ে উঠল । আমি কোন কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলাম । আমাদের চোখের সামনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সজল এক সময় অন্ধকারে মিলিয়ে গেল । আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি চাঁদটা ততোক্ষনে মেঘের আড়ালে চলে গেছে । আমার কেন যেন খুব ভয় ভয় করতে লাগল । সবাই কেমন চুপচাপ হয়ে আছি । কারো মুখেই কোন কথা নেই । ছোট বেলা থেকে পড়ে এসেছি - সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা । কিন্তু এখানে আসার পর দেখলাম সময় কি করে স্লো হয়ে যায় । ঘড়ির কাটা যেন আর চলতেই চাচ্ছে । সময় যেন আটকে আছে মহাকালের আর্বতে। (পরের খণ্ডে সমাপ্ত) শেয়ার করছেনঃ Sanjida Haque

। শ্মাশানঘাট ।। (শেষ অংশ)

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Saturday, August 20, 2011 at 10:34pm
একটু একুটু করে আধ ঘন্টা পেরিয়ে যাবার পর সজলকে ফিরতে না দেখে আমরা সবাই অস্থির হয়ে উঠলাম । মনে মনে এই ভেবে ভয় পাচ্ছি সজল এর কোন বিপদ হলে ওর বাবা মাকে আমরা কি বলব ? সবাই কি ভাববে আমাদের । আমার বাবা তো আমাকে পিটিয়েই মেরে ফেলবে ।
ভয় মানুষের কল্জে শুকিয়ে যায় শুনেছি কিন্তু আমার বেলায় দেখলাম ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে । মনে হলো একটু পানি খেতে পারলে ভাল হতো । আমরা সবাই অস্থির হয়ে পায়চারি করছি । ছোটমামা একটা গাছের গুড়ির সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে আছেন । ফিরোজ একটু পর পর চুক চুক শব্দ করে বিরক্তি প্রকাশ করছে ।
আরো আধ ঘন্টা যাবার পরে আমি বললাম - চল আমরা এগিয়ে দেখি ও এখনও আসছে না কেন ? মামা বললেন - তাই চল, আমার মনে হয় ওর কোন বিপদ হয়েছে । ফিরোজ কিছু বলতে যাচ্ছিল - বাপ্পি বলে উঠল ,তোরা যা, আমি বাবা মরে গেলেও শ্মাশানে যাবো না । মরতে হয় এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে মরে যাবো, তবু বাবা শ্মাশানে যাবো না । অগত্য আমরা রতন আর বাপ্পিকে রেখে রওনা দিলাম । যাবার সময় ওদের বলে গেলাম, আমরা যদি আধা ঘন্টার মধ্যে না ফিরি তাহলে ওরা যেন যা ভাল মনে করে তাই করে । ওরা একজন অন্যজনের গায়ে গা ঘেষে দাঁড়িয়ে থেকে মাথা নাড়ল ।
শীতটা যেন হঠাতই বেড়ে গেছে । আমরা একজন অন্যজনের গা ঘেষে চাঁদের আলোয় হাঁটছি । কারো মুখে কোন কথা নেই। সবাই যেন বোবা হয়ে গেছি । বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পর ফিরোজ হাত দিয়ে সামনের দিকটা দেখিয়ে বলল- ঐ যে দেখ, কে যেন হেঁটে যাচ্ছে । ওর হঠাৎ কথা বলে উঠায় আমি বেশ চমকে গেলেও সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম , সত্যিই কে যেন খুব ধীর পায়ে হেঁটে হেঁটে শ্মাশানের দিকে যাচ্ছে । আমার সাহস বেড়ে গেল - আমি বললাম সজল না তো ?
মামা বললেন - মনে হয় না, এক ঘন্টা আগে রওনা দিয়ে ও এতোক্ষন নিশ্চয়ই এখানে দাঁড়িয়ে থাকেনি !
- তাহলে হয়তো নাইট গার্ডটাড কেউ হবে, তারাতারি পা চালা কাছে গিয়েই দেখি না কে ? বলেই ফিরোজ জোড়ে হাঁটতে লাগল । আমি আর মামাও জোড়ে পা চালালাম ।
হাঁটতে হাঁটতে নদীর পার দিয়ে আমরা অনেকটা দূরে চলে এসেছি । আমাদের সামনে হাঁটতে থাকা আবয়াবটাকে এবার বেশ স্পস্টই দেখা যাচ্ছে । চাঁদের আলোয় চাদরে শরীর ঢেকে হেলে দূলে লোকটা এগিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য করে আমারা অবাক না হয়ে পারলাম না । আমরা জোড়ে জোড়ে পা চালিয়েও লোকটার কাছাকাছি হতে পারছি না । আমার কাছে মনে হলো লোকটাও যেন আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় ফিরোজ জোড়ে হাক দিয়ে বলল- এই যে শুনছেন ? একটু দাঁড়ান না ,আমরাও ওদিকে যাবো ।
লোকটা আমাদের দিকে না তাকিয়েই মেয়েলি গলায় মিনমিন করে বলল- এগিয়ে আসো । কিন্তু, আমরা আরো জোড়ে পা চালিয়েও লোকটার কাছাকাছি হতে পারলাম না । এভাবে আরো কিছুক্ষন হাঁটার পর হঠাৎ মামা বললেন - দাঁড়াও তোমরা, আমারা মনে হয় আমরা খারাপ জিনিষের পাল্লায় পরেছি । আমি আর ফিরোজ সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলাম । সমগ্র শরীর দিয়ে ঘাম টপটপ করে পরছে । ফিরোজ প্রশ্ন করল - খারাপ জিনিষ মানে কি মামা ?
- খারাপ জিনিস মানে হচ্ছে খারাপ জিনিষ । দেখছো না আমরা কতো চেষ্টা করেও ওটার কাছাকাছি হতে পারছি না । মামার কথা শুনে আমার সারা শরীর ঝিম ঝিম করে উঠল । ফিরোজ কিছু বলল না । চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল । মামা বললেন - দাঁড়িয়ে থেক না হাঁটতে থাকো ওটা যদি বুঝতে পারে যে আমরা ভয় পেয়েছি তাহলে খবর আছে । আমরা ধীর পায়ে আবারও হাঁটতে লাগলাম ।
একসময় ফিরোজ ফিসফিস করে বলল- মামা চলেন ফিরে যাই । ফিরোজ যেন আমারই মনের কথাটা বলল । মামা বললেন- আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি এখন সামনে যাওয়া যা,পেছনে যাওয়া তার চাইতেও ভয়ন্কর । দোয়া দুরুত পড়ে বুকে ফু দিয়ে হাঁটতে থাকো । আমি মনে মনে দোয়া দুরুত পড়তে চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না । কিছুই মনে পড়ল না । বিরবির করে উল্টা পাল্টা কি সব পড়লাম ।
একটা মোড় ঘুরে শ্মাশান ঘাটের কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ করে চাঁদটা মেঘের আড়ালে চলে যাওয়ায় চারিদিক অন্ধকারে ঢেকে গেল । আমি আর ফিরোজ ভয় পেয়ে মামার জামা টেনে ধরলাম । মামা বিরবির করে বললেন - ভয় পাবি না ,ভয় পাবি না । একদম না । একদম না । মামা ভয় পেতে না করলেও আমি কিন্তু ঠকঠক করে কাঁপছি । আর মামাকে ধরে একটু একটু করে এগুচ্ছি । শ্মাশান ঘাটের গেটে আসার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদটাঁ আবার মেঘের আড়াল হতে বেড় হয়ে এলো । মনে মনে আলাহকে ধন্যবাদ দিলাম । ততোক্ষনে আমাদের সামনে হাটতে থাকা লোকটা কোথায় যেন উদাও হয়ে গেছে ।
লোকটাকে কোথাও আর দেখলাম না । আমরা গেট দিয়ে শ্মাশানের ভেতরে ঢুকলাম । পুরো শ্মাশানে শুনশান নীরবতা । ঝিঝিপোকাও ডাকছে না । আমরা সজলকে খুঁজতে লাগলাম । কিন্তু কোথাও ওকে দেখা গেল না । গেটের কাছে দাঁড়িয়েই ফিরোজ - এই সজল, বলে বার দুয়েক ডাক দিলো । কিন্তু কেউ উত্তর দিলো না । রাতের অন্ধকারে সে ডাক প্রতিধ্বর্ণিত হয়ে ফিরে এলো।
মামা বললেন - চলো ভেতরে দিকে যাওয়া যাক , হয়তো ও ভেতরে আছে । মামা আমাদের জন্য আর অপেক্ষা না করে পা বাড়ালেন । আমরাও দুরুদুরু বুকে মামার পেছন পেছন যেতে লাগলাম । কিছুটা ভেতরে ঢুকে বামপাশে ঘুরতেই কিছুটা দূরে চারকোনায় চারটা কালো লোহার মোটা রর্ড পোতা উচু একটা পাঁকা জায়গা দেখে বুঝলাম - এখানেই লাশ পোড়ানো হয় । তার কিছুটা দূরেই ডান পাশ দিয়ে নদীটা দেখা যাচ্ছে । আমি ডাক দিলাম - সজল ! এ্যই সজল , তুই কোথায় ? নিজের গলা নিজের কাছেই কেমন অপরিচিত মনে হলো ।
- সজল এখানে নেই , মামা কথাটা বলে নদীর দিকে এগিয়ে গেলেন । আমরাও পেছন পেছন গেলাম । নদীর ঘাটটাও ফাঁকা কেউ নেই । এদিক সেদিকে ভাঙা মাটির হাড়ি, পাতিল , কলসি পরে আছে । বাম পাশের একটা গাছ থেকে কুরকুর করে একটা অচেনা পাখি ডেকে উঠতেই আমরা চমকে উঠলাম । একবার মনে হলো ঝেড়ে একটা দৌড় মারি । আমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে মামা বললেন- আমার এখন মনে হচ্ছে, সজল তোদেরকে ফাঁকি দিয়েছে । ও এদিকটায় আসেইনি । আমি বললাম -হতেই পারেনা মামা, ওতো আমাদের সবার চোখের সামনে দিয়ে এদিকে আসলো ।
- আসলো তো আমিও দেখলাম । কিন্তু তাহলে গেল কৈ ?
- কোন বিপদ আপদ হয়নি তো ? ফিরোজ ফিসফিস করে বলল । ঠিক এমন সময় মামা বলে উঠলেন - ঐটা কে রে ? সঙ্গে সঙ্গে আমি আর ফিরোজ চমকে উঠে মামার দেখানো হাত বরাবর লাশ পোড়ানোর বেদিটার দিকে তাকালাম । তাকিয়ে কিছু দেখতে না পেয়ে ফিরোজ বলল কোনটা মামা ?
- ঐ যে বেদিটার বামপাশের রডটার কাছে বসে আছে । আমার বুকের ভেতরটা তখন ধকধক করছে । হাত পা’গুলো ঠকঠক করে কাঁপছে । মনে হলো জ্ঞান হারিয়ে পরে যাবো । ভাল করে তাকিয়ে দেখি সত্যিই কে যেন হাঁটুতে ভর দিয়ে বেদীটায় বসে আছে । মামা জোড়ে জোড়ে বললেন - কেরে, কে ওখানে ? কেউ উত্তর দিল না । মামা এবার এগুতে লাগলেন । আমরাও ঘোরের মধ্যে মামার পেছন পেছন যেতে লাগলাম । বেদীর কাছে ছাঁয়াটার কাছাকাছি হতেই সেটি আস্তে ধীরে উঠে দাঁড়ালো । দেখে মনে হলো না, কোন তারা আছে । মামা আবারও বললেন- কে ? কে ওখানে ?
আমার কাছে মনে হলো, কে যেন নাকি স্বরে উত্তর দিল - আমি?
- আমি কে ? মামা আর একটু জোড়ে জিজ্ঞেস করলেন । ছাঁয়াটা প্রথমে কিছু না বললেও হঠাৎ ঘোৎঘোৎ শব্দ করে বলে উঠল তুই কে রে শুয়োর ? আমাকে জিজ্ঞেস করিস আমি কে ?
আমরা চমকে উঠলাম । কেননা ছাঁয়াটা চোখের পলকে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে । হালকা পাতলা শরীরে লাল টকটকে টু-টো চোখ । আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার দসা হলো । মনে হলো আমি বুঝি ভয়েই মরে যাবো । হঠাত করেই যেন চাঁদটা আবার মেঘের আড়ালে চলে গেল । আমি আর ফিরোজ মামার জন্য অপেক্ষা করলাম না - ওরে মাগো বলে ঝেড়ে দৌড় মারলাম গেটের দিকে । টের পেলাম মামাও আমদের সঙ্গে দৌড় লাগাল । আমরা গেটেই কাছে আসতেই ধুমধাম বিকট শব্দ করে গেটটা বন্ধ হয়ে গেল । আমরা তিনজন আছড়ে পড়লাম গেটের উপড় । ভয়ে আমি জ্ঞান হারা হয়ে গেছি । গেটের মধ্যে দু’হাত দিয়ে আঘাত করতে করতে হিস্টিরিয়ার রোগির মতো দরজা খোলার জন্য চিৎকার করতে লাগলাম । পেছন ফিরে দেখি ছাঁয়াটা হাসতে হাসতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে । আমরা যা যা বলে চিৎকার করতে লাগলাম । কিন্তু ছাঁয়াটা বাতাসে ভেসে ভেসে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতেই লাগল । মনে মনে ভাবলাম আজই বুঝি জীবনের শেষ দিন । হে আল্লাহ, মাফ করে দাও । মাফ করে দাও , বলে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম । ছাঁয়াটা আমাদের কাছ থেকে যখন হাত তিনেক দূরে, ঠিক সে সময় কে যেন খুব গম্ভীর গলায় বলে উঠল - দাঁড়া ? টোন্ট মুভ । সঙ্গে সঙ্গে ছাঁয়াটা থেমে গেল ।
আমি চমকে তাকিয়ে দেখি নদীর কাছে ভাঙা হাড়িগুলোর কাছে আরেকটা খুব লম্বা ছাঁয়া দাঁড়িয়ে আছে । ছাঁয়াটা লম্বা একটা আলখাল্লা পরে আছে বলে আরো লম্বা লাগছে । চুলগুলো কানের দু’পাশে পরে আছে । ছাঁয়াটার হুকুমে আমাদের দিকে আসতে থাকা ছাঁয়াটা থেমে গিয়ে ভয়ন্কর ভাবে গোৎগোৎ শব্দ করতে করতে হুকুমকারীর দিকে ছুটে গেল । কিন্তু হুকুমকারী ছাঁয়াটার দিকে দু’হাত উপরে তুলেতেই ছাঁয়াটা ছিটকে এক দিকে পরে গিয়ে বাতাসে মিলিয়ে গেল ।
আমরা এবার হুকুমকারী ছাঁয়াটার দিকে তাকালাম - দেখলাম ছাঁয়াটা আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে । আর ঠিক সে সময় ঘটাং করে গেটটা খুলে গেল । আমরা আর দাঁড়ালাম না ঝেড়ে দৌড় লাগালম । এক দৌড়ে কর্টন মেলের গেটে । কর্টন মেলের ঘেটে আসতেই দেখি রতন ওর বাবা-চাচাদের ডেকে এনেছে সবাই মিলে - শ্মাশানে যাবার জন্য প্রস্তুত হোচ্ছিল। আমরা ফিরে আসায় সবাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো । সজল কোথায় জিজ্ঞেস করাতে রতন বলল- ও ওর বাসাতেই আছে । ওর বাবার সঙ্গে আমার আব্বুর কথা হয়েছে । ও বাসায় গেল কি ভাবে ? জিজ্ঞেস করতে রতন কিছু বললো না । বলল কাল কথা হবে । এখন বাসায় যা ।
পরিশেষ : পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই মার কাছে শুনি, সজল এসেছে । ড্রয়িং রুমে বসে আছে । আমি ড্রয়িং রুমে ছুটে গেলাম । ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখি ছোট মামা সজলের সঙ্গে কথা বলছেন । আমাকে দেখে সজল উঠে দাঁড়াল । আমি বললাম - তুই ঠিক আছিস তো সজলা ? সজল মাথা নেড়ে পকেট থেকে দু’শো টাকা বেড় করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল - আমায় মাফ করে দে, আমি কাল রাতে ভয়ে তোদের কাছে আসতে পারিনি । খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । এ্যই নে তোদের বাজির দু’শো টাকা । আমার তো আক্কেল গুরুম সজলা বলে কি ? তাহলে গতরাতে আমরা কার জন্য শ্মশান ঘাটে গেলাম ? কেই বা আমাদের সামনে দিয়ে হেঁটে হেঁটে শ্মাশান ঘাটে গেল ? তাহলে কি ওটা সজল ছিল না ? ছিলো অন্য কেউ ??

শেষ রাতের ট্রেন

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Saturday, August 20, 2011 at 7:09pm
"এই চা গরম -চা গরম " - চিকন একটা গলায় চিৎকার করে চলেছে মিশকালো একটা লোক- হাতে এক বিশাল চায়ের ফ্লাক্স- চিল্লাতে চিল্লাতে রাজু সাহেবের সামনে মিনিট তিনেক ধরে ঘুর ঘুর করছে। যত বার রাজু সাহেবের সামনে যাচ্ছে ততবার রাজু সাহেব বিরক্ত হচ্ছেন- কিন্তু চা ওয়ালার কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। লাকসামের রেলস্টেশনের ওয়েটিং এ রাজু সাহেব আজ রাত্রের গুটি কয়েক যাত্রির মাঝে একজন। স্যুট বুট পড়া বলে রাজু সাহেবের দিকে বার বার এগিয়ে আসছে একের পর এক হকার। তিনি সবাই কে ফিরিয়ে দিয়েছেন। উনার মা উনাকে ভরপেট খাইয়ে দিয়েছে। আর পই পই করে বলে দিয়েছে যেন তিনি কোন রাস্তার খাবার না খান। আর মায়ের কথা তিনি কোনদিন ফেলতে পারেন না। "এই ডিম- ডিম ডিম- সিদ্ধ ডিম"- বলে একটা ছোট বাচ্চা এসে ডিমের ঝুড়িটা রাজু সাহেবের সামনে রেখে বলল-
"স্যার একটা ডিম নেন- অনেক ভাল লাগবো- খাইবেন? দিমু? ছুইলা?"
বলেই একটা ডিম নিয়ে ছোলা শুরু করে দিল। রাজু সাহেব ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছেন ডিম ওয়ালা ছেলেটার দিকে। তারপর গলাটা একটু চড়িয়ে বললেন- "তোমাকে আমি কি ডিম ভাংতে বলসি? তুমি ডিম ভাংলা কেন?"
হলদে দাঁত বের করে ছেলেটা একগাল হেসে বলল- "স্যার সবাইরে আট ট্যাহা কইরা দেই- আপনেরে ছয়টাহায় দিমু- নেন খাইয়া দেহেন- কেমুন মজা।"
বলে ডিমটা একটা কাগজে নিয়ে চামচ দিয়ে দুই ভাগ করে নুন ছিটিয়ে দিল রাজু সাহেবের হাতে। রাগে মাথা জ্বলতে শুরু করল উনার। কিন্তু একটু পড়েই নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন- না আমি খাব না। তুমি টাকা নিয়ে বিদায় হও। বলেই মানিব্যাগ থেকে দশ টাকার একটা নোট দিলেন ছেলেটাকে। ছেলেটা নোট টা নিয়ে ডিম টা রাজু সাহেবের পাশে ব্যাঞ্চে রেখে চলে গেল হন হন করে। সেই ছেলেটার চলে যাওয়া দেখে উনার মাথার ভেতর রাগে জ্বলতে শুরু করল। কিন্তু তিনি মনে মনে বিড় বিড় করে কি যেন একটা বলে আবার মনযোগ দিলেন ট্রেন লাইনের দিকে তাকিয়ে থাকা কে। রাজু সাহেব থাকেন ঢাকায়। একা একটা ফ্লাট ভাড়া করে। উনি ঢাকা হাইকোর্টের একজন ঊকিল। মা থাকেন লাকসামের ফুল্গ্রামে। উনি অনেক চেয়েছেন মাকে সাথে করে ঢাকায় নিয়ে আসতে- কিন্তু উনার বাব্র কবর ছেড়ে উনার মা আসতে কখনোই রাজি হননি। উনি উনার স্বামীর কবর ছেড়ে কোথাও যান না। তাই আজ রাজু সাহেবের সাথে ও তিনি যাচ্ছেন না। উনাকে যাওয়াত দেয়া হয়েছে সুনামগঞ্জে প্রফেসর আকমল সাহেবের বাসায়। প্রফেসর আকমল এর মেয়ের সাথে রাজু সাহেবের বিয়ের কথা চলছে দুই সপ্তাহ ধরে। শেষে মেয়ে দেখার জন্য আকমল সাহেব রাজু সাহেবের পরিবার কে ডেকে পাঠান। কিন্তু রাজু সাহেবের মা যেতে রাজি হননি। তাই শেষ পর্যন্ত বিয়ে করার জন্য নিজেকেই একা যেতে হচ্ছে রাজু সাহেবের। উনার কোন ভাই বোন ও নেই যে উনার সাথে যাবেন। তাই একা এই মাঘের শীতের রাতে তিনি টিকেট কেটে প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছেন ঢাকা সিলেট গামী ট্রেনের জন্য। "স্যার স্যার পেপার নেন পেপার- পেপার নেন- গরম গরম খবর - মজার মজার খবর' - বলে উনার সামনে এসে ১৮-১৯ বছরের একটা ছেলে এসে মাসিক পত্রিকা যাচতে লাগলো। তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি যাত্রা পথে ঘুমিয়ে কাটান। এই রংচঙে পত্রিকা কোনদিন উনাকে টানেনি। উনি বেশির চেয়ে বেশি দৈনিক পত্রিকা পড়েন। কিন্তু ছেলেটা নাছোড় বান্দা। উনাকে পেপার বিক্রি করে ই ছাড়বে। শেষে বিক্রি করতে না পেরে একটা নগ্ন ছবি ওয়ালা চটি বই রাজু সাহেবের চোখের সামনে ধরে নাচাতে নাচাতে বলল- ' "স্যার দেখেন- কত গরম গরম জিনিস- নেবেন? স্যার আরো ভাল ভাল জিনিস আছে।" বলে দাঁত বের করে হাস্তে লাগল। এবার রাজু সাহেব চোখ বড় বড় করে এমন ভাবে তাকালেন যে ছেলেটা প্রায় পালিয়ে বাঁচল।
উনি এবার নিজের ব্যাগ থেকে একটা শরত সাহিত্য সমগ্র বের করে পড়তে শুরু করে দিলেন। কিছু ক্ষন আগে স্টেশন মাষ্টার জানিয়েছেন- ট্রেন আসতে আসতে আরো দুই ঘণ্টা লাগবে। তাই এই দুই ঘণ্টা কিভাবে কাটাবেন তিনি বুঝে ঊঠতে পারছেন না। শরত বাবুর বইয়ে চোখ বুলাতে বুলাতে তিনি খেয়াল করলেন উনার পাশের হাত বিশেক দূরে একটা দম্পতি নিজেদের মাঝে গল্প গুজব করছে। তিনি প্রথমে ঊঠে গিয়ে উনাদের সাথে ভাব জমাবেন বলে চিন্তা করেছিলেন- কিন্তু পরে চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললেন। একটু পড়েই ঢাকা চট্টগ্রাম গামী ট্রেন আসলে উনারা উঠে চলে গেলেন সেই ট্রেন এ করে। ভাব দেখে উনাদের নতুন বিবাহিত বলে মনে হল। মনে মনে চিন্তা করতে করতে উনি আবার পড়ায় মনযোগ দিলেন। কিন্তু হটাত করে খেয়াল করলেন উনার চারপাশ কেমন যেন শুনশান - কোন সাড়া শব্দ নেই। বই থেকে মাথা তুলে কান পেটে শুনতে চেষ্টা করলেন রাজু সাহেব। কিন্তু তিনি কোন শব্দ শুনতে পেলেন না। মাথা তুলে দুই পাশ দেখলেন। হালকা টিমটিমে ৪০ ওয়াটের বাতি জ্বলছে চারটা - এতে চারপাশের অন্ধকার আরো গাঢ় বলে মনে হল উনার। এর মাঝে মাঘ মাসের কুয়াশা ও আছে। উনি কান পেতে থাকলেন অনেকক্ষন। নাহ তিনি কোন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ও শুনতে পেলেন না। এমনিতে তিনি তুখোড় উকিল হলেও একাকীত্ব কিছুটা ভয় পান। তাই বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে স্টেশন মাষ্টারের রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে ও তিনি হতাশ হলেন- সেখানে একটা পাগলি ছাড়া কেউ নেই। স্টেশন মাষ্টার কোন ফাঁকে চলে গেছে নিজের বাড়িতে এটা উনি টের ই পেলেন না। স্টেশন মাষ্টারের বেধে দেয়া সময় এর বাকি আছে মাত্র দশ মিনিট আছে।তিনি ঘড়ি দেখতে দেখতে এসে বসলেন উনার আগের সিটে। এবং বসতে গিয়ে হটাত দেখলেন উনার পাশে এক বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন। উনি গলা খাকড়ি দিয়ে গিয়ে বসে পড়লেন মহিলার পাশে। এই ঠান্ডায় মহিলা অনেকটা কুকড়ে আছেন। শাদা শাড়ি পড়ে আছেন তিনি। মুখ অনেক তা ঢাকা ঘোমটার আড়ালে। রাজু সাহেব ভাবতে লাগলেন এই শুনশান রাতে মহিলা বসে আছেন কেন – কে তিনি ? কেন এলেন এখানে? এমন টা ভাবতে ভাবতেই মহিলা নিজে নিজেই বললেন-
“ ভাবছেন তো কেন আমি এখানে?” শুনেই রাজু সাহেব বেশ চমকে উঠলেন। মহিলার গলার আওয়াজ অনেক ভাঙ্গা- শুনে মনে হচ্ছে উনি অনেক কষ্ট করে কথা বলছেন। কথা টা বলেই তিনি রাজু সাহেবের দিকে তাকালেন। রাজু সাহেব সেই দৃষ্টির দিকে বেশি ক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারলেন না। ভয়ে শরীরের ভেতর টা ঘেমে ঊঠল উনার এই শীতের মাঝে। তিনি ভেবেছিলেন কোন এক ভুত উনার পাশে বসে থাকবে। আস্ত মানুষ দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলেও মহিলার চোখ দুটি দেখে উনি ভয় পেয়ে গেলেন। “আমি সুনামগঞ্জ যাব বাবা- সেখানে আমার ছেলের কাছে যাব- শুনেছি ট্রেন আসতে অনেক ক্ষন বাকি তাই আমি ঘর থেকে বের হয়েছি দেরিতে। এখন আসলাম- ঘরের পাশেই মাস্টার সাহেব থাকেন। তিনি আমাকে বললেন- পাঁচ মিনিট পরেই ট্রেন আসবে। তাই আমি চলে আসলাম। আপনার কোন অসুবিধা নেই তো এখানে বসলে? বলেই জ্বলজ্বল চোখে তাকালেন বৃদ্ধা রাজু সাহেবের দিকে। রাজু সাহেবের বেশ অস্বস্থি হল এই প্রশ্ন শুনে- তিনি মনে মনে অনেক কিছু চিন্তা করলেও ভদ্রতার খাতিরে বললেন- “না না কোন সমস্যা নেই আপনি বসলে- আমি তো এখানে বসার সিট দখল করে রাখতে আসিনি” বলে বইটা খুলে পড়তে শুরু করে দিলেন। আর মিনিট খানেক পড়েই ট্রেন আসল। তিনি ‘ট’ বগির সামনের একটা সিটে বসে ছিলেন। “ট” বগিটা এসে থামল উনার সামনেই। উনি আসতে করে ঊঠে পড়লেন ট্রেনে। উনার পিছু পিছু বৃদ্ধা মহিলা ও ঊঠে পড়লেন। উনাদের সিট একই বগিতে পড়েছে। এবং যথারিতি সেই বগিতে আর কোন মানুষ জন নেই। সিটে বসেই রাজু সাহেব বই টা ব্যাগে ঢুকিয়ে আসতে করে ঘুমিয়ে পড়বেন বলে মনস্থির করলেন। তিনি বই ব্যাগ গুছিয়ে বস্তে যাবেন এমন সময় স্টেশন মাষ্টারের রুমে বসে থাকা সেই পাগলি রাজু সাহেবের বগির বাইরে থেকে জানালা দিয়ে রাজু সাহেব কে চিৎকার করে বলতে লাগল- “ঐ তুই যাইসনা এই ট্রেন এ। এই ট্রেন তোর লাইগা আহেনাই। এটা তোরে শেষ কইরা দিব। তুই যাইস না- অমঙ্গল হইব- ঘোর অমঙ্গল” চিৎকার করে বলতে বলতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। রাজু সাহেব মনে মনে পাগলের প্রলাপ মনে করে হেসে ব্যাগ টা মাথার উপর র্যাদকে রেখে হেলান দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। ততক্ষনে ট্রেনের গতি পেরিয়ে গেল লাকসাম স্টেশন। কিন্তু একটা গুন গুন শব্দে রাজু সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল।তিনি গলা বাড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলেন উনার বগি থেমে আছে। ট্রেন চলছে না। চারদিকে প্রচন্ড বাতাসে শো শো শব্দ হচ্ছে।এই শব্দে উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। উনি উঠে বাইরে যাওয়ার গেট এর দিকে গেলেন। অনেক কষ্টে সেই গেট খুলে যা দেখলেন উনার তাতে হার্ট বিট বেড়ে গেল কয়েকগুণ।দেখলেন উনার বগির কোন দিকেই কোন বগি নেই। উনি হয়ত খেয়াল করেন নি- যে উনি শেষ বগি তে ঊঠেছিলেন। এবং চলতি পথে কোন ভাবে উনার বগির সাথে মূল ট্রেনের সংযোগ ছিড়ে গেছে। ভাবতেই উনি ঘেমে গেলেন। কেউ নেই চারপাশে। সুনসান নিরবতা। এমন কি বগিতেও কেই নেই। চারদিকে ফাঁকা একটা যায়গায় তিনি একা একটা ট্রেনের বগিতে- চিন্তা করতেই উনার ঘাড়ের বাম পাশে ব্যাথা করতে লাগল।উনার কয়েক বছর ধরে হাই প্রেশার। উনি বুঝতেই পারলেন না উনি কি করবেন। মাথার উপর আকাশ ছাড়া কিছুই তিনি ভালভাবে খেয়াল করতে পারছেন না। বগিতেও বসে থাকতে পারছেন না। অন্ধকার বগি- বাইরে ঝড়। এবং এমন সময় হটাত করে ঝড় থেমে গেল। উনি এবার সত্যি ভয় পেয়ে গেলেন। এবং ঠিক সেই সময় খুট করে একটা শব্দ হল। শব্দটা এসেছে বগির পেছন দিক থেকে। উনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সেখানের বিপরিত দিক থেকে। তিনি ভালভাবে খেয়াল করতে চেষ্টা করলেন। দেখলেন সেই ঘোমটা পড়া বৃদ্ধা এসে সামনে দাঁড়াল উনার। এবং উনার গলা চেপে ধরল প্রচন্ড শক্তিতে/// এক ঝটকায় উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। উনি এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিলেন। বইটা কোলের উপর রেখে ই তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। চারপাশে সেই কোলাহল শুনে শরীরে কিছুটা শক্তি পেলেন। তারপর দেখলেন উনার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সিলেটগামী ট্রেন। উনার বগি নাম্বার “ট”। উনি দেরি না করে ঊঠে বসলেন উনার বগিতে। উনার জিনিস পত্র গুছিয়ে নিতে নিতেই তিনি একটা চিৎকার শুনতে পেলেন বাইরে। কোত্থেকে একটা পাগলি এসে চিৎকার করে বলতে লাগল- “ঐ তুই যাইসনা এই ট্রেন এ। এই ট্রেন তোর লাইগা আহেনাই। এটা তোরে শেষ কইরা দিব। তুই যাইস না- অমঙ্গল হইব- ঘোর অমঙ্গল” তিনি স্বপ্নের সাথে মিলাতে মিলাতে ট্রেন ছেড়ে দিল।উঠে জিজ্ঞাসা করবেন ভাবছিলেন পাগলিকে।কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তিনি পাগলি কে কিছু বলতে পারলেন না। তিনি এসে তার সিটে বসতে গিয়ে ই হটাত খেয়াল করলেন- পুরো বগি খালি –কিন্তু একদম শেষে দিকে একটা কাথা মুড়ি দিয়ে কেউ একজন বসে আছে এবং তিনি সিট পেয়েছেন একদম শেষ বগিতে। উনার বগির পরে আর কোন বগি নেই ...... ( সমাপ্ত )

।। রাজসাক্ষী ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, August 21, 2011 at 10:43pm
অতনুর পুরো নাম শিহাব শাহিন অতনু, ওর নানার রাখা নাম। ওদের বাড়ি উত্তর বঙ্গে, বর্ডারের কাছে। জায়গাটা ভয়াবহ রকমের দুর্গম। ইলেক্ট্রিসিটি তো দূরের কথা, একটা খাম্বাও নেই। যাতায়াতের মাধ্যম পায়ে হাঁটা পথ। প্রায় ১০মাইল হাঁটলে পাকা রাস্তা পাওয়া যায়। অতনুর এই অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম হলেও ওর আধুনিক নামই বলে দেয় ওদের পরিবার গ্রামের আর ১০টা পরিবার থেকে আলাদা। ছোটবেলা বাবা মারা যাওয়ার পর নানা বাড়িতেই বেড়ে ওঠে। ওর নানারা ওপারের লোক, যুদ্ধের পর এপারে চলে আসে। পরিবারের নামটাই যা ছিল, এছাড়া একেবারে নিঃস্ব হয়ে এপারে আসতে হয়। ও আবছা ভাবে জানে যে নানারা নাকি শুদ্ধ ব্রাহ্মণ ছিলেন, পরে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। ওর পরিবারে ৩টা আজব ঘটনা ঘটেছে। ওর বড় মামা, মেজ খালু আর মেজ নানা তিনজনই খুন হন। বর্ডার এলাকায় এসব স্বাভাবিক ঘটনা, তাই কোন থানা পুলিশ হয়নি। লাশ পাওয়ার পর ২-৪ দিন চোখের পানি ফেলে আবার কাজে মন দিয়েছে সবাই। এইসব ঘটনা যখন ঘটে তখন ওর বয়স ১১, আজ থেকে ১৭ বছর আগের কথা। তারপর ও বড় হয়ে এখন ঢাকায় থাকে। তিন দিন হল গ্রামে এসেছে শেষ যেটুকু ভিটামাটি ছিল তা বেঁচে দিতে। শনিবার রাত। গ্রামে এখন এক ছোট মামা ছাড়া আর কেউ থাকে না। বিশ রুমের একটা টিনশেড দোতলা বাড়ি পুরো ফাঁকা পড়ে থাকে। ও উপরের ঘরটা নিলো। রাতে বেশ চাঁদ দেখতে দেখতে ঘুমানো যাবে। গ্রামে কতদিন রাত কাটানো হয়না।
রাত তিনটায় একটু টয়লেট পেলো ওর। এখানের একটা সমস্যা হচ্ছে টয়লেট করতে নিচে নামতে হয়। কি আর করা, নেমে টয়লেট সারলো। কলপাড়ে এসে হাত ধুতে যাবে, দেখল দুজন লোক বসে আছে নিচতলার বারান্দায়। কিছু নিয়ে তর্কাতর্কি হচ্ছে ওদের মধ্যে বোঝা গেল। খেয়াল করলো টর্চ আনতে ভুলে গেছে ও। কিন্তু এত রাতে এখানে বসে ঝগড়া করছে কারা? ভালমত তাকালো, দেখলো একটা লোক উঠে দাঁড়িয়েছে। তীব্র রেগে গেছে সে, আচমকা একটা ছুরি বের করে আমুল বসিয়ে দিল সে অপর লোকটার বুকে। পিচ করে একটা শব্দ হল। আঁতকে উঠল ও, খুন!! দ্রুত লুকানোর জায়গা খুঁজল ও, পেলোনা। ওদিকে লোকটা এদিকেই এগিয়ে আসছে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ও। কিন্তু লোকটা ওর চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল, ওর দিকে তাকালও না। লোকটা একটু দূরে ডোবার ধারে গেলে চাঁদের আলো পড়লো লাশটার মুখে। চাঁদের আলোয় চিনতে কোন সমস্যা হলনা। বড় মামা!! লাশটা আর কারো না, বড় মামার!! সারা গা ঝিমঝিম করে উঠল ওর। দ্রুত ছুটল বাম পাশের ঝোপের দিকে, ওখানে বড় মামার কবর আছে। গিয়ে যা দেখল তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। কবরটা খোঁড়া, চারিদিকে মাটি ছড়িয়ে আছে, একটা রক্ত মাখা ইট পড়ে আছে পাশে!! গ্রামের লোকদের ডাকে জ্ঞান ফেরে অতনুর। কবরের পাশে পড়ে আছে ও। চারিদিকে অনেক লোকজন, এক এক জনের এক এক জিজ্ঞাসা। তার মাঝেই কবরের দিকে তাকাল ও, সব সুস্থ, স্বাভাবিক, শান্ত। কবরের মাটি দেখে সহজেই বোঝা যায় গত ১৭ বছরে কেউ তা খোঁড়েনি। তবে কি দুঃস্বপ্ন দেখছিল ও? তাই হবে হয়ত। ধীরে ধীরে লোকের কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল ও, তখুনি চোখ আটকাল একটা ইটের দিকে। গোল, একপাশে রক্ত মাখা। বুকটা ছাঁৎ করে উঠল ওর! ঠিক তখুনি, একটু গড়িয়ে পাশের ডোবাটায় পড়ে গেলো সেটা। এই ঘটনার ২ ঘণ্টা পরেই বাসে করে ঢাকায় চলে আসে ও। কাউকে কিছু জানায় না। সবকিছু একটা দুঃস্বপ্ন বলে ভেবে নেয়।
দুই দিন পর। বাসায় কেউ নেই। একা ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছিল ও, এমন সময় কারেন্ট চলে গেলো। মোম জ্বালাতে রান্নাঘরে যায় ও, আইপিএস টাও আবার নষ্ট। ফিরে এসে দেখে ড্রয়িংরুম ভর্তি ৬-৭ জন লোক। সবার মুখে লাল কাপড় বাঁধা। একটা লোককে বেঁধে রেখেছে তারা। মোমের আলোয় চিনতে কষ্ট হয়না, ওটা মেজ খালু!!! হটাৎ লোকগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ে খালুর উপর। মুহূর্তে টুকরো টুকরো করে ফেলে ছুরি দিয়ে। শুধু ধড় আর মাথাটা রেখে বাকি হাত,পা আলাদা হয়ে যায়। এক ফোঁটা রক্ত ছিটে এসে লাগে ওর শার্টে। ওখানেই জ্ঞান হারায় ও। জ্ঞান ফেরে পরদিন হসপিটালে। ঘরে ফেরার পর দেখে সব ঠিক আছে, তবে তার শার্টে রক্তের দাগ লাগলো কিভাবে, স্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাব সে দিতে পারলনা। চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন একটা মানুষিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও। তীব্র কঠিন ওষুধ খেয়ে স্রেফ বেঁচে আছে। দুটি মৃত্যু ঘটনার রাজসাক্ষী হয়ে, তৃতীয় ঘটনাটি ঘটার অপেক্ষায়। শেয়ার করেছেনঃ Kallîum Cyanîde Pîxel বাংলা ফন্টে লিখতে সাহায্য করেছেনঃ Shikdar Mohammad Nafi (Shoshi) আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাদের ২ জনকেই।।

।। একটা পরীর সাথে ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Sunday, August 21, 2011 at 10:32pm
ঘটনাটা আমার বাবাকে নিয়ে।। আমি শুনেছি আমার দাদার মুখে।। ১৯৭৭ সাল।। আমার দাদা তখন সপরিবারে নওগাঁতে থাকতেন।। আমার বাবারা ৭ ভাই।। বাবারা সবাই রাতের বেলা এক রুমেই থাকতেন।। ঘটনার শুরু এখান থেকেই।। বাবা তখন ৭ম শ্রেণীতে পড়েন।। প্রতি রাতেই সবাই খেয়ে দেয়ে ঘুমুতে যেত।। কিন্তু হটাত একদিন আমার অন্য চাচারা খেয়াল করলেন যে, রাত যখন গভীর হয় তখন পুরো ঘর আলোয় আলোকিত হয়ে যায় (বিঃ দ্রঃ তখন আমার দাদার বাসায় কারেন্টের লাইন ছিল না) তারপর উনারা দেখেন, একটা ফুটফুটে সুন্দরী মেয়ে আসে লাল শাড়ি পড়া।। তারা চুপচাপ শুয়ে দেখতে লাগলো কি হয়।। ঐ মেয়েটা বাবাকে হাত ধরে নিয়ে যেত।। বাবা যেনও ঘুমের ঘোরে থাকতেন।। তারপর আবার ভোর বেলা বাবাকে ফিরিয়ে দিয়ে যেত।। পরপর কয়েকদিন এই একই ঘটনা ঘটতে থাকে।। অবশেষে একদিন আমার চাচারা ঘটনাটা আমার দাদাকে জানায়।। সেদিন দাদু আমার অন্য চাচাদের আরেক রুমে থাকতে বলে তিনি নিজেই যান আমার বাবার সাথে ঘুমানোর জন্য।। সেদিনও অন্যান্য রাতের মত, আনুমানিক মধ্যরাতে সেই মেয়েটি এলো এবং আমার বাবাকে নিয়ে গেলো।। এদিন আমার দাদু তাদের পিছন পিছন যেতে লাগলেন।। কিছুদূর হাঁটার পর দাদু দেখলেন মেয়েটি আমার বাবাকে নিয়ে একটা পুরানো কবরস্থানের ভেতর ঢুকছে।। আমার দাদু ভয়ে জমে যান।। একা ছিলেন বলে তিনি ভেতরে না ঢুকে বাইরেই অপেক্ষা করতে লাগলেন।। আস্তে আস্তে রাত কেটে ভোর হল।। তখন দাদু দেখলেন আমার বাবা সেই কবরস্থান থেকে বের হয়ে আসছে।। এরপর আমার দাদু নানারকম ভাবে চিকিৎসা করে বাবাকে এর প্রভাব মুক্ত করার চেষ্টা করেন।। একসময় কাজ হয়।। বাবাকে রাতের বেলা সেই মেয়েটি আর নিতে আসতো না।। কিন্তু বাবা একটানা অনেকদিন অসুস্থ ছিলেন এই ঘটনার পর।। কিন্তু আমার বাবার এখনও একটা সমস্যা রয়ে গেছে।। তিনি কখনই কোনও কাজে সফল হতে পারেন না।। কি বলবো সেই মেয়েটিকে??

শেয়ার করেছেনঃ Tariq Bin Aziz Shadin ফেসবুক আইডিঃ http://www.facebook.com/shadin3 অ্যাডমিন বলেছেনঃ এই পেইজটি ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবাই ব্যাবহার করেন।। তাই কোনো প্রকার বাজে কমেন্ট করবেন না।। করলে ব্যান করতে বাধ্য হব।। যেকোনো প্রকার জিজ্ঞাসার জন্য যিনি শেয়ার করেছেন তার ফেসবুক আইডি দেয়া হল।। সেখানে প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিন।। ধন্যবাদ।।

েমম্বারেদর েশয়ারকৃত গল্প - 2

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Sunday, August 21, 2011 at 7:18am
ঘটনা তা কে মিথ বলা যায়.এই ঘটনা বাংলাদেশের একটা নামকরা university তে হয়ছিল.যাহেতু বলছি এইটা একটা মিথ সেহতু এইটা আমি নিজে experience করি নাই . কিন্তু university administration এবং তত্কালীন ছাত্র রা জানত. তাদের ই একজনের কাছ থেকে ঘটনা তা আমি সুনেছি. সঙ্গত কারণে university র নাম এবং হালের নাম আমি বলছিনা.ঘটনা তা এইরকম ---সময়টা আসির দসকের মাঝামাঝি university র summer vacation ছিল বছর এর মাঝামাঝিতে তখন university তে ছাত্রদের হলে মেয়েদের প্রবেশাধিকার ছিল . summer vacation এর সময় সবাই যখন বাড়ি চলে যায় তখন হালের এক ছাত্র একটি মেয়েকে হলে নিয়ে আসে. যে রুমে নিয়ে আসে তার রুম number ছিল ৩১৫.ওই ছাত্র এবং তার কযেকজন বন্ধু মিলে ওই রুমে মেয়েটিকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে. এক পর্যায়ে লোক জানাজানির ভয়ে তারা মেয়েটিকে মুমুর্সো অবস্থায় ফেলে দরজা বাহির থেকে তালা মেরে হল ছেড়ে চলে যায়..দীর্ঘ দের মাস summer vacation এর পর হল এর ছাত্র রা ফিরে আসে. ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারে ৩১৫ নম্বর রুম থাকে কিছু একটার পচা গন্ধ আসছে. এবং এটাও বুঝে ওই রুমে কেউ নাই কারণ বাহির থেকে তালা বন্ধ. ছাত্ররা হল প্রভোস্টকে বিসয়টি জানালে তিনি ওই রুমের তালা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন. তালা ভেঙ্গে একটি মেয়ের পচা গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়.মায়েতির পরনে ছিল চেরা পোশাক এবং পায়ে ছিল নুপুর. বিসয়টি তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় জর ফলাফল আজ পর্যন্ত জানা যায় নাই.ওই সময়কার পত্রিকায় ঘটনাটি প্রকাশ হয় কিন্তু হল এর ওই ছাত্র ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতা যার কারণে ঘটনাটি ধামাচাপ পরে যায়. সাভাবিক ভীতির কারণে বছর খানেক ওই রুমে কেউ উঠে নাই বা হল থেকে কোনো allotment দেওয়া হয় নাই. এটা ছিল fact .এরপর প্রভোস্ট পরিবর্তন হয় এবং ঘটনাটি ভুলে যাওয়া হয়. হলে নতুন ছাত্র আসলে তাদেরকে ওই ৩১৫ নম্বর রুম দেওয়া হয়. নতুন ছাত্ররা কিছুই জানত না. প্রথমদিন রাতে তারা ঘুমাতে যায় এরপর কিছু অসাভাবিক সব্দ সুনতে পায়. মনে হস্সিলো রুমে যেন কেউ করুন সুরে কাদছে .কেউ মৃদু পায়ে হাটছে সাথে নুপুর এর আওয়াজ পাওয়া যায় . ছাত্ররা ভয় পেয়ে যায়. পরদিন হল এর বড় ভাইদের কাছথেকে জানতে চায় বিসয়টি কি? হালের বড়ভাইরা প্রথমে তাদেরকে কিছু বলে না, পরে তাদের চাপাচাপিতে বলে দেয় ঘটনাটা কি ছিল. এতে তাদের ভয় আরো বেশি হয়ে উঠে এবং তারা ওই রুমে না থাকার সিদ্ধান্ত নেয় . হল প্রভোস্টের কাছে বিসয়টি জানালে তিনি কোনো গুরুত্ব দেন না এবং আরো তিনজনকে ওই রুমে allot দেন . তারাও প্রতি রাতেই ওই রকম সব্দ সুন্ত এবং যথারীতি তারাও রুমটি ছেড়ে দেয়. এই অবস্থা দেখে একরাতে হল প্রভোস্ট সিদ্দান্ত নেন তিনিই ওই রুমে একরাত থেকে দেখবেন আসলে কি হয়. তিনিও নারী কন্ঠে করুন সুরে কান্নার আওয়াজ পান এছাড়াও তার মনে হস্সিলো কেউ যেন তাকে কিছু বলছে এবং সারা ঘর নুপুর পায়ে হেটে বেড়াচ্ছে. তিনিও খুব ভয় পেয়ে যান এবং রাত না কাটিয়াই ওই রুম থেকে চলে যান. এরপর ওই রুমটি চিরদিনের জন্য তালাবন্ধ করে রাখার সিদ্দান্ত নেওয়া হয় . তালাবন্ধ করে রাখার পরেও ওই রুমের বাইরে করিডরে কোনো মেয়ের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেত. মনে হত যেন কেউ তার জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য করুন আর্তি জানাচ্ছে. মনে হত কেউ নুপুর পায়ে সারা করিডোর ঘুরে বেড়াচ্ছে. ধীরে ধীরে ভীতি বেড়ে উঠাই কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেই ওই রুম চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার. এরপর দরজা জানালা খুলে ওই রুম চিরতরে ইটের গাথুনি দিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়. এবং ছাত্র দের হালের অভ্ভান্তরে ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়. আজ পর্যন্ত ওই হালের ৩১৫ নম্বর রুমটি নাই , ৩১৪ এর পর ৩১৬.মাঝখানে ৩১৫ নাই ।Shared by : Raqeeb Hasan

নিশি ভৌমিকের বাড়ি - মুহাম্ম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Monday, August 22, 2011 at 6:59am
হাতের কাজ শেষ করে আমি যখন চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়েছে ঠিক সে সময় আমার পিয়ন নয়ন এসে বললো - স্যার, জামাল সাহেব এসেছে । ঘড়িতে তখন বাজে প্রায় সাড়ে ৫টা ।
এ সময় কাউকে নিয়ে বসার কথা নয় । অফিস ছুটি হয়ে গেছে সেই ৫টার সময় । অনেকেই ইতিমধ্যে চলে গেছে । আমিও চলে যেতাম কিন্তু হাতের কাজটুকু শেষ না করে উঠতে পারছিলাম না, তাই দেরি হয়ে গেছে । শীত কাল । এমনিতেই তারাতারি সন্ধ্যা হয়ে যায় । এ সময় জামাল মিয়াকে নিয়ে বসার কোন মানে হয় না ।
আমি একবার হাত ঘড়ি দেখে নয়ন এর দিকে তাকিয়ে বললাম - এ সময় জামাল মিয়া আবার কি মনে করে ? যাও কাল আসতে বলো ।
-স্যার কাল তো শুক্রবার ।
-ও আচ্ছা, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে, কাল শুক্রবার । ঠিক আছে জামাল মিয়াকে আসতে বল ।
জামল মিয়া আমাদের অফিসে একজন সাফলাইয়ার হিসাবে কাজ করেন । স্হানিয় বাজার থেকে কাগজ,কলম,লোহা,লক্কর এটা সেটা কিনে অফিসে সাফলাই দেয়াই তার মূলকাজ । মোটাসোটা লোকটার মাঝে সততার বিন্দুমাত্র অবশিস্ট্য আছে বলে মনে হয় না । তার উপড়ে প্রচুর মিথ্যা কথা বলে । সারাক্ষন মুখ পানের পিকে লাল হয়ে থাকে । সেই সঙ্গে আছে র্জদ্দার কড়া গন্ধ । কিন্তু তবুও জামাল মিয়া খুব কাজের লোক । আমার বিশ্বাস জামাল মিয়াকে যদি বাঘের চোখ যোগার করে আনতে বলা হয় তাহলে সে সেটাও যোগার করে এনে দিতে পারবে ।
কিন্তু জামাল মিয়ার এখন আমার কাছে আসার কারণটা বুঝতে পারলাম না । যতোটুকু মনে পরে গত সপ্তাহে ওর বিল টিল যা ছিল পরিশোধ করা হয়েছে । অফিসে নতুন কিছু লাগবে বলেও তো শুনিনি । তা হলে, এসময় ব্যাটা এলো কি মনে করে? নিশ্চই কোন ধান্ধা আছে । আমি চেয়ারে হেলান দিয়ে আরাম করে বসলাম । যাক আগামি কাল যেহেতু বন্ধ আছে তাহলে আরো কিছু সময় না হয় বসা যাক । এমনিতেও বাসায় গিয়ে এক বই পড়া ছাড়া কোন কিছু করার নেই । মফোসল শহরে আছি আজ প্রায় বছর খানেক হলো । একা থাকতে থাকতে অভ্যেস হয়ে গেছে ।
- সেলাম স্যার । জামাল মিয়া দরজায় দাঁড়িয়ে বিরাট করে হেসে সালাম দিল ।
- ওলাইকুমআসসালাম । তা জামাল মিয়া এ অসময়ে কি মনে করে ?
- স্যার আপনাকে নিতে এলাম ।
- আমাকে নিতে ? কোথায় ? আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ।
- ঐ যে স্যার গতসপ্তাহে বললেন না যে ভৌকিম বাড়ী যাবেন !
- ভৌমিক বাড়িটা আবার কোথায় ? কি আবল তাবল বলছো জামাল !
- স্যার বুঝি ভুলে গেছেন , গতসপ্তাহে না বললেন ভুত দেখতে যাবেন । জামাল চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললো । আমার হঠাৎ মনে পরে গেল গতসম্তায় বিলে আমার সই নেবার সময় কি এক প্রসঙ্গে জামাল মিয়া ভৌমিক বাড়ির কথা তুলে বলে ছিল ও বাড়িতে নাকি ভুত আছে । আমি তখন হেসে বলেছিলাম ভুত থাকলে একদিন আমায় এসে নিয়ে যেও সুখ,দু:খের কথা বলে আসবো । অনেক দিন ভুত দেখার সাধ বুকের ভেতর লালন করে আছি । আমার কথায় জামাল মিয়া কিন্চিত ব্যাথিত হলেও মাথা নেড়ে বলেছিল, ঠিক আছে স্যার আগামী সপ্তাহে এসে নিয়ে যাবনে । কিন্তু সেটা তো ছিল কথার কথা।
- কি স্যার ভয় পেয়েছেন নাকি ? আমাকে চুপকরে থাকতে দেখে জামাল মিয়া হেসে প্রশ্ন করলো ।
- না, ভয় পাবো কেন ? তুমি কি সত্যিই যাবে জামাল ?
- জ্বি স্যার , এ্যই জামাল যে মিথ্যা বলে না সেটা ভুতের সঙ্গে গিয়ে বাৎচিত করলেই বুঝতে পারবেন ।
- তোমার ভুত কথাও বলে নাকি ? আমি হেসে প্রশ্ন করলাম ।
- জ্বি স্যার বলে, কাউকে পছন্দ হইলে তার সঙ্গে কথা বার্তা কয় শুনেছি । আর পছন্দ না হইলে চড় থাপ্পর দিয়া বেড় কইরা দেয়।
- কি সব আবোল তাবল বলছো । আমি জামালের কথায় নড়েচড়ে বসলাম ।
- আবোল-তাবোল না স্যার চলেন নিজে চোক্ষে দেখবেন । মিথ্যা বললে, আপনার জুতা আমার গাল ।
আমি মনে মনে ঠিক করে ফেললাম জামাল মিয়ার সঙ্গে গেলে মন্দ হয় না । যেহেতু আগামি কাল শুক্রবার আছে , তাই যেয়ে দেখা যাক না, ব্যাটা আসলে কি দেখাতে চাচ্ছে ।
- তা, কোথায় যেন যেতে হবে জামাল ।
- আপনি সত্যিই যাবেন স্যার ? জামালের চোখ দুটো যেন চকচক করে উঠলো ।
- অবশ্যই যাবো । এখান থেকে কতো দূর তা বলো তো !
- দূর আছে স্যার , তা এখন রওনা দিয়ে ১১টা ১২ নাগাত পৌছে যাবো ।
- বলো কি তা হলে তো বেশ দূরের রাস্তা ? এতো রাতে গিয়ে কি কিছু দেখা যাবে ?
- ভুত দেখার জন্য তো গভীর রাতই আর্দশ স্যার । জামাল মিয়া ক্যামন খেকখেক হেসে বলল ।
- তোমায় দেখে তো মনে হচ্ছে খুব মজা পাচ্ছে জামাল ?
- পাচ্ছিই তো স্যার । আপনার ধারণা জামাল সারাক্ষন মিথ্যা কথা বলে বেড়ায় । এখন ভৌমিক বাড়ি গিয়ে যখন ভুতের কবলে পরে হাউমাউ করে কাঁদবেন তখন তো আমি আপনাকে উদ্বার করবো স্যার ।
- ঠিক আছে তবে চলো যাওয়া যাক ।
- শিতের কাপড় নিতে হবে স্যার । রাতে খুব ঠান্ডা পরে ।
- যাবার সময় বাসা থেকে নিয়ে যাবো ।
- ঠিক আছে স্যার । জামাল হেসে বললো ।
এমন সময় নয়ন এসে দরজার দাড়িয়ে বললো স্যার আমি ও যাবো আপনার সঙ্গে ।
- তুমি ও যেতে চাও ? আমি নয়নের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে, জামালের দিকে তাকিয়ে বললাম কি জামাল নয়ন গেলে কোন অসুবিধা হবে না তো ?
না স্যার অসুবিধা কি চলুক না । জামাল যেন অনিচ্ছা সত্তেই কথাটা বলল ।
-তা হলে যাও নয়ন তারাতারি রেডি হয়ে নাও । বেশি করে শীতের কাপড় পরে নাও । অনেকটা পথ যেতে হবে কিন্তু ।
- জ্বি স্যার,আমি তৈরি হয়ে নিচ্ছি ,বলেই নয়ন চট করে বেড় হয়ে গেল ।
- আমিও তাহলে একটু বাথরুম থেকে ঘুরে আসি কি বলেন স্যার ? জামাল খেক খেক করে হেসে বলল ।
- যাও । বলে আমি ড্রায়ার থেকে মোবাইল আর মানিব্যাগ বের করে পকেটে নিলাম । কেমন জানি একটা অসুস্থি লাগছে । কে যেন বারংবার ভেতর থেকে যেতে নিষেধ করছে । ফুস করে নিশ্বাস ফেলে আমি বললাম- বনের বাঘে খায় না , মনের বাঘে খায় । ঠিক সেসময় লাল রংয়ের একটা সোয়েটার পরে নয়ন ডুকলো ।
- কি রেডি ? আমি ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ।
- জি স্যার , তয় একটা কথা ,
- কি কথা নয়ন ?
- স্যার জামাল মিয়ার সঙ্গে যাওনটা কি ঠিক হচ্ছে ?
- এর মধ্যে তুমি আবার বেঠিকের কি দেখলা ?
- না স্যার , লোকটারে তেমন সুবিধার মনে হয় না ।
- ভয় নেই নয়ন , জামাল অনেক বছর যাবৎ আমাদের সঙ্গে কাজ করছে আমাদের ক্ষতি হবে এমন কাজ ও করবে না । আমি বলেছিলাম ভুত বলে কিছু নাই ও বলেছিল আছে । আর এখন তাই প্রমাণ করতে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে ।
- কোথায় নিয়ে যাচ্ছে স্যার ?
- কোন এক ভৌমিক বাড়ি ।
- নিশি ভৌমিকের বাড়ি স্যার ?
- হ্যা , তাই তো বলল মনে হয় । তুমি চেন নাকি ?
- চিনি স্যার । ওখানে নিশি ভৌমিকের কোন বাড়িটারি নাই । একটা ছাড়া মাঠ আর কয়েকটা ভঙ্গা দেয়ালের অংশ ছাড়া কিছুই নাই । লোকজন খুব একটা ওদিকে যায় টায় না ।
- বলো কি কোন বাড়ি নেই ?
- না স্যার, আমি নিজের চোক্ষে দেখেছি ।
- দেখার জন্য চোখের দরকার আছে নয়ন মিয়া । তোমার তা নাই । খেকখেকখেক । দরজার কাছ থেকে কথাটা বলে জামাল মিয়া হাসতে লাগল ।
- আমি নিজের চোক্ষে একবার দেইখা আইছি ঐহানে কোন বাড়িটারি নাই ।
- আছে কি নাই তা তো গেলেই দেহন যাইবো । কি কন স্যার ? জামাল আমার দিক সমর্থনের আশায় তাকাল ।
- তা ঠিকই বলেছো । আমি কেমন আমতা আমতা করে বললাম ।
- তয় চলেন বের হয়ে পরি ।
- চলো ।
- স্যার টর্চ নিয়ে নেই ? নয়ন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো ।
- টর্চ লাগবো কেন ? আমি কিছু বলার আগে জামাল যেন খেকিয়ে উঠে বলল ।
- নিয়ে নাও । গ্রামের রাস্তা ঘাট টর্চ হলে উপকারই হবে । চল চল তারাতারি চল , তা না হলে ফিরতে দেরি হয়ে যাবে ।
আমি নয়ন কে তারা দিলাম । দুই অফিস থেকে বের হয়ে প্রায় ঘন্টা দু’য়েক ভ্যান আর হাঁটার পর আমরা একটা নদীর পাড়ে এসে দাঁড়ালাম । সন্ধ্যা হয়েছে অনেকক্ষন হলো । হাত ঘড়ি দেখলাম পৌনে আটা বাজে । ঠান্তা খুব একটা না লাগলেও হালকা কুয়াশা পরেছে । নদীটা প্রায় শুকিয়ে গেছে । হাত দশেক নদীর ভেতর হাটু পানিতে একজনকে মাছ ধরতে দেখলাম । লোকটাকে দেখে বেশ অবাক হলাম । এই শিতের রাতে কেউ এভাবে মাছ ধরে ? কথাটা নিজের মনে মনেই বললাম ।
- ধরে স্যার । ধরে । পেটে ক্ষিধা থাকলে মানুষ সব করে । রওনা হবার পর জামাল কথা বার্তা খুব একটা বলছে না । হঠাৎ ওর নিজ থেকে কথা বলে উঠায় আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম - আর কতো দূর ?
- এ্যই তো এসে পরেছি স্যার নদীটা ওপারেই ভৌমিক বাড়ি ।
- নদী পারাবা কি করে কোন নৌকা টৌকা তো দেখছি না ।
আছে স্যার আছে । নৌকা টৌকাসব আছে । জামাল হাতে তালি দিয়ে বললো - এ্যই কে আছো মাঝি ? ভৌমিক বাড়ি যামু। আছোনি কেউ ?
- স্যার চলেন ফেরত যাই , দিনের বেলায় একদিন আসবোনে । নয়ন আমার গা ঘেষে ফিসফিস করে কথাটা বলল ।
- কেন ভয় খাইছোনি ? নয়ন কে বথাটা বলেই খেকখেক করে হেসে উঠল জামাল মিয়া । ওর এই হাসিটা আমার কাছে কেমন যেন অসহ্য মনে হলো । আমি কিছু বলার আগেই দেখলাম - অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা ডিঙ্গি নৌকা এসে পাড়ে ভিড়ল।
- চলেন স্যার নৌকা এসে গেছে । বলেই জামাল প্রায় দৌড়ে নৌকায় গিয়ে উঠল । আমি ওর পেছন পেছন গেলাম । নয়ন যেন অনেকটা অনিচ্ছা সত্বে এসে নৌকায় দাঁড়াল । নৌকায় উঠার সময় মাছ ধরতে থাকা লোকটাকে কাছ থেকে দেখলাম । লোকটার শরীরে কোন কাপড় নেই । কোমরের নীচে ধূতির মতো কিছু একটা জড়িয়ে রেখেছে । কালো চিপচিপে শরীরটা যেন মুচরে আছে । শুকনো দুটো হাত লোকটা পানিতে শব্দ করে করে ডুবিয়ে দিচ্ছে আর একটু পর পর তুলে আনছে মাছ । লোকটার মাছ ধরার দক্ষতা দেখে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না । মনে মনে ঠিক করলাম ফেরার সময় কিছু মাছ কিনে নিয়ে যাবো । ঠিক সেসময়ই যেন নাকে মাছের আশটে গন্ধ এসে লাগল । আমি নাক কুচকে এদিক সেদিক তাকালাম । জামাল যেন আমাকে দেখে বুঝতে পারল আমি কি খুঁজছি , ও আমাকে ইশারায় মাঝির সামনের অংশটা দেখিয়ে দিল । ওর ইশারা অনুযায়ি তাকিয়ে দেখলাম মাঝি লোকটার সামনে সাদাসাদা কেয়েকটা মাছ ছটফট করছে । আমি বেশ অবাক হলাম । একটু আগেওতো ওখানে কিছু দেখিনি । এখন মাছ এলো কোথা থেকে?
- এরা মাছ'টাছ ধরেই দিন কাটায় স্যার । আমি কিছু বলার আগেই জামিল বলে উঠল । নদীতে মাছ ধরতে থাকা লোকটার পাশ দিয়ে যাবার সময় লোকটার সঙ্গে আমার চোখাচোখি হলো, লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে ফেকাসে মুখে হাসলো । রক্তশূন্য মুখের সে হাসিতে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল । আমি চোখ সড়িয়ে নিলাম ।
নদীটা পার হতে খুব একটা বেশি সময় লাগল না । কোন রকম শব্দ না করে বৈঠা চালিয়ে মাঝি আমাদের এপারে নামিয়ে দিয়ে অন্ধকারে মিশে গেল । জামালের পেছন পেছন আমরা হাঁটতে লাগলাম । কারো মুখে কোন কথা নেই । সবাই একরকম নি:শব্দে হাঁঠছি । গ্রামেটা যেন অতিমাত্রায় নির্জন হয়ে আছে । চারিদিকে এক গাছ পালা ছাড়া কোন জনমানবের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে । শীতটাও যেন হঠাৎ ঝাকিয়ে বসেছে । আমি হাত দু’টো প্যান্টর পকেটে ডুকিয়ে হাঁটছি । সুরু রাস্তাধরে হেঁটে একটা একটা খোলা জায়গায় আসতেই খালি গায়ে একটা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম । লোকটা এক হাতে কয়েকটা মাছ ঝুলিয়ে রেখেছে । লোকটাকে দেখেআমি বেশ অবাক হলাম । এতো লোকটা এখানে মাছ নিয়ে কি করছে ? আমরা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লোকটা মাছ ধরা হাতটা তুলে ধরে বললো - বাবু মাছ নেবেন মাছ । একদম টাটকা মাছ। লোকটার বলার মধ্যে এমন কিছু একটা ছিল যে, আমি ঝাটকা মেরে পেছনে চলে এলাম । জামাল চট করে পেছনে এসে বললো- যা, ভাগ ভাগ এখান থেকে ।
লোকটা কিন্তু নাছর বান্ধা আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, নেন না বাবু একটা মাছ । নদীর টাটকা !
- যা ভাগ ভাগ এখান থেকে । বলতে বলতে জামাল আমার হাত ধরে টান দিয়ে বলল স্যার আপনি আসেন আমার সাথে।
আরো ঘন্টা খানেক হাটার পর আমরা একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম । বাড়ি না বলে একে ছোট খাটো একটা প্রাসাদ বলা চলা । অন্ধকারের মাঝে মাথাতুলে দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে । নয়ন আমার গা ঘেষে দাঁড়িয়ে বলল- স্যার এখানে কয়েক দিন আগেও কোন কিছু ছিল না ।
- কি পাগলের মতো কথা বলছো নয়ন । দেখছো না কতো বড় একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ।
- স্যার আমার কথা বিশ্বাস করেন । সব চোখের ভুল ।
- এতো বড় বাড়িটাকে তুমি চোখের ভুল বলছো ?
- তোমার চশমা লাগবে দেখছি । বলে আমি জামাল এর দিকে তাকালাম । জামাল কিছু বলল না চোখ বড় বড় করে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ আমার কেমন ভেতরটা কেঁপে কেঁপে উঠল। মনে হাড়ের ভেতর পযর্ন্ত শীতে কেপে উঠছে ।
- স্যার যান ভেতরটা ঘুরে আসেন । জামাল আমার দিকে তাকিয়ে খেকখেক করে হাসলো । আমি ভয় পেয়ে গেলাম । টের পেলাম তালুর চুলগুলো একটা একটা করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে । আমি হাতে হাত ঘষে বললাম - তুমি যাবেনা ?
- না স্যার । তেনারা আমারে পছন্দ করে না ।
- আপনি যান , দেখা সাক্ষ্যাত করে আসেন ।
- নয়ন তুমি যাবে ? মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম এই ভেবে যে, নয়ন মনে হয় না বলব । কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে ও বলল - চলেন স্যার ।
- চলো । বলে আমি পা বাড়ালাম । তিন বাড়ির দেয়ালটা দেখে বোঝা যায় এক সময় কি যত্ন করে গড়ে তোলা হয়েছিল । কালের বির্বতনে সব খসে গেছে । বাড়িটার ভেতের পা রেখতেই আমার শরীর কেমন যানি করে উঠল । মনে হলো, কিছু একটা সত্যিই আছে এ বাড়িতে। ইতিমধ্যে অন্ধকারটা চোখে সয়ে এসেছে । নয়ন এর হাতের টর্চটা বাকিটুকু অন্ধকার ও দূর করে দিচ্ছিল । আমি ঘড়ি দেখলাম । পৌনে আটটা বাজে । ঘড়িটা কি নস্ঠ হয়ে গেছে ? একটু আগেওতো মনে হয় পৌনে আটটাই দেখেছিলাম ।
- স্যার আমার কেমন ভয় ভয় করছে ।
- চলো ভয়ের কিছু নাই, যা হবার হবে । চল ভেতরটা দেখে আসি ।
- স্যার, এ জায়গাটার খুব বদনাম আছে শুনেছি । নয়ন কাঁপাকাঁপা গলায় বলল ।
- শুনাতে কিছু আসে যায় না, নয়ন । জগতে দেখাতেই সব । এখন চল ভেতরে যাই । আমি নয়নের কাঁধে হাত রেখে বিজ্ঞের মতো বললাম । কথাটা ওকে বললেও নিজেকেই যেন শান্তনা দিলাম । পেছন ফিরে দেখলাম জামাল বুকের উপড় দু'হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে তাকাতে দেখে কেমন বিশ্রী করে হাসল ।
আমি চোখ সরিয়ে নিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম । নয়ন আমার গাঁ ঘেষে ঘেষে এগুচ্ছে । বাড়ির প্রাচীরটা পেছনে ফেলে এসে সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে নয়নের হাতে থাকা টর্চটা নিবে গেল ।
-কি হলো ? টর্চটা নেভালে কেন ? আমি জিজ্ঞেস করাতে ও বললো - স্যার টর্চতো জ্বলছে না ।
- জ্বলছে না কেন ?
- বুঝতে পারছি না স্যার । নতুন ব্যাটারী না জ্বলার তো কোন কারণ নেই । কথাটা বলে নয়ন টর্চটা মোচড়াতে মোচড়াতে ঠিক করতে চেষ্টা করল কিন্তু পারল না ।
আমরা টর্চ ছাড়াই বাড়ির ভেতরে ঢুকলোম । গুমোট একটা বাতাস এসে চোখে মুখে লাগল । হঠাৎ মনে হলো কিছু একটা পোড়ানোর গন্ধ পেলাম । দরজা দিয়ে ডুকতেই আমরা বড় একটা ঘরে এসে পরলাম । আবচ্ছা আলোয় দেয়ালগুলোকে কেমন কালো, কালো মনে হলো । নয়ন আরো কয়েকবার টর্চটা হাতের তালুতে ঝাকাতেই ওটা জ্বলে উঠলো । তবে আলোটা আগের মতো আর তেমন তীব্র নেই । তবুও সেটা কাজ চলে যাবার মতো । আমি ভূতের ভয়ের চেয়েও সাপের ভয়ে আছি । নয়ন কে ধরে ধরে খুব সাবধানে পা ফেলে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছি ।
হঠাৎ অন্যপাশ থেকে কেমন একটা ছন ছন শব্দের সঙ্গে গুমুর গুমুর শব্দ ভেসে এলো । খুব ক্ষিন্ন সে শব্দ । ভাল করে কান না পালতে যেন শুনাই যায় না । আমি আরো কয়েকবার খুব মনযোগ দিয়ে শব্দটা শুনে নয়নের দিকে তাকালাম । নয়নও তাকাল আমার দিকে ।
-নয়ন,শুনতে পাচ্ছ কিছু ?
-জ্বি স্যার, মনে হচ্ছে কোথাও বাদ্য বাজছে ।
- ঠিকই শুনেছো, কিন্তু এখানে বাদ্য বাজবে কোথা থেকে ? চলো অন্য পাশটায় গিয়ে দেখি । আমি নয়নের অপেক্ষায় না থেকে হাঁটতে লাগলাম । শরীরটা কেমন যানি লাগছ । পুরো শরীর মনে হচ্ছে ঠান্ডায় জমে যাবে । দাঁতের সঙ্গে দাঁত বারি খাচ্ছে । হঠাৎ স্পর্স্ট মেয়েলি হাসির শব্দ ভেসে এলো। আমি আর নয়ন দু’জনেই চমকে উঠলাম । খিল খিল করে কে যেন খুব কাছ থেকে হেসে, দৌড়ে অন্য দিকে চলে গেল । সঙ্গে সঙ্গে ছন ছন ছন নূপুরের শব্দ শুনতে পেলাম ।
নয়ন আমার গাঁ ঘেষে এসে প্রায় ফিসফিস করে বলল- স্যার মনে হয় নিশি ভৌমিক ।
- নিশি ভৌমিকটা আবার কে ? আমিও ওর মতো ফিসফিস করেই বললাম ।
- স্যার , তিনি ছিলেন নারায়ন ভৌমিক এর ছোট বউ ।
- তাই নাকি ?
- জ্বি স্যার , তেনাকেই নাকি এ বাড়িতে দেখা যায় ।
- কেন ? শুধু নিশি ভৌমিকেই কেন ? আমি লক্ষ্যকরে দেখলাম আমার হাত পা কেমন যেন ঠকঠক করে কাঁপছে।
- স্যার, তেনাকে নায়ায়ন ভৌমিক সাহেব মেরে ফেলেছিলেন ।
- বলো কি ?
- জ্বি স্যার, তেমনটাই শুনা যায় । নয়ন এর কথা শেষ হতে পারলো না হঠাৎ সামনের ঘরের দরজা জানালা গুলো ধুমদাম শব্দ করে খুলতে আর বন্ধ হতে লাগলো । হঠাৎ শব্দে আমরা চমকে উঠলাম । একবার মনে হলো এক দৌড় দিয়ে পালিয়ে যাই । নয়নকে কিছু একটা বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না । দু’জন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম । এক সময় শব্দটা কমতে কমতে একেবারে থেমে গেল ।নয়ন বলল- স্যার চলেন এ বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যাই । আমিও চলো বলতে যাচ্ছিলাম । এমন সময় কারো কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম । কে যেন খুব কাছ থেকে গুন গুন করে কাঁদছে ।
- কে কাদে ? আমি ফিসফিস করে বললাম ।
- নয়ন বলল স্যার, চলেন ফিরে যাই ।
-দাঁড়াও আগে দেখি না কে কাঁদে ? আমি নয়নকে নিয়ে কান্নার শব্দ অনুসরণ করে একটা দরজা বন্ধ ঘরের কাছে এসে দাঁড়ালাম । ভেতরে কেউ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে । আমি দরজা ধাক্কা দিয়ে এক চুল নাড়াতে না পেরে শব্দ করে দরজায় কিল মারতে লাগলাম। হঠাৎ নয়ন আমার হাত খামছে ধরে টান দিলো । আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম - কি ?
নয়ন আঙুল দিয়ে দিয়ে অন্যপাশের একটা দরজা দেখিয়ে দিলো। সেদিকে তাকিয়ে আমি চমকে উঠলাম । দরজায় সাদা শাড়ি পরা অল্প বয়সি একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছে । মুখে আলতো হাসি টুকু না থাকলে আমি বোধ হয় দম বন্ধ করে মারা যেতাম । আমার ভেতরটা ধুকধুক করে লাফাচ্ছে । নিজেকে শান্ত রাখতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছি । হঠাৎ খুব কটু একটা গন্ধ এসে নাকে লাগল । আমি অপলোক দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি । আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই ছন ছন ছন ছন নূপুরের শব্দ তুলে মেয়েটা দৌড়ে ভেতরের দিকে চলে গেল । আমি ও মেয়েটার পেছন পেছন ছুটলাম । নয়ন আমাকে আঁকড়ে ধরে থামাতে চাইল । কিন্তু পারল না । আমি নূপুরের শব্দ অনুসরণ করে এ ঘর ও ঘর ছুটতে লাগলাম । কিন্তু মেয়েটাকে আর দেখতে পেলাম না । শুধু নূপুরের শব্দ আর খিলখিল হাসির শব্দ আমাকে যেন আরো পাগল করো তুলল । ছুটতে ছুটতে হঠাৎ বারান্ধায় আসতেই মোটা আর কালো একটা লোকের সঙ্গে প্রায় ধাক্কাই খেয়ে গিয়েছিলাম । লোকটা আমাকে দেখে একটা দরজা দেখিয়ে দিয়ে বলে উঠল- ত্র্যই দিকে যান বাবু । আমি দরজা বরাবর ছুটলাম । শাড়ি পরা মেয়েটাকে দেখার জন্য আমার ভেতরটা তখন ছটপট করছে ।
ঘরটাতে ঢুকে আমি আবারও চমকে উঠলাম । কেননা ঘরটাতে বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে আছে তাদের সঙ্গে মেয়েটাও আছে । মেয়েটাকে দু’জন লোক দু’দিক থেকে ধরে আছে । আমি ঘরে ঢুকতেই মেয়েটা আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকাল। আমার ভেতরটা কেন যেন মোচড় দিয়ে উঠল । আমি একটু এগুতেই দেখতে পেলাম ঘরের ঠিক মাঝখানে একজন বৃদ্ধ, হাতলওয়ালা একটা চেয়ারে বসে আছে । তার ঠিক সামনেই কয়েকজন একটা লোককে জোড় করে মাটিতে চেপে রেখেছে । লোকটা নিজেকে ছাড়াবার চেষ্টা করে ও পারছেনা। আমি আরো কাছে গিয়ে বলে উঠলাম কি হচ্ছে এসব ? কিন্তু কেউ আমার দিকে ভ্রুক্ষেপ করলো না । লোকগুলোর মাঝে হঠাৎ আমি জামালকে দেখতে পেলাম । হাতে একটা বড় রাম দা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । দা’টা দেয়ালের মশালের আলোয় চকচক করছে । আমার বুঝতে কিছু বাকি থাকলো না ঘরে কি ঘটতে চলেছে । আমি কিছু একটা বলতে চাইলে বৃদ্ধ লোকটা আমার মুখের কাছে আঙুল নিয়ে হুসসসসসস করে শব্দ করে আমাকে কিছু বলতে নিষেধ করলেন ।
আমি দাঁড়িয়ে গেলাম । নীচে চেপে রাখা লোকটা গোৎ গোৎ করে শব্দ করছে । আমি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলাম । জামালের দিকে চোখ যেতেই দেখলাম ও মিটমিট করে হাসছে। রাগে আমরা ভেতরটা কেঁপে কেঁপে উঠল । বৃদ্ধ লোকটা হঠাৎ জামালের দিকে ইশারা করতেই জামাল খুব দ্রুত চেপে রাখা লোকটাকে উল্টো শোয়াতে বলল । লোকটাকে চিৎকরে শোয়াতেই আমি চমকে উঠলাম । সে লোকটা আর কেউ নয়, “আমি নিজে” । আমাকেই নিচে শুইয়ে রাখা হয়েছে । জামাল আমার দিকে তাকিয়ে আবারও হাসল । তারপর তাকালো বৃদ্ধার দিকে । বৃদ্ধ লোকটা মাথা নেড়ে ইশারা করার সঙ্গে সঙ্গে জামাল মাথার উপড় দা’টা তুলে চোখের পলকে নীচে নামিয়ে আনলো । ফিনকি দিয়ে রক্ত এসে আমার চোখে মুখে লাগল । আমি বিস্ফোরিত চোখে সেদিকে তাকিয়ে থাকলাম । টু শব্দটি মুখ দিয়ে বেড় হলো না । মেয়েটার তাকিয়ে দেখি সেও বোবা হয়ে গেছে । একবার কেটে ফেলা লোকটার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার আমার দিকে তাকাচ্ছে । নীচে পরে থাকা লোকটার শরীর কাটা মাছের মতো লাফাতে লাফাতে এক সময় থেমে গেল । বৃদ্ধ লোকটা এবার আমাকে ধরে থাকা লোক দু’জনের দিকে ইশারা করতেই লোক দুটো আমাকে এক টানে নীচে শুয়িয়ে ফেলল । জামালকে দেখলাম আমার বুকের দু’পাশে পা রেখে দাঁড়াতে । দা’টা থেকে টপটপ করে আমার শরীরে রক্ত পরছে । ভয় শূণ্য দৃষ্টিতে আমি দা টার দিকে সেদিকে তাকিয়ে রইলাম । শুধু আমার দাতের সঙ্গে সঙ্গে ঠকঠক করে বাড়ি খাচ্ছে ।
হঠাৎ বৃদ্ধ লোকটা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো - দেখ,নিশি দেখ, আমার অবাধ্য হলে কি হয় দেখ । মেয়েটা বৃদ্ধ লোকটার গলা শুনে যেন খেপে উঠল এক ঝাড়া দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে লাফ দিয়ে জামালের হাত থেকে দা'টা কেড়ে নিয়ে চোখের পলকে বৃদ্ধ লোকটার মাথায় কোপ মেরে বসলো । ফিনকি দিয়ে আবারও রক্ত ছুটতে দেখলাম । মেয়েটা দা নিয়ে জামালের দিকে ঘুরতেই আমাকে ছেড়ে দিয়ে সবাই পেছনে সড়ে গেল । মেয়েটা, তুই শুয়োর ,তুই একটা জানোয়ার বলে চিৎকার আর কান্না করতে করতে বৃদ্ধ লোকটাকে কোপাতে লাগল । একসময় ছিন্নবিন্ন হয়ে যাওয়া বৃদ্ধের দেহের উপড় থু করে এক ধলা থুতু ফেলে মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বলল- আসো । তারপর দরজার দিকে ছুটতে লাগল । আমিও মেয়েটার পেছন পেছন ছুটতে লাগলাম । পেছনে অনেকগুলো পায়ের শব্দ আমাদের অনুসরণ করে আসতে লাগল । ছুটতে ছুটতে মেইন দরজার আমরা যখন মেইন দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছি তখন পেছন থেকে কয়েকজন এসে মেয়েটাকে ধরে ফেলল । মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো যাও তুমি চলে যাও । চলে যাও । আমি ছুটতে ছুটতে দরজা দিয়ে বেড় হয়ে এলাম । বাড়িটা থেকে বেড় হয়ে প্রাচীরের কাছে আসতেই কিছু একটা সঙ্গে মাথা ঠুকে যেতেই আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে গেলাম ।

।। ভৌতিক এবং সত্য ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Tuesday, August 23, 2011 at 10:35pm
আমার নানুর মুখ থেকে শোনা একটি বাস্তব ঘটনা আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।আমার নানুর বাড়ী মুন্সীগঞ্জ জেলায়।আজ থেকে ৯ বছর আগে কোন এক রমজান মাসের রাতের ঘটনা।বাড়ীতে আমার নানু,নানা এবং আমার খালামনি থাকতেন।সব সময় নানু ঘুম থেকে আগে উঠতেন কারন সেহেরীর জন্য খাবার আয়োজন করতে হত। তো যাই হোক নানু হিটারে ভাত চরিয়ে ,মূল বাড়ী থেকে একটু দূরে কলপাড়ে(স্থানিয় ভাষায়) ওযু করতে গিয়েছিলেন। তখনও চারদিকে নিশ্চুপ অন্ধকার, মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত কিছু বাড়ীতে কুপির কিংবা হারিকেনের আলো দেখা যায়।নানু তার নিজের মত করে ওযু করতে লাগলেন। বলে রাখা ভাল যে কলপাড়ের পাশে ছিল বিচ্ছিন্ন কিছু বাশঁ ঝার।তা যাই হোক নানু যখন কলচাপলেন তখন মাঝ বয়সি একটি মেয়ের গুগানো কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। প্রথমে নানু ভেবেছিলেন পাশের বাড়ীর হান্নানের বউ হয়ত কান্না করছে,কারণ হিসেবে তিনি হান্নান তার বউকে প্রহার করেছে বলে ধরে নিলেন।কিন্তু পরক্ষনেই তিনি চিন্তা করলেন হান্নান আর তার বউ তো কাল রাতেই হান্নান এর বড় ভাইয়ের বাড়ী শ্রীনগর চলে গেছে। নানু তখনও বিচলিত না। নানু যখন ই কলচাপা থামাচ্ছেন তখনই কান্নার শব্দটা থেমে যাচ্ছে। আবার কল চাপলেন আবারো সেই কান্নার আওয়াজ। যাই হোক পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক না তা তিনি ইতিমধ্যো বুঝে গেছেন।তিনি মনে মনে আয়াতুল কুরসি পড়তে লাগলেন। তার হাত পা প্রায় ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল তার বর্নণায় তা তিনি উল্লেখ্য করেছিলেন।যাই হোক সাহস করে তিনি পাশের দিকে তাকালেন দেখলেন সাদা শাড়ী পরা একটা মেয়ে বিশাল বড় একটা ঘোমটা দিয়ে মাথা নিচু করে বাশঁ ঝারের গোরায় বসে কান্না করছে। তিনি এই দৃশ্য দেখার পরে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলেন না। চিৎকার দিয়ে অঙ্গান হয়ে কলপাড়ে পড়ে রইলেন।তার চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে আমার নানা আর খালামনি দৌড়ে কলপারে গেলেন। সকাল হল নানুর জ্ঞান ফিরলো। খালামনি মাথায় পানি ধালছিল। তিন পর ঘটনা পুরোপুরি ভাবে জানা গেল। ঘটনা স্থলে তখন গিয়ে দেখা গেল একটি মরা কাক।কাকটি বাশঁ ঝারের মধ্যে ছিল।এর পর সেটাকে পুড়িয়ে ফেলা হল। নানু কিন্তু ভূত বিশ্বাস করেন না। তিনি এক হুজুরের কাছে ব্যাপারটা খুলে বললে তিনি এর ব্যাখায় বলেন বদ কোন জ্বীন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কাক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে মৃদু হেসে বললেন সেইটা তোমার না জানলেও চলবে। আমি পুরো ঘটনাটা আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম। এর ব্যাখা আমার জানা নেই। কিন্তু এত টুকু বলতে পারি ঘটনা সত্য। শেয়ার করেছেনঃ Ahsan Kibria Moni শেয়ারকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ।।

।। রহস্যময় ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 24, 2011 at 10:42pm
ছোট বেলা থেকেই আমার ফুলের বাগান করার প্রতি প্রচন্ড ঝোক ছিল।। অনেক সাধনা করে একটা ফুলের বাগানের গর্বিত মালিক হতে পেরেছিলাম।। মূল ঘটনাঃ আমার পড়ার টেবিলটা ছিল জানালার কাছে। একদিন রাতে পড়া শোনা করছি। রাত ১২:৩০ টার মত বাজে। জানালার পাশে ফুলের বাগানে কেমন একটা শব্দ শুনে জানালা দিয়ে আবছা অন্ধকারে তাকিয়ে দেখি, একটা গরু বাগানের মধ্যে ঢুকে ফুল গাছ খাচ্ছে। গরুটা বাড়ির মধ্যে কিভাবে ঢুকলো ভেবে পাচ্ছিলাম না। কারন গেটটা আটকানোই থাকে। যাহোক, টর্চ নিয়ে বের হলাম গরুটাকে তাড়াতে। বাগানে ঢুকে আলো ফেলে দেখি, বাগানে গরুতো দূরের কথা একটা ইদুর পর্যন্ত নেই! খুব ভয় পেয়ে দ্রুত বাসায় ঢুকে বড় ভাইয়াকে ঘটনাটা বলি। ও তখন আমাকে সাথে নিয়ে সাড়া বাড়িটা ভালো করে খুজে দেখে। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। বড় ভাইয়া আমার কথা একেবারে হেসেই উড়িয়ে দেয়। পরদিন বাগানে ঢুকে খুজতে থাকি গরুর পায়ের কোন চিহ্ন দেখতে পাই কিনা। কিন্তু কোন চিহ্ন নেই। এর কিছুদিন পরে প্রায় রাত ২টার দিকে বড় ভাইয়া আমার রুমে এসে আমার ঘুম ভাংগায় এবং বলে কিছুক্ষন আগে ও গরুটাকে দেখেছে। এর পর আরও যা বলে তা ওর ভাষায় উল্লেখ করছি। "ঘুম আসছিলনা তাই একটা সিগারেট খেয়ে মুখে পানি নিয়ে কুলি করে জানালা দিয়ে ফেলি। তখন দেখি একটা কালো গরু ওয়ালের পাশে দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে গরুটার চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরে বেরুচ্ছে। তার পরে সোজা তোর কাছে চলে আসলাম। রাতটা তোর এখানেই কাটাব। আবার ভাবিস না আমি ভয় পেয়েছি।" এর পরে আমি ওকে বললাম, "তোর রুমে চল। দেখে আসি গরুটা এখনও আছে কিনা। ও রাজি হয়না। কাজেই দুজনে শুয়ে পরি।
পরদিন খুব সকালে সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুজেও কোথাও গরুর কোন অস্তিত্ব পাওয়া গেলনা। বাড়ির গেটও আটকানো ছিল। তাহলে কি রাতের বেলা গরুটা ওয়াল টপকে ঢুকতো আর বের হতো! আমাদের বাসার অনেকেই এর পরে গরুটাকে দেখেছে। কিন্তু গরুটা কখনো কারও কোন ক্ষতি করেনি। আমি আজ প্রায় ৩ বছর বাড়ির বাহিরে। এর মধ্যে কেউ আর গরুটাকে দেখেনি। বাসার সবাই বিশেষ করে বড় ভাইয়া দুষ্টুমি করে বলে, "তুই বাড়ি ছাড়লি আর গরুটাকেও দেখা যাচ্ছেনা। গরুটা তোর মায়ায়ই ওয়াল টপকে বাড়ির মধ্যে ঢুকতো। তুইও নাই আর গরুটাও আসেনা।" শেয়ার করেছেনঃ ডিজিটাল ভূত ফেসবুক আইডিঃ http://www.facebook.com/profile.php?id=100002757351737

।। মাথাহীন লাশ (পর্ব - ০১) ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Wednesday, August 24, 2011 at 11:05pm
রাত হলেই শ্যামপুর গ্রামে সুনসান নিরবতা নেমে আসে- এই নীরবতার মাঝে থাকে শুধুই পাতার মর্মর আওয়াজ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। একটানা সেই ডাকে মোহনীয় হয়ে থাকে যেন কুসুমপুর গ্রাম।সুনসান নিরবতার এই গ্রামে আজ ও রাত নেমে এসেছে। কিন্তু প্রতিদিনের মত চুপচাপ নেই কেউ। খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত যে কৃষক সে ও এসে ভিড় করেছে কালনীর শাখা নদী সুলিনার তীরে। ব্যাপার কিছুই না- সেখানে ভেসে উঠেছে এক মহিলার লাশ। সবাই যে যার মত বলাবলি করছে, চিনতে চেষ্টা করছে লাশটাকে- কিন্তু কেউ চিনতে পারছেনা। কারন কেউ এই মহিলাকে খুন করে মাথাটা কেটে ফেলেছে। এখন চারদিকে লোক পাঠানো হয়েছে মাথার খোঁজে। মাথা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এই লাশ দাফন করার জন্য কেউ এগোচ্ছেনা । এর মাঝেই কোন কোন উতসুক জনতা গিয়ে দূর থেকে কাঠি দিয়ে লাশের হাত পা দেখার চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু কোন ফলাফল নেই। হাতে পায়ে কোন চিহ্ন নেই- যে লাশটাকে চেনা যায়। রাত যত বাড়তে থাকে –তত ভীর বাড়তে থাকে। মাঝে ভীরের চাপ কমে গিয়েছিল। কিন্তু হটাত করে শোনা যায় শেখের বাড়ির সুলেখা কে পাওয়া যাচ্ছেনা। ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে ঘর থেকে রেগে মেগে বের হয়ে গিয়েছিল সুলেখা। তারপর থেকে ওর পাত্তা নাই। সৎ মা ও সুলেখার কোন খোঁজ করেনাই। এখন ও সুলেখার মায়ের কোন দেখা নাই। শুধু ওর বড় ভাই জমির শেখ এর কান্না কাটি চলছে লাশটার পাশে। অনেকেই ওকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে- কিন্তু পারছেনা। বার বার আছাড় খেয়ে খেয়ে মরা কান্না জুড়ে দিয়েছে জামাল শেখ। ছোট বোন টাকে অনেক ভালবাসত সে। সকালে ঝগড়া হবার সময় বলেছিল- “যা- দূরে যাইয়া মর গা” এখন সেই কথা শুনিয়ে বলতে বলতে চিৎকার করে কেঁদে উঠল ও। কিন্তু লাশের পরিচয় পাওয়া গেলনা। এর মাঝেই গ্রামের তিন জন মুরুব্বি এসে নিজেদের মাঝে বাহাস করতে লাগল। কেউ এই লাশ দাফন করতে চায়- কেউ নিয়ে ফেলতে চায় সেই পানিতে- যেখান থেকে ভেসে এসেছে লাশ। কেউ কেউ জানাজা পড়ার জন্যই বসে থাকল। কিন্তু লাশের পরিচয় পাওয়া গেলনা। এর মাঝেই একটা চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে গেল সেই চিৎকারের উৎসের দিকে। সেখানে এক ১২-১৩ বছরের ছেলে মাটিতে হোঁচট খেয়ে ঊল্টে পড়ে আছে। কিন্তু চিৎকার করেছে ভয়ে। কারন সে যে জিনিস টার সাথে হোঁচট খেয়েছে সেটা আর কিছু না – সেই বেওয়ারিশ লাশের মাথা।মাটিতে সামান্য গর্ত করে কেউ ঢুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মাটি আলগা হওয়াতে তাতে হোঁচট খেয়েছে ছেলেটা। এরপর পরই ওঠে কান্না কাটির রোল। সুলেখার নাকের ফুল দেখেই সবাই চিনে ফেলে এটা সুলেখার লাশ। সাথে সাথেই দুই তিন জন মিলে সেই লাশের মাথা নিয়ে এসে লাশের পাশে রাখে। মরা কান্না জুড়ে দেয় জামাল শেখ আর তার আত্মীয় স্বজন রা।
গ্রামের মাতব্বর দের মাঝে দুই-তিনজন এই লাশের জানাজা করে দাফন করতে চায়না।চার পাঁচ জন তাদের সাথে কোরান-হাদিস নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। ওই গ্রামের মসজিদের মওলানার সাথে তর্ক লেগে যায় করিম মওলা আর তার ছেলে রহমান মওলার । শেষে কোন মিমাংসা করতে না পেরে সেই লাশ দুই তিন জন মিলে কোন রকম জানাজা পড়ে দাফন করে। এর মাঝে গ্রামের হেডমাষ্টার সবুজ মিয়া ও ছিল। সবুজ মিয়া নিজের দায় থেকে এই কাজে উৎসাহ দেবার জন্য দোষি সাব্যস্থ হয় পরদিন এক সালিশে। দিন সাতেক সবার মুখে মুখে এই ঘটনা একের পর এক ডানা মেলতে থাকে। কেউ কেউ বলা শুরু করে সবুজ মিয়া এই সুলেখার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর এর রেশ ধরে কয়েকদিন পর আবার সালিস ডাকা হয়। যেই তিন জন লাশ দাফন ও জানাজা করতে চায়নি তাদের রায়ে সবুজ মিয়া কে এক ঘরে করে রাখে সবাই। আসলে ওই তিন জন খুব ক্ষমতা শালী বলে কেউ ওদের মুখে মুখে তর্ক করতে চায়নি।তাদের মাঝে রহমান মওলা পরের মাসে চেয়ারম্যান পদে ভোটে দাড়াচ্ছে। তাই তার সাথে কেউ কথা কাটাকাটি করতে চায়নি।ফলাফল নিরিহ সবুজ মিয়াকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে সবাই। কিন্তু সুলেখার ভাই জামাল শেখের বন্ধুত্ব ছিল।তাই সবুজ মিয়াকে নিজের ঘরে খাওয়াতে শুরু করে সে। এর মাঝে সবাই সুলেখার কথা প্রায় ভুলে যায়। দুই সপ্তাহ পর একদিন গ্রামের মসজিদের ইমাম ইসমাইল মিয়া ফজরের নামাজের আজান দিয়ে গিয়ে এক বীভৎস দৃশ্য দেখে ভয়ে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সকালে সবাই তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় মসজিদে খুঁজে পায়। কেউ বলতে পারছেনা কেন সে অজ্ঞান হয়েছে। অনেক ক্ষন পর তার জ্ঞান ফিরলে সে সবাইকে নিয়ে যায় সুলেখার লাশ যেখানে দাফন করা হয়েছিল সেখানে। সুলেখার লাশের পাশে একটা জারুল গাছ আছে – সেখানে একটা ডালে পাওয়া যায় করিম মওলার ছিন্ন ভিন্ন লাশ। প্রথমে কেউ চিনতে পারেনি। কিন্তু গাছের গোড়ায় কে যেন লাশের মাথাটা সযত্নে কেটে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। দৃশ্যটা দেখে অনেকেই সহ্য করতে পারেনি। শেষে পুলিশ দেকে পাঠানো হয়। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায় ময়না তদন্তের জন্য। এর মাঝে রহমান মওলা ক্ষেপে যায় নিজের পিতার এই অবস্থা দেখে। বিকেল যেতে না যেতেই সবুজ মিয়ার বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেয় সে। সবাইকে বলে বেড়াতে থাকে যে সবুজ মিয়ে গুন্ডা লাগিয়ে তার বাবাকে হত্যা করিয়েছে। এই সময় তার সাঙ্গ পাংগরা মিলে সবুজ মিয়াকে গাছের সাথে বেধে ইচ্ছা মত মারতে থাকে। শেষে মার খেয়ে সবুজ মিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে ওকে নিয়ে স্কুল ঘরের একটা রুমে বেধে রাখে। সবাই গোপনে সুলেখার ভুতের কথা বললেও রহমান মওলার সামনে কেউ তর্ক করেনি মার খাবার ভয়ে। এর পর থেকে দুইদিন ধরে বন্দি থাকে সবুজ মিয়ে সেই স্কুল ঘরে। সকাল বেলা এসে রহমান মিয়ার লোক খাবার দিয়ে যায়। সবুজ মিয়ের খাওইয়া শেষ হলেই মার শুরু হয়। শেষে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে দড়ি বেধে রেখে যায় রহমান মওলার লোকজন। এর তিন দিন পরেই আবার শ্যামপুর গ্রামে শোর গোল ঊঠে। এবার ভোর সকালে পাওয়া যায় রহমান মওলার মাথা কাটা লাশ। মাথা কাটা লাশ গ্রাম বাসি দুইটা দেখেছে। কিন্তু এই রহমান মওলার লাশের পায়ের দিকটা ছিলনা। পাশেই পড়েছিল হাড় গোড়। যেন কেউ এসে খেয়ে গেছে লাশটাকে। এবার পুলিশ এসে সবাইকে জেরা করতে শুরু করে। এবং গ্রামের বেশ কয়েকজন লোকজন পালিয়ে যায় ভয়ে। কিন্তু পুলিশকে রহমান এর ভাই রহিম মওলা টাকা খাইয়ে বিদায় করে দেয়। গ্রাম বাসি স্বস্তি পেলেও ভয়ে বাড়ি থেকে দিনের বেলা ও লোকজন বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। সবুজ মিয়াকে নির্যাতন বন্ধ করা হয়- কিন্তু তাকে বন্দি করেই রাখা হয় সেই স্কুল ঘরে। এর সাত দিন পরেই পর পর দুই জন লোকের লাশ পাওয়া যায় মাথা কাটা অবস্থায়। এই দুই জন হল গ্রামের সেই দুই মুরুব্বি যারা সুলেখার লাশ দাফনে বাঁধা দিয়েছিল। যারা সুলেখার জানাজা পড়তে চায়নি।গ্রাম বাসি এরপর প্রায় চুপচাপ হয়ে যায়। যারা সেই রাতে মুরুব্বি দের সাথে গলা মিলিয়েছিল তারা দুরের গ্রামে পালিয়ে যায়। এর মাঝে পুলিশ এসে দুইবার সবাইকে জিজ্ঞাসা বাদ করে। কিন্তু খুনি ধরা পড়েনা। শেয়ার করেছেনঃ Ikram Hossain সংগ্রহকারীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।।

।। মাথাহীন লাশ (শেষ পর্ব) ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 25, 2011 at 11:08pm
এর ঠিক দুই দিন পরে অমাবস্যা রাতে রহিম মওলা শুয়ে আছে ওর ঘরের খাটে। এই কয়দিনের মাঝেই সে নিজের প্রতিপত্তি প্রকাশে এলাকাতে টহল দিতে শুরু করেছে। মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকার চ্যাংড়া ছেলে পেলেদের সাথে ঘুরে ঘুরে নিজেকে বাপ ভাইয়ের যোগ্য উত্তর সুরি হিসেবে জানান দিয়েছে। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে অনেক বেশি ক্লান্ত ছিল রহিম মওলা।পাশের মকবুল বুড়ার একটা খাসি জবাই করে খেয়ে দেয়ে শান্তির একটা ঘুম দিয়েছে সে। প্রতিদিনের চেয়ে এই অমাবস্যার রাত ছিল বেশি সুনসান। রহিম মওলা গভীর ঘুমে। এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে। গুনে গুনে তিনটা টোকার শব্দ হয়। আর তাতেই রহিম মওলা জেগে উঠে।কিন্তু দরজা খুলে হতভম্ভ হয়ে পড়ে সে।দেখে তার সামনে দাড়িয়ে ছিল একটা লাশ।দেখেই ভয়ে হতভম্ভ হয়ে যায় রহিম। কিছু বুজে ঊঠার আগেই সেই লাশের ডান হাত তার মাথার ঊপর উঠে আসে। এবং জ্ঞান হারায় রহিম মওলা। জ্ঞান ফিরেই একটা কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকার আবিষ্কার করে রহিম মওলা নিজেকে। চারদিকে ঘন কুয়াশার মাঝে কয়েকবার নিজের বন্ধুদের নাম ধরে ডাক দেয়। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়না। মনে করেছিল ওর সাঙ্গ পাংগ দের কেউ ওর সাথে ফাজলামি করছে। চিৎকার করে বিশ্রী গালাগাল ও দিল কিছু। কিন্তু এরপর ই চার দিকে চারটা কাফনে জড়ানো লাশের অস্তিত্ব অনুভব করে সে। এবং একটু পড়েই চার দিক থেকে বেতের বাড়ি শুরু হয়ে যায়। প্রচন্ড সেই মার খেয়ে অজ্ঞান প্রায় রহিম মওলা- এমন সময় মার থেমে যায়। আসতে আসতে ঊঠে বসে সে। সামনে তাকিয়ে তার দৃষ্টি থেমে যায়।অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রহিম-কারন তার সামনে বসে আছে সুলেখা। দেখেই ভয়ে চিৎকার করতে ভুলে যায় সে। এমন সময় সুলেখা বলে উঠে- “কি রে আমারে চিনতে পারসোস? আমি সুলেখা-এই যে দেখ আমার মাথা এহন ও কাডা”- বলেই নিজের মাথাটা দুই হাত দিয়ে একটানে খুলে রহিম মওলার সামনে ধরল। দেখেই বমি করে দিল রহিম মওলা। দুই হাত দিয়ে পেট চেপে একপ্রস্ত বমি করে রহিম মওলা বলল-
“আমারে ছাড়ি দেও- আমাক মাফ করি দেও সুলি আফা-আমাক মাফ করি দেও” বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল রহিম।
“কি? ছাড়ি দিমু? সেদিন কি আমাক ছাড়িছিলি রে তোরা দুই ভাই? আমি কতক করি কয়েছি আমাক ছাড়ি দে- তোরা আমার ছোট ভাই লাগস- নিজের বইন মনে করি ছাড়ি দে- কই সেদিন তো ছাড়িস নাই। আমাক দুই জন মিলি নষ্ট করলি। তারপর আমাক যাতে কেউ চিনতে না পারে – তুই –তুই মওলার বাচ্চা আমার মাথা কাটি ফালালি। আমার সবুজ মিয়ারে কতক মারলি তোরা- কই সেদিন মনে আছিল না? মনে আছিল না আমার কথা?” বলেই নিজের মাথাটা আবার নিজের ধরে জোড়া লাগাল সুলেখা।
এবার কেদেই ফেলল রহিম-বলল-“আফা ভুল হইয়ে গেছে আফা- তুমি আমারে এবারের মত মাফ করি দেও আফা। আমি কইতাসি আমি এর পেরাচিত্ত করি ছাড়ুম”। এবার খিল খিল করে হেসে ঊঠল সুলেখা –সেই হাসি শুনে কাঁপতে শুরু করে দিল রহিম মওলা। আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে আসছে সুলেখা। সামনে ভয়ার্ত রহিম মওলা। তারপর রহিমের ধরে একটানে ছিড়ে ফেলল তার মাথাটা- গলগল করে রক্ত পড়ছিল সেই কাটা মাথা থেকে। মাথাটা হাতে নিয়ে গা হিম করা একটা চিতকার দিয়ে কেঁদে উঠল সুলেখা। এই ঘটনার কিছুক্ষন পর নিজের চোখে মুখে জলের ঝাপটা খেয়ে জেগে ঊঠল জেগে উঠল সবুজ মিয়ে। সপ্তাহ খানেক ধরে এভাবেই তার ঘুম ভাঙ্গে। মওলা দের কেউ একজন চোখে মুখে পানি ঢেলে দেয়। তারপর খাওয়া দেয়। তার কিছু খায়- কিছু খায়না। তারপর শুরু হয় মার। আজকে তাই জেগে ও চোখ বন্ধ করে রেখেছিল সে। কিন্তু মাথায় একটা কোমল স্পর্শ পেয়ে চোখ মেলে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সুলেখা।আসতে আসতে ঊঠে বসল সবুজ। শরীরে এতদিন না খাওয়ার ফলে শক্তি নাই। কিন্তু কেন যেন নিজের চোখকে খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে তার। সে বলল- “ সুলেখা তুই?” “হ আমি –মইরা গেছিলাম। আজকা আমার মুক্তি হইতাসে-তাই শেষ বার তোমারে দেখতে আইলাম” বলেই কেঁদে ফেলল সুলেখা।
“আমার বিশ্বাস হইতেসে না রে- তুই কেমনে মরলি রে?” চোখ বড় বড় করে বলল সবুজ মিয়া।
“এত শুইনে কোন লাভ নাই মাষ্টার। তুমি আসতে আসতে ঊঠ। নাও আমি তোমারে শেষ বারের মত খাওয়াই দিতাসি দুইটা ভাত’ – বলে পাশে রাখা থালা থেকে ভাত খাইয়ে দিল সুলেখা সবুজ কে। সবুজ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেনা। কোন কিছুর সাথে কোন কিছু মেলাতে মেলাতে ক্লান্ত হয়ে শেষে ভাত খেতে শুরু করল মন্ত্রমুগ্ধের মত। খাওয়া শেষে সুলেখা বলল-
“আমি যাই মাষ্টার- তুমি কয়দিন পর সুন্দর দেইখে একটা নিকা কইরো। আমাকে ভুলি যাইও মাষ্টার” –বলেই পা বাড়াল সুলেখা।
এতক্ষন ঘোরের মাঝে থাক্লেও এখন জ্ঞান ফিরে আসে সবুজ মিয়ার। দৌড় দেয় দরজার দিকে। দরজা খোলাই ছিল। খুলে দেখে ভোর হয়ে গেছে। সূর্য প্রায় ঊঠে গেছে।আর সেই সূর্যের দিকে আসতে আসতে এগিয়ে চলেছে সুলেখা।কিন্তু সবুজ আর দৌড়ায়নি সুলেখার পেছন পেছন- কারন সুলেখা এগিয়ে চলেছিল তার শেষ ঠিকানা সেই কবরের দিকে। সংগ্রহ করেছেনঃ Ikram Hossain সংগ্রহকারীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।।

রাজকান্দির আতংক - By ত্রিনিত্রি (প্রথম পর্ব)

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Tuesday, August 23, 2011 at 9:32pm
রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সাম্প্রতিক কালে ট্রেকিং এর ফলে আবিস্কৃত ঝরনার কিছু দূরে আগুন জ্বালিয়ে গোল হয়ে বসে আছে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় তিন তরুন। হামহাম ঝরনার অপূর্ব বর্ননা পেপারে আর ব্লগে পড়ে মাথা আর ঠিক রাখতে পারেনি তারা। উদ্যোগী অবশ্যই সিয়াম। সিয়ামের জীবনের লক্ষ্যই হচ্ছে ঘুরে বেড়ানো আর অদেখা কে দেখা। তার সাথে যুক্ত হয়েছে সুজন আর অনীক। তিনজনেই পড়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। তবে সুজন আর অনীক বিবিএ আর সিয়াম আছে ইইই তে। সাবজেক্ট আলাদা হয়ে যাবার পরও তাদের বন্ধুত্বতে ছেদ পড়েনি। সুজন আর অনীক দুইজনের বাড়িই ঢাকার বাইরে। সিটি কলেজে পড়তে এসে তাদের সাথে সিয়ামের পরিচয়। তারপরে কি করে যে মানিকজোড় থেকে তারা থ্রী মাসকেটিয়ার্সে রূপান্তরিত হলো, ভালো করে কেউই মনে করতে পারে না। শুধু জানে, তিন জনে একেবারে আত্মার বন্ধু। কোন একটা পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথে তিন বন্ধু বেড়িয়ে পড়ে এখানে সেখানে। এর মাঝে অবশ্য সুজন একবার প্রেমে পড়ে গন্ডগোল করে ফেলেছিল। শক্ত ধাতানি দিয়ে বাকি দুইজন আবার তাকে পথে এনে ফেলেছে। জীবন চলছিল সেই আগের মতই। পড়াশোনা, ক্রিকেট, আড্ডাবাজী, গিটার আর অ্যাডভেঞ্চার। আহ, জীবনে আর কি চাই?

হামহাম ঝরনার কাছে আসতে অবশ্য তাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। পেপারে পড়ে এসেছিলো যে গাইড পাওয়া কোন ব্যাপার না। কিন্তু এখানে এসে দেখে ব্যাপার ভিন্ন। কেউই এ পথ মাড়াতে চায় না। চাম্পারাই টি এস্টেটের কলাবন পাড়া তো দূরস্থান, কাছের তৈলংকামী গ্রাম থেকেও কেউ রাজী হলো না। গ্রামবাসী কি যেন বলতে চেয়েও বললো না। গ্রামে ঢুকার পর থেকে গ্রামবাসী খুবই আদর যত্ম করেছে। ১৫ বছর বয়সী ফেলনার সাথে তো রীতিমত বন্ধুত্বই বলা যায়। কিন্তু ঝরনায় রাত কাটাবে শুনেই সবার মুখ শুকিয়ে গেলো। ফেলনাকে কোনভাবেই রাজী করানো গেলো না। ফেলনা তাদেরো যেতে দেবে না। ভয়ার্ত কন্ঠস্বরে বলতে লাগলো, “ দানু! ওবাইদি দানু আছুইন। যাইও না রে বা। এনো থাকি যাউক্যা”। দানোর কথা শুনে সুজনের মুখ শুকিয়ে গেলেও অনীক আর সিয়ামের হাসি আর ধরে না। এমনিতেই দুইজন কুসংস্কার মিটানোর ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। পড়াশোনা শেষ করে তারা প্রত্যন্ত গ্রাম্য অঞ্চলে গিয়ে গিয়ে কুসংস্কার দূর করবে – এই তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা। সুজন একটু মিন মিন করলেও দুইজনের টিজের যন্ত্রনায় শেষ মেষ হাল ছাড়লো।

তৈলংকামী গ্রামবাসীদের বিদায় জানিয়ে বেশ কয়েকটি টিলা ট্রেকিং করে তবেই ঝরনার দেখা পেয়েছে। কিছুদূর যেতেই মোবাইলের নেটওয়ার্ক নাই হয়ে গেলো। জুন মাসের ভ্যাপসা গরমে দর দর করে ঘামতে থাকে তিন জন।
“ধূরো! দেখ কেমন লাগে। এত সকালেই নেটওয়ার্ক গেলো!” বিরক্ত হয় সিয়াম। তারচেয়েও বিরক্ত সুজন।
“জানলে একটু আগেই ছবি তুলে ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচারটা চেঞ্জ করতাম! যত্তোসব”। শুধু অনীক মাথা দোলায়। তার মোবাইল এমনিতেই পছন্দ না; নেটওয়ার্ক আসা যাওয়ায় তার মাথা ব্যথা নেই। ট্রেকিং করতে গিয়ে সিয়ামের কেমন যেন খটকা লাগছিলো। এটাই তাদের প্রথম ট্রেকিং নয়। মাত্র ৫ মাস আগে তারা ট্রেকিং করে বগা লেক সহ কেওকারাডং এর উপরে উঠেছে। সিলেটের লাউয়াছড়ায় ট্রেকিং করেছে। এমনকি সুন্দরবনের এক প্রত্যন্ত গ্রামেও তারা গেছে, যেখানে বাঘের আক্রমনে প্রতি বছরই মানুষ মারা যায়। কিন্তু এরকম নীরব নিথর বন কোথাও সে পায় নি। না আছে কোন পাখ পাখালির ডাক, না আছে কোন পোকা মাকড়ের শব্দ। এমনকি ঝিঁঝিঁ পোকার যে টানা ডাক বন মাতিয়ে রাখে, তাও ভীষনভাবে অনুপস্থিত। কেমন যেন অশুভ এক চাপা আতংক বিরাজ করছে চারিদিকে। সিলেটের যে কোন বনে বানরের আধিক্য। এখানে এই পর্যন্ত একটাও তাদের চোখে পড়েনি। সুজনই প্রথম কথা বলে উঠলো,
“দোস্ত, দেখেছিস এই বনে কোন পাখি ডাকে না?” সিয়াম হেসে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করলো।
“ডাকবে কি করে? দানো এসে সব খেয়ে ফেলেছে না?” এবার অনীক ও হাসিতে যোগ দিলো। “হ্যাঁ, দানো পাখি, বান্দর মায় পোকা সবই খেয়ে ফেলেছে”। তাদের অট্টহাসি যেন প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে এলো। সুজন তখনকার মত চুপ করলো বটে; কিন্তু অনীক আর সিয়াম একবার চোখাচোখি করে নিলো। তারাও একটু চিন্তিত। কিন্তু এখন সেটা প্রকাশ করলে সুজনকে সামলানো মুশকিল হয়ে যাবে। তাদের এই বন্ধুটির নার্ভ কিঞ্চিত উত্তেজিত থাকে সবসময়ই। ঝরনা দেখে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। কি টলটলে নির্মল পানি। কলকল শব্দে পাথুরে পাহাড়ের গা ঘেঁষে প্রায় ৭০ ফুট উপর থেকে পড়ছে। তাদের কষ্ট সার্থক। অনীকের প্রফেশনাল ক্যামেরার শাটার পড়তে লাগলো ঝটপট। এই ছবি যে পরশু দুপুরের মাঝেই ফেসবুকে আপ হয়ে একটা তোলপাড় কান্ড ঘটাবে, যে নিয়ে সিয়াম পুরোপুরি নিঃসন্দেহ। পানিতে পা ডুবিয়ে সুজন আনন্দে তার প্রিয় গান ধরলো,
“ও পরানের পাখি রে, দিলি তুই ফাঁকি রে! শূন্য করলি খাঁচাটা! আ আ!” অনীক আর সিয়ামও গলা মেলালো, “তোরে ছাড়া আর না রে, কি করে বাঁচি রে! বুঝলি না মনের জ্বালাটা! আ আ !” এরপরে সম্মিলিত হাসি। কিছুক্ষনের মাঝেই সব অস্বস্তি ভুলে তাঁবু আর রান্না করার কাঠ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি পড়ে গেলো। তিন বন্ধু হাসছে, একে ওকে মারছে, ক্লাসের জিনাত বেশী সুন্দর না রূপা – এই নিয়ে জটিল তর্ক চলছে। সুজন দুইজনেরই প্রেমে পড়ে বসে আছে; সে খুবই চিন্তিত কাকে সে প্রপোজ করবে। আসার পথেই ঠিক হয়েছে, রাতের খাবার শেষ করে ঝরনার পাড়ে কয়েন টস করা হবে। হেড উঠলে জিনাতকে সুজন প্রপোজ করবে; টেইল উঠলে রূপা। এইসব বড়লোকি কারবার দেখে অনীক বেচারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
“শালার চেহারা খারাপ বইলা কোন মাইয়াই পাত্তা দেয় না। এত সুন্দর ছবি তুলি; সবাই তেংকু অনীক বইলা ছবি নিয়া চইলা যায়। আর এই বদমাইস সুজইন্যা কুন কামের না। তারপরেও সব মাইয়া ওরে লইয়াই যাইবো কফি খাইতে। আবার বিল মাইয়ারাই দিব। দুনিয়ার এই কি বিচার!আইজ ওরে মাইরা ঝরনায় ফালামু”। বলেই তাড়া করে সুজনকে। সুজন “অ্যাই খবরদার, অ্যাই খবরদার” বলে চেঁচিয়ে দেয় ছুট। এদের কাজ কারবার দেখে হাসতে হাসতে সিয়াম পাশের জংগলে ঢোকে শুকনো কাঠ পাতা জোগাড়ের জন্য। কেমন যেন অস্বস্তি হতে থাকে সিয়ামের। কেউ যেন গভীর দৃষ্টিতে সিয়ামকে লক্ষ্য করছে। ঝট করে ঘাড় ঘোরালো সিয়াম। কেউ নেই; কেউ থাকার কথাও না। সিয়াম বেশ ডাকাবুকো ধরনের ছেলে। এই ধরনের অনুভূতির সাথে সে বেশী পরিচিত না। দানো বলতে কি সত্যি কিছু আছে? ভূত-প্রেত তো অবশ্যই না; তবে বন্য কোন প্রানী হতে পারে। নাহ, সতর্ক থাকতে হবে। হাতের দা দিয়ে সিয়াম শক্ত দেখে নীচু হয়ে থাকা একটা গাছের ডাল কেটে নেয়। ফিরে এসে দেখে, সুজন আর অনীক মিলে প্রায় এক হাঁড়ি মাছ ধরে ফেলেছে। মাছগুলি বড্ড বোকা। আগুন জ্বালাতে গিয়ে সবার নাভিশ্বাস অবস্থা। “সরকারের উচিত সব জায়গায় গ্যাস সাপ্লাই দেয়া”-এরকম যুগান্তকারী মতবাদ যখন সুজনের মাথা থেকে বেরুচ্ছে, তখনই আগুনটা জ্বলে উঠলো। রান্না করতে গিয়ে দেখা গেলো লবণ নেই। কি ব্যাপার? লবণ ছিলো সুজনের ব্যাগপ্যাকে। কোন ফাঁকে যে তা পড়ে গেছে, সেও বলতে পারে না। সুজনকে ইচ্ছা মত গালি দিতে দিতে সিয়াম আরেক প্যাকেট লবণ বের করলো। সুজন অবাক।
“কি রে? তুইও লবণ এনেছিস?” “অবশ্যই। তোর কি ধারনা আমার মাথায় এতই কম ঘিলু যে তোর ব্যাগে আমি ব্যাকআপ ছাড়া কোন কাজের জিনিস রাখবো? মাথামোটা কোথাকার!” সুজন ভেংচি দিলো। খেতে বসে সবার অভিমত, “এত চমৎকার খাবার জন্মে খাইনি!” সুজন বললো যে সে অবশ্যই তার প্রেমের সিভিতে এই মূল্যবান তথ্যটি যোগ করবে যে সে রাঁধতে পারে। যদিও কুটা বাছাতেও সুজন হেল্প করতে পারে নাই। “সুজন কোন কাজ করে নাই”- এই যুক্তিতে হাড়ি পাতিল সুজনকে মাজতে দিয়ে সিয়াম আর অনীক আরাম করে ঝরনার পাশে শুয়ে পড়লো। কলকল ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত। রাগে গজগজ করতে করতে কিছুদূরে গেলো সুজন বাসন মাজতে। হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো,
“ওই! অনীক! সিয়াম! দেখ দেখ এইডা কি!” দূর থেকেই চেঁচালো অনীক, “কি? কুনো মাইয়ার ফডু? না ফুন নাম্বার?” “আরে ধ্যাত্তেরিকা! খালি বেশী কথা বলে। দেখ না”। বলে সুজন তা তুলে ধরে। সিয়াম অবাক হয়, “কি রে, দেখে তো মনে হচ্ছে একটা খাতা”। সিয়াম এবার কাছে গিয়ে সুজনের হাত থেকে খাতাটা নেয়।একটা ডায়েরী। খুলে দেখে লিখা, “অর্থহীনের অর্থহীন প্রলাপ”। আর কোন নাম ধাম কিছু লেখা নেই। এক ঝলকে সব পাতা উল্টিয়ে সিয়াম দেখে ডায়েরীর বেশ কিছু পাতা ভরা লিখা। ঝরনার পানি এবং বৃষ্টিজলে বেশ ভিজলেও মলাটের উপর পলিথিন থাকায় ভিতরটা বেশ অক্ষত আছে। তিনজনেই ভয়াবহ উত্তেজিত। ততক্ষণে সন্ধ্যার আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। হাঁড়ি পাতিল ওখানেই রেখে তারা আগুনের পাশে ফিরে এসে গোল হয়ে বসে। সিয়ামের হাতে ডায়েরী। তবে আশার কথা, আঁধার নামার সাথে সাথে ঝিঁঝিঁ পোকারা কোরাস শুরু করেছে। পোকার ডাক এত ভালো লাগবে, জীবনেও ভাবেনি সিয়াম। সাথে পানির কলকল শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। মৃদু মন্দ বাতাস বইছে। গল্প শোনার চমৎকার পরিবেশ। অনীকের গা ঘেঁষে বসে সুজন বললো,
“দোস্ত, ডায়রী টা পড়। দেখি কে ফেলে গেছে এই ডায়রী”। সিয়াম পাতা উলটালো।

ডায়রীর প্রথম দিকে কিছু কবিতা লিখা। কিছু পড়া যায়, কিছু পানিতে ভিজে নষ্ট। এই বছরেই শুরু করা হয়েছিল ডায়েরী লিখা।ঝকঝকে মুক্তার মত হাতের লেখা। সিয়াম কবিতা আবৃতির মত করে পড়লো, ৪ঠা জানুয়ারী ২০১১, রাত ৩:১০
মাঝে মাঝে মনে হয় হাঁটতেই থাকি, হাঁটতেই থাকি জানি না কোথায় যেতে চাই,
জানি না কি দেখতে চাই
এটাও জানি না কাকে স্পর্শ করতে চাই...
শুধু মনে হয়, ঘর থেকে বের হয়ে যাই...
কোন একটা পথ খুঁজে হাঁটতেই থাকি। অন্যসময় হলে কবিতা শুনে অনীক আর সুজন দুইজনেই সিয়ামের ভাবুকতা নিয়ে টিজ করতো। কিন্তু এখন এই পরিবেশে তারা শান্ত ভাবে শুনতে লাগলো। ৭ই জানুয়ারী ২০১১, রাত ৯:৪০
অসহ্য হয়ে গেলাম পরীক্ষা নিয়ে। নতুন বছরে একটু প্লান প্রোগ্রাম করবো, তা না; টানা পরীক্ষা। ছাতা, মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলাম কোন দুঃখে! আজ ওয়ার্ড থেকে ফিরেই লিখতে বসলাম, মনটা ভীষন খারাপ লাগছে। একেবারে চোখের সামনে বাচ্চা একটা মেয়ে মারা গেলো। ভাইয়ারা দৌড়াদৌড়ি করেও কিছুই করতে পারলোনা। আর ভালো লাগে না, কবে যে ডাক্তার হবো। এর পরে পাতাগুলি সবই পানিতে ভিজে নষ্ট। সিয়াম চোখ কুঁচকে অনেক চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুই পড়তে পারে না। অনীক কেড়ে নিয়ে সে খানিক চেষ্টা করে। ধূর, সবই প্রায় নষ্ট। প্রায় ৩০/৩২পৃষ্ঠা। এখনো লেখকের পরিচয় ই বোঝা যাচ্ছে না। অন্তত এটুকু জানা গেছে যে সে কোন এক মেডিকেলের ছাত্র। মেডিকেলে পড়ে এত চমৎকার হাতের লিখা? অবাককর ঘটনা। “আরে দে দে, পরের টুকু পড়ি। এই যে আছে, তাই তো অনেক; পানিতে তো সবই নষ্ট হবার কথা”। সিয়াম বলে। “ঠিক” সুজন তাল মেলায়। “এছাড়া এখন এই রাতে আমাদের করার কিছুই থাকতো না। নেক্সট বার কোন ট্রেকিং এ গেলে কিন্তু আমরা গান নিয়ে আসবো”। “আচ্ছা আচ্ছা, এখন পড় তো। আগুন নিভে গেলে কিন্তু সর্বনাশ হবে”। অনীক বলে। “কেন? সর্বনাশ হবে কেন? দুইটা যে পাঁচ ব্যাটারীর টর্চ আনলাম? সেগুলি দিয়ে পড়বো”। বলেই সিয়াম টর্চের বাটনে চাপ দেয়। সে কি! জ্বলছে না। সিয়াম অস্থির ভাবে বার বার চাপ দেয়। “এই অনীক, তোর টর্চটা দেখ তো”।
অনীক টর্চ জ্বালানোর চেষ্টা করতে থাকে; জ্বলে না। ব্যাটারী খুলে আবার ভরে; তাও টর্চ জ্বলে না। রাগে অনীক গালি দিতে থাকে দোকানদারকে। সুজন আতংক ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে।
“দোস্ত, এই জায়গার কোন সমস্যা আছে। চল, আমরা গ্রামে ফিরে যাই”। “হু, এখন এই অন্ধকারে তুই গ্রামে যাবি!! রাস্তা চিনবি? এই রাস্তা যে আমরা গাইড ছাড়া এসেছি, তাই তো বেশী। দেখিস না কি বিশাল জঙ্গল”। সিয়াম রাগত স্বরে বলে। তিন বন্ধু চুপ হয়ে যায়। সুজনের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তিনজনেরই বুকের মাঝে কেমন যেন ধড়ফড় শুরু হয়েছে। ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ বড্ড কানে বাজছে। গাঢ় অন্ধকারের মাঝে শুধু তাদের জ্বালানো আগুন দপ দপ করছে। সিয়ামই প্রথম নিজেকে সামলে নেয়। কাশি দিয়ে গলা পরিস্কার করে বলে,
“দোকানদারের একদিন কি আমার একদিন! আগে ঢাকা যেয়ে নিই, দাঁড়া”। -নিজেই কেমন যেন বল পায় না। এই ভয়ংকর বন থেকে কি তারা কোনদিন বের হতে পারবে? একেকটা সেকেন্ড সিয়ামের কাছে এক এক ঘন্টার মত দীর্ঘ মনে হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমটা যেন হঠাৎ করে অসহ্যকর হয়ে যাচ্ছে। বাতাস এত কম কেন? অনীক পরিস্থিতি শান্ত করতে ডায়েরী হাতে নেয়।
“চুপ করে বস তো তোরা। এখন কি আর দোকানদারকে গালি দিয়ে লাভ আছে? দোষ আমাদেরই। আরো ভালো ভাবে চেক করা দরকার ছিলো। এখন শোন, আলো থাকতে থাকতেই আমরা ডায়েরী পড়ে ফেলি”। ((( শেষ পর্ব আগািমকাল )))

রাজকান্দির আতংক - By ত্রিনিত্রি (শেষ পর্ব)

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Wednesday, August 24, 2011 at 7:30pm
অনীক শব্দ করে পড়তে থাকে। ২৭শে এপ্রিল, ভোর ৫:২০
উফফ, পড়তে পড়তে মাথা ধরে গেলো। তবে আশার কথা, আর মাত্র দুইটা পরীক্ষা। এরপরেই প্রফ শেষ। প্রফ টা পাশ করতে পারলেই ডাক্তার! ভাবতেই অন্যরকম লাগে। ডাক্তার হবার পরো কি আমাদের বন্ধুত্ব এমনই থাকবে? না সময়ের সাথে আমরা সবাই হারিয়ে যাব? ব্যস্ত হয়ে যাব নিজ নিজ কাজে? নাহ, অন্তত শাহরিয়ার, তন্বী, রাহাত-এরা আমার মতই থাকবে। “ধূর, কি সব রোজনামচা লিখেছে এই ছেলে!” বিরক্ত হয় সুজন। “তো তুই কি আশা করেছিলি? প্রেমের গল্প?” অনীক মুখ ভ্যাংচায়। “হলে মন্দ কি হতো? এসব পড়াশোনা নিয়ে ভ্যাজর ভ্যাজরের চাইতে তো ছ্যাঁকার গল্প ভালো”। “আচ্ছা, আজকের আকাশে মেঘ কি অনেক বেশী নাকি রে?” অন্যমনস্কভাবে বলে উঠে সিয়াম। “আকাশ এত অন্ধকার কেন? কাল রাতে ট্রেনে আসতে আসতেও না দেখলাম প্রায় পূর্নিমা?” তাই তো! টনক নড়ে বাকি দুইজনের। কাল তো ভীষন রকম জোছনা ছিলো আকাশে। সিয়াম পারলে ট্রেনেই কবিতা লিখা শুরু করে, অনেক কষ্টে ওকে আটকানো গেছে। আজ এরকম মেঘে ঢাকা কেন আকাশ? কতটা মেঘ জমলে পরে এরকম জোছনা ঢাকা পড়ে? অনীক চিন্তিত মুখে বলে, “লক্ষণ তো ভালো না রে। মনে হয় ঝড়-বৃষ্টি হবে”। “সর্বনাশ। যেই না তাম্বু খাটাইছি, এ তো উড়েই যাবে। সিলেটের ঝড় মানে তো ঝড়ের বাপ”। ফ্যাকাশে মুখে বললো সুজন। আগুন প্রায় নিভু নিভু। আরো কিছু শুকনো পাতা তাতে গুঁজে দেয় সিয়াম।
“ওহি হোগা যো মাঞ্জুরে খোদা হোগা”। “ভুল হিন্দি বলে মেজাজ খারাপ করবি না খবরদার! বাংলা না পারলে ইংলিশ বল”। ঝাড়ি দিয়ে অনীক আবার জোরে জোরে পড়তে শুরু করে। ৭ই মে, ২০১১ রাত ১২:৩০
অবশেষে পরীক্ষা শেষ হলো। সব ক্লান্তি শেষ। আজ বিকেলেই আড্ডা হচ্ছিল, এখন আমরা করবোটা কি। কোথাও বেড়াতে যাওয়া দরকার। নবীন বলছিল সেন্ট মার্টিনের কথা। সেন্ট মার্টিন তো গতবারই গেলাম। তবে শুনে এখন আবার যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। ১৭ তারিখ তো ভরা পূর্নিমা। পূর্নিমার সেন্টমার্টিন-ভাবতেই আনন্দে লাফাতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু সোনিয়ার আবার ইচ্ছা রাঙামাটি। কি করা যায় ভাবছি। ১৩ই মে ২০১১ রাত ৯:০০
ইউরেকা!! পেয়ে গেছি। এর নামই তো জীবন! আজ শাহরিয়ার হলে এসেছিলো। এসে কাজের কথা বললো। এসব সোনিয়া তন্বীদের নিয়ে আসলেই হবে না। এদের সাথে নিলে হয় সেন্ট মার্টিন বা রাঙামাটিতেই যেতে হবে। ধ্যাড়ধ্যাড়ে পানসে লাইফ আর পড়াশোনা নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেছি। অজানার উদ্দেশ্যে যেতে চাই। শাহরিয়ারের মামা শ্রীমঙ্গল চা বাগানের ম্যানেজার। চা বাগানেই থেকে আসবো দিন কয়েক। কালই বেড়িয়ে পড়বো। “মামা সঠিক ডিসিশন নিসে!” হাসতে হাসতে বললো অনীক। “মেয়ে মানেই ঝামেলা”। উত্তরে সুজন কিছু একটা বলতে যাবে, হঠাৎ চারিদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক বন্ধ হয়ে গেলো। পুরো বনাঞ্চল একেবারে নিশ্চুপ, শুধু পানির কলকল শব্দ। তিনজন একসাথে সোজা হয়ে বসলো। প্রায় সাথে সাথেই দূরে কোন বন্য প্রাণীর জোরালো ডাক ভেসে এলো। তিন বন্ধু চমকে উঠলো। বুঝতে পারলো না ডাকটি কোন দিক থেকে এলো। ক্ষণকাল পরেই আবার সেই হুংকার। তীব্র রাগে যেন গজরাচ্ছে। আতংকে সুজন আগুন বাড়াতে গিয়ে বেশী পাতা ঠুসে দেয়ায় আগুন নিভে যায় যায় অবস্থা। সিয়াম দ্রুত ফুঁ দিয়ে কোন ক্রমে আগুনটাকে টিকিয়ে রাখে। সুজন তোতলাতে থাকে, “ওটা……ওটা কি-ক্কিসের ডাক রে?” “মনে হয় শেয়াল”। সিয়াম শুকনো গলায় বলে; কিন্তু সে খুব ভালো করেই জানে, শেয়াল এভাবে ডাকে না। এবারে অনীক বলে ওঠে, “আমি যদি খুব বেশী ভুল করে না থাকি, তবে এটা নেকড়ে বা হায়েনার ডাক”। “কি?”- একসাথে সিয়াম আর সুজন লাফিয়ে উঠে। “এই অঞ্চলে কোন নেকড়ে বা হায়েনা নেই। আর হায়েনা বা নেকড়ে কি দেশে আছে নাকি?” অবাক কন্ঠে সিয়াম বলে। “সে তো আমিও জানি”। অনীক মাথা নাড়ে। “কিন্তু এটা ওই জাতীয় কোন প্রানীরই ডাক। আমি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি নিয়মিত দেখি। আমি নিশ্চিত”। আবার ডেকে উঠে প্রাণীটা। এবার মনে হয় আরেকটু কাছে।
“গাছে উঠবো নাকি রে?”- সুজন প্রায় কেঁদে ফেলে। “না, আমাদের আগুন টিকিয়ে রাখতে হবে। বন্য প্রাণী আগুন ভয় পায়”। বিপদে পড়লেই সিয়ামের মাথা ঠান্ডা। একারনেই সিয়ামের উপর এত ভরসা অনীক আর সুজনের। যত পাতা আর শুকনো কাঠ কুড়িয়েছিলো, সব এনে কাছে রাখে তিনজনে মিলে। গুমোট আবহাওয়ার সাথে চারিদিকের নিস্তব্ধতা যেন গলা টিপে ধরছে। ঘড়ি দেখলো অনীক। মাত্র সোয়া ১০টা বাজে। এখনো পুরো রাত পড়ে আছে। চিন্তা করেই অনীকের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। যদি এখান থেকে সুস্থ বেরুতে পারে, আর জীবনে কোনদিন রাতে দুই/তিনজন মিলে জঙ্গলে থাকবে না।

আবার ঝিঁঝিঁ পোকার স্বস্তিদায়ক ডাক শুরু হলো। মেঘও একটু যেন কাটলো। মেঘের কিনারা দিয়ে একটু একটু জোছনার আলো আসছে। সবাই শান্তির নিঃশ্বাস ফেললো। এখন পরিস্থিতি এত ভয়াবহ মনে হচ্ছে না। অনীক পন্ডিতি শুরু করলো,
“শোন, এত ঘাবড়াসনে। আজ ভরা পূর্নিমা! তাও জুন মাসের। জানিস জুনের পূর্নিমা কে নর্থ আমেরিকাতে কি বলে? হানিমুন বলে”। “হানিমুন কেন? সবাই কি মধুচন্দ্রিমায় যেত নাকি এই দিনে?” অবাক প্রশ্ন সুজনের। “আরে না রে গাধা। ওদের দেশে এই সময়ে প্রচুর মধু উৎপন্ন হত। তাই এই মাসের পূর্নিমাকে বলে হানিমুন। তবে হানিমুন শব্দ নাকি এইখানে থেকেই এসেছে। প্রচলিত নিয়মে, গ্রীষ্মকালে যাদের বিয়ে হত, সেই সব নবদম্পতিকে বিয়ের অনুষ্ঠানের পরে মধু খেতে হত। অবশ্য অনেকের মতে এর উৎপত্তি প্রাচীন ব্যাবিলনে……” “ওরে আল্লাহ রে! থাম থাম! আর আমাদের হানিমুন শব্দের উৎপত্তি শুনে কাজ নেই”- অনীককে একসাথে থামিয়ে দেয় সিয়াম আর সুজন। একবার যদি অনীক জ্ঞান দিয়ে শুরু করে, আর রক্ষা নেই। অনীক ভেংচি দিলো। “তা শুনবি কেন? ভালো জিনিসে তো তোদের অরুচি”। অনীককে অগ্রাহ্য করে সিয়াম বললো, “কিন্তু আজই যে পূর্নিমা তুই সিওর হলি কি করে?” “কারণ এই অজানা ডাক্তার ভাই তার ডায়েরীতে লিখেছেন ১৭ই মে ছিল পূর্নিমা। আজ ১৫ই জুন। চাঁদের এই পরিবর্তনকে ব্যখ্যা করা হয় লুনার সাইকেল দিয়ে। যদিও চাঁদ একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে আসে ২৭.৩ দিনে, বা ধর ২৭ দিনে; লুনার সাইকেল কিন্তু সাড়ে ২৯ দিনের বা ২৯ দিনের। এই বাড়তি সময়টা চাঁদ নেয় কারণ পৃথিবী এর মাঝে সূর্যের চারিদিকে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মাইল প্রদক্ষিণ করে ফেলে। তো সেই অনু্যায়ী আজ ১৫ই জুনই তো ফুল মুন, বা পূর্ণচন্দ্র দিবস; নাকি?” “বাহ বাহ, স্যার! আপনার তো ভবিষ্যত অন্ধকার। অচিরেই আপনি শিক্ষক পদে আসীন হতে যাচ্ছেন!” সুজনের গলা শোনা যায়। “জ্বী, ধন্যবাদ”। অনীক ব্যাঙ্গ করে। “এবার তাহলে আমরা ডায়েরীতে ফিরে যাই?”

১৪ই মে ২০১১, রাত ৮:০০
কি অপূর্ব পরিবেশ। আমার তো মনে গান আসছে, “এমন চাঁদের আলো, মরি যদি সেও ভালো”। ভাগ্য এইটা ডায়েরী, শাহরিয়ার শুনলে এতক্ষনে টিজের জ্বালায় ভেসে যেতাম। তবে শাহরিয়ারকেও ভাবুকই দেখতে পাচ্ছি। ডায়েরী লিখছি মামার বাংলোর বারান্দায়।টেবিলের উপরে আমার রূপা দিয়ে মোড়া ছুরিটা রাখা। ছুরি দেখে মামা ভীষন অবাক। শুধু আগার তীক্ষ্ণ ভাগ রূপা দিয়ে বানানো। মধ্যভাগ স্বাভাবিক ছুরির মত; আর বাটে চমৎকার রূপার কারুকাজ। এই ছুরি আমি সবসময় বেড়াতে গেলে নিয়ে যাই। মামাকে বললাম, এই ছুরি আমাদের বংশে কবে থেকে আছে তা কেউ জানে না, তবে বংশের বড় ছেলেকে এটা দেয়া হয়। আমাকেও আমার বড় ছেলেকে দিতে হবে। শাহরিয়ারের প্রশ্ন, “যদি তোর ছেলে না হয়?” এটা অবশ্য আমি ভাবিনি। তবে কি মেয়েকে দিয়ে যাব? ইশ, কি আবোল তাবোল ভাবছি। কবে বিয়ে করবো কোন ঠিক আছে? যাক, চা বাগানের ম্যানেজারদের এত বিশাল বাংলো দেয়; দেখে তো আমি অবাক। শুনলাম ডাক্তারদেরো নাকি এইরকম বড় বাসা দেয়। পাশ করে চা বাগানের ডাক্তারের পদের জন্য অ্যাপ্লাই করবো নাকি? শহরের ভীড় আর কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির মাঝে কিছুদিন কাটিয়ে গেলে মন্দ হয় না। আর এখানকার মানুষগুলো ভীষন ভালো। সহজ সরল জীবন। এদের জন্য কিছু করতে পারলে আমার ভালোই লাগবে। শাহরিয়ারের গলা শুনতে পাচ্ছি, রাতের খাবারে নাকি স্পেশাল বনমোরগ আছে। ডায়েরী পরে লেখা যাবে।

১৬ই মে ২০১১ রাত ১০:০০ টা
কাল ডায়রী লেখার একদম সময় পাইনি। দুইটা দিন যেন উড়ে গেলো। হাকালুকি হাওর ঘুরলাম, মাধবপুরের শান্ত লেক দেখলাম, মামার গাড়ি চেপে চা বাগানের আনাচে গানাচে গেলাম। ৭ রঙা চা খেলাম। চা দেখে তো আমি অবাক। সত্যি সত্যি সাত রঙ! পেপারে তবে ঠিকই লিখেছিলো। চা খেয়ে বিশেষ মজা পেলাম না, তবে বিস্ময়কর চা; মানতেই হবে। কাছেই নাকি বাইক্যা বিল আছে। শীতকালে পাখির অপূর্ব মেলা বসে। শীতকালে আসতেই হবে। মামা একলা মানুষ; এখনো বিয়ে করেন নি। আমরা আসাতে যে কি খুশীটাই হয়েছেন, বলার নয়। আবার আসলে নিশ্চই মাইন্ড করবেন না। সারাদিন ঘুরে খুবই ক্লান্ত। চোখের পাতা যেন লেগে আসছে। এর মাঝে বাবুর্চির হাতের যে রান্না, দুই দিনেই মনে হয় ৪ কেজি ওজন বেড়ে গেছে। এখন আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। কাল সকালে যাবো চম্পারাই টি স্টেটে। মামার নাকি কি কাজ আছে, সাথে আমরাও ঘুরে আসবো। “বাহ, এদের তো ভালো এনার্জি রে, এই ডাক্তার গুলির। এইভাবে এখনো মানুষ ডায়রী লিখে, জানতাম না”। - সুজন বলে উঠে। “তোর মত আইলসা ভাদাইম্যা পোলা ছাড়া সবাই পারে এসব করতে। তুই তো আছিস শুধু মেয়েদের পিছে ঘুরাঘুরিতে”- ভেংচি কাটে অনীক। “তবে রে” বলে সুজন অনীক কে ধরতে যেতেই সিয়াম বাঁধা দেয়। “দোস্ত, এখন না” – বলেই ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ করতে বলে। বাতাস এসে অনেক মেঘ সরিয়ে নিয়ে গেছে। আগুনের তেজ অনেক কম হলেও আশে পাশে সবই পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। চাঁদের প্রায় অর্ধেকটাই এখন মেঘের বাইরে; জোছনার আলোতে সব কিছু কেমন যেন ভয়াবহ দেখাচ্ছে। অনীক আর সুজন চুপ হয়ে যায়, প্রশ্নাতুর চোখে তাকিয়ে থাকে। হ্যাঁ, একটা হালকা শব্দ শোনা যাচ্ছে। ঘন পাতার উপরে যেন কেউ পা টিপে টিপে হাঁটছে। সুজনের দাঁতে দাঁতে বাড়ি খেতে থাকে। এই শান্ত পরিবেশে শব্দটা বড় কানে বাজে। অনীক সুজনের মুখ চেপে ধরে। অবশ্যই কেউ হাঁটছে; ঘন অরন্যের দিকে তাকিয়ে কিছু ঠাওর করতে পারলো না সিয়াম। আস্তে করে বন থেকে কেটে আনা ডালটা হাতে নেয় সে। সে জানে না, কোন প্রাণী না মানুষ; তবে বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করার ছেলে সিয়াম না। আবার সেই অসহ্যকর নীরবতা। ঝিঁঝিঁ পোকা গুলি কেন ডাকা বন্ধ করে দেয়? এদের সমস্যা কি? শব্দ যেন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কেউ বার বার এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত হেঁটে যাচ্ছে, আবার ঘুরে আসছে। সিয়াম লাঠি বাগিয়ে দাঁড়ায়। চেঁচিয়ে বলে, “কে? কে হাঁটে?” কোন উত্তর নেই। অনীক এক হাতে সুজনকে সামলাতে সামলাতে আরেক হাতে আগুন উসকে দেয়। ঠিক সেই সময়ে মেঘ এসে আবার চাঁদকে ঢেকে দেয়। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ফেরত আসে; আর কোন শব্দ পাওয়া যায় না। এবার সিয়ামও ভড়কে যায়। অশুভ কিছু একটা আছে এই জায়গায়। গ্রামবাসী এমনি এমনি ভয় পায় নি। কোন বন্য প্রাণী আছে; যাকে সবাই দানো বলে।সিয়াম ঘাড় ঘুরিয়ে বলে,
“রাতে ঘুমানো যাবে না। তোরা ছুরি দুইটা কাছাকাছি রাখ। আমি দাটা নিচ্ছি”। সুজন ফোঁপানো শুরু করে। অনীক রাম ধমক দিলো,
“গাধামী করিস না তো। এখন ভয় পাওয়ার সময় না, বাজে সবে রাত সাড়ে ১১টা। সারা রাতই পড়ে আছে এখনো”। “আগুন নিভতে দেয়া যাবে না। যতক্ষন আগুন আছে, এই প্রাণী কাছে আসবে না”। সিয়াম গম্ভীর গলায় বলে। সুজন আয়াতাল কুরসি পড়ে সবাইকে ফুঁ দিয়ে দেয়। তিন জন সতর্ক ভাবে চুপ করে বসে থাকে। ঝরনার দিক থেকে কিছু আসার সম্ভাবনা নেই। বাকি রইলো জঙ্গলের তিন দিক। তিন জনে এমন ভাবে এবার বসে যেন সব দিকেই নজর রাখতে পারে। কিছু কাহাতক আর চুপ করে বসে থাকা যায়? ডায়রী হাতে নিলো অনীক।

১৭ই মে ২০১১, বিকেল ৩:৩০
এখন আমি বসে আছি তৈলংকামী গ্রামে। চমৎকার একটি গ্রাম। পাহাড়ের এপাশে ওপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাঁশ-শণে তৈরী মাত্র ১০-১২টি ঘর নিয়ে আদিবাসী দের গ্রাম। চম্পারাই টি স্টেটে মামা কাজ করতে করতে বললেন আমাদের ঘুরে আসতে। শাহরিয়ারকে নিয়ে আর পারিনা, এত ছটফটে। কি করে যে এই ছেলে ডাক্তারি করবে, ভেবে মাঝে মাঝে টেনশন লাগে। হাঁটতে হাঁটতে গেলাম কলাবন পাড়া। এখানে এসে ছেলের মাথায় অ্যাডভেঞ্চারের কি যে ভূত চাপলো, তার পরিণামে এখন আমি এই গ্রামে বসে আছি। কলাবন পাড়ার এক শ্রমিকের কাছ থেকে শুনেছে যে এখানে নাকি চমৎকার একটা ঝিড়ি পথ আর ঝরনা আছে। টলটলে কাকচক্ষু জল নাকি তার। শ্রমিকের ছেলের নাম কাল্টু। কাল্টুর গাইডেই এতদূর এসেছি। গ্রামের মানুষ খুবই ভালো। সাদরে অ্যাপায়ন করলো আমাদের। খেয়ে এখন বাঁশের চাটাই এর উপরে শুয়ে ডায়েরী লিখছি। শাহরিয়ার গেছে লোক জোগাড় করতে, যে আমাদের ঝরনা পর্যন্ত নিয়ে যাবে। কেন জানি না, কেউই যেতে ইচ্ছুক না। আমারো যে খুব ইচ্ছে তা নয়, মামাকে না জানিয়ে… এরপরের পৃষ্ঠা ছেঁড়া। অনীক কৌতূহলী হয়।
“কে ছিঁড়লো এই দুই তিন পৃষ্ঠা? দেখেই বুঝা যাচ্ছে কেউ টেনে ছিঁড়েছে”। আগুন দপ দপ করে উঠলো। নেকড়ের মত প্রাণীটি ডেকে উঠলো। ডাকটা এমন যে একেবারে বুকের মাঝখানে গিয়ে কাঁপিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় কাতর কোন প্রাণীর ডাক। সিয়াম দাটা শক্ত করে চেপে ধরে। মেঘ পুরোপুরি সরে গেছে। তীব্র জোছনা চারিদিকে দিনের আলোর মত স্পস্ট করে দিচ্ছে। সিয়াম মনে মনে প্রার্থণা করে, মেঘ যেন আর চাঁদকে না ঢাকে। আগুন যদি নিভেও যায়, দেখতে আর সমস্যা হবার কথা না। সুজন থর থর করে কাঁপছে। এক দৃষ্টিতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে সে। হঠাৎ শুরু করলো, “এমন চাঁদের আলো, মরি যদি সেও ভালো……” “চুপ” অনীক ধমকে ওঠে। “একটা বাজে কথা না, আর যেই মরুক, আমরা আজ মরব না”। “দোস্ত, আ-আমার বাথরুম ধরেছে”। সুজন তোতলাতে তোতলাতে বলে। এই পরিস্থিতিতেও না হেসে পারে না অনীক। সুজনের ছোট বেলার সমস্যা। ভয় পেলেই তার বাথরুমে যেতে হয়। পরীক্ষার সময় অনীকের সুজনের জন্য সবসময় পরীক্ষা হলে যেতে দেরী হতো। শেষ মূহুর্তে সুজন বাথরুমে যাবেই।
“সামনের ঝোপের ধারে যা” “দোস্ত, তোরা প্লিজ এইখানেই থাক। কোথাও যাইস না”।
“আরে যা, আমরা তোর পিঠের দিকে তাকিয়ে আছি”। অনীক আশ্বস্ত করে তাকে।

অনীক ডায়েরী হাতে নিতেই সিয়াম বলে, “রাখ তো ওটা”। “না, এর শেষ পড়ে ছাড়বো”। কয়েক পাতা উল্টিয়ে লেখা পাওয়া যায়। এতে তারিখ নেই। মুক্তার মত হাতের লিখাও নেই। লেখা পড়াই দুঃসাধ্য। কেউ কাঁপতে কাঁপতে লিখেছে লেখা গুলো। লাইন গুলি এঁকে বেঁকে গেছে। হরফের সাথে হরফ মিশে করেছে লেখাকে দুর্বোধ্য। অনীক কষ্ট করে পড়তে থাকে। আমি জানি না আমি কি এই দুনিয়াতে আছি কিনা। শরীফ নেই; শরীফ মরে গেছে। আমার বন্ধু, যে আমার জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমি তাকে ফেলে ঝরনায় চলে এসেছি। আমি আমার বন্ধুর মৃত্যুর জন্য দায়ী। এটা কি দুঃস্বপ্ন? তবে আমার লিখে যেতেই হবে। আমি যদি মারা যাই; কেউ এই ডায়রী পেলে যেন জানে কি করে আমরা মারা গেলাম। শরীফ আসতে চায়নি, আমিই মামাকে না জানিয়ে জোর করে ওকে টেনে এনেছি। হায় আল্লাহ, এ আমি কি করলাম।ঝিড়ি পথের ডান দিক দিয়ে যে রাস্তাটি যায়, ওখানে এক দূর্গ আছে। সন্ধায় আমরা যখন ওখানে যাই, ওটা ছিলো না। পুরো সময় কেউ আমাদের লক্ষ্য করেছে। শরীফ অনেকবার ফিরে যেতে চেয়েছে, আমি কান দেইনি। রাত্রে পূর্নিমার চাঁদ যখন মাথার উপরে, তখন দূর্গটি ভেসে উঠলো। উফফ, কি ভয়ংকর সেই দূর্গ। একেক পৃষ্ঠায় কয়েকটি করে শব্দ লেখা। রক্ত মাখা সেই লেখা পড়া প্রায় দুঃসাধ্য। লেখকের যে নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল তা নিশ্চিত। সিয়াম প্রায় ছিনিয়ে নেয় ডায়রী অনীকের হাত থেকে। আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো পূর্নিমার আলোয়, আমি শরীফকে টেনে নিয়ে গেলাম তার মাঝে। একটা মানুষ অন্ধকারে বসে আছে। কি ভয়ানক দৃষ্টি; আমাদের দিকে তাকালো। শরীফ তাকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি কে?” তখনই দেখলাম… হে আল্লাহ আমাকে শক্তি দাও আমাকে লিখতেই হবে। মানুষটি চাঁদের আলোয় এলো। আসামাত্র তার মাঝে কি যেন ঘটে গেলো। মুখ নীচু করে জান্তব আক্রোশে চিৎকার করতে লাগলো। পিঠ বেঁকে গেলো। হাত থেকে নখ বের হয়ে চারপাশে সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে ফেললো। আমরা চিৎকার করে উঠলাম। এই একবিংশ শতাব্দীতে কি ওয়ারউলফ থাকা সম্ভব? এই তবে গ্রামবাসীর দানো! হায়, আমি কি মূর্খ! আমি তাদের বিশ্বাস করিনি। তখনই সে আমাদের দিকে তাকালো। হলুদ চোখে কি তীব্র জিঘাংসা। আমরা দৌড় দিলাম। কিছু বুঝার আগেই সে শরীফের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। নখের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেললো শরীফকে। মরার আগ মূহুর্তে শরীফ আমার দিকে তাকিয়েছিলো। হায়, আমার বন্ধু! সিয়াম আর অনীক ঢোক গিলতে থাকে; এ তবে শাহরিয়ার। শাহরিয়ার কোথায় তাহলে এখন? সেও কি মারা গেছে? এক ঝটকায় অনীক তাকায় সুজনের দিকে। সুজন এখনো প্রাকৃতিক কর্ম সারতে ব্যস্ত। পরের পৃষ্ঠা গুলি রক্তে রঞ্জিত; ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। আমি দৌড়াতে থাকি। অন্ধের মত। নেকড়ে মানব আমাকে তাড়া করে। কিছুক্ষণের মাঝেই সে আমাকে ধরে ফেলে। সে লাফ দেয়, তবে আমি সরে যাওয়ায় আমার পা কামড়ে ধরে। যন্ত্রণায় আমার বোধ লুপ্ত হয়। হাতে পাই সেই ছুরিটি যেটা শরীফ আমাকে রাখতে দিয়েছিলো। মনে পড়ে নেকড়ে মানব কে মারতে হলে রূপার বুলেট লাগে। রূপার ছুরিতে কি হবে? অন্ধের মত আমি হৃদপিন্ড বরাবর আঘাত হানতে থাকি। তীব্র আক্রোশে সে আমাকে মারতে চায়, কিন্তু পড়ে যায়। আমি তার পিঠের উপর উঠে আঘাত হানতেই থাকি বিরামহীন ভাবে। আমার নীচেই নেকড়েটি একটা মানুষে রূপান্তরিত হয়। এর পরে আমি কোনক্রমে ঝরনার কাছে আসি। এই ডায়রী পাই। চাঁদের আলোয় আমার কেমন যেন লাগছে। কি ভীষন ব্যথা আমার প্রতিটি অঙ্গে। তীব্র ঘৃণা বোধ হচ্ছে। আর পারছি না। আমার পা… আমার বুক… ডায়েরী শেষ। অনীক আর সিয়াম দুইজন তাকিয়ে থাকে একজন আরেকজনের দিকে। এও কি সম্ভব? শাহরিয়ার কোথায় তারা এখন জানে। মায়া নেকড়ের কারণেই কি এই অঞ্চলে অন্য কোন প্রাণী নেই? ঝিঁঝিঁ পোকা ডাক থামিয়ে দেয় যখন মেঘ সরে চাঁদ উন্মুক্ত হয়? আজ না পূর্ণচন্দ্র দিবস? কিন্তু এসব তো সবই মিথ; বানানো। ধপ শব্দে চমকে যায় তারা। আগুনের শেষ বিন্দু প্রাণপণ যুদ্ধ করে যেন হার মানে; নিভে যায়। সুজন…… সুজন কোথায়?

অনীক আর সিয়াম ঘাড় ঘোরায়। সুজন নেই। কিছুক্ষন আগেও সুজন এই সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল; এখন নেই।অনীক অস্ফুট শব্দ করে। সিয়াম থর থর করে কাঁপছে। হাত ধরা ধরি করে তারা ঝরনার দিকে পিছাতে থাকে। যে কোন দিক থেকে জন্তুটা আসতে থাকে। তাদের কাছে রূপার তৈরী কিছুই নেই। পিছনে মৃদু গড়গড় শব্দ শোনা যায়। হঠাৎ কানের কাছে যেন বাজ পড়ে; ভীষন শব্দে নেকড়ে ডেকে ওঠে। তাকাবে না তাকাবে না করেও সিয়াম আর অনীক একই সাথে পিছনে ঘোরে। বোটকা গন্ধ নাকে বাড়ি দেয়। হলুদ বীভৎস নিষ্ঠুর এক জোড়া চোখ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নেকড়ে শরীর নিচু করে; লাফ দেয়ার পূর্ব মূহুর্তে মাংসাসী প্রাণীরা যেমন করে থাকে। দুই বন্ধু হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকে। আকাশে তখন ভীষন রকম জ্যোৎস্না; বাতাসে তীব্র হাহাকার। দূরে তৈলংকামী গ্রামের এক আদিবাসী মা নেকড়ের ডাক শুনে প্রাণপণে তার তিনমাসের শিশুটিকে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে।

বাঘ - By টিনটিন রকস

by ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প on Thursday, August 25, 2011 at 10:28pm প্রচণ্ড শীতে থরথর করে কাঁপছে রতন। গায়ে চাদর আছে, পাশে বেশ বড় করে আগুন জ্বালিয়েছে কিন্তু এতসব আয়োজন করেও মাঘ মাসের এই প্রচণ্ড শীতকে বশে আনা যাচ্ছেনা। রতন নিরালা আবাসিক এলাকার নাইট গার্ড। অল্প কিছুদিন আগে সে এই চাকরিটা নিয়েছে কিংবা বলা যায় নিতে বাধ্য হয়েছে। খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য কিছু একটা তো করতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে এই চাকরিটা নিয়েছে। মোটেই সুখকর কোন চাকরিনা এটা। সারারাত ধরে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে জেগে থাকতে তো হয়ই, তার উপর গত কিছুদিন ধরে যুক্ত হয়েছে বাঘের ভয়। গত পাঁচদিন হলো খুলনা শহরে প্রতি রাতে একটা করে লাশ পাওয়া গেছে। প্রতিটা লাশ পাওয়া গেছে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায়। যেন কোন হিংস্র জন্তু প্রচণ্ড আক্রোশে ছিঁড়ে কামড়ে একাকার করেছে লাশগুলোকে। পেপারে এনিয়ে প্রতিদিন লেখালিখি হচ্ছে। ডাক্তারদের মতে কোন মানুষের পক্ষে এভাবে হত্যা করা সম্ভব না। শুধুমাত্র বুনো কিছু হিংস্র প্রাণী, যেমন- বাঘ, সিংহ, নেকড়ে বা হায়না এই ধরনের প্রাণীর পক্ষেই এভাবে হত্যা করা সম্ভব। খুলনা কেন সারা বাংলাদেশের কোন বনেই সিংহ, নেকড়ে বা হায়না নেই। কিন্তু বাঘ আছে, এই খুলনার সুন্দরবনেই। ডাক্তারদের এই মতের উপর ভিত্তি করে সারা খুলনা শহর চষে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কোথাও বাঘের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। হতভাগ্য লাশগুলোর আশেপাশেই বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। সুন্দরবন থেকে বিশাল ভৈরব নদী পার হয়ে খুলনা শহরে ঢোকা কোন বাঘের পক্ষে সম্ভব না।
আর যদি কোনভাবে ঢুকেও থাকে তাহলে কোথায় লুকিয়ে থাকছে বাঘটা, সেটা এখন পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়নি। রাততো দূরের কথা, মানুষ এখন দিনের বেলাতেও ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। গতকাল রতন একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। চায়ের দোকানের মালিক কাদের ভাইয়ের দেশের বাড়ি সুন্দরবনের পাশেই কোন গ্রামে। সেখানে একটা গল্প প্রচলিত আছে, সুন্দরবনের মির্জা বাড়ি এলাকায় অনেক আগে মির্জা আসাদ ওয়ালি নামে এক জমিদার বাস করতেন। একটা পোষা বাঘ ছিল তার। বাঘটার হিংস্রতা বাড়ানোর জন্য প্রায়ই তাকে অল্প খাবার দেয়া হত। একদিন কোনোভাবে বাঘটা খাঁচা থেকে বের হয়ে আসে। দুর্ভাগ্যক্রমে জমিদার তখন তার বাগানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। অভুক্ত বাঘটা ক্ষুধার জ্বালায় তার মনিবকেই আক্রমণ করে বসে। জমিদারের ভাগ্য ভালো, মারা যাননি তিনি কিন্তু গুরুতর ভাবে আহত হন। মির্জা আসাদ ওয়ালি যেদিন আহত হন, সে রাতেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। কথিত আছে এর পর থেকে প্রতি রাতে আকাশে চাঁদ উঠার পর থেকে তিনি বাঘের রূপ ধারণ করেন এবং প্রতি রাতেই একটা না একটা খুন করেন। মির্জা আসাদ ওয়ালি আহত হবার পর থেকে প্রতি রাতেই একজন করে গ্রামবাসি মায়া বাঘের আক্রমণে মারা যেতে থাকল। গ্রামের মানুষরা মায়া বাঘের ভয়ে একে একে গ্রাম ত্যাগ করতে লাগল। ধীরে ধীরে পুরো গ্রাম জনশুন্য হয়ে গেল। কথিত আছে আজও সেই মায়া বাঘ মির্জা বাড়ির আসে পাশে ঘুরে বেড়ায়। আজও সুন্দরবনের আশেপাশের গ্রামের মানুষ প্রায় রাতেই সেই মায়া বাঘের রক্তহিম করা গর্জন শুনতে পায়। কাদের ভাইয়ের মতে মির্জা আসাদ ওয়ালি রূপী সেই বাঘটা আজ প্রায় একশ বছর পর জঙ্গল ছেড়ে শহরে চলে এসেছেন। দিনের বেলায় মানুষরূপে থাকলেও রাতে তিনি বাঘের রূপ ধারণ করে একের পর এক হত্যা করে চলেছেন। রতন জানে এটা কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু বাঘতো একটা আছেই, যেটা প্রতি রাতে নির্মম ভাবে একটার পর একটা হত্যা করে চলেছে। আবার কেঁপে উঠল রতন। শীতে না ভয়ে তা নিজেও ঠিক বুঝতে পারল না। হঠাৎ পিছনে একটা শব্দ শুনে চমকে ঘুরে তাকাল। নাইটগার্ডের ইউনিফরম পরা একজন লোক ঠিক তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিরাতে দুজন করে নাইটগার্ড এই এলাকা পাহারা দেয়। এই লোকটাকে ও আগে কখনও দেখেনি। নতুন বোধহয়। লোকটা একটু হেসে রতনের পাশে এসে বসল।
“নতুন নাকি? কবে জয়েন করলা”, রতন জিজ্ঞেস করল।
বিদঘুটে ভাবে একটু হাসল লোকটা। “আজকেই”, বলল লোকটা।
“নাম কি?”
“জলিল”
“ঘটনা শুনছ নাকি?”একটু উদাস ভাবে জিজ্ঞেস করল রতন।
“কি ঘটনা?” চোখ দুটো সরু করে জিজ্ঞেস করল জলিল ।
নিজে পুরোপুরি বিশ্বাস না করলেও কাদের ভাইয়ের কাছে শোনা ঘটনাটা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য করে বলে গেল রতন। কিছু কথা বানিয়ে যোগ করতেও ভুললনা। গল্প বলা শেষ করে লোকটার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল রতন। হিংস্র চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে লোকটা।
“আপনি এইসব বিশ্বাস করেন”, রাগত স্বরে জিজ্ঞাসা করল সে।
“বিশ্বাস না করার কিছুই নাই, অনেক আজব ঘটনা ঘটে এই দুনিয়ায়”, দার্শনিকের মত জবাব দেয় রতন, লোকটাকে ভড়কে দিতে পেরে মনে মনে খুশি হয়েছে সে। ক্রূর হাসি হাসল জলিল । চোখদুটো যেন মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠল।
“ঠিকই বলেছেন অনেক আজব ঘটনা ঘটে এই দুনিয়ায়। যে মায়া বাঘের কথা আপনি ভাবছেন সে হয়তো আপনার আশেপাশেই কোথাও ঘাপটি মেরে আছে কিংবা মানুষ রূপে আপনার সামনেই রয়েছে, আপনি হয়তো বুঝতেও পারছেন না”, ধ্বক করে জ্বলে উঠল জলিলের চোখজোড়া।
ভয়ের একটা শীতল শিহরন বয়ে গেল রতনের মেরুদণ্ড বেয়ে। একটা অশুভ চিন্তা উঁকি দিচ্ছে মনের ভিতরে। সত্যি না তো কাদের ভাইয়ের কাছে শোনা ঘটনাটা? হয়তো সত্যিই কোন মায়া বাঘ আছে, হয়তো মির্জা আসাদ ওয়ালি নামে সত্যিই কারও অস্তিত্ব আছে যে শহরে এসে প্রতি রাতে নির্মম ভাবে একটার পর একটা হত্যা করছে। জলিলের দিকে তাকাল রতন। কি যেন একটা অশুভ ব্যাপার আছে লোকটার চোখদুটোতে। হঠাৎ মনের মধ্যে উঁকি দিল ভয়ংকর চিন্তাটা, বুঝতে পারল কি ভয়ংকর বিপদের মধ্যে আছে সে। আবার জলিলের দিকে অকাল রতন। এখনও সেই ভয়ংকর হাসিটা লেগে আছে জলিলের ঠোঁটে।
“তাহলে এতক্ষণে চিনতে পারলে আমি কে?”, বাজ পরল যেন লোকটার কন্ঠ থেকে।
ঢোক গিলল রতন। বুঝতে পারছে কাদের ভাইয়ের কাছে শোনা গল্পটা মোটেও বানোয়াট না। কিন্তু বুঝেও আর কোন লাভ নাই, মৃত্যু ওর থেকে মাত্র দুইফুট দূরে দাঁড়িয়ে আছে।
আবার বিশ্রী করে হেসে উঠল জলিল, কিন্তু এবারের হাসিটা আর ভয়ংকর শোনাল না বরং মনে হল কিছুটা ব্যঙ্গ করে হাসছে জলিল । অবাক হয়ে তাকাল রতন। জলিলের হাসি যেন থামতেই চায়না। হাসির দমকে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে আসছে।
“আপনি...আপনি আমার কথা বিশ্বাস করেছেন। আপনি তো দেখি মিয়া ভয়ে প্যান্ট খারাপ করে ফেলেছেন”, হাসতে হাসতে বললো জলিল।
এতক্ষণে রতন আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারল। লোকটা এতক্ষণ যা বলেছে সব মিথ্যা। রাগ হল রতনের। কিন্তু সেটা প্রকাশ করল না।
“তুমি কি মনে করেছ, তুমি যা বলছ আমি তা বিশ্বাস করেছি? তোমার একটা কথাও আমি বিশ্বাস করিনি। শুধুমাত্র ভয়ের অভিনয় করেছি।” জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল রতন।
খ্যাঁক খ্যাঁক করে আবার হেসে উঠল জলিল। বুঝিয়ে দিল রতনের কথা সে বিশ্বাস করছে না।
“আমি তোমার কথা এক বর্ণও বিশ্বাস করিনি”, ঝিক করে জ্বলে উঠল রতনের চোখ জোড়া, “আমি প্রথম থেকেই জানি তুমি মিথ্যা কথা বলছ, তুমি মায়া বাঘ না”।
“আচ্ছা, তো কি করে বুঝতে পারলেন আমি মায়া বাঘ না” জিজ্ঞসা করল জলিল।
“ আমি জানি তুমি মায়া বাঘ না”, ঘরঘর করে উঠল রতনের কন্ঠস্বর, “কারণ মায়া বাঘ আমি নিজেই।”
অবিশ্বাস ভরে রতনের দিকে তাকাল জলিল । হঠাৎ ধ্বক করে জ্বলে উঠল রতনের চোখ জোড়া, চোখ তুলে তাকাল পূর্ণিমার বিশাল চাঁদটার দিকে। ঘনঘন নিশ্বাস নিতে শুরু করল, যা অতি দ্রুত রূপান্তরিত হল চাপা গোঙানিতে। চোখের কালো মণি বদলে গিয়ে হলুদ রং ধারণ করল। হলুদ হয়ে উঠল চামড়া, শরীর ফুঁড়ে বেরুতে শুরু করল থোকা থোকা লোম। কান দুটো আকারে বড় হয়ে উঠল। ফাঁক হয়ে গেল রতনের মুখটা, চোয়ালে ঝিকিয়ে উঠল ক্ষুরধার দাঁতের সারি। রূপান্তরের যন্ত্রণায় হাত দিয়ে মাটি খামচে ধরল রতন, চোখের নিমিষেই ও দুটো পরিণত হল বিশাল রোমশ থাবায়। ধীরে ধীরে রতন পরিণত হল এক বিরাট রয়েল বেঙ্গল টাইগারে।
বিকট এক গর্জন ছেড়ে জলিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল বাঘরূপী রতন ওরফে এককালের প্রতাপশালী জমিদার, মির্জা আসাদ ওয়ালি।

আগুনটা একটু উস্‌কে দিল রতন। শীতটা যেন আজকে একটু বেশীই পরেছে। হঠাৎ পিছনে একটা শব্দ শুনে চমকে ঘুরে তাকাল। নাইটগার্ডের ইউনিফরম পরা একজন লোক ঠিক তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা একটু হেসে রতনের পাশে এসে বসল।
“নতুন জয়েন করলা মনেহয়” একটু হেসে বলল রতন।
“আজকেই”, প্রত্যুত্তরে বলল লোকটা।
“নাম কি?”
“ইদরিস।”
“ঘটনা শুনছ নাকি?”, একটু উদাস ভাবে জিজ্ঞাসা করল রতন।
“কি ঘটনা?”, জিজ্ঞাসা করল লোকটা।
কাদের ভাইয়ের কাছে শোনা ঘটনাটা বলতে শুরু করল রতন।

।। পান খাওয়া সাদা বুড়ি ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Thursday, August 25, 2011 at 10:28pm
আব্বা WAPDA তে চাকুরী করতেন। সেই জন্য ওনার পোস্টিং হতো কয়েক বছর পর পর দেশের বিভিন্ন শহরে। আমি তখন ক্লাস ২ তে পরি। এবার আব্বা বগুড়া তে পোস্টিং পেয়েছেন। নতুন স্কুল, নতুন জায়গা, নতুন বন্ধু সব কিছুই এলো মেলো। গোছাতে সময় লাগবে। স্কুলটা কিন্তু WAPDA এর ভেতর ছিলনা,আমাদের যেতে হতো প্রায় ১ KM হেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর স্কুল এ। স্কুল এর বন্ধুরা বলতো তোমাদের কলোনিতে ভূত আছে। বিশ্বাস করতাম ছোটো ছিলাম বলে। রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় তাই বড় ভাইকে ধরে ঘুমাতাম। সেদিন যে খাটে শুয়েছি পা বরাবর অনেক বড় জানালা। গরম বেশি থাকাতে জানালাটা খুলেই ঘুমিয়েছি দুভাই। আমার বড় ভাই সব সময় আমাকে ঘুমানোর আগে দোয়া পরিয়ে ঘুম পারাত, কিন্তু সেদিন আমি দোয়া না পরেই ঘুমিয়ে গেছি। মাঝ রাত্রে স্বপ্নে দেখলাম এক সাদা কাপড় পড়া বুড়ি পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে এসেছে আমাকে নিয়ে যেতে। তার হাসি দেখে পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা সেই ঘুমের মধ্যেই। স্বপ্নের মধ্যেই দেখলাম মা আমাকে তুলে ছুঁড়ে দিল ঐ বুড়ির দিকে আর বুড়িটা আমাকে নিয়ে চলে যাওয়া মুহূর্তে মা আমাকে আবার ছিনিয়ে নিচ্ছে ঐ বুড়ির কাছ থেকে। মা আমাকে শক্ত করে ধরে আছে আর বুড়িটা মায়ের কাছে থেকে আবার আমাকে নিয়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে মা আমাকে আবার তার কাছে ছুঁড়ে দিল এবং বুড়িটি আমাকে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে আবার মা আমাকে ছিনিয়ে নিল তার কাছ থেকে। এভাবে চলল কিসুক্ষন এবং আমি জোরে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। বাসার সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলো আমাকে নিয়ে, আমি জানালা থেকে দূরে সরে আসার অনেক চেষ্টা করতে লাগলাম, মা যখন আসলো তখন তাকে এমন জোরে ধরেছি যে আমাকে ছুটানর জন্য আব্বা আর ভাই দুই জন শক্তিশালী মানুশ এর প্রয়োজন হয়েছিল। আর আমি বারবার বলছিলাম আমাকে দিয়ে দিওনা ঐ বুড়ির কাছে। মা আমাকে আয়াতুল কুরসি পরে বুকে ফুঁক দিলেন এবং ঐ রাত্রের জন্য আমরা সবাই এক ঘরে ঘুমালাম। কারন জানলাম যে বড় ভাইও ভয় পেয়েছেন আমার চিৎকারে। পরের দিন মসজিদের হুজুর কয়েক আয়াত পরে বুকে ফুঁ দিলেন আমার জন্য। এর পর থেকে প্রায় রাত্রেই গোঙাতাম আর ঘুম ভেঙ্গে যেত ভাই এর ডাকে। এত গেল স্বপ্নে দেখা সাদা বুড়ি। এই বুড়িকে আমি বাস্তবে দেখেছি ৬ বছর পর। আসছি শেই ঘটনায়। আল্লাহ্‌ বলেছেন, “অয়ামা খালাক্তুল জিন্নাহ অয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন”---“আমি জিন ও মানব জাতিকে আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি”। মানুষের মদ্ধে যেমন ভালো খারাপ আছে তেমনি ওদের মদ্ধে ও ভালো খারাপ আছে। মানুষ এক প্রজাতি হয়ে যেমন অন্য প্রজাতির ক্ষতি করে তেমনি জিনরাও অন্য প্রজাতির (মানুষ সহ) ক্ষতি করে। তাই খারাপ জীন আছে এটা বিশ্বাস করলে দোষের কিছু হবেনা। আর ভুতের কথা বলছেন? এরাও জীন, কেও ভালো আবার কেউবা খারাপ। ভুত শব্দটা আমরা আমাদের কথিত বাংলা ভাষায় ব্যাবহার করে থাকি। আমি তখন ক্লাস এইট এ পড়ি। গ্রামে নতুন বাড়ি কেনা হয়েছে মুনশিগঞ্জের শ্রীনগর থানার হাঁসারা গ্রামে। ভাই চলে গেছেন বিদেশে চাকরির খাতিরে তাই বাড়ির বড় ছেলে বলতে আমি। জিবনে কখনো গ্রামে থাকিনি নানির বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছাড়া, তার উপর ইলেক্ট্রিসিটি অথবা ভাল রাস্তাঘাট ছিলনা ঐ সময়। ভুতের ভয়ের চাইতে বিষাক্ত শাপের ভয় বেশি ছিল ঐ বয়সে। বাড়ির পাশেই একটা মাঝারি ধরনের বট গাছ, তার পর বড় বড় কতগুলো দিঘি, এগুলর বা দিকে আছে একটা অনেক বড় খালি বাড়ি। বাড়িটাতে অনেক বড় বড় আম গাছ আর করই গাছ। সামনে আসে একটা ভয়ঙ্কর রকমের ভাঙ্গা জমিদার বাড়ি নাম সেনের বাড়ি, অনেক বড় এলাকা জুড়ে ছিল এই বাড়িটি। হাজার রকমের বড় বড় গাছ দিয়ে ঘেরা। ভেতরে ঢুকলে সূর্যের আলো চোখে পরেনা। তার ২০০ গজ দুরেই আমাদের স্কুল। মুনশিগঞ্জের সবচেয়ে পুরনো স্কুল। বাজারে যাওয়ার সময় আমি এই দিক দিয়ে না যাওয়ার চেষ্টা করতাম আর যদি জেতাম তবে মানুষ থাকত। অন্য দিক দিয়ে বাজারে গেলে সোজা রাস্তা। বর্ষার সময় এই রাস্তাটা দুবে যেত তাই বাধ্য হয়েই আমাকে এই রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট পরতে যেতে হত বিকাল বেলায় সেই ভাঙ্গা বাড়ির সামনে দিয়ে আর ফিরতে হত সন্ধ্যার সময় কখনো কখনো রাত ১০ টার পর। এখন বর্ষাকাল তাই আমাকে বিকাল বেলায় কাজের ছেলে করিম নৌকায় করে স্যারদের এলাকায় দিয়ে গেল। জায়গাটার নাম পালের বাড়ি। করিম বয়সে আমার চাইতে বছর ২ এর ছোট হবে, দুজনেই নৌকা বাইতে খুব পছন্দ করতাম, তাই আমাকে হেটে যেতে হলনা। ও বাড়িতে চলে গেল আর আমি গেলাম স্যার এর বাসায় পরতে। পরালেখায় মোটামুটি ছিলাম তাই ক্লাস ৮ এর বৃত্তির জন্য খুব প্রস্তুতি চলছিল। পরতে পরতে রাত সাড়ে ১০ টা বেজে গেল। স্যার বলল যেতে পারবি বাড়িতে না দিয়ে আসতে হবে? প্রেস্টিজে লেগে গেল যদি ও ভয় পাচ্ছিলাম, বললাম স্যার কি যে বলেন না। কাল দেখা হবে স্কুলে বলে আমায় যেতে বললেন। আমার হাতে একটা কলমের সাইজ এর মত একটা টর্চ ভাই পাঠিয়েছে বিদেশ থেকে। কিন্তু এটার একটা সমস্যা হল ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড পর বন্ধ করতে হয় কিচুক্ষনের জন্য। যেহেতু করিম আসবেনা এত রাতে তাই আমাকে হেটে যেতে হবে সেই ভাঙ্গা বাড়ি দিয়ে।
আয়াতুল কুরসি পরে বুক এ ফুঁ দিয়ে হাটা শুরু করলাম। মহাসড়ক দিয়ে ১৫ মিনিট হাটার পর ডানদিকে বাক নিতে যাওয়ার সময় আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালাম কারন সামনে দেখি একলোক যাচ্ছেন আমার রাস্তা বরাবর। তার পিছু নিলাম। ৩ মিনিট পর সেই ভাঙ্গা সেনের বাড়ি। আমি এটাকে এড়িয়ে অন্য দিক দিয়ে গেলে আমাদের স্কুল দিয়ে যেতে পারি কিন্তু গেলাম না কারন আমার সাথে ঐ ব্যাক্তি আছেন। মজার ব্যাপার হল এতক্ষনের জন্য আমি একবার ও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি উনি কেমন আছেন বা কোথা থেকে এলেন। আর তাছাড়া এলাকায় নতুন বলে অনেকে আমাকে ঠিক মত চিনেও না, আমিও অনেক কম চিনি। চুপচাপ তাকে ফলো করে সেনের বাড়ি যেটা এখন শবাই বলে সেনের বাগে ঢুঁকে গেলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর ঐ ব্যাক্তি আমার সামনে থেকে একটু দূরে কোথায় গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমার পেন্সিল টর্চ দিয়ে খোঁজার চেষ্টা বৃথা কারন উনি কথাও নেই। ডাকলাম কিন্তু অনেক বাদুড়ের শব্দ ফিরে এল। টর্চটা জালিয়ে আর বন্ধ করলাম না। দিলাম দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ি পার হয়ে এলাম এবং সামনে গ্রাম্য পোষ্টঅফিস। সেখান থেকে একটা বাঁশের পুল প্রায় দেড়শ গজের মত লম্বা হবে ওপাড়ের এক বন্ধুর বাড়ি আলামিন দের বাড়িতে সংযুক্ত। আমাকে বাড়ি পৌছতে হলে এ পুল বা সাকো পার হতেই হবে। আয়াতুল কুরসি পরছি আর আল্লাহ, আল্লাহ্‌ করছি। সাঁকোর মাঝ খানে এসে হঠাত আমার চোখ যায় ডান দিকে সেই খালি বাড়িটার দিকে। আমার জান বের হয়ে যাওয়ার মত অবস্তা। দেখলাম একটা অনেক বড় আম গাছের নিচে সেই সাদা বুড়িটা পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে নাচানাচি করছে আর আমাকে ডাকছে হাত দিয়ে ওখানে যেতে। তার হাসি দেখেত আমার হার্টবিট আর বেড়ে গেল। আমি এখন না পারি আলামিনদের বাড়ি যেতে না পারি সেনের ভাঙ্গা বাড়ি পথ দিয়ে স্যার এর বাসায় ফিরে যেতে। অগত্যা আল্লাহ নাম করে সাঁকো শক্ত করে ধরে পাড়ি দিচ্ছি খুব সাবধানে। তারাতারি যেতে পারছিনা কারন একেত ভয় তার উপর গ্রামের সাঁকোতে নতুন নতুন চরার অভিজ্ঞতা। যতই আলামিন্দের বাড়ির কাছে যাচ্ছি বুড়ির গলার শব্দ শুন্তে পাচ্ছি। কি? আমায় চিনতে পারছিস? আমি এসেছিলাম তোকে নিতে, তোর মা দেয় নি। আজ কে আটকাবে? বন্ধুরা, তার চেহারা দেখতে আমাদের বুড়ো নানি দাদিদের মতই দেখতে। কিন্তু লম্বায় প্রায় ২০ ফুট এর মত হবে। বুড়ির তামশা মনে হয় আর বেড়ে গেল। এখন চাঁদের আলোয় তাকে আর পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। বুড়ি নাচছে আর আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমাকে বলছে তোকে আজ এই গাছের নিচে পুঁতে রাখব। আমি চার কুল পরে বুকে ফুঁ দিয়ে ওর দিকেও তাক করে ফুঁ দিলাম। এখন আমি আলামিন্দের বাড়ির নামায় এসে পরেছি। আমি দৌড় দিলাম না। তাকিয়েই ছিলাম ঐ বুড়ির দিকে। হঠাত সেই বুড়িটা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। আর দেখতে পেলাম না। আমি আর দেরি না করে বাড়ির দিকে রউনা হলাম। দিঘি পার হয়ে বট গাছ আসল। আমি আগে থেকেই করিমকে ডাকলাম নৌকা নিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে বট গাছের কাছ থেকে। করিম ঘুমিয়ে পরেছিল। গ্রামের সবাই ঘুমে। মা করিমকে ডাকছে উঠোন থেকে আমি শুনতে পাচ্ছি বট গাছের ওখানে দারিয়ে থেকে। বট গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে যাওয়ার মত অবস্থা। আমি মাকে জোরে বললাম আমার ভয় লাগে করিম কে তারতারি পাঠাও। মা বলল, “ভয় পাবিনা আমি দারিয়ে আছি এই পারে”। করিম ঘুম থেকে উঠলো ঠিকই কিন্তু ওর ও ভয় লাগে। ও আগে নিশ্চিত হয়ে নিল আমার নাম ধরে ডেকে যে এটা আমি কিনা। মা চলে গেল তার ঘরে আর করিম আশ্ছে নৌকা নিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে আছতে আছতে। গাছ থেকে ফিশ ফিশ শব্দ করে কে জেন বলল তোর মা তোকে অনেক কিছু শিখিয়েছে বেচে গেলি আজ। বাড়ি আসলাম মাকে কিছু বললাম না। পরদিন স্কুলে গিয়ে দেখব কি সেটা। কিন্তু পরদিন স্কুলে যাওয়ার সময় আমি ভুলে গেলাম সম্পূর্ণ রূপে। জানিনা এত বড় ঘটনাটা কিভাবে একটা মানুষ ভুলতে পারে। স্যার জিজ্ঞেস করলেন কিরে বাড়ি ফিরতে সমস্যা হয়নিত? আমার মনে পরে গেল সেই ঘটনা। আমি বললাম না স্যার কোনও সমস্যা হয়নি। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার সময় সেই গাছটির দিকে তাকালাম। কিছুই দেখলাম না। দেখার কথাও না। কারন আমার সাথে স্কুল বন্ধুরাও ছিল। আমাকে প্রাইভেট পড়ার ছলে এই যন্ত্রণা আর দুর্ভগ আর ৩ দিন সইতে হয়েছিল, তারপর এই বুড়িকে আর দেখিনি। দরুদ, কোরানের আয়াত আর নতুন আয়ত্ত করা সাহস আমাকে শিখিয়েছিল ঐ রকম পরিবেশে কিভাবে চলতে হয়। এখন আমি ইউকে তে থাকি। আমার বাসার পাশের কবরস্থান। এখানে ও আমি অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিশ দেখি সেটা নাহয় আরেকদিন বলব? ভালো থাকবেন। যে যে ধর্মই পালন করেননা কেন। সৃষ্টিকর্তা কে সব সময় মনে রাখবেন। উনি আপনাকে, আমাকে সবসময় রক্ষা করবেন।

শেয়ার করেছেনঃ Aminul Islam ফেসবুক আইডিঃ http://www.facebook.com/suvo.shokal শেয়ারকারীকে অসংখ্য ধন্যবাদ ঘটনাটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।।

।। হাহাকার ।।

by ।। ভূতুড়ে গল্প ।। on Friday, August 26, 2011 at 11:13pm
সাত্তার মিয়াঁর ইদানিং টাকা পয়সার বড় আকাল যাচ্ছে।। ছোট ছেলেটার মেট্রিক পরীক্ষা সামনে।। বড় মেয়েটা বিবাহের উপযুক্ত।। সারাদিন ঘরে মন খারাপ করে বসে থাকে মেয়েটা।। পাড়ার লোকে নানান কথা বলে।। কিন্তু সাত্তার যে নিরুপায়।। যেই হারে যৌতুক চায় ছেলে পক্ষ, তাতে সাত্তারের মত একজন হতদরিদ্র ড্রাইভারের পুষায় না।। এইতো সেদিন ঘটক কাসেম আলী একটা সমন্ধ নিয়ে এসেছিলো।। কিন্তু ছেলে পক্ষের দাবি, কমপক্ষে একটা মোটর সাইকেল দিতে হবে আর সাথে দিতে হবে ৫০,০০০ টাকা ক্যাশ।। হতাশ হয়ে চলে এসেছে সে ছেলের বাসা থেকে।। সাত্তার মিয়াঁ একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার।। ঢাকা শহরে ট্যাক্সি বলতে যেমন বোঝায় তেমন না।। গ্রাম অঞ্ছলে বেশিরভাগ ট্যাক্সি ড্রাইভারেরই দিন আনি দিন খাই অবস্থা।। যেখানে মানুষের ভাত খাওয়ার টাকা নেই, সেখানে ট্যাক্সি উঠাটা একপ্রকার বিলাসিতা।। যদিও নিজের ট্যাক্সি তারপরেও এর মাঝে নিজের বা পরিবারের জন্য টাকা জমানো হয়ে উঠেনি সাত্তারের।। টাকার তাড়নায় কয়েকদিন ধরেই অবৈধ খেপ মারা শুরু করেছে সাত্তার মিয়াঁ।। এলাকায় এখন করিম বাহিনীর হেভি দাপট।। বাহিনীর প্রধান করিম এখন লাখ লাখ টাকার মালিক।। বছরখানেক আগেও একটা ময়লা প্যান্ট পরে গ্রামের বাজারে বসে থাকতো।। মালামাল টানত।। “কুলি” “কামলা” ইত্যাদি কত নামেই না তাকে ডাকতো মানুষ।। আজকে ঐ মানুষগুলোই করিমকে দেখে ভয়ে আঁতকে উঠে।। সালাম দিয়ে পথ ছেড়ে দেয়।। করিমের এই দ্রুত উত্থানের পিছনে একটাই কারন রয়েছে।। চোখের পলক না ফেলে মানুষ মারতে পারে সে।। বয়স ২৭-২৮ বছর হবে।। কিন্তু এরই মাঝে ডজন খানেক খুন করে ফেলেছে।। তার মাঝে ২জন আবার পুলিশ।। তাকে ভয় না পেয়ে উপায় কি??
সাত্তার মিয়াঁ এই করিমের দলেই যোগ দেয়।। যোগ দেয় মানে তাদের চোরা পথে আসা বিভিন্ন জিনিসপত্র মাঝে মাঝে নিজের ট্যাক্সিতে করে অন্য খানে দিয়ে আসে সে।। গ্রামে যানবাহনের অভাব আছে।। তাই দ্রুত সাপ্লাই দেয়ার জন্য সাত্তারকে ব্যাবহার করে তারা।। বিনিময়ে করিম তাকে টাকা দেয়।। সেই টাকা থেকে কিছু টাকা সাত্তার মিয়াঁ জমা করতে শুরু করেছে।। খারাপ না।। এভাবে কিছুদিন চললে হয়তো এক সময় মেয়েটাকে বিয়ে দেয়ার মত টাকা সাত্তারের হাতে চলে আসবে।। তারপর সে এই কাজ ছেড়ে দিবে।। টাকা পয়সা ঠিকই কামাচ্ছে, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে মনে শান্তি নেই।। খারাপ কাজে কখনো মনে শান্তি আসে না।।
বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা।। খাওয়া দাওয়া করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সাত্তার মিয়াঁ।। হটাত ঘরের দরজায় কে যেনও জোরে নক করতে লাগলো।। সাত্তার মিয়াঁ উঁচা গলায় বলল, “কে??” কিন্তু কোনও উত্তর না দিয়ে আরও জোরে দরজা ধাক্কা দিতে লাগলো আগুন্তক।। বিরক্ত হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে গেলো সাত্তার মিয়াঁ।। তার স্ত্রী তখন রান্না ঘরে।। থালা বাসন সাজিয়ে রাখছে।। ছেলে-মেয়ে ২ টোই গভীর ঘুমে আছন্ন।।
“আরে সাত্তার মিয়াঁ, আছো নাকি?? দরজাদা খোল একটু।। জরুরি তলব আছে।।”
গলা শুনে আঁতকে উঠলো সাত্তার।। এতো সেলিমের গলা।। করিমের ডান হাত।। এতো রাতে সেলিম কেন আসলো?? আর জরুরি তলব মানে কি??
দরজা খুলল সাত্তার মিয়াঁ, “সেলিম ভাই যে।। অত রাত করি কি মনে করে??”
“আমার লগে যাইতে হবে তোমার।। একটা খেপ আছে।।”
“অত রাত করি কেমনে যাবো?? আমিত খায় নিয়ে ঘুমতে যাচ্ছিলাম।।”
“করিম ভাই বইলেছে তোমারে নিয়ে জাতি।। ভালোয় ভালোয় সাথে চল।।”
“আপনি খারান।। আমি আমার বউরে কয়ে আসি।।”
মনে মনে করিম আর সেলিমকে হাজার খানেক কুৎসিত গালি দিল সাত্তার মিয়াঁ।। রাগে গাঁটা জ্বলে যাচ্ছে।। বউকে ভালো মত দরজা জানালা আটকে শুয়ে পড়তে বলে বের হল সে সেলিমের সাথে।। ট্যাক্সি স্টার্ট দিল সাত্তার মিয়াঁ।। ১০ টা মানে গ্রাম অঞ্ছলে ভালো রাত।। মানুষজন তো দুরের কথা, একটা কুকুরও চোখে পড়ছে না।। একটানা ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে।। দূরে কোথায় একটা শিয়াল ডেকে উঠলো।। রাতটা কেমন যেনও থেমে থেমে আছে।। এমন রাতে বাইরে বেরুলেই গাঁ ছমছম করে।। সাত্তারের বাসা থেকে করিম মিয়াঁর আড্ডাখানা মোটামুটি ভালো দূরত্বে।। হটাত করে নিজেকে খুব অসহায় মনে হল সাত্তারের।। নিজেকে এমন করে বিক্রি করে দেয়া ঠিক হয়নি।। এখন সে হয়তো বউ বাচ্চা নিয়ে সুখে ঘুমুতে পারত।। তা না করে যেতে হচ্ছে “জরুরি তলবে”।। করিমকে দেখে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেলো সাত্তারের।। শার্টের কয়েক জায়গায় রক্তের দাগ।। হাতে একটা দেশি মদের বোতল।। একটু পরপর সে বোতল থেকে খানিকটা গলায় ঢালছে।। সাত্তার আর সেলিমকে দেখে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল।। চিনতে পারছে না যেনও।। তারপর হটাত বলে উঠলো,
“ভালো আছো সাত্তার??”
একটা ঢোক গিলে উত্তর দিল সাত্তার, “জে ভাইজান, ভালো আছি।। আপনি জরুরি তলব দিছেন দেখি চলি আইসেছি।।”
“ভালো করেছ।। একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাম দিতে চাই তোমারে।। ঠিক মতন করে দিতে পারলে মেলা টেকা পাবা।। কিন্তু কথাটা যেন চাপা থাকে খেয়াল করবা।। নইলে কইলাম জানে বাছবা না।।” এই বলে সেলিমকে কাছে ডাকল করিম।। কি যেনও ফিসফাস করলো।। সাত্তারের দিকে তাকিয়ে একটা ভয়ঙ্কর হাসি দিল সেলিম।। তারপর এগিয়ে এসে সাত্তারকে নির্দেশ দিল তার পিছু পিছু যাওয়ার জন্য।। বাড়িটায় অনেকবার এসেছে সাত্তার।। কিন্তু বাড়ির অন্দরমহলে ঢোকেনি কখনো।। আজ ঢুকতে পারলো।। আসলে, তাকে ঢোকান হল।। সেলিমের পিছু নিয়ে ৩-৪ টা ঘর পেরিয়ে একটা ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ২ জন।। সাত্তারকে উদ্দেশ্য করে বলল সেলিম, “এদা আমরার করিম ভাইয়ের ঘর।। জুতা খুইলে ধুকবা।। ভাই কইলাম মেলা পরিষ্কার কিসিমের।।” ঘরটা সুন্দর করে সাজানো।। মেঝের কার্পেটটা রেশমের।। পা দিলেই আরাম আরাম একটা অনুভুতি হয়।। টিভি মনিটরটা অন করে।। তাতে বাংলা গানে কোমর দুলিয়ে নাচছে এক জলহস্তি সাইজের নায়িকা।। সব ঘুরে বিছানার দিকে নজর গেলো সাত্তারের।।
বিছানাটা ঘরের পরিপাটি অবস্থার সাথে একদমই মিলছে না।। চাদরটার উপর যেনও কয়েকদফা যুদ্ধ হয়ে গেছে।। দলা মোচরা করে পাকান একটা কম্বল পরে আছে দেয়াল ঘেঁষে।। আর তার পাশে পরে আছে একটা লাশ।। একটা মেয়ের লাশ।। সেলিম গিয়ে দক্ষতার সাথে লাশটা কম্বল দিয়ে মুরিয়ে দিল।। অনেকদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো।। তারপর ডাক দিল সাত্তার মিয়াঁকে।। “আরে মিয়াঁ, খারাই খারাই কি দেহ?? আহ, হাত লাগাও।। গাড়ি পন্ত নেয়ন লাগব।।” মনে মনে একনাগাড়ে দোয়া দরুদ পড়ছিল সাত্তার মিয়াঁ।। সেলিমের ডাক শুনে অপ্রকিতস্থের মত এগুল।। লাশটা ঠিক মত ঢাকতে পারেনি সেলিম।। মনে হয় ঠিক মত ঢাকার চেষ্টা ও করেনি।। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখটাকে ঢেকে রেখেছিল এতক্ষণ।। চুলগুলো সরে যেতেই ছোট একটা চিৎকার বের হয়ে গেলো সাত্তারের মুখ দিয়ে।। খুবই কম বয়সী একটা মেয়ের মুখ।। চোখগুলো কেমন মায়া মায়া।। মেয়েটাকে এর আগেও দেখেছে সাত্তার মিয়াঁ।। এই গ্রামেরই এক রিকশাচালকের মেয়ে।। শেফালি নাম।। সাত্তারের ছেলের সাথে একই ক্লাসে পড়ত।। নিথর হয়ে পরে আছে দেহটা।। গলা চেপে মারা হয়েছে দেখে কিনা কে জানে, জিহ্বাটা বের হয়ে এসেছে।। বড় বড় হয়ে যাওয়া চোখ দুটোতে যেনও রাজ্যের জিজ্ঞাসা।। লাশটা নিজেই ঢেকে দিল সাত্তার।। চোখ দুটো বন্ধ করে দিল।। মৃত মানুষের চোখ যত দ্রুত বন্ধ করা যায় ততই মঙ্গল।। নইলে পরে বন্ধ করা যায় না।। শরীরটা এখনও গরম।। মেরেছে বেশি সময় হয়নি হয়তো।। দুইজন ধরাধরি করে লাশটা বাইরে নিয়ে আসলো।। আসার পথে একবার করিমের দিকে চোখ পড়েছিল সাত্তার মিয়াঁর।। একটু ভয়ার্ত কি মনে হল?? লাশটা ট্যাক্সির পিছন দিকে রাখা হল।। রেখে ট্যাক্সি স্টার্ট দেয় সাত্তার।। সেলিমের নির্দেশ অনুযায়ী গোপালপুর স্টেশনের দিকে চলল সে।। পথে একটা জংলা মত জায়গা পরে।। সেখানে লাশটা ফেলে রাখার প্ল্যান করেছে পিশাচটা।। মানুষজন জায়গাটা এড়িয়ে চলে।। দিনের বেলায়ও কেউ তেমন একটা যায়না।। বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে গেলো সাত্তারের।।
প্রায় ৩০ মিনিটের রাস্তা।। কিন্তু ৭-৮ মিনিট পড়ি হটাত পেছন থেকে জোরে ডেকে উঠলো সেলিম, “অমা গো।। ঐ কাকা, খারাও।। কাকা খারাও।।” সাথে সাথে ব্রেক কষে সাত্তার।। চোখের পলকে গাড়ি থেকে নেমে দৌড় মারে সেলিম।। কিছুদুর গিয়ে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে থাকে গাড়ির পেছনের সিটে রাখা লাশটার দিকে।। তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে সেলিমের কাছে ছুটে যায় সাত্তার।।
“ও বেদা কি হইছে?? নামই পড়লে কেনে??”
ভয়ে সেলিমের গলা দিয়ে যেনও কথা বের হচ্ছে না।। আঙ্গুল তুলে লাশটাকে দেখাল সে,
“ঐটা জ্যান্ত কাহা।। একটা হাত বাড়ায় আমারে দইরল।। আমি টের পাইলাম।। বাস্তব কইলাম কাকা।। আমার পা ধইরা যেন টান মাইরল।।”
কিছুটা ভয় পেলো সাত্তার।। কিন্তু আমল না দিয়ে বলল, “ধুরু ভাই, এদি কি কউ?? লাশ আবার পা ধরি টান দেয় নাহি??”
“আমি ইমানে কইলাম কাহা।। দেহ, আমার গায়ের বেবাক পশম খারায় গেছে।। দেহ কাহা, দেহ।।”
হাতের দিকে তাকাল সাত্তার।। ঠকঠক করে কাঁপছে সে দুটো।। এতো বিরাট বিপদে পড়া গেলো।। এতো রাতে ভুতের ভয়ে কাবু একজনরে নিয়ে কিভাবে যাবে সে।।
বলল, “আচ্ছা ভাই, তুমি আমার লগে সামনে বহ।। বেশিদূর তো না।। আর আমিতো আছি লগে।।”
কিছুক্ষণ ভয়ে না করলো সেলিম।। কিন্তু শেষমেশ রাজি হয়।। সামনের সিটে উঠে বসে সাত্তারের সাথে।।
সেলিমকে চোখ বন্ধ করে রাখতে বলল সাত্তার।। এতে ভয় কম লাগবে।। ভয়ে সুবোধ বালকের মত আচরণ করছে সেলিম।। চোখ আসলেই বন্ধ করে ফেলল।। মনে মনে খানিকটা অস্বস্তি বোধ করছে সাত্তার মিয়াঁ।। জীবনে বহু লাশ সে দেখেছে।। এক সময় মাটিকাটার কাজ করতো।। বহু লাশ দাফন করেছে নিজের হাত দিয়ে।। এইসব তার কাছে বড় কোনও ব্যাপার না।। কিন্তু আজকে এমন লাগছে কেনও?? কেনও মনে হচ্ছে যা হচ্ছে ভালো হচ্ছে না।। তার এখন কি করা উচিত?? কিছুদূর আসার পর হটাত পেছনে কেমন যেনও একটা আওয়াজ হল।। অনেকটা ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙ্গার মত।। সাত্তার মিয়াঁ পাত্তা না দিয়ে চালাতে লাগলো।। কিন্তু ততখনে সেলিমের খবর হয়ে গেছে।। তড়াক করে জেগে উঠলো, “কাহা, পেছনে কিয়ের আওয়াজ হইল?? সুইনলে??”
“আরেহ না।। কিয়ের আওয়াজ হবে আবার?? ব্যাটা ভয় পেয়েছ তাই লাইগছে।। চুপচাপ থাকো।। আইশা পড়লাম বলি।।” এইবার সত্যি সত্যিই দোয়া দরুদ পড়া শুরু করলো সাত্তার মিয়াঁ।। কেন যেনও মনে হচ্ছে কোথাও কোনও একটা সমস্যা আছে।।
রাস্তার পাশের জংলাটার কাছাকাছি চলে এসেছে তারা।। গাড়ি থেকে নেমে পিছনের সিটের দিকে যেতে লাগলো সাত্তার।। লাশটা নামাতে হবে।। সেলিমকে ডাকল।। কিন্তু ভুলেও লাশের আশেপাশে যাবে না সেলিম।। ভালো ভয় পেয়েছে।। সাত্তার কোন মতেই রাজি করাতে পারলো না।। অগত্যা, নিজেই নেমে গেলো।। গাড়ি থেকে নেমে অপেক্ষা করতে লাগলো সেলিম।। এখনও ভয়ে কাঁপছে।।
গাড়ির পিছনের সিটে গিয়ে এইবার ঠিকই ভয় পেলো সাত্তার।। লাশটার মুখ বেড়িয়ে এসেছে।। চোখ দুটো খোলা।। কিন্তু তার স্পষ্ট মনে আছে যখন সেলিমকে সামনের সিটে নিয়ে যায় তখনো লাশটার মুখ ঢাকা ছিল।। শুধু ঢাকা না, রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।। ঘটনা কিছুই বুঝে পেলো না সাত্তার।। আবছা ভাবে মনে পড়লো, নিজের হাতেই চোখ বন্ধ করেছিল সেটার।। সব কেমন যেনও তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।। আর ভাবতে চাইলো না সাত্তার।। লাশটা তোলার জন্য হাত বাড়ালও।। একা মানুষ, তাই পাঁজাকোলা করে তুলে নিবে ঠিক করলো।। আশ্চর্য, লাশটার গা একজন জীবিত মানুষের মত গরম।। কিন্তু যেই সময় তাদের লেগেছে আসতে আসতে তাতে এটা গরম থাকার কথা নয়।। রাতের বেলা বাতাস অনেক ঠাণ্ডা থাকে।। সাধারন একটা মানুষেরই গা ঠাণ্ডা হয়ে যায়, আর সেখানে লাশের গা তো অনেক আগেই ঠাণ্ডা হয়ে যাবার কথা।। মনে মনে একনাগাড়ে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো সাত্তার।। খারাপ কোনও সম্ভবনা টের পাচ্ছে সে।। কিছু যেনও হতে যাচ্ছে।। চারপাশের ভারি হয়ে থাকা বাতাস যেনও তারই সঙ্কেত দিচ্ছে।। একাই লাশটা জংলা পর্যন্ত নিয়ে গেলো সাত্তার।। সেলিম দূর থেকে ফলো করছে।। লাশটা নামানর পর থেকে সাত্তারের কাছাকাছি আসেনি।। এইবার ধমক লাগাল সাত্তার, “ঐ ভাই, জলদি আহ এইদিক।। গর্ত করো একটা দাফন দেই।।”
বিস্মিত হল সেলিম, “আ?? পাগল হইলা নি কাহা?? লাশ ফালায় রাখি চলে আউ।। দাফন কইরবার লাগব না।।”
“এভাবি লাশটা ফালায় রাখলি পড়ে, শেয়াল কুত্তায় খাইয়ে ফেলবে।। দাফন দি যাই।। বেশি টাইম তো লাগবে না।।”
“কাহা জলদি উঠি আউ, নইলে পড়ে করিম ভাইরে দিয়ে বে